সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, বিদ্ব‘আতুম মির রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত সাওয়ানেহে উমরী মুবারক
| মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ : সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, বিদ্ব‘আতুম মির রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার প্রায় ৭ বছর পূর্বে ৩রা রবী‘উছ ছানী শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করে সমস্ত কায়িনাতবাসীকে ধন্য করেন। সুবহানাল্লাহ! দুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক অনুযায়ী তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৩৩ বছর। আর উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৪৮ বছর। এই সম্পর্কে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, وُلِدَتْ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ رُقَيَّةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ بِنْتُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَنَةَ ثَلَاثٍ وَّثَلَاثِيْنَ مِنْ مَّوْلِدِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ অর্থ: “দুনিয়াবী জিন্দেগী মুবারক অনুযায়ী যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ৩৩ বছর, তখন বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম) সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, হযরত উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি, মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা এবং সমস্ত কায়িনাত সকলেই সম্মানিত খুশি মুবারক প্রকাশ করেছেন, ‘ফালইয়াফরহূ’ তথা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করেছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, يٰاَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَّوْعِظَةٌ مّـِنْ رَّبّـِكُـمْ وَشِفَاءٌ لِّـمَا فِى الصُّدُوْرِ وَهُدًى وَّرَحْمَةٌ لّـِلْمُؤْمِنِيْنَ. قُلْ بِفَضْلِ اللهِ وَبِرَحْمَتِهٖ فَبِذٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوْا هُوَ خَيْرٌ مِّـمَّا يَـجْمَعُوْنَ. অর্থ: “হে মানুষেরা! হে সমস্ত জিন-ইনসান, কায়িনাতবাসী! অবশ্যই তোমাদের মাঝে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ নছীহতকারী, তোমাদের অন্তরের সর্বপ্রকার ব্যাধিসমূহের সর্বশ্রেষ্ঠ আরোগ্যদানকারী, সর্বশ্রেষ্ঠ হিদায়াত দানকারী এবং খাছ করে ঈমানদারদের জন্য, আমভাবে সমস্ত কায়িনাতবাসীর জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ রহমতস্বরূপ আমার যিনি হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাশরীফ মুবারক এনেছেন। সুবহানাল্লাহ! হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীকে জানিয়ে দিন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যে, সম্মানিত ফযল মুবারক এবং সম্মানিত রহমত মুবারক হিসেবে উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাঠিয়েছেন, সেজন্য তারা যেন ‘ফালইয়াফরহূ’ তথা সম্মানিত খুশি মুবারক প্রকাশ করে, মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করে। এই ‘ফালইয়াফরহূ’ তথা সম্মানিত খুশি প্রকাশ করাটা, মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করাটা সবকিছু থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সর্বোত্তম; যা তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা ইউনূস শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ৫৭-৫৮) এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা যেমন ফরয, তেমনিভাবে উনার মহাসম্মানিত বানাত সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করাও ফরযতো অবশ্যই; বরং ফরয উনার উপর ফরয। সুবহানাল্লাহ! কেননা উনার সম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক, মা’রেফাত-মুহব্বত মুবারক উনার মধ্যেই মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্মানিত রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক, মা’রিফাত-মুহব্বত মুবারক নিহিত রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার সম্মানার্থে আমাদের সবাইকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে ‘ফালইয়াফরহূ’ তথা সম্মানিত খুশি মুবারক প্রকাশ করার, মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন! সম্মানিত আক্বীক্বাহ মুবারক দেয়া এবং সম্মানিত নাম মুবারক রাখা: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত বানাত, লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সপ্তম দিনে উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক দেন এবং উনার নাম মুবারক রাখেন ‘হযরত রুক্বইয়্যাহ আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক: সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত কুনিয়াত মুবারক হচ্ছে ‘উম্মু আব্দিল্লাহ আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত লক্বব মুবারক: মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, وَ لِلّٰهِ الْاَسْـمَاءُ الْـحُسْنٰـى فَادْعُوْهُ بِـهَا অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার অনেক সুন্দর সুন্দর সম্মানিত নাম মুবারক তথা লক্বব মুবারক রয়েছে, তোমরা উনাকে সেই সম্মানিত নাম মুবারক তথা লক্বব মুবারক দ্বারা আহ্বান করো।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আ’রাফ শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ১৮০) মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন অসীম ঠিক তেমনিভাবে উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক উনার সংখ্যাও অসীম। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদের সংখ্যাও অসংখ্য। এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া সমস্ত লক্বব মুবারক উনার অধিকারী। সুবহানাল্লাহ! ঠিক একইভাবে আফদ্বালুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত সম্মানিত লক্বব মুবারক রয়েছে সমস্ত সম্মানিত লক্বব মুবারক উনাদের অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ! এখানে উনার কতিপয় সম্মানিত বরকতময় লক্বব মুবারক উল্লেখ করা হলো: بِنْتُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা বানাত (মেয়ে)। সুবহানাল্লাহ! اَهْلُ بَيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (আহলু বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ। সুবহানাল্লাহ! سَيِّدَةُ نِسَاءِ الْعَالَمِيْنَ (সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন): সারা কায়িনাতে যত মহিলা রয়েছেন উনাদের প্রতেক্যের সাইয়্যিদাহ। সুবহানাল্লাহ! سَيِّدَةُ نِسَاءِ اَهْلِ الْجَنَّةِ (সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ): জান্নাতবাসী সমস্ত মহিলাগণ উনাদের সাইয়্যিদাহ। সুবহানাল্লাহ! بِضْعَةٌ مِّنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (বিদ্ব‘আতুম মির রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত জিসম মুবারক উনার সম্মানিত গোশত মুবারক উনার একখানা টুকরো মুবারক, লখতে জিগার মুবারক। সুবহানাল্লাহ! اَفْضَلُ النَّاسِ وَالـنِّـسَاءِ بَعْدَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (আফদ্বলুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): তিনি শুধু যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ! اَلثَّانِيَةُ (আছ ছানিয়াহ): দ্বিতীয়, এছাড়াও صَاحِبَةُ الدَّرَجَةِ الْعَالِيَةِ، اَلصِّدِّيْقَةُ، صَاحِبَةُ الشَّفَاعَةِ، اَلْمُبَلِّغَةُ، اُمُّ اَبِيْهَا، اَلْمُجِيْبَةُ، اَلْمَجِيْدَةُ، اَلْمَحْفُوْظَةُ، اَلْمَحْمُوْدَةُ، اَلْمُخْتَصَّةُ، اَلْمُذَكِّـرَةُ، اَلْمَسْعُوْدَةُ، اَلْمُصْلِحَةُ، مُعَلِّمَةُ الْاُمَّةِ، مُقِيْمَةُ السُّنَّةِ، نَاصِرَةُ الـدِّيْنِ، اَلنَّاهِيَةُ، اَلْوَاعِظَةُ، اَلْوَافِيَةُ، اَلْـحَامِدَةُ، حَبِيْبَةُ اللهِ، اَلْـحَلِيْمَةُ، اَلْـخَالِصَةُ، ذَاتُ السَّكِيْنَةِ، اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ، ذَاتُ الْعِزَّةِ، ذَاتُ الْوَسِيْلَةِ، رَحْـمَةُ الْاُمَّةِ، رَحْـمَةٌ لِّـلْـعَـالَـمِيْنَ، اَلرَّشِيْدَةُ، اَلـزَّكِـيِّةُ، اَلسَّخِيَّةُ، سَـيِّـدَةُ الْكَوْنَيْنِ، اَلطَّاهِرَةُ، اَلـطَّـيِّـبَةُ، عِصْمَةُ اللهِ تَعَالـٰى، اَلْعَظِيْمَةُ، اَلْغَنِيَّةُ، اَلْفَاضِلَةُ، اَلْقَاسِمَةُ، نِعْمَةُ اللهِ، اَلْقَائِدَةُ، قَائِدَةُ الْـخَيْرِ . ইত্যাদি উনার বিশেষ লক্বব মুবারক উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত ছূরত মুবারক: বিদ্ব‘য়াতুম মির রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ! মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের মাক্বাম মুবারক-এ অনন্যা।” সুবহানাল্লাহ! তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার হুবহু নকশা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুবহু নকশা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! আর সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার অর্থাৎ উনাদের উভয়ের নিসবত মুবারক ছিলো উভয় দিক থেকে। অর্থাৎ উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের উভয়ের থেকে সমানভাবে সম্মানিত নিসবত মুবারক পেয়েছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! আর এ কারণেই কিতাবে বর্ণিত রয়েছে যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাদের উভয়ের মাঝে সীরত-ছূরত মুবারক, আকার-আকৃতি মুবারক, চাল-চলন মুবারক সর্বদিক থেকে হুবহু মিল ছিলো। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক সম্পর্কে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, وَكَانَتْ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ رُقَيَّةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ ذَاتَ جَمَالٍ رَائِعٍ অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন অতি বিস্ময়কর বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারিণী।” সুবহানাল্লাহ! (খছায়িছুল কুবরা শরীফ ১/২১৫, ইবনে আসাকির) কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে, وَكَانَتْ ذَاتَ جَمَالٍ رَائِعٍ ذَكَرَ ابْنُ قُدَامَةَ اَنَّ نَفَرًا مِّنَ الْـحَبَشَةِ كَانُوْا يَنْظُرُوْنَ اِلَيْهَا وَيَعْجَبُوْنَ مِنْ جَمَالِـهَا فَتَاَذَّتْ مِنْ ذٰلِكَ فَدَعَتْ عَلَيْهِمْ فَهَلَكُوْا جَمِيْعًا. অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন অতি বিস্ময়কর বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারিণী। হযরত ইমাম ইবনে কুদামাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উল্লেখ করেছেন যে, হাবশার এক দল লোক উনার দিকে তাকাতো এবং উনার বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক-এ অভিভূত হয়ে বিস্ময় প্রকাশ করতো। এতে তিনি খুব কষ্ট পেতেন। ফলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেন এবং তারা সকলেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।” সুবহানাল্লাহ! (শারহুয যারক্বানী ‘আলাল মাওয়াহিব ৪/২৩৩) কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে, وَكَانَتْ مِنْ اَحْسَنِ الْبَشَرِ. অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বাধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারিণী।” সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, عَنْ حَضْرَتْ اُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ بَعَثَنِىَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِلـٰى حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِصَحْفَةٍ فِيْهَا لَـحْمٌ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ وَحَضْرَتْ رُقَيَّةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ جَالِسَةٌ فَمَا رَأَيْتُ اثْنَيْنِ اَحْسَنَ مِنْهُمَا فَجَعَلْتُ مَرَّةً اَنْظُرُ اِلـٰى حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَمَرَّةً اَنْظُرُ اِلـٰى حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَلَمَّا رَجَعْتُ قَالَ لِىَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَدَخَلْتَ عَلَيْهِمَا قُلْتُ نَعَمْ قَالَ هَلْ رَأَيْتَ زَوْجًا اَحْسَنَ مِنْهُمَا قُلْتُ لَا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ جَعَلْتُ اَنْظُرُ مَرَّةً اِلـٰى حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَمَرَّةً اِلـٰى حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ اَبُو الْقَاسِمِ رَحِمَهُ اللهُ وَهٰذَا كَانَ قَبْلَ نُزُوْلِ اٰيَةِ الْحِجَابِ. অর্থ: “হযরত উসামা ইবনে যায়িদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একখানা পাত্র মুবারক-এ কিছু গোশত মুবারকসহ আমাকে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিকট পাঠালেন। আমি উনার নিকট গেলাম। আমি যেয়ে দেখতে পেলাম যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার পাশে বসা। আমি উনাদের দু’জনের চেয়ে এতো অধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী দ্বিতীয় দু’জন আর কখনো দেখিনি। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর আমি একবার সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার দিকে তাকাতে থাকলাম, আরেকবার সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার দিকে তাকাতে থাকলাম। তারপর আমি যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত হলাম, তখন তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি কি উনাদের দু’জনের নিকট গিয়েছিলেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আপনি কি উনাদের দু’জন থেকে অধিক সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারী আর কোনো যুগল মুবারক দেখেছেন? আমি বললাম- না, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অবশ্যই আমি একবার সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার দিকে তাকাচ্ছিলাম, আরেকবার সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার দিকে তাকাচ্ছিলাম। ইমাম আবুল ক্বাসিম ত্ববারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এই বিষয়টি ঘটেছিলো, পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার পূর্বে।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর ১/৭৬, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৮/৩৮৬, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৩৪) এখান থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি কত বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, সম্মানিত চরিত্র মুবারক উনার দিক থেকেও তিনি ছিলেন সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক। মূলত, তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুবহু ক্বায়িম-মাক্বাম হিসেবে সমস্ত কায়িনতাবসীর জন্য আবাদুল আবাদের জন্য অনুসরণীয়-অনুকরণীয়। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِـىْ رَسُوْلِ اللهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ অর্থ: “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য তোমাদের যিনি রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক নিহিত রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ২১) এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তাই সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসীর জন্য ফরয হচ্ছে- সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে সর্বোত্তমভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করা। তবেই তারা ইহক্বাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে পারবে। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত পবিত্রতা মুবারক: মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُمْ تَطْهِيْرًا. অর্থ: “হে সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত আয়াত শরীফ ৩৩) আর সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ثُـمَّ جَعَلَ الْقَبَائِلَ بُيُوْتًا فَجَعَلَنِىْ فِىْ خَيْرِهَا بَيْتًا فَذٰلِكَ قَوْلُهٗ تَعَالـٰى{اِنَّـمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ اَهْلَ الْبَيْتِ وَيُـطَـهِّـرَكُـمْ تَطْهِيْرًا} فَاَنَا وَاَهْلُ بَيْتِىْ مُطَهَّرُوْنَ مِنَ الذُّنُوْبِ. অর্থ: “অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি গোত্রকে সম্মানিত আহাল বা পরিবার মুবারক-এ বিভক্ত করে আমাকে সর্বোত্তম সম্মানিত আহাল বা পরিবার মুবারক-এ রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! এই কারণেই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, হে সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি চান আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করতে। অর্থাৎ তিনি আপনাদের থেকে সমস্ত প্রকার অপবিত্রতা দূর করে আপনাদেরকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন।’ সুবহানাল্লাহ! আর আমি এবং আমার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম আমরা সকলেই যুনূব তথা সমস্ত প্রকার ছগীরা-কবীরা এবং যাবতীয় অপছন্দনীয় কাজ থেকে পূত-পবিত্র।” সুবহানাল্লাহ! (দালায়িলুন নুবুওওয়াহ লিল বায়হাক্বী, শিফা ১/৩২৫, সীরাতে হালবিয়্যাহ ১/৪২, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ১/৪৯৮, খছাইছুল কুবরা ১/৬৬, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১/২৩৫ ইত্যাদি) উপরোক্ত সম্মানিত আয়াত শরীফ এবং সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনাদের পরিপূর্ণ মিছদাক্ব হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে পবিত্র করার মতো পবিত্র করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! শুধু তাই নয়, উনার সম্মানিত স্পর্শ মুবারক-এ যা এসেছে, তাও পবিত্র থেকে পবিত্রতম হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত শৈশবকাল মুবারক এবং সম্মানিত লালন-পালন মুবারক: আফদ্বালুন নাস ওয়ান নিসা বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি উনার মহাসম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিতা মাতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাদের বেমেছাল সম্মানিত আদর-যতœ মুবারক-এ, মুবারক তত্ত্বাবধানে সম্মানিত মক্কা শরীফ-এ সম্মানিত শৈশবকাল অতিবাহিত করেছেন এবং লালিত-পালিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত ইলম মুবারক: সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত তা’লীম মুবারক দিয়েছেন স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনারা। সুবহানাল্লাহ! তাহলে তিনি কত বেমেছাল সম্মানিত ইলম মুবারক উনার অধিকারিণী ছিলেন, সেটা জিন-ইনসান ও তামাম কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার বাইরে। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, اِنَّـمَا اَنَا قَاسِمٌ وَّاللهُ يُعْطِىْ অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি হচ্ছেন দাতা আর আমি হচ্ছি বণ্টনকারী।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ) মূলত, মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত প্রকার ইলম মুবারক হাদিয়া মুবারক করেছেন। সুবহানাল্লাহ! প্রকৃতপক্ষে উনার সম্মানার্থেই সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সম্মানিত ইলম, আমল, ইখলাছ, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারকসহ সমস্ত প্রকার নিয়ামত মুবারক লাভ করেছে। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সাম্মানার্থে হাক্বীক্বী ইলম, আমল, ইখলাছ, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক নছীব করুন। আমীন! সম্মানিত আক্বদ মুবারক: সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারক হয়েছিলো আবূ লাহাবের পুত্র উতবার সাথে এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারক হয়েছিলো উতাইবার সাথে। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলো ৭ বছরের কাছাকাছি আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলো ৫ বছরের কাছাকাছি। এটি ছিল শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আক্বদ মুবারক। উনাদেরকে তাদের গৃহে যেতে হয়নি। সুবহানাল্লাহ! তার আগেই সম্মানিত সূরা ‘লাহাব শরীফ’ নাযিল হওয়ার পর আবূ লাহাব ও তার স্ত্রীর কারণে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারক থেকে উতবাহ মাহরূম হয়ে যায় অর্থাৎ মুবারক খিদমত করার ব্যাপারে অযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়। আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারক থেকে উতাইবা মাহরূম হয়ে যায় অর্থাৎ মুবারক খিদমত করার ব্যাপারে অযোগ্য বলে প্রমাণিত হয়। নাঊযুবিল্লাহ! সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ: আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তা সর্বপ্রথম উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার নিকট প্রকাশ করেন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিই পুরুষ-মহিলা সকলের পূর্বে সর্বপ্রথম সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সাথে সাথে উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনারাও সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ঊলা আলাইহাস সালাম তিনি অল্প সময়ের ব্যবধানে সংবাদ মুবারক পাওয়ার সাথে সাথে এসে সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উনারাই পুরুষ-মহিলা সকলের মাঝে সর্বপ্রথম সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তাই মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সায়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “উনারাই পুরুষ-মহিলা সকলের মাঝে সর্বপ্রথম সম্মানিত ঈমান মুবারক প্রকাশ করেছেন। কাজেই ক্বিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ ঈমান আনবে এবং যত নেক আমল করবে, সমস্ত ফযীলত উনাদের সম্মানিত আমল নামা মুবারক-এ যেয়ে পৌঁছবে।” সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ: উতবা যখন বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়া থেকে মাহরূম হয়ে যায়, তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জানিয়ে দেন যে, হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি (মহান আল্লাহ পাক) বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ জান্নাতে সুসম্পন্ন করেছি। সুবহানাল্লাহ! আপনিও উনাদের সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ দুনিয়ার যমীনে সুসম্পন্ন করুন। সুবহানাল্লাহ! তাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অনুষ্ঠানিকভাবে দুনিয়াতে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ সুসম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ১০ বছর আর সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৩৭ বছর। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عَنْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ اَوْحٰى اِلَىَّ اَنْ اُزَوِّجَ كَرِيـْمَتَـىَّ مِنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَحَضْرَتْ اُمَّ كُلْثُوْمٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করেছেন, আমি যেন আমার মহাসম্মানিতা দুই আওলাদ আলাইহিমাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাদের সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সুসম্পন্ন করি।” সুবহানাল্লাহ! (মা’রিফাতুছ ছাহাবা-লিআবী নাঈম ২২/২২৪) সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اللهَ تَعَالـٰى اَوْحـٰى اِلَـىَّ اَنْ اُزَوِّجَ كَرِيـْمَتَـىَّ مِنْ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ يَعْنِـىْ حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وحَضْرَتْ اُمَّ كُلْثُوْمٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ. অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক প্রেরণ করেছেন, আমি যেন আমার দুই মহাসম্মানিতা আওলাদ আলাইহিমাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম ও সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাদের সম্মানিত নিসবতে আযীম শরীফ হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সুসম্পন্ন করি।” সুবহানাল্লাহ!, (ফাদ্বাইলুছ ছাহাবা ১/১১২, আল মু’জামুল আওসাত্ব ৪/১৮, আল মু’জামুছ ছগীর ১/২৫৩, মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/৩৮৯, আল ফাতহুল কাবীর ১/৩০৪, জামিউল আহাদীছ ৭/৪৭৬, ইবনে আদী ৫/৭০, ইবনে আসাকির ৩৯/৪১, জামউল জাওয়ামি’ ১/৮৩৭২, যাখয়েরুল উক্ববা লি-মুহিব্বে ত্ববারী ১/১৬৩, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৩৩, আর রিয়াদ্বুন নাদ্বরাহ ১/২০২ ইত্যাদি) সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ الشَّفِيْعِ لِـحَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ مَا اَنَا اُزَوِّجُ بَنَاتِىْ وَلٰكِنَّ اللهَ تَعَالـٰى يُـزَوِّجُـهُـنَّ. অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার জন্য সর্বোত্তম সুপারিশকারী রয়েছেন। আমি আমার আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার নিসবতে আযীম শরীফ সুসম্পন্ন করিনি; বরং মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই সেটা সুসম্পন্ন করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম) সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার বেমেছাল মুহব্বতপূর্ণ সম্পর্ক মুবারক: বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাদের মাঝে বেমেছাল মিল-মুহব্বত মুবারক বিদ্যমান ছিলো। আরবের লোকজন বলাবলি করতো এবং এই কথাটি উপমায় পরিণত হয়েছিলো যে, اَحْسَنُ زَوْجَيْنِ رَاٰهُمَا اِنْسَانٌ حَضْرَتْ رُقَيَّةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَزَوْجَهَا حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ অর্থ: “মানুষের দেখা সম্মানিত দম্পতি মুবারক উনাদের মধ্যে বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার যাওজুম মুকাররাম সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনারা সর্বোত্তম।” সুবহানাল্লাহ! (ইছাবাহ ৭/৬৯৮, বিদায়া-নিহায়া ৭/২২৩, মুখতাছারু তারীখে দিমাশক্ব ৫/১৭৫ ইত্যাদি) ইমাম ত্ববারনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘আল মু’জামুল কাবীর শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন, اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَى ابْنَتِهٖ وَهِىَ تَغْسِلُ رَأْسَ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَقَالَ يَا بُنَيَّةُ اَحْسِنِـىْ اِلـٰى اَبِـىْ عَبْدِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَاِنَّهٗ اَشْبَهُ اَصْحَابِىْ بِىْ خُلُقًا. অর্থ: “একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ তাশরীফ মুবারক নিয়ে দেখেন যে, তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার মাথা মুবারক ধৌত করে দিচ্ছেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হে আমার লখতে জিগার, আপনি আবূ আব্দুল্লাহ হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে উত্তম আচরণ মুবারক করবেন। কেননা আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে চরিত্র মুবারক-এ আমার সাথে উনার অধিক মিল।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর ১/৭৬) আরো বর্ণিত রয়েছে, عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ دَخَلْتُ عَلـٰى حَضْرَتْ رُقَيَّةَ بِنْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ امْرَاَةِ حَضْرَتْ عُثْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَفِىْ يَدِهَا مُشْطٌ فَقَالَتْ خَرَجَ مِنْ عِنْدِىْ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اٰنِفًا رَجَّلْتُ رَأْسَهٗ فَقَالَ كَيْفَ تَـجِدِيْنَ اَبَا عَبْدِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ قُلْتُ بِـخَيْرٍ قَالَ اَكْرِمِيْهِ فَاِنَّهٗ مِنْ اَشْبَهِ اَصْحَابِـىْ بِـىْ خُلُقًا. অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একদা সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার ‘যাওজাতুম মুকাররমাহ’ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ মুবারক-এ প্রবেশ করলাম। তখন আমি দেখতে পেলাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হাত মুবারক-এ একখানা চিরুনী মুবারক। তারপর তিনি বললেন, একটু আগে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এখান থেকে বের হয়েছেন। তিনি দেখেছেন যে, আমি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত মাথা মুবারক আঁচড়িয়ে দিচ্ছি, উনার চুল মুবারক বিন্যাস মুবারক করে দিচ্ছি। সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, আপনি আবূ আব্দিল্লাহ (সাইয়্যদুনা হযরত যুন নুরাইন) আলাইহিস সালাম উনাকে কিরূপ পেয়েছেন? আমি বললাম, অতি উত্তম পেয়েছি। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে উত্তম আচরণ মুবারক করবেন। কেননা আমার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে চরিত্র মুবারক-এ আমার সাথে উনার অধিক মিল।” সুবহানাল্লাহ! (আল মু’জামুল কাবীর ১/৩৯, মা’রিফাতুছ ছাহাবাহ লিলবাগবী ৪/১৪০, মা’রিফাতুছ ছাহাবাহ লিআবী না‘ঈম ১/২৪৮, ফাদ্বায়িলুছ ছাহাবাহ লিআহমদ ইবনে হাম্বল ১/৫১০, মাজমাউয যাওয়ায়িদ ৮/৩৮৭, জামিউল আহাদীছ ৩৯/২৩০ ইত্যাদি) মূলত, পুরুষ-মহিলা সকলের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনাকে এবং সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ করা। যদি তারা তা করতে পারে, তাহলে পৃথিবীর বুক থেকে সমস্ত ফিতনা-ফাসাদ মিটে যেয়ে, দুনিয়াটাই জান্নাতে পরিণত হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন! হাবশায় সম্মানিত হিজরত মুবারক : আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ পাওয়ার ৫ম বৎসরের সম্মানিত রজবুল হারাম শরীফ মাসে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে হাবশায় হিজরত মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত মক্কা শরীফ প্রত্যাবর্তন: সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম উনার সাথে সুদীর্ঘ প্রায় ৭ বছর হাবশায় অবস্থান মুবারক করেন। এরপর উনাদের নিকট সংবাদ পৌঁছে যে, এখন সম্মানিত মক্কা শরীফ উনার অবস্থা ভালো হয়েছে। তখন উনারা সম্মানিত মক্কা শরীফ প্রত্যাবর্তন করেন। কিন্তু উনারা এসে দেখলেন যে, সম্মানিত মক্কা শরীফ-এ এখন পূর্বের চেয়েও নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ: সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি হাবশায় (আবিসিনিয়ায়) থাকা অবস্থায়ই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। যার ফলশ্রুতিতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি হাবশা থেকে সম্মানিত মক্কা শরীফ ফিরে এসে উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত চেহারা মুবারক অবলোকন করতে পারেননি। তাহলে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা এখান থেকে সুস্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! তাই কায়িনাতবাসীর জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং তা আমলে বাস্তবায়ন করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন! |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন