সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ‘আপন ভাই উনার’ কঠিন মুহূর্তে স্বীয় আওলাদ উনাকে প্রাণ মুবারক উৎসর্গ করার ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী মুবারক করেন।
| ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনার এবং উনার পবিত্রতম আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে কারবালার প্রান্তরে মর্মান্তিকভাবে শহীদ করার সময় উনাকে জীবন মুবারক উনার সর্বস্ব শক্তি দিয়ে সাহায্য করার ব্যাপারে স্বীয় আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ক্বাসিম আলাইহিস সালাম উনাকে ভবিষ্যদ্বাণী করে যান। সুবহানাল্লাহ! সে অনুযায়ী কারবালা প্রান্তরে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ক্বাসিম আলাইহিস সালাম তিনি আপন চাচা উনার জন্য নিজের জান মুবারক ফানা করে হাক্বীক্বী বাক্বা হাসিলের লক্ষ্যে কুখ্যাত কাফির-ইয়াযীদ বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদ করে পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উল্লেখ্য যে, কারবালার প্রান্তরে সেই কঠিন মুহূর্তে সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম উনার কথা মুবারক স্মরণ করে সাইয়্যিদুনা হযরত ক্বাসিম আলাইহিস সালাম তিনি- সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে যিনি এসে উপস্থিত হলেন তিনি উনার সম্মানিত প্রিয় ভাতিজা হযরত ইমাম ক্বাসিম আলাইহিস সালাম। যাঁর সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিতা মেয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত সখিনা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারকের আগাম ওয়াদা ছিলো। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ক্বাসিম আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন ঊনিশ বছরের নওজোয়ান। যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার নওজোয়ান ভাতিজা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ক্বাসিম আলাইহিস সালাম উনাকে সামনে দেখলেন, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, “বাবা! আমি আপনাকে কিভাবে জিহাদের জন্য বিদায় দিতে পারি? আপনাকে কি আমি তীর-তলোয়ারের আঘাত খাওয়ার অনুমতি দিতে পারি? প্রিয় ভাতিজা! দেখুন, আমার ভাই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার একান্ত আশা ছিল যে, আমার মেয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত সখিনা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারক যেন আপনার সাথে হয়। শুনুন ভাতিজা! আপনি পবিত্র মদীনাতুল মুনাওওয়ারা শরীফ-এ ফিরে গিয়ে আমার সম্মানিতা বানাত সাইয়্যিদাতুনা হযরত সখিনা আলাইহাস সালাম উনার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আমার ভাইয়ের আশা পূর্ণ করুন।” কিন্তু সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ক্বাসিম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, “চাচাজান! আমার আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি আমাকে একটি কঠিন ওসীয়তনামা মুবারক করে আশা মুবারক ব্যক্ত করেছিলেন। সেটা হলো- আমার আব্বাজান আমার গলা মুবারক-এ একখানা তাবিজ মুবারক দিয়ে ওছীয়ত মুবারক করে গিয়েছেন যে, “বাবা! এ মুবারক তাবিজখানা তখনই খুলে দেখবেন! যখন কঠিন কোনো মুছীবতের সম্মুখীন হবেন এবং সেই মুতাবিক আমল করবেন!” তাই আমি এ মুহূর্তে মুবারক তাবিজখানা খুলে দেখলাম। কারণ এর থেকে কঠিন মুছীবত আর কী হতে পারে! তাবিজ মুবারক খুলে যা লিখা দেখলাম তা হলো- “ওহে আমার প্রিয় বৎস! হযরত ইমাম ক্বাসিম আলাইহিস সালাম! এমন এক সময় আসবে, যখন আমার ভাই কারবালার মাঠে শত্রু কর্তৃক পরিবেষ্টিত হবেন! শত্রুরা উনার জান মুবারক উনার পিপাসু হবে! বৎস! আপনি যদি সত্যিকার আমার ছেলে হন, তাহলে নিজ জানের কোনো পরওয়া করবেন না! বরং নিজের জান মুবারক সম্মানিত চাচা উনার জন্য উৎসর্গ করে দিবেন! কারণ, সেই সময় আমার ভাই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য যিনি জান কুরবান করে দেবেন, মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে তিনি খুবই উচ্চ মর্যাদা লাভ করবেন।” সুবহানাল্লাহ! তাই লিখা মুবারক দেখায়ে এবং শুনায়ে বললেন- হে আমার প্রাণাধিক প্রিয় “চাচাজান! আমাকেও আপনার মুবারক হাতে বিদায় দিন। আমি আপনার পরে জীবিত থাকতে চাই না। আমাকে বিদায় দিন, আমি যাতে সহসা পবিত্র জান্নাতুল ফিরদাউসে পৌঁছে তৃষ্ণা নিবারণ করতে পারি এবং সম্মানিত আব্বাজান উনাকে গিয়ে বলতে পারি, আব্বাজান! আমি আপনার ওছীয়ত মুবারক পূর্ণ করে এসেছি।” সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শেষ পর্যন্ত উনাকেও বুকে জড়িয়ে ধরে জিহাদের ময়দানের দিকে বিদায় দিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম ক্বাসিম আলাইহিস সালাম তিনি ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি বাহিনীর বড় বড় যোদ্ধাকে টুকরো-টুকরো করে ফেলতে লাগলেন। ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে যে বীরত্ব দেখান, তা দেখে ইয়াযীদ লা’নতুল্লাহি আলাইহি বাহিনীর কথিত বড় বড় সৈন্যরাও হতভম্ব হয়ে যায়। তিনি অনেক কাফিরকে হত্যা করে জাহান্নামে পাঠিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনিও আঘাতের পর আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে ঘোড়া থেকে পড়ে যান এবং পবিত্র শাহাদতী শান মুবারক প্রকাশ করে পবিত্র জান্নাতুল ফিরদাউসে চলে যান। সুবহানাল্লাহ! এভাবেই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চারজন সম্মানিত ভাতিজা আলাইহিমুস সালাম উনারা শহীদ হন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিঊন) এছাড়াও আরো লক্ষ-কোটি ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী, সম্মান মুবারক রয়েছে। সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে এবং ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে অসংখ্য ফাযায়িল-ফযীলত, বুযুর্গী-সম্মান মুবারক ইত্যাদি বর্ণিত রয়েছে। |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন