বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৬

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায ও জানাযার নামাযের পর মুনাজাত করা খাছ সুন্নত ॥ বিরোধতা করা কুফরী

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায ও জানাযার নামাযের পর মুনাজাত করা খাছ সুন্নত ॥ বিরোধতা করা কুফরী-২


এছাড়াও ফরয নামাযের পর মুনাজাত কবুল হওয়া সম্পর্কিত বহু ক্বওলী হাদীছ শরীফ বিদ্যমান রয়েছে। অনুসরণীয় মুহাক্কিক-মুদাক্কিক ইমামগণের মতে, “দলীলের ক্ষেত্রে ফে’লী হাদীছ শরীফ উনার চেয়ে ক্বওলী হাদীছ শরীফ বেশি শক্তিশালী । শুধু তাই নয়, র্নিভরযোগ্য ও বিখ্যাত সকল ফিক্বাহের কিতাবসমূহেই ফরয নামাযের পর মুনাজাত করাকে মুস্তাহাব সুন্নত বলে ফতওয়া দেয়া হয়েছে। যেমন, ফিক্বাহের বিখ্যাত কিতাব হেদায়ার মশহুর শরাহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ “আইনুল হেদায়া”-এর ১ম খন্ডের ৬৮৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “প্রত্যেক ফরয নামাযের পর দোয়া বা মুনাজাত করার নির্দেশ এসেছে কেননা ফরয নামাযের পর মুনাজাত কবুল হয়। তাছাড়া দেওবন্দীদের কিতাবাদিতেও ফরয নামাযের পর মুনাজাত করাকে মুস্তাহাব সুন্নত বলা হয়েছে এবং যারা এটাকে নাজায়িয বিদয়াত বলে তাদের কঠোর ভাষায় তিরষ্কার করা হয়েছে। যেমন, থানভীর “ইস্তেবাবুদ দাওয়াত আক্বীবুছ ছলাওয়াত” নামক কিতাবে লিখেছে, “চার মাযহাবের প্রত্যেকের মতে ফরয নামাযের পর দোয়া বা মুনাজাত করা অবশ্যই সুন্নত ও শরীয়তসম্মত। যে ব্যক্তি এটা অস্বীকার করবে সে নিশ্চিতরূপে মতিভ্রম ও নফসের তাড়নায় পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং সে শয়তানী কু-প্রচারণায় ও ধোঁকায় পড়েছে। এসব দলীল থাকার পরও কি করে বলা যেতে পারে যে, ফরয নামাযের পর দোয়া বা মুনাজাত করার কোনো প্রমাণ নেই বা এটা সুন্নতের পর্যায়ে পড়ে না?

প্রয়োজনীয় কতিপয় সুন্নত মুবারক

প্রয়োজনীয় কতিপয় সুন্নত মুবারক


সমস্ত প্রশংসা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সমস্ত সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত ছলাত ও সালাম। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।” (পবিত্র সূরা আহ্যাব শরীফ/২১) উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার স্বয়ং আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রিয়তম হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শকেই উত্তম বলে ঘোষণা করেছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ তথা সুন্নত পালন করতে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অসংখ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে নির্দেশ মুবারক করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, তোমরা অনুসরণ কর মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের। অতঃপর তারা যদি ফিরে যায়, তবে (শুনে রাখুক) আল্লাহ তায়ালা কাফিরদেরকে ভালবাসেন না।”(পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৩২) মূলত, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমল (পবিত্র সুন্নত) ব্যতীত বান্দার কোনো আমলই মহান আল্লাহ পাক তিনি পছন্দ করবেন না। আর মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্যতা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনারই আনুগত্যতা। যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করলো সে মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক উনারই আনুগত্যতা করলো।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮০) আলোচ্য প্রবন্ধে প্রয়োজনীয় কতিপয় সুন্নত মুবারক উনাদের বর্ণনা তুলে ধরা হইলো যা পালনের মাধ্যমে মানুষ কাফির-মুশরিক, মুজুসী, ইহুদী, খ্রিস্টান, ওহাবী, শিয়া, কাদিয়ানী ইত্যাদি বাতিল ফিরকাদের কুফরী, শিরকী মত, পথ থেকে বিরত থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দী ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে পারে। পোশাক-পরিচ্ছদ: ১. অধিকাংশ সময় সাদা কাপড়ের পোশাক ব্যবহার করা। শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য। ২. জামা কাপড়, সেলোয়ার ইত্যাদি (ডান দিক থেকে) পরা খোলার সময় (বাম দিক থেকে) খোলা। ৩. লুঙ্গি সেলোয়ার টাখনুর উপরিভাগে রাখা। শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য। ৪. নতুন কাপড় ইছনাইলিন আযীম শরীফ বা সোমবার ও জুমুয়াহ দিন পরিধান করা। ৫. পোশাক পরিধানকালে ও খোলার সময় বিসমিল্লাহ বলা। ৬. সুতি ও সাদা রংয়ের কাপড়কে অধিক গুরুত্ব দেয়া। সাদা রংয়ের কাপড় মহান আল্লাহ পাক উনারও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে অত্যান্ত প্রিয়। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পোশাকের মধ্যে উত্তম হচ্ছে সাদা রংয়ের পোশাক তা পরিধান করুন। আর মৃত্যুর সময় সেই পোশাক দ্বারা কাফন তৈরি করুন।” (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ শরীফ) ৭. টুপি, পাগড়ী ও রুমাল পরা। ৮. পাগড়ী দাঁড়িয়ে পরিধান করা। ৯. কামিছ বা কোর্তা গোল নিছফুছছাক হওয়া। সেন্ডেলঃ ১. ক্রস দু’ফিতা বিশিষ্ট চামড়ার সেন্ডেল ব্যবহার করা। ২. চামড়ার মোজা ব্যবহার করা। ৩. সেন্ডেল ব্যবহারের পূর্বে ভালোভাবে পরিষ্কার করা। ৪. পরিষ্কারের সময় বাম হাতের তর্জনী ব্যবহার করা। ৫. পরার সময় ডান পা আগে পরা। ৬. খোলার সময় বাম পা আগে খোলা। নখ-পরিষ্কার: ১. নখ পরিষ্কার করা। ২. ইছনাইনিল আযীম শরীফ, খামীস ও জুমুয়াবার নখ কাটা। ৩. কর্তিত নখ মাটিতে পুঁতে ফেলা। ৪. নখ কাটার সময়- ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলী থেকে শুরু করে কনিষ্ঠাঙ্গুলী পর্যন্ত। এর পর বাম হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলী থেকে শুরু করে বৃদ্ধাঙ্গুলী পর্যন্ত শেষ করে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলীর নখ কাটা। ৫. পায়ের নখ ডান কনিষ্ঠাঙ্গুলী থেকে শুরু করে ধারাবাহিকতাভাবে বাম পায়ের কনিষ্ঠাঙ্গুলীতে শেষ করা। ৬. মহিলাদের নখে, হাতে ও পায়ে মেহেদি ব্যবহার করা। চুল: ১. মাথার চুল লতি পর্যন্ত অথবা কাঁধ পর্যন্ত অথবা লতি ও কাঁধের মাঝ অথবা কানের মধ্যখান পর্যন্ত রাখা। শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য। ২. হজ্জের সময় মাথা মুন্ডন করা। (হজ্জ ব্যতীত মাথা মুন্ডানো সুন্নত নয়)। ৩. মাথায় তেল দেয়া, চিরুনী দিয়ে আচড়ানো, সিঁথি করা। ৪. দাড়ি এক মুষ্ঠি রাখা। (এক মুষ্ঠির কম রাখা হারাম) ৫. মোচ ছোট রাখা। (মুন্ডানো মাকরূহ) ৬. মোচ ও দাড়ি চিরুনী দিয়ে আঁচড়ানো, তেল দেয়া। ৭. ৪০ দিনের মধ্যে ইছনাইনিল আযীম শরীফ, খামীস বা জুমুয়াবার অতিরিক্ত কেশ পরিষ্কার করা। ৮. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা। ঘুমানো: ১. ঘুমানোর পূর্বে মিসওয়াক করা। ২. ওযু করে তৎপর মাথার চুল ও দাড়ি চিরুনী দ্বারা আচড়ানো। ৩. ইশার নামায আদায় করে পবিত্র দুরূদ শরীফ ও নিয়মিত ওযীফা শরীফ পাঠ করা। ৪. চোখে সুরমা লাগানো। ৫. ঘুমানোর পূর্বে বিছানার সব কিছু ঝেড়ে পরিষ্কার করা। (সাধারনভাবে তিনবার) ৬. শিয়রে-আয়না, চিরুনী, কাঁচি, সুরমাদানী, মিসওয়াক, তেলের শিশি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় বস্তু রাখা। ৭. শোয়ার সময় চৌকি, খেজুর পাতার চাটাই, চাদর, চামড়া ইত্যাদি ব্যবহার করা। ৮. খেজুরের ছালভর্তি চামড়ার বালিশ ব্যবহার করা। চাঁদর দিয়ে শরীর ঢেকে রাখা। ৯. রাতের শেষার্ধ্বে তাহাজ্জুদ নামায পড়া। ১০. দুপুরের খাবার পর কায়লুলা তথা কিছুক্ষণ বিছানায় আরাম করা। মসজিদের সুন্নত: ১. ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা। ২. প্রবেশকালে দোয়া পড়া। ৩. অশ্লীল কিংবা অপ্রয়োজনীয় কথা না বলা। ৪. অবস্থানকালীন সময় যিকির-আযকার, পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ও ইবাদত-বন্দেগীতে কাটানো। (নামাযের ক্ষতি হবে এমন উচ্চ স্বরে যিকির ও তিলাওয়াত না করা।) ৫. উচ্চ আওয়াজে কাউকে না ডাকা। ৬. আঙ্গুল না ফুটানো। ৭. বাইরে হারানো জিনিসের ঘোষণা বা সন্ধান না করা। ৮. মসজিদের পবিত্রতার দিকে খেয়াল রাখা। ৯. বের হওয়ার সময় বাম পা দিয়ে বের হওয়া। ১০. বের হওয়ার সময় দোয়া পড়া।





সেই মহাসম্মানিত, মহামর্যাদাবান, সুমহান, অশেষ বরকতময় ও বেমেছাল ফযীলতপূর্ণ মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফই হচ্ছেন- কুল-কায়িনাতের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ উনার দিন। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম-উনার ক্বওল শরীফ
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলুন, মহান আল্লাহ পাক উনার ফযল ও রহমত মুবারক অর্থাৎ আমাকে পাওয়ার কারণে তোমাদের উচিত ঈদ বা খুশি প্রকাশ করা।’ সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ যেদিন আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনে মুবারক তাশরীফ আনেন-

সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দিন মুবারক উনার নামকরণ করা হয়েছে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!

যা সংক্ষেপে মুবারক নামকরণ করা হয়েছে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ।

অর্থাৎ সেই মহাসম্মানিত, মহামর্যাদাবান, সুমহান, অশেষ বরকতময় ও বেমেছাল ফযীলতপূর্ণ মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফই হচ্ছেন- কুল-কায়িনাতের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ উনার দিন। সুবহানাল্লাহ!

যা আসতে আর মাত্র ১৩৫ দিন বাকি।

আর এ কারণেই পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফই হচ্ছেন- সাইয়্যিদুল আসইয়াদ, সাইয়্যিদুশ শুহূর, শাহরুল আ’যম। সুবহানাল্লাহ!

অতএব, সেই মহাসম্মানিত দিন উনাকে তা’যীম-তাকরীম ও মুহব্বত মুবারক উনার সাথে পালন করা ফরয এবং ইহকাল ও পরকাল উভয়কালের জন্যই নাজাত লাভেরও কারণ। সুবহানাল্লাহ!

বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০১৬

আজিকে শাদী বা নিসবাতুল আযীম দিবস!

আজিকে শাদী বা নিসবাতুল আযীম দিবস!


মহাসমারোহে, মহা আয়োজন! ব্যাকুল বিশ্ব, মহা আলোড়ন! ছুটাছুটি করে হুর গেলমান সজ্জিত সাত যমীন আসমান! অপরূপ সাজে কেন সাজে ধরা? ফুলে ফুলে আজ কেন ডালি ভরা? হাজার চাঁদে ভরেছে আকাশ, লক্ষ সিতারা হাসে, কুল-কায়িনাত ব্যস্ত আজিকে কেন মহা উল্লাসে! দিকে দিকে শুনি খোশ খবর! ছিটায় গোলাপ মেশক-আম্বর! চাঁদের ঝালরে জলসা আজিকে ক্বাছীদার বনে বুলবুলি, বাগে জুঁই কলি- কী বেকারার! জান্নাতে বহে ঝর্ণা বাহারী খোশবুদার, খুশি জৌলুসে মিলন হয়েছে সব আত্মার! মহাবিশ্বের মহা মহীমের মহা এ আয়োজন আছেন শামিল আল্লাহ পাক ও রসূল, পয়গম্বর সব ছাহাবীগণ! ওরে! জানো না, আজিকে শাদী বা নিসবাতুল আযীম দিবস শাহযাদী ঊলার! তাই তো বিশ্ব লয়ে অধীর- মহাসৃষ্টির যতো উপহার!!





জোড়া ফুলের বাহার

জোড়া ফুলের বাহার



যে বাগানের ফোটা ফুল আপনি, ধরাতে নেই যে আর, গেলে ছেঁড়ে কেবলি আসবে শুধু হাহাকার। ক্ষমা করুন হে শাহযাদী উলা! আরজু মোদের সবার, থাকেন যেন মোদের মাঝে, চাই জোড়া ফুলের বাহার, যে বাগানের ফোটা ফুল আপনি, রয়ে যাক সুরভী তার। আপনার উপমা আপনি, মহীয়ান অনন্তকাল ধরে, নিয়ামত দেবেন ভিন্নরূপে, এ গোলামদের হৃদয় ভরে। চাই মোরা শুধু রিযা পেতে, করে হৃদয় উজাড়। মানিনা কোন রীতিনীতি, নিয়ম আপনার অধীন, গোলামী করুক সবাই মিলে আপনার মাঝে আপনি স্বাধীন, লিখিত হোক নতুন করে, সুন্নাহ রঙে সাজার। কুল-কায়িনাত অপেক্ষমাণ প্রহর গুণে ব্যাকুল নিয়ামত দেবেন উদার হাতে, নাজাত পেতে আকুল হে শাহযাদী উলা, করুন কবুল, দূর করুন সব আঁধার।

শাহযাদী উলার মুবারক নিকাহ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক

শাহযাদী উলার মুবারক নিকাহ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক


শাহযাদী উলার নিকাহ মুবারকে খুশি করতেছে ধরার বুকে। ২২শে শাওওয়াল অনুষ্ঠিত হয় শাহযাদী উলার নিকাহ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক হয়। খুশি করছে যমীন ও আসমান আরো করছে ফেরেশতা জাহান, শাহযাদী উলার শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক এসে গেছে খুশিতে ধরা আনন্দ করছে। শাহযাদী উলার শান মান রয় ওয়ারাউল ওয়ারা, ওয়ারাউল ওয়ারায়। খুশির বন্যা বয়ে গেছে রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ কাছে। সুন্নতী নিকাহ অনুষ্ঠিত হয় মুজাদ্দিদ আ’যম করেন তার ব্যয়। ওলীদের ওলী হয়ে আসেন শ্রেষ্ঠ ওলী রাজারবাগে। সেই ওলীরই খুশির দিন ২২শে শাওওয়াল ঈদের দিন।

নিসবাতুল আযীম মুবারক

নিসবাতুল আযীম মুবারক


প্রথমা শাহযাদীর শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক কায়িনাত বলে শুধু ঈদ মুবারক! আকাশ সাজিলো ধরণী সাজিলো ঈদ মুবারক এক সাথে বলিয়া উঠিল! মামদূহর চোখের মণি আম্মার প্রাণের খনি ঈদ মুবারক বলিয়া উঠিল ধরণী! শাহযাদী উলা কুল কায়িনাতের রাহবার বেহেশত হল প্রথমা শাহযাদীতে উজাড়! শাহযাদী উলার শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারকে কত যে আনন্দ হবে কুল-কায়িনাত কখনো তাহা ভেবে নাহি পাবে। সুন্নতী শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক দেখতে তোমরা এসো রাজারবাগে দেখে যাও সুন্নতী শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক কিভাবে হবে?



মুবারক হো- সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন

মুবারক হো- সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, কুতুবুল আলম, উম্মু আবীহা, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, ক্বায়িম-মাক্বামে বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নাক্বীবাতুল উমাম হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার এবং নূরে মদীনা, গুলে মুবিনা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, নিবরাসাতুল উমাম হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম উনাদের মহিমান্বিত ও আযীমুশ শান ঈদু নিসবাতিল আযীম

সব প্রশংসা মুবারক যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আফদ্বালুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বিনতু মিন বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বাইয়া আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর আমিরুল মু’মিনীন, খলিফাতুল মুসলিমীন, জামিউল কুরআন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আালাইহিস সালাম তিনি অত্যন্ত বিষন্ন, বিমর্ষ এবং শোকাতুর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। উনার এই ব্যথাতুর অবস্থার মূল কারণ ছিলো সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্ল্হাু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত বানাত আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারক থেকে বঞ্চিত হওয়া। অর্থাৎ হযরত বিনতু মিন বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খিদমত মুবারকে যাওয়া তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া- এর চাইতে সৌভাগ্যের ও আনন্দের বিষয় দ্বিতীয়টি নেই। এটা মহিমান্বিত পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার মতোই ফযীলতযুক্ত, সম্মানিত ও বরকতপূর্ণ। প্রসঙ্গত, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারকে আসার জন্য বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, আসাদুল্লাহিল গালিব সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার যে নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাও ছিল পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার মতো মহিমান্বিত। উল্লেখ্য, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, বতূল, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক খিদমতে যাওয়ার জন্য অনেকেই প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশনার অপেক্ষা করছিলেন। এ নির্দেশনায় আমিরুল মু’মিনীন, খলিফাতুল মুসলিমীন, বাবুল ইলম, আসাদুল্লাহ হযরত কাররামাল্লাহ ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার পক্ষে প্রস্তাব এলে উনিই মনোনীত হন। সুবহানাল্লাহ! তদ্রƒপ নাক্বীবাতুল উমাম, কুতুবুল আলম, উম্মু আবীহা, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, ক্বায়িম-মাক্বামে বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম এবং নিবরাসাতুল উমাম, নূরে মদীনা, গুলে মুবিনা, সাইয়্যিদাতুন নিসা, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম উনাদের খিদমতে কারা যাবেন বা যাঁদের সাথে উনাদের আযীমুশ শান নিকাহ মুবারক বা নিসবাতুল আযীম অনুষ্ঠিত হবে এ বিষয়ে ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার এবং উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদেরকে বিশেষভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিশেষভাবে অবগত করেন। একাধিকবার উনাদেরকে স্বপ্ন মুবারকে দেখিয়েছেন। নিজের হযরত আহলে বাইত শরীফ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, আওলাদে রসূল মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি একান্ত ও স্পষ্ট এবং সমুজ্জ্বলরূপে রূহানীভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত শাফীউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদের নসবনামা মুবারক অবগত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তবেও উনাদের নসবনামা মুবারক রয়েছে। উনারা ‘আওলাদে রসূল’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। উনাদের পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের ইতিহাস হচ্ছে উনারা হিদায়েতের কাজে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে বাংলা মুলুকে এসেছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক ফরমান- “মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দশন মুবারক সম্বলিত দিবসগুলিকে স্মরণ করিয়ে দিন সমস্ত কায়িনাতকে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে ধৈর্যশীল ও শোকরগোজার বান্দা-বান্দীদের জন্য ইবরত ও নছীহত রয়েছে।” (পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫) মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ উনার ১৫ নম্বর পবিত্র আয়াত পাক উনার মধ্যে হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম উনার মুবারক শানে ইরশাদ মুবারক ফরমান- “উনার প্রতি শান্তি বা সালাম অবারিত ধারায় বর্ষিত হোক, যেদিন তিনি দুনিয়ায় আগমন করেন অর্থাৎ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন ও যেদিন তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন আবার যেদিন তিনি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবেন।” সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। (আর তোমাদের পক্ষে তা দেয়াও সম্ভব নয়) তবে যেহেতু তোমাদের ইহকাল ও পরকালে নাজাত লাভ করতে হবে, মুহব্বত-মা’রিফাত, রেযামন্দি মুবারক হাছিল করতে হবে, সেহেতু তোমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- আমার নিকটজন তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩) এসব পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের থেকে প্রত্যেক ঈমানদার মুসলমানসহ কায়িনাতের সকলের জন্যই উপলব্ধি করা জরুরী যে, হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ই উম্মতের তথা কায়িনাতের জন্য বেমেছাল ফযীলত মুবারক, ইতমিনান, রহমত মুবারক হাছিল এবং নিয়ামত মুবারক হাছিলের কারণ। মূলত, আজকের আযীমুশ শান এ মুবারক দিনটি সমস্ত কায়িনাতের জন্যই এক মহান দিন; ঈদ উনার দিন, খুশির দিন, স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এ মহান দিবস উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করছেন। কেননা এ পবিত্র নিকাহাইনিল আযীম বা নিসবাতাইনিল আযীম মুবারক উনাদের ফায়ছালা তো উনাদের পক্ষ থেকেই হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! মহিমান্বিত নিকাহাইনিল আযীম বা নিসবাতাইনিল আযীম উপলক্ষে সাইয়্যিদে মুজাদিদ্দে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার এবং উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনারা ওই রকমই খুশি হয়েছেন, যেমনটি বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নিসবাতুল আযীম মুবারক উপলক্ষে স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুশি হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! কাজেই মহিমান্বিত ও আযীমুশ শান ঈদুন নিকাহাইনিল আযীম বা নিসবাতাইনিল আযীম উপলক্ষে সর্বোচ্চ খুশি প্রকাশ করা এবং আর্থিক খিদমত করা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। যা উৎযাপন করা প্রত্যেক মুরীদ মুতাক্বিদ তথা মু’মিনের জন্য ফরয-ওয়াজিব। পাশাপাশি উল্লেখ্য, অতীব দুঃখজনক হলেও সত্য এ বিষয়ে মিডিয়া তথা রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারক মহল, পরিচালক মহল এমনকি নামধারী উলামায়ে ‘সূ’য়ের মাঝেও কোনো আলোড়ন বা অংশগ্রহণ নেই। ফলতঃ যা হবার তাই হচ্ছে। উম্মাহ বা দেশবাসী আযাব-গযবে আক্রান্ত হচ্ছে। বরং দিন দিন আরো ভয়াবহ গযবের মুখোমুখি হচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ! কিন্তু তারপরেও মানুষ বেখবর। তাদের প্রসঙ্গেই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তবে কী উত্তম পথের চেয়ে নিকৃষ্ট পথই তোমাদের পছন্দ?” মূলত, আযাব-গযব থেকে রক্ষার একটাই পথ, সেটা হল রহমত মুবারক। আর এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক যাঁরা মুহসিনীন উনাদের নিকটবর্তী।” এক্ষেত্রে যারা কুতুবুল আলম উনারাই রহমত মুবারক উনার আধার। মূল ধারক ও বাহক। আর ৭ জন কুতুবুল আলম উনাদের মধ্যে যিনি প্রধান তিনিই ইমামুল আইম্মাহ। তিনিই মুজাদ্দিদে আ’যম, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। বাকী সব কুতুবুল আলম উনারা সবাই উনার মুবারক আহাল ও ইয়াল আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! সঙ্গতকারণেই উনাদের মুবারক ছোহবত ব্যতিরেকে বর্তমান উম্মাহর মাঝে একদিকে পবিত্র হিদায়েত লাভ; অপরদিকে আযাব-গযব থেকে রক্ষার দোসরা কোনো পথ খোলা নেই। এ অমোঘ সত্য এ উম্মাহ যত তাড়াতাড়ি অনুধাবন করবে, তত তাড়াতাড়িই তারা দ্বীন-দুনিয়ার ভালাই কামাতে পারবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনাদের লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ ও লক্ষ্যস্থল আওলাদে রসূল, ইমামে আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যেন আমাদের সবাইকে কোনো কারণ ছাড়াই কবুল করেন ও কামিয়াব করেন। আমীন!



আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পরিচিতি

আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক পরিচিতি


শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ আওলাদ। বর্তমান যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামে আ’যম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং উম্মুল উমাম, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, হাবীবাতুল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের প্রথমা কন্যা ত্বহিরাহ, তাইয়িবাহ, ফক্বিয়াহ, নাক্বীবুতুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী উলা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত যাওজুম মুকাররম। সুবহান্নাল্লাহ! জান্নাতী বাগানের মালিকা, ত্বহিরাহ, তাইয়িবাহ, রহীমাহ, মাশুকাহ, মাহবুবাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলা আলাইহিন্নানাস সালাম উনাদের সম্মানিত আব্বাজান। সুবহান্নাল্লাহ! খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা ওয়ারাউল ওয়ারা হিসেবে কবুল করেছেন। উনাকে দিয়েছেন অসংখ্য-অগণিত নিয়ামত। তামাম দুনিয়ার কুতুব করে উনাকে যমীনে প্রেরণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসলীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ আওলাদ হিসেবে কবুল করেছেন তথা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম হিসেবে মনোনীত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! মুবারক বংশ পরিচয় এবং আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোর দ্বারা শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সুমহান শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক সুস্পষ্টত প্রকাশিত। কিন্তু বান্দা-বান্দী, জিন-ইনসানদের পক্ষে উনার হাক্বীক্বী মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উপলব্ধি করা তো কখনও সম্ভব হবে না। তথাপিও সীমিত জ্ঞানের দ্বারা উনাদের যতটুকু শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক উপলব্ধি করা যায়, তার যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা সকলেরই কর্তব্য। আর খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি তো বান্দাদের বলেছেন যেনো বান্দারা নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে। নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলেই খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিয়ামত আরো বাড়িয়ে দেন। কাজেই আমাদের উচিত হবে, সাইয়্যিদুনা হযরত শাফিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে যে খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের মাঝে রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন, এর জন্য শুকরিয়া আদায় করা, উনাকে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম এবং খিদমত মুবারক করা তথা নিয়ামতের যথাযথ হক্ব আদায় করার কোশেশ করা; যদিও বান্দাদের পক্ষে হাক্বীক্বী হক্ব আদায় করা কখনই সম্ভব নয়। সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আমাদের মাঝে নাজাতী তরীস্বরূপ। উনাকে যে অনুসরণ-অনুকরণ করবে, মুহব্বত করবে, তা’যীম-তাকরীম করবে, খিদমত করবে সে অবশ্যই নাযাত পেয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ! পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি, তিনি (বিদায়) পবিত্র হজ্জে আরাফাতের দিন উনার ‘কাসওয়া’ নামক উষ্ট্রীর উপর সওয়ার অবস্থায় খুতবা মুবারক প্রদান করছেন। আমি শুনেছি, তিনি খুতবা মুবারক উনার মধ্যে বলেছেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি তাকে শক্তভাবে ধরে রাখো, তবে কখনো গুমরাহ হবে না। তা হলো খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব ও আমার ইতরত বা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! অন্যত্র আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনারা হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার যামানার কিসতীস্বরূপ। যারা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করবে তারা সকলেই নাজাত পেয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ! এ জন্য আমাদের সকলেরই উচিত হবে, আখাছছুল খাছ আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করা, খিদমত করা। আর উনার শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ শরীফ যথাযথভাবে পালন করা। আর এলক্ষ্যে মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ, ওয়াজ মাহফিল-এর আয়োজন করা। উনার ছানা-ছিফতে মশগুল থাকা এবং হাক্বীকী মুহব্বত এবং খিদমতে নিয়োজিত থাকা। খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদের সকল মাখলুকাতকে যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার উসীলায় শাফিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহ দামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সুমহান পবিত্রতম শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস যথাযথভাবে পালন করে খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ সন্তুষ্টি, রেযামন্দি হাছিল করার তাওফীক দান করেন। আমীন।




সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ ॥ শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত ও সম্মান মুবারক।

সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ ॥ শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত ও সম্মান মুবারক।


আরবী বাক্য ‘নূরুন আলা নূর’ উনার বাংলা মর্মার্থ ‘সোনায় সোহাগা’কে অতিক্রম করে ইংরেজি শব্দ Good, Better, Best -কে পশ্চাতে রেখে, বহুল প্রচলিত আরবী শব্দ জায়্যিদ, ত্বইয়িব, খইর, মুমতাজ, আফদ্বল, আহসান ইত্যাদির শিরে আরোহণ করে, দুলোকী নব নকশাখচিত পালকিতে চড়ে আজি ধরার বুকে তাশরীফ নিয়েছেন শাফিউল উমাম, কুতুবুল আলম, যুর রহমাহ, ওয়াল কারাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। উনার গৌরবমাখা মুবারক তাশরীফ উনার সৌরভে আজ মুখরিত কুল-কায়িনাত। আরশে আলয় থেকে শুরু করে রওযা শরীফ, জান্নাত, সপ্ত আসমান সপ্ত যমীন, রবি-শশী, গ্রহ, তারার সকল স্থানের মাখলূক্ব আজি আনন্দে উদ্ভাসিত, উদ্বেলিত ও হাস্যোজ্জ্বল। হুর-পরীরা খিদমতের আরজি নিয়ে অপেক্ষমান। জিন-ইনসান গোলামীর সনদ নিতে গভীর ইনতিজারে মশগুল। পৃথিবীর যমীন শুকরিয়া আদায় করছে উনার মুবারক পদচারণার ছোঁয়া বুকে পেয়ে, আসমান শুকরিয়া আদায় করছে উনাকে তার নীলিমার আবরণে আচ্ছাদিত করতে পেরে। চন্দ্র-সূর্যের আলো উজ্জ্বল থেকে আরো সমুজ্জ্বল হয়েছে উনার মুবারক অবয়বের নূরী ফোয়ারার সাইয়্যিদি ঝলক মাখা রৌশনে। ঝরণা, নদী, সাগরের স্রোত অনুপম ছন্দে উনার শানে ক্বাছীদা শরীফ উনার পরশমাখা আবেগী ছন্দ শুনাচ্ছে। পুষ্প-গুল্মের হৃদয়কাড়া সুবাসে আনন্দমুখর ধরণীর প্রতিটি বিয়াবান। মোদ্দাকথা হলো- কায়িনাত ও তার সমস্ত সৃষ্টিই আজি ঐশী নব উদ্যমের পরশে আবেগাপ্লুত ভাবগাম্ভীর্যের মোহনায় সাঁতার কাটছে। কেনইবা এ রকম হবে না? দেখতে হবে না- কোন্ মহামতি উনার আবির্ভাব আজ? কোন্ ধ্রুব জ্যোতি উনার তাশরীফান আজ? কোন্ সীপাহশালার শাদী মুবারক দিবস আজ? উনি হচ্ছেন হাশিমী বংশের কুরাইশী খান্দানের সাইয়্যিদ। উনার ঊর্ধ্বতন পূর্বপুরুষ উনাদের বংশানুক্রম মুবারক সিলসিলা মিলেছে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে। সুবহানাল্লাহ! এ কারণেই তিনি হচ্ছেন আওলাদুর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! আর আওলাদুর রসূল সম্পর্কে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- قل لا اسئلكم عليه اجرا الا المودة فى القربى মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি জানিয়ে দিন, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভব নয়। তবে তোমরা যদি ইহকাল ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও; তাহলে তোমাদের জন্য ফরয হচ্ছে, আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা, উনাদের খিদমত মুবারক উনার আনজাম দেয়া।” (পবিত্র সূরা শুরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ-২৩) এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় বিশ্বখ্যাত তাফসীর ‘তাফসীরে মাযহারী’ শরীফ উনার ৮ম জিলদ ৩২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে- لا اسئلكم اجرا الا ان تودوا اقربائى واهل بيتى وعترتى. অর্থ: “আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাই না; তবে তোমরা আমার নিকটাত্মীয়, আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও বংশধর উনাদের (যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক) হক্ব আদায় করবে। এ ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে- عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم احبوا الله لـما يغذوكم من نعمة واحبونى لحب الله واحبوا اهل بيتى لحبى. অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, তোমরা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করো। কেননা, তিনি তোমাদের প্রতি খাদ্যসামগ্রীর মাধ্যমে অনুগ্রহ করে থাকেন। আর আমাকে মুহব্বত করো খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতে, যেহেতু আমি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো আমার মুহব্বতে।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ সম্পর্কে আরো বলেন- عن حضرت ابى ذر رضى الله تعالى عنه انه قال وهو اخذ بباب الكعبة سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول الا ان مثل اهل بيتى فيكم مثل سفينة نوح من ركبها نجا ومن تخلف عنها هلك. অর্থ: “হযরত আবূ যর গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার দরজা মুবারক ধরে বলেছেন, আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, সাবধান! আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা হলেন তোমাদের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিস্তির ন্যায়। যে উনার মধ্যে আরোহণ করবে, সে রক্ষা পাবে। আর যে উনার থেকে পশ্চাতে থাকবে সে ধ্বংস হবে।” (মুসনাদে আহমদ শরীফ) তিরমিযী শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে- عن حضرت جابر رضى الله تعالى عنه قال رايت رسول الله صلى الله عليه وسلم فى حجته يوم عرفة وهو على ناقته القصواء يخطب فسمعته يقول يا ايها الناس انى تركت فيكم ما ان اخذتم به لن تضلوا كتاب الله وعترتى اهل بيتى. অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি, তিনি (বিদায়) পবিত্র হজ্জে আরাফাতের দিন উনার ‘কাসওয়া’ নামক উষ্ট্রী উনার উপর সওয়ার অবস্থায় খুতবা মুবারক প্রদান করছেন। আমি শুনেছি, তিনি খুতবা মুবারক উনার মধ্যে বলেছেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন বিষয় রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি উক্ত বিষয় অর্থাৎ উনাদেরকে শক্তভাবে ধরে রাখো, তবে কখনো গুমরাহ হবে না। উনারা হলেন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব ও আমার ইতরত বা আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম।” সুবহানাল্লাহ! উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ, পবিত্র তাফসীর শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের হাক্বীক্বী মিছদাক্ব হচ্ছেন শাফিউল উমাম, বাবুল ইলম, কুতুবুল আলম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। উনাকে তা’যীম-তাকরীম, সম্মান করা কুল কায়িনাতের জন্য ফরয উনার অন্তর্ভুক্ত। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে উনার মা’রিফাত-মুহব্বত অনুধাবন করে, তা’যীম-তাকরীম সম্মান করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

আওলাদে রসূল হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সুমহান পবিত্র আযীমুশ শান নিকাহ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক

আওলাদে রসূল হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সুমহান পবিত্র আযীমুশ শান নিকাহ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক




বেশুমার ছলাত ও সালাম মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত মামদূহ আক্বা আলাইহিস সালাম ও হযরত আহলে পাক শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক স্মরণে। বেহদ পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম শরীফ সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদের মুবারক চরণে। দোয়া চাই, করুণা চাই মুজাদ্দিদে আ’যম, বাহরুল উলূম, মাখজানুল মা’রিফাহ মামদূহ আক্বা উনার মুবারক ক্বদমে। যেন লিখতে পারি উনাদের সুমহান পবিত্র শান-মান, বুযুর্গী-সম্মান এই অধমে। গড়তে চাই ভবে মামদূহ পবিত্র আহাল পাক উনার ছানার তাজমহল; ক্বিবলা কা’বা উনার করুণা পেলেই হবো যে সফল। ধন্য পবিত্র শাওওয়াল শরীফ। ধন্য তার নব হিলাল। ধন্য আসমানের ওই অসংখ্য শিহাব-সিতারা। ধন্য গ্রহ-নক্ষত্র-পর্বত সারা। ধন্য আরশ-পরশ পুরো কায়িনাত। ধন্য হুর মালাইক-মু’মিন-মু’মিনাত। ধন্য পুণ্য ওই নূরে রওশন আউলিয়াবাগ। বলছে সবাই আল বালাগ, আল বালাগ। তাশরীফ- মুজাদ্দিদ যাদী, শাহযাদী ঊলা সাইয়্যিদাহ মুহ্তারামাহ। স্বাগতম হে হাবীবী আওলাদ মিছাদাক্বে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম! আপনার মুবারক চরণ পরশে খোদ আরশ পাক ধনবান। মাখলূক্ব সবে জানাই আহলান সাহলান। মারহাবা ইয়া উলা শায়েখযাদী সাইয়্যিদা নূরী আত্বহার! আপনার (আগমন) পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার তরে সৃষ্টি করেছে অধীর আগ্রহে ইনতিযার। পুরিলো তাদের আশা- করিলেন পবিত্র সুন্নাহ শরীফ আবাদ। মারহাবা- ইয়া মামদূহযাদী! জিন্দাবাদ! জিন্দাবাদ! সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মুজাদ্দিদে আ’যম, গাউছুল আ’যম, ইমামে আ’যম, আওলাদে রসূল, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রথমা আওলাদ। তিনি উনার লখতে জিগার নয়নমণি। তিনি খোদ নূরে ইলাহী, খায়ের খনি। তিনি আউলিয়া সম্রাটযাদী, মালিকায়ে জাহান। উনার মুবারক চরণ তলে আউলিয়াকুলের শির শোভামান। হাবীবা হয়ে সৃষ্টি যিনি, কে লিখতে পারে শান-মান উনার। মুহূর্ত, ঘণ্টা, দিন কতেক বৎসর পেরিয়ে আবারও হাজির সেই মুবারক শাওওয়াল মাস। যেই বরকতী মাসে গুলে মদীনা, নূরে হাবীবা, সাইয়্যিদাতুন নিসা, আফদ্বালুন নিসা, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পক্ষ থেকে রহমতে খাছ নিয়ে দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ এনে কুল মাখলূককে ধন্য-পুণ্য করেছিলেন। আজ খুশিতে বাগ বাগ করছে এই (বরকতময়) ফযীলতপূর্ণ মাস উনার পবিত্র ২২তম নিশির জ্যোৎস্না। সিতারার দল আজ মিট মিট করে হাসছে। যেন তারা মুক্তার দানা বিলিয়ে দিচ্ছে সবার মাঝে। আর মনে মনে কার যেন শান-মান বয়ান করছে। চাঁদ-তারার এই অপরূপ ঝিলিমিলি হাসি আজ সকলের মন কেড়ে নিয়েছে। এক আনন্দঘন, বিশাল রহস্যময় মুহূর্ত। এমন শুভ রজনী আর কেউ কখনও দেখেনি হয়তো। এদিকে নদ-নদীতে পূর্ণ জোয়ার এসেছে। সাগর বক্ষের ঊর্মি মালায় খুশির ঢল নেমেছে। সিন্ধুর সমস্ত প্রাণীকুল তার সাথে একাত্ম হয়েছে। সমুদ্রের শামুক-ঝিনুক তাদের মুক্তা মেলে তথায় সৌন্দর্য বর্ধন করছে। আকাশ আর সাগরের এই নিখুঁত সাজ দৃশ্য দেখে পৃথিবী ও অপরূপ সাজে সুসজ্জিত হয়েছে আজ। পুষ্পে পুষ্পে ভরে গেছে পুরো বসুন্ধরা। গুলের সুবাসে আজ সকলে আত্মহারা। ডালে ডালে শুনা যাচ্ছে বুলবুলি পাখির সুমিষ্ট কলতান। সব তরু-লতা আজ পরেছে নতুন লেবাস। দোয়েল-কোয়েল, ময়না-শ্যামা আরো জানা অজানা হাজারো ধরনের হাজারো পাখি, কীট-পতঙ্গ, গর্তের পিপীলিকা গুন গুন করে তাদের ভাষায় ঈদের ধ্বনি তুলছে। এই তুলনাহীন অপরূপ দৃশ্য খোদ রব তায়ালা উনার কুদরতী নজির। যা লাখ-কোটি ঋতুরাজ বসন্তকে হার মানিয়েছে। মরুর বালিকণা তার অগণিত যবান দ্বারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম উনার নাম মুবারক উনার তাসবীহ পড়ছে। যমীনের নিচে লুকিয়ে থাকা সমস্ত হীরা-মণি-মুক্তা অমূল্য রতœ ভা-ার ও আজ উনার মুবারক খিদমতে নিজেদেরকে বিলিয়ে দিতে পাগলপারা হয়ে উঠেছে। ওই তাহতাচ্ছারা হতে আরশে আলার মাঝে যত মাখলূক্বাত রয়েছে সকলেই নিজেদেরকে উনার মুবারক খিদমতে বিলিয়ে দিতে এরূপ বেকারার পেরেশান বনে গেছে। হে নির্বোধ মানুষ! তুমি হয়তো বুঝ না। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টি জগতের সমস্ত মাখলূক্বাত তা বুঝে। দেখ! দেখ! ওই দেখ! আজ খুলে গেছে পবিত্র জান্নাত উনার সব বাব (দরজা)। হুর-গিলমান সব মালাইকার ললাটে ফুটেছে খুশির ভাব। তারা সবে নিয়ে উপস্থিত পবিত্র জান্নাতী লু-লু মারজান। রহমতী দ্বার খুলে গেছে আজ, শোন তার পবিত্র আযান। তামাম জিন-ইনসান সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার আনন্দে হয়েছে আত্মভোলা। দেখ! দেখ! সমস্ত সৃষ্টির দস্তে দস্তে শোভিছে সদ্য ফুটন্ত পুষ্পমালা। আজ খোদা তায়ালা উনার আরশ হাবীবী রওযা শরীফ সেজেছে নয়া সাজে। খুশির বন্যা বইছে খোদ ইলাহী-হাবীব মাঝে। আম্বিয়া-আউলিয়া শক্ত হস্তে ধরে আছেন সেই পথ। প্রকাশ হচ্ছে ওই শাহযাদী ঊলা উনার আলীশান আযমত। ওই রসূলুম মিনাল মালাইকা জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি ঘোষিছেন এক মুবারক খোশ খবরী সারা কায়িনার পরে। বায়ু তা বহে নিয়ে গেছে ধরণীর প্রতি দ্বারে দ্বারে। তাই সকলের কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে এক বরকতময় মুবারক শুভ ধ্বনি। আজ মুজাদ্দিদযাদীর মুবারক শাদী- সহসা নাও জানি। মুজাদ্দিদে আ’যম, গাউছুল আ’যম, হাবীবুল্লাহ গরীবে নেওয়াজ, ছহিবে ক্বাসিম আওলাদে রসূল মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পক্ষ থেকে এই পবিত্র আযীমুশ শান নিকাহ মুবারক উনার দাওয়াতনামা অনেক পূর্বেই হযরত নবী-রসূল, ওলী-আব্দাল, গাউছ, কুতুব, নক্বীব-নুক্বাবা, জিন-ইনসান, হুর-পরী, ফেরেশ্তা, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, জামাদাত-শাজারাত, হাজারাত তথা তামাম কায়িনাত মাঝে পৌঁছে গেছে। তাই শুরু হলো শাহী আয়োজন। মানব-দানব, জিন-ফেরেশতা সকলেই লেগে গেল প্রাণপণে অতি আনন্দের সাথে এই পবিত্র আযীমুশ্ শান শাদী মুবারকের বরকতী কাজে। প্রস্তুত (সৃষ্টি জগতের) মাখলূক্ব তামাম। পূর্ণ হলো সকল আঞ্জাম। রাজারবাগ দরবার শরীফ আজ পবিত্র জান্নাতী জ্বালওয়ায় জ্বল জ্বল করে জ্বলছে। অনবরত সেখানে বারিধারার ন্যায় মহান খোদা তায়ালা উনার পবিত্র রহমতে খাছ বর্ষিত হচ্ছে। নূরে নূরে ভরে গেছে পাক দরবার শরীফ। হাজির তথায় হযরত নবী-রসূল, ওলী-গাউছ সব মাখলূক্ব মহান খোদা তায়ালা উনারা। বাদ মাগরীব সকলে অধীর আগ্রহে করছে ইনতিযার। কখন হবেন মুনাওওয়ার মজলিসে সাইয়্যিদী দুলহান ইযহার। দেখ! ওই তো! আসছেন ফেরেশতা উনাদের বেষ্টনীতে পবিত্র গাড়ি মুবারকে সওয়ার হয়ে শাহ সাইয়্যিদ, নূরে মুকাররাম, হাবীবুল্লাহ, বাবুল ইলম নব দুলহান আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল হানাফী। বর্ষিত হলো উনার উপর মুর্শিদী রহমত, হাবীবী-রববী নূর অবিরত ধারায়। এক অপূর্ব মুচকি হাসির শোভা দেখলাম অধম উনার মুবারক চেহারায়। আমার দিল সাগরে উথলে উঠলো আনন্দের মহা জোয়ার। আমি যে দেখতে পাচ্ছি খোদ মান্্যূরায়ে মদীনায়ে মুনাওওয়ার। গগণবিদারী তাকবীরে আজ আসমান, যমীন একাকার। বলছে সবে খোশ আমদেদ হে সাইয়্যিদী দুলহান নকশায়ে হায়দার। যেন দরবারে নববীতে হচ্ছে আজ এই রহমত, বরকত, সাকীনাপূর্ণ মুবারক আয়োজন। যেন মসজিদে নববী উনার পবিত্র মিম্বার শরীফ উনার মধ্যে বসে আছেন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। পবিত্র হুজরা শরীফ উনার মধ্যে বসে আছেন নূরী বদ্রী জ্যোৎস্না বেহেশতে নারীকুল উনাদের সাইয়্যিদা, জান্নাতী নূরী মেহমান, সাইয়্যিদাতুন নিসা, হযরত ফাতিমাতুয্ যাহরা আলাইহাস সালাম। তিনি নিজেই নূরুন আলা নূর। তবুও উনাকে আজ রববী হাবীবী, মুর্শিদী খাছ নূর, রহমত-বরকত সাকীনা ঘিরে রেখেছে। এই দিকে পবিত্র মিম্বার শরীফ উনার সামনে দুই জানু মুবারক পেতে পূর্ণ আদব লয়ে পবিত্র নামায উনার ছূরতে বসা আসাদুল্লাহিল গালিব সাইয়্যিদুনা হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম। পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ। ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার)। পবিত্র ইশা নামায উনার ওয়াক্ত। আজকের এই রহমত, বরকত, সাকীনাপূর্ণ আনন্দঘন জৌলুসপূর্ণ মুহূর্তে যেন হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার লখতে জিগার, কলিজার টুকরা, নয়নের মণি, খাতুনে জান্নাত, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, খতানু মুছত্বফা আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত আলী ইবনে আবী ত্বলিব আলাইহিস সালাম উনার মুবারক জাওযিয়াতে তুলে দিলেন। ক্ববুলিয়াত শোনে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক খোদায়ী যবানে উচ্চারিত হলো ‘আলহামদুলিল্লাহ’। পঠিত হলো মুবারক খুতবা। সম্পন্ন হলো মুনাজাত। আমীন! আমীন! বললো, কুল-কায়িনাত। সঁপে দিলেন উনাদেরকে রব-হাবীবের হাতে। শুরু হলো সাইয়্যিদাতুন নিসা, ছহিবাতুল খইর, ছহিবাতুল আয়াত, ছহিবাতুত তাক্বওয়া, হাবীবাতুল্লাহ আওলাদে রসূল হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সাথে নূরে মুকাররাম, নূরে মুয়াযযাম, হাবীবুল্লাহ, আওলাদে রসূল হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নতুন জিন্দেগী মুবারক। সুবহানাল্লাহ! রাজারবাগ পবিত্র দরবার শরীফ উনার মধ্যে শাহী মেহমানদারী চললো। কায়িনাতের সমস্ত মেহমানগণ উনারাই তৃপ্তিসহকারে আহার করলো। আয়োজিত হলো চারদিন ব্যাপী পবিত্র সামা শরীফ উনার মুবারক মাহফিল। পাঠ করলো পবিত্র ক্বাছীদা শরীফ হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম ও হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক শানে জিন-ইনসান, হুর-মালাইক, পশু-পাখি, কুল-মাখলুক্বাত, আবাবীল। মুবারক হোক! মুবারক হোক! উনাদের নয়া জিন্দেগী। এই বলে সবে হলো অসীম নিয়ামতের ভাগী। সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম ও সম্মানিত আহালে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাঝে মিশে গেলেন সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। উনার মুবারক জীবন হলো রহমত, বরকতে ভরপুর। সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম নকশায়ে হায়দার-যাহরা পুরা। উনাদের আপাদমস্তক রসূলী নূরে গড়া। উনাদের মুবারক পরশে ফুটুক ফের হযরত হাসানী হুসাইনী গুল। নববী বাগে শোভা পাক নূরী ফুল অতুল। উনাদের সুবাসে ধন্য-পুণ্য হোক তামাম কায়িনাতবাসী। অনন্তকাল ঝরতে থাকুক উনাদের হতে খোদায়ী নাজ-নিয়ামত রাশি রাশি। নাজাতী নিশান, খিলাফতী ঝা-া উড়–ক ফের দিকে দিকে। আবারো আসুক ফিরে শান্তি শিমাল যুনুব, মাগরিব-মাশরিকে। আমার দেহ-মন, আপাদমস্তক দ্বারা প্রকাশিত ও প্রচারিত হোক মামদূহ আহাল উনাদের ছানা। এটাই যে, এ অধমের উনাদের পাক চরণে আরাধনা। উনাদের ছানা দিয়ে গড়বো ভবে তাজমহল। মামদূহ আহাল উনাদের দয়া পেলেই হবো চির সফল। সহজ করে দিন ইয়া মামদূহ! আমার ইল্্মী পথ। আমি যে দেখবো আপনার কুদরতী আযমত। ছহীহ ইলম, হুসনে যন চাই আক্বা আপনার পাক ক্বদমে। লুকিয়ে থাকতে চাই আমি চিরকাল আপনার হেরেমে। জাহিরী-বাতিনী হাক্বীক্বী ইছলাহ শায়েখ দানুন আমারে। এই মুবারক সময়ে ভিক্ষা চাইছি ফকীর তব দুয়ারে। অশ্রুর নহর বহায়ে দিলাম আপনার মুবারক পদযুগলে। থাকতে চাই অনন্তকাল আপনাদের মাঝে মিলে। শিফায়ে জিসম- শিফায়ে কুলুব চাই হে মালিক সোবহান! আপনি যে মোর তরে একমাত্র দারুল আমান। সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদের উসীলায় মোরে করুন কবুল। আপনি যে মিছদাক্বে রহমতুল্লিল আলামীন, সাইয়্যিদী রসূল। আপনাদের ইশকেই হোক মোর মরণ। তবেই স্বার্থক হবে অধম গোলামের এই জীবন।

সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সুমহান পবিত্র আযীমুশ শান নিকাহ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার বিষয়টি ছিল ইলহামী ফায়ছালার অন্তর্ভুক্ত

সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সুমহান পবিত্র আযীমুশ শান নিকাহ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার বিষয়টি ছিল ইলহামী ফায়ছালার অন্তর্ভুক্ত


কি শান, কি মর্যাদা-মর্তবার অধিকারী যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার মহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদ আ’যম, আওলাদে রসূল ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! একইভাবে বেমেছাল শান-শুয়ূনাত, মর্যাদা-মর্তবার অধিকারিণী উনার যিনি দেহ মুবারক উনার অংশ মুবারক, পরিপূর্ণ সাদৃশ্য, পরিপূর্ণ নকশা, পরিপূর্ণ মিছদাক্ব, লখতে জিগার পবিত্রা আওলাদ সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! কেনই বা হবেন না, এ মর্যাদা-মর্তবা তো অর্জন করার মতো কোনো বিষয় নয়। এতো পূর্ব নির্ধারিত বিষয়। শুধু কি তাই, উনার দায়িমী পবিত্র খিদমতে যিনি মিলিত হলেন উনার মর্যাদা-মর্তবার বিষয়টিও কিন্তু অর্জন করার মতো বিষয় নয়। তাই তো মতামতের শিরোনামে উল্লেখিত হয়েছে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদুর রিজাল হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদের সুমহান পবিত্র আযীমুশ শান নিকাহ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার বিষয়টি ছিল মূলত ইলহামী ফায়ছালার অন্তর্ভুক্ত।

সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ আওলাদে রসূল, মুহতারামা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম শাহযাদী উলা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র আজিমুশ শান নূরী শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস

সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ আওলাদে রসূল, মুহতারামা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম শাহযাদী উলা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র আজিমুশ শান নূরী শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস


মুবারক হো পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ। নব উদ্দীপনায় জেগে উঠলো পৃথিবী। নও সাজে সজ্জিত হয়, হচ্ছে পৃথিবীর প্রতি দিগন্ত। বৈচিত্র্য আলোয় আলোকিত হল পৃথিবীসহ আসমান। থোকায় থোকায় তারকারাজী যেন তাদের জ্যোতিকে নবায়ন করে নিল। অনবরত মিটিমিটি মুচকি হাসি জমেই রয়েছে। আজ যমীন ও আসমানবাসী যেন উনার ইস্তিকবাল অনুষ্ঠানে অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান। প্রকৃতি তার নিজ দেহকে বিচিত্র নও সাজের ঝলকে উদ্ভাসিত করে রাখছে। আজ পবিত্র আরশ ও পবিত্র জান্নাতী দুয়ার মুবারকগুলো যেন উন্মুক্ত সৌরভিত। শুনা যায়, কিসের যেন মুবারক খুশির আয়োজন। অসংখ্য ফিরিস্তা সেই বার্তাই পৌঁছে দিচ্ছেন জগতের প্রতি বিন্যাসে। নব স্বকীয়তায় কেঁপে উঠে পবিত্র জান্নাত উনার প্রতি পরত। হুর গিলমানদের রূপের বাহারে যেন ঘনঘন পরিবর্তনের জোশ বয়ে চলছে। আসমানের প্রতি গ্রহ-নক্ষত্র, ছায়াপথসহ সৌরজগতে নব ঈদের হিল্লোল বইছে। সেথাকার অধিবাসীরাও যেন কার উৎসবের আয়োজনে শরীক থাকতে ব্যস্ত। পৃথিবীর স্থলভাগ ও পানীয় ভাগের প্রত্যেক শাখায় আজ খুশির প্রবল ঝড় বিরাজমান। সাগর-মহাসাগরসহ এর অভ্যন্তরীণ সৃষ্টিরাজী আজ কিসের আনন্দে মাতোয়ারা। ঘনঘন উচ্ছ্বাস হিল্লোলে কাকে যেন সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করেই চলছে। স্থলবাসী পাহাড় পর্বত বৃক্ষরাজীসহ লক্ষ-কোটি প্রকারের প্রাণী উৎফুল্ল। সমুদ্রে খুশির আমেজে প্রবল ঢেউ স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে। এ কিসের খুশি? এটা কার সম্বর্ধনা? কার ইস্তিক্ববাল? কার জন্য এতো আয়োজন, প্রয়োজন? হে বিশ্ববাসী মানবকুল! তোমরা তা জান কী? আমি বলে দেই, তিনিই হচ্ছেন যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামে আ’যম, ছিদ্দীক্বে আ’যম, ফারূকে আ’যম, গনিয়ে আ’যম, আমীরুল মু’মিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমিরুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, আওলাদে রসূল ছহিবে ক্বাসিম, ছহিবে রহমত, আওলাদে রসূল ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মহান সম্মানিত হযরত মুহতারাম মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার লখতে জিগার, কলিজা মুবারক উনার টুকরা মুবারক, নয়নের মণি, সাইয়্যিদু নিসায়ি আলামীন, উম্মু আবীহা, আত ত্বাহিরা, আয যাকিয়া, আর রদ্বিয়াহ, আহলুস সিফরী, উলুল আলবাবী, আহলুল বাইত, কামিলাতুম মিনান নিসায়ী, আল আক্বিলা, আল জামিলা, আ’লামুন নিসায়ি, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম। সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ উনার মুবারক শাদী বা নিসবাতুল আযীম দিবস। তাই পুরো আলম জুড়েই পালিত হচ্ছে মহোৎসব। সুবহানাল্লাহ!


সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ যমীনের বুকে ঐতিহাসিক, স্মরণীয় ও মুবারক একটি দিন

সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ যমীনের বুকে ঐতিহাসিক, স্মরণীয় ও মুবারক একটি দিন


মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামে আ’যম, আওলাদে রসূল ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং তদীয় যাওজাহ ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম, উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের নূরানী ঘর উজালা করে এক জান্নাতী আবেশে ফুরফুরে মনোরম পরিবেশে, জান্নাতী পাখায় ভর করে দুনিয়ায় তাশরীফ নিয়েছিলেন নাক্বীবাতুল উমাম হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম। ক্রমে ক্রমে ফুটন্ত ফুলের পাপড়ীর মতো তিনি বড় হয়ে উঠেন। যেমনটি গোলাপ ভোরের বাতাসে তার সব পাপড়ী মেলে দেয়। খালিক্ব মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার চিরাচরিত নিয়ম অনুসারে পরিণয় সূত্র সকলের অবধারিত। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “আমি তোমাদেরকে জোড়া জোড়া তৈরি করেছি।” বাস্তবিক পক্ষে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরুম মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আযওয়াজুম মুত্বহারত অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা পূর্ব থেকে মনোনীত। উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার জন্য নির্ধারিত সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম। মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার জন্য নির্ধারিত সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম। তেমনি হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার জন্যও একজন নির্ধারিত যাওজ আছেন। তিনি উনার ঘরে আসার এবং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বাস্তব প্রতিফলন ঘটানোর সময় আসন্ন। দেখতে দেখতে পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ আগমন করলো। আর এদিনেই মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি নিজেই উনার প্রথমা আওলাদ হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে তুলে দিলেন একজন ক্বায়িম-মাক্বামে হায়দার হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারকে। সুবহানাল্লাহ! হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি যেমন পূত-পবিত্র পবিত্রতমা, তেমনি উনার জন্যও খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন উনার জীবনসঙ্গী তথা যাওজকে মিলায়ে দিয়েছেন। যা কিনা ‘নূরুন আলা নূর’ তথা আলোর মধ্যে আলো। অর্থাৎ পবিত্র ও পবিত্রতম উনাদের বেহেশতী পরিবেশ। সুবহানাল্লাহ! খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি তো বলে দিয়েছেন, ‘পবিত্রা নারীগণ তৈরি হয়েছেন পবিত্র পুরুষ উনাদের জন্য, আর পবিত্র পুরুষগণ তৈরি হয়েছেন পবিত্রা নারীগণ উনাদের জন্যই।” (পবিত্র সূরা নূর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬) পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ উনার মধ্যে আমরা এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার প্রতিফলন দেখতে পেয়েছি রাজারবাগ শরীফ ঢাকায়। মূলত পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ-ই মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত শ্বশুর হওয়ার সুন্নত পালন করিয়েছেন। এই পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ উনাকে নানা হওয়ার পবিত্র সুন্নত উনার দরওয়াজা উন্মুক্ত করেছেন। তিনি তো মুহইউস সুন্নাহ। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি একে একে উনার সমস্ত মাক্বামগুলোকে বিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশ করছেন। যদিও খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি শুরুতেই উনাকে সমস্ত মাক্বামাত হাদিয়া করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

মুবারক হো সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ: উম্মু আবীহা, উম্মুল খইর সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস

মুবারক হো সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ: উম্মু আবীহা, উম্মুল খইর সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস


নারায়ে তাকবীর- আল্লাহু আকবার শাহযাদী ঊলা- জিন্দাবাদ শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা- জিন্দাবাদ শাহ নাওয়াসী ক্বিবলা- জিন্দাবাদ আহলে বাইত শরীফ- জিন্দাবাদ সুমহান পবিত্র ২২শে শাওওয়াল শরীফ। উম্মু আবীহা, ফক্বীহাতুন নিসা, মাদারযাদ ওলী, ক্বায়িম-মাক্বামে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সুমহান শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক দিবস। সুবহানাল্লাহ! হযরত নাক্বীবাতুল উমাম! তিনি তো কুদরতময়। উনার শানে কিছু লিখার যোগ্যতা আদৌ কারো আছে কী? তবুও খানিকটা সান্তনা পাওয়ার অবকাশ বৈকি! খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ যিনি খালিক্ব, মালিক, রব উনার এক অপরূপা সৃষ্টি সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম। উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার দিবসে জিন-ইনসান যাতে ইচ্ছা, অনিচ্ছায় খুশি প্রকাশ করতে পারে, আনন্দে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারে, এজন্যই বুঝি উনার আগমন ঘটেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর উনার দিনে তথা পবিত্র পহেলা শাওওয়াল শরীফ-এ। সুবহানাল্লাহ! উনার পবিত্র অসীম মুবারক শান-মান যে তিনি স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাছ্ছুল খাছ আওলাদ, পঞ্চদশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামে আ’যম, গাউছুল আ’যম, কুতুবুল আলম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার প্রথমা বিনতু। সুবহানাল্লাহ! পৃথিবীতে আগমন করেই সম্মানিত মাতা হিসেবে পেলেন এমন একজন আখাছছুল খাছ ওলীআল্লাহ উনাকে যে, কোনো মহীয়সী মহিলা যদি যামানার মুজাদ্দিদ হতেন, যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল হতেন তাহলে তিনিই হতেন যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল, যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র কিতাবে পড়েছি সাইয়্যিদুল আউলিয়া, গাউছুল আ’যম, হযরত বড়পীর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্মানিত আম্মাজান উনার পবিত্র জীবনী মুবারক। উনার সম্পর্কে বলা হতো যে- তিনি অন্ধ, খোঁড়া, বধির, ইত্যাদি। উনাকে খোড়া বলা হয়েছিল এ জন্য যে, উনার পা মুবারক দিয়ে তিনি কোনো দিন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ উনার অসন্তুষ্টিমূলক কাজের দিকে ধাবিত হননি এবং হওয়ার চিন্তাও করেননি। উনাকে অন্ধ বলা হতো এজন্য যে, তিনি কখনো দু’চোখ মুবারক দিয়ে কোনো বেগানা পুরুষকে দেখেননি এবং কোনো বেগানা পুরুষও উনাকে কোনো দিন দেখেনি। অর্থাৎ তিনি দু’চোখ দিয়েও কোনো দিন অসন্তুষ্টিমূলক কাজ করেননি অর্থাৎ করার চিন্তাও করেননি। ইত্যাদি ইত্যাদি ......। সুবহানাল্লাহ! মাশুকাহ, মাহবুবাহ, রহীমাহ, নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি এমনি একজন, যে উনার মুবারক শানে উপরোক্ত শব্দগুলি অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত; বরং শুধু যুক্তিযুক্তই নয়, তিনি তার থেকেও অনেক ঊর্ধ্বে, অনেক ঊর্ধ্বে যা কিনা আমাদের কল্পনারও ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! কারণ তিনি তো কুদরতময়। আর কুদরতময় বিষয় সম্পর্কে তো মানুষের ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা থাকতে পারে না। হাবীবাতুল্লাহ, মাদারযাদ ওলী, উম্মুল খইর, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি এমনি এক পরশ পাথর যে, উনার মুবারক সংস্পর্শে খালিছ ওলীআল্লাহ উনাদের সৃষ্টি হয়ে থাকে। এর উত্তম মেছাল শাফিউল উমাম, মাহিউল বিদয়াত, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ তিনি শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে উম্মুল খইর সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার উসীলায় আখাছছুল খাছ ওলী হিসেবে কবুল করেছেন। মনোনীত ওলীআল্লাহগণ উনাদের মধ্যে অন্যতম হিসেবে মর্যাদা মুবারক দান করেছেন শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাকে। মূলত, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ উনাদের সকল বিষয়গুলো মু’মিন-মু’মিনা উনাদের জন্য নাজাত উনার উসীলা। যারা যে কোনো বিষয়ে ওলীআল্লাহগণ উনাদের সাথে হাক্বীক্বীভাবে সংশ্লিষ্ট হতে পারবে তারা নাজাত পেয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ! এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। বর্ণনায় পাওয়া যায়, পবিত্র হাশর উনার মাঠে অনেক আমলহীন ব্যক্তি জাহান্নামের দিকে ধাবিত হবে। তখন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ তিনি তাদেরকে ডেকে জিজ্ঞাসা করবেন যে, তারা কোনো দিন ওলীআল্লাহগণ উনাদের সাথে চলাফেরা, উঠা-বসা, খাওয়া-দাওয়া কিংবা মুহব্বত বা খিদমত করেছিলো কিনা। তখন আমলহীন লোকগুলো বলবে, না। আবার খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি জিজ্ঞাসা করবেন তাহলে এমন কোন ব্যক্তির সাথে মেলামেশা বা মুহব্বত রেখেছিলে যাঁরা ওলীআল্লাহগণ উনাদের সাথে সংশ্লিষ্ট। তখন সেই আমলহীন লোকেরা বলবে, হ্যাঁ! আমরা তো অমুক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা করেছি, যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ উনার ওলীগণের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তখন গাফুরুর রহীম খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ তিনি সেই ব্যক্তিদের বলবেন, “তোমাদেরকে সে উসীলায় ক্ষমা করে দেয়া হলো।” সুবহানাল্লাহ! মূলত, যাঁরা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ওলী উনাদের সকল বিষয়গুলো আমাদের মাগফিরাতের প্রতি উত্তম উসীলা হিসেবে পরকালে উপস্থিত হবে। এজন্য সকলেরই উচিত যাঁরা ওলীআল্লাহ রয়েছেন, উনাদের হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত করা, অনুসরণ-অনুকরণ এবং খিদমত করা। পৃথিবীর সকল মহিলাদের জন্য উদাত্ত আহ্বান, তারা যেনো নাজাতী তরী হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে অনুসরণ-অনুকরণ করে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ সন্তুষ্টি, রেযামন্দি মুবারক হাছিলের কোশেশ করেন। মূলত, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার দিবস উপলক্ষে আমরা যদি উনার ছানা-ছিফতে মশগুল হই, খুশি প্রকাশ করি, পবিত্র মীলাদ শরীফ মাহফিল উনার আয়োজন করি, তাহলে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ সন্তুষ্টি, রেযামন্দি মুবারক হাছিল করা আমাদের জন্য অত্যন্ত সহজ হয়ে যাবে। কারণ, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন তিনি সেখানে খাছ রহমত নাযিল করেন, যেখানে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার মুহসিন বান্দা-বান্দীগণ উনাদের আলোচনা হয়ে থাকে। তাহলে মাদারযাদ ওলী, রাহনুমায়ে দ্বীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছানা-ছিফত, মুবারক শানে পবিত্র কাছীদা শরীফ উনার আয়োজন করলে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার কিরূপ রহমত, বরকত, সাকীনা নাযিল হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এজন্য আমাদের সকলেরই দায়িত্ব এবং কর্তব্য হবে- ওলীআল্লাহগণ উনাদের মুবারক আলোচনা করা, উনাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে শরীক থাকা এবং যতটুকু সম্ভব খিদমত করার কোশেশ করা। তাই আমরা সকলেই দোয়া করবো, আর্জি করবো যেনো খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন তিনি আমাদের সকলকে আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের কলিজা মুবারক উনার টুকরা মুবারক, নয়নের মণি, লখতে জিগার, মাদারজাদ ওলী, মাশুকাহ, মাহবুবা, হাবীবাতুল্লাহ, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত নাক্বীবাতুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত, অনুসরণ-অনুকরণ এবং খাছভাবে খিদমত করার তাওফীক দান করেন। আমীন!

হযরত শাহদামাদ ছানী আলাইহিস সালাম উনাকে যেমন দেখেছি ...

হযরত শাহদামাদ ছানী আলাইহিস সালাম উনাকে যেমন দেখেছি ...

হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে খুব সন্নিকটে তথা কাছে থেকে দেখা। আজও মনে পড়ে তিনি যখন প্রথম বিদেশে তাশরীফ আনলেন গাউছুল আ’যম, হাবীবে আ’যম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার হুকুম মুবারক-এ, তখন হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার হুকুম মুবারক মুতাবিক আমাকে দায়িত্ব দেয়া হলো- উনার সব ব্যাপারে সাহায্য-সহযোগিতা তথা খিদমত করার। প্রথম সাক্ষাৎ হলো প্রবেশ দরজায়। সুন্নতী লিবাস মুবারক পরিম-িত, মাথা মুবারক উনার মধ্যে পাগড়ি মুবারক, রুমাল মুবারক, অনিন্দ্যসুন্দর এক যুবা! ডান কপাল মুবারক উনার মধ্যে তিল মুবারক, চোখ মুবারক উনার মধ্যে সুরমা মুবারক। সালাম-কালাম বিনিময়ে অতঃপর মুয়ানাকা হলো। আমার ক্বলবে তখনই নেদা হলো- ইনিই হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। অতঃপর তাশরীফ আনলেন গৃহে। উনার সঙ্গে বসে কথাবার্তা হলো। সে অনেক কথা। উনার জিন্দেগী মুবারক উনার বিভিন্ন পর্যায়ের ঘটনা মুবারক ও বৃত্তান্ত বয়ান করলেন, শুনালেন। কিভাবে হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সান্নিধ্যে আসলেন, যিকির-ফিকির উনার দিকে রুজু হলেন, মুবারক সুন্নতী বেশ-ভুষায় আপ্লুত হলেন- এ সমস্ত অনেক কথা। আমি শুধু দেখতে থাকলাম উনার আচার-আচরণ মুবারক, বিনয়ী ব্যবহার মুবারক, আদব-কায়দা মুবারক ইত্যাদি। এক কথায় অপূর্ব। সবসময় উনাকে দেখেছি এবং বারবার অনুযোগ করেছেন, ‘আপনি সিনিয়র, নামায পড়ান, মুনাজাত শরীফ করেন।’ কিন্তু নিজে কখনই উদ্যত হননি শুধু নয়, রাজিই হননি এসবে অগ্রজ ভূমিকা নিতে। এতো গভীর বিনয়, এতো গভীর নির্মলতা মনের তথা অন্তরের। উনার প্রথম যে খাছ বৈশিষ্ট্য মুবারক দেখেছি সেটা হলো- খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহি সালাম উনার এবং হযরত আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি একনিষ্ঠ মুহব্বত, একাগ্রচিত্ত নিবেদন ও হুসনে যন। মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কোনো আদেশ-নির্দেশ শোনামাত্রই হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার চেহারা মুবারক পাল্টে যেত। তিনি ব্যতিব্যস্ত হয়ে যেতেন সেই হুকুম মুবারক উনার তামিলে। হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দ্বিতীয় যে বৈশিষ্ট্য মুবারক দেখেছি সেটা হলো- দুনিয়া বিমুখতা। এত স্বল্পে তৃপ্ত ও মিতব্যয়ী ব্যক্তিত্ব আমি পূর্বে কখনো দেখিনি। তিনি শুধু স্বল্প নয়, সমস্তই মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার খিদমত মুবারক-এ ব্যয় করে দিতেন। আর হুকুম মুবারক হলে তো কথাই নেই। নিজের ব্যবস্থা কি হবে সেই ফিকিরে উনাকে কখনো মগ্ন হতে দেখিনি। একটিমাত্র ব্যাগ মুবারক-এই উনার আমেরিকার পুরো সংসারের স্থান সংকুলান হয়ে যেত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় স্থানান্তরে। হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার তৃতীয়/আরেকটি খাছ বৈশিষ্ট্য মুবারক হলো- হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের হুকুম মুবারক পালনে, শরীয়ত উনার তাঁবেদারিতে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম মুবারক পালনে তিনি পিতা-মাতা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব কারোরই কোনো অবস্থাতেই একবিন্দু তোয়াক্কা করেননি। যে যাই বলুক, যাই শোনাক। এত গভীর উনার ইস্তিকামত ও ইখলাছ। খাবার-দাবার মুবারক-এ, আচার-আচরণ মুবারক-এ, চলন-বলন মুবারক-এ সর্বাবস্থায় পরিমিত ও সংযত দেখেছি উনাকে। কথা বলার সময় সর্বদায়ই তিনি বলতেন- ‘বেয়াদবি, গোস্তাখি মাফ করে দিবেন।’ এমনকি এই সেদিনও যখন দূরালাপনী হলো, সেই একই কথা। আমি বললাম, আমাদেরই বরং অসংখ্য বেয়াদবি ও গোস্তাখি হয়ে গেছে, আপনার প্রকৃত শান ও মর্যাদার অনুরূপ ব্যবহার না করার কারণে। হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আরেকটি খাছ বৈশিষ্ট্য মুবারক- যেটাকে মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দয়া ও ইহসানে কারামতই বলা চলে। যুক্তরাষ্ট্রেই হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারক-এ অনেক মানুষ মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার বাইয়াত গ্রহণ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! আর একটি খাছ যে কথাটুকু বলতে চাই সেটা হলো- হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার একটি বিষয় ছিলো আমার অত্যন্ত প্রিয়। কখনো উনাকে বলিনি। আজ প্রথম প্রকাশ করছি। সেটি হলো- উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করা। এত আবেগ-আপ্লুত ও ইখলাছ মুবারক উনার সাথে পবিত্র মীলাদ শরীফ আমরা কেউ পাঠ করতে পারি না। দিল ও ক্বলব এবং জান-প্রাণ ভরে যেত উনার পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ শুনে। আমি ইচ্ছাকৃতভাবেই চাইতাম উনি পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করুন আমাদের আমেরিকার আনজুমান মজলিসগুলোতে। শুধু এটিই হচ্ছে একটি বিষয়, যেখানে আমি লক্ষ্য করেছি উনার ছিল অনাবিল আগ্রহ ও আকুলতা যে, তিনি পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করবেন এবং আমার জন্যে সেটা ছিল সর্বদাই একটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। অবশেষে যে বিষয়টি পূর্বেই উল্লেখ করেছি, যা এখন প্রকাশ করা যাক, শাদী মুবারক অনুষ্টিত হওয়ার আগেই প্রায় দু’বছর যাবৎ আমার মনে বদ্ধমূল ধারণা এটিই ছিলো যে, তিনি হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! চারবার এবং সর্বশেষ যখন তিনি বাংলাদেশের জন্য প্রস্থান করলেন, আমার মনে বিশেষ ভাবাবেগ সৃষ্টি হওয়াতে আমি দু’বছর পূর্বে প্রথম ও এবার শেষ ও চতুর্থবার বন্ধুবরেষু ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ শওকত হুসাইন ছাহেব উনাকে বলেছিলাম একথা। কিন্তু যেহেতু আমরা তিনি সাইয়্যিদ কিনা- এ বিষয়ে ধারণার অধিকারী ছিলাম না, এই কারণে অন্য কাউকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার সাহস হয়নি, যদি বেয়াদবি হয়ে যায় এই ভয়ে। আর প্রমাণিত হলো, এটিও মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার আরো একটি খাছ কারামত। সুবহানাল্লাহ! সর্বশেষ আমি হযরত শাহদামাদে ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পাক ক্বদম মুবারকে এই বলে আর্জি পেশ করবো, যেন তিনি আমার ও আমাদের সকল বেয়াদবি, গোস্তাখি, ভুল, ভ্রান্তি এবং বদ আখলাকি ও বদ আচরণসহ সমস্ত কিছু উনার অনিন্দ্য অন্তঃকরণ মুবারক উনার বিশালতা দিয়ে ক্ষমা করে আমাকে ও আমাদেরকে কবুল করে নেন। আমীন!

সমস্ত নিয়ামত উনাদের জামে আওলাদে রসূল হযরত শাহদামাদ ছানী আলাইহিস সালাম

সমস্ত নিয়ামত উনাদের জামে আওলাদে রসূল হযরত শাহদামাদ ছানী আলাইহিস সালাম


মহান রব্বুল আলামীন জাল্লা শানহূ তিনি উনার পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ‘সূরা আর রহমান শরীফ’ উনার মধ্যে অসংখ্যবার ইরশাদ মুবারক করেছেন, “তোমরা আমার কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি এতোই নিয়ামত দান করেছেন যা সমস্ত মাখলুকাত তারা কখনো অস্বীকার করতে পারবে না। আর এই মুবারক নিয়ামত রাজি কখনো কারো পক্ষে বর্ণনা করাও সম্ভব নয়। মহান রব্বুল আলামীন উনার এই মুবারক নিয়ামত উনাদের যিনি জামে উনাকেই বর্তমান যামানায় আমাদের মাঝে পাঠিয়েছেন। যাঁর শুকরিয়া আদায় করা কুল-কায়িনাতের পক্ষে কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। মহান রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে মানষেরা! নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট এসেছেন সবচেয়ে বড় নিয়ামত মুবারক (তথা নিয়ামত উনাদের জামে) মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে তিনি এবং মু’মিনের অন্তরের শিফা মুবারক, মু’মিনদের জন্য হিদায়েত মুবারক এবং রহমত হিসেবেও তাশরীফ এনেছেন। হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি সকলকে বলে দিন তারা যেন ওই ফযল-করম উনাদের জন্য খুশি প্রকাশ করে, শুকরিয়া আদায় করে। আর এটাই তার উপার্জনের মধ্যে, আমলের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হবে।” (পবিত্র সূরা ইউনূস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭) এখানে মহান রব্বুল আলামীন জাল্লা শানহূ নিয়ামত উনার শুকরিয়া আদায় করা এবং উনার মুবারক তাশরীফ উনার কারণে খুশি প্রকাশ করা সকল মাখলুকাতের জন্য ফরয করে দিয়েছেন। আর যে ব্যক্তি তা করবে না তার জন্য এমন কঠিন শাস্তি নির্ধারণ করা হবে তা শুধু মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারাই ভালো জানেন। যেখানে হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সেই খাদ্যসহ খাঞ্চা নাযিলের দিনটিতে খুশি প্রকাশ না করলে কায়িনাতের সবচেয়ে বড় শাস্তি দেয়া হবে। তাহলে যিনি সমস্ত নিয়ামতের জামে উনার তাশরীফ মুবারক উপলক্ষে খুশি প্রকাশ না করলে কিরূপ শাস্তি তা উপলব্ধির বাইরে। জানতে কী একটিবারও ইচ্ছা করে না, সেই মুবারক নিয়ামত উনাদের জামে তিনি কে? অবশ্যই ইচ্ছা করবে। কেননা যদি আমরা নাই জানি নিয়ামত উনাদের জামে তিনি কে- তাহলে কিভাবে শুকরিয়া আদায় করবো, খুশি করবো। কিভাবে খিদমত উনার আঞ্জাম দিবো। ইচ্ছা করছে সবাই মিলে উনার মুবারক ছানা-ছিফত করে এক সাথে খুশি প্রকাশ করে সুমহান ব্যক্তিত্ব উনার নাম মুবারক উচ্চারণ করতে। কিন্তু হায় অক্ষম আমরা। সমস্ত নিয়ামত উনাদের জামে তিনি হচ্ছেন ক্বায়িম-মাক্বামে যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। হে হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম! আমাদের অক্ষমতা দূর করে দিন এবং আবাদুল আবাদ আপনার ছানা-সিফতে ডুবে থাকার তাওফীক দান করুন। (আমীন)



হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম জিন্দাবাদ!

হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম জিন্দাবাদ!


মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত বান্দা ও ওলী, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মনোনীত উম্মত, নায়িব ও ওয়ারিছ এবং যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার সুমহান মুজাদ্দিদ ও ইমাম, মুজাদ্দিদ আ’যম ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতুন নিসা, হাবীবাতুল্লাহ, উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের মনোনীত, পছন্দনীয়, কবুলকৃত, স্নেহধন্য শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি আখাচ্ছুল খাছ মুরাদ শ্রেণীর ওলীআল্লাহ সুবহানাল্লাহ! মুরাদ শ্রেণীর ওলীআল্লাহ উনাদের মধ্যে তিনি আখাছছুল খাছ এইজন্য যে, তিনি হযরত মুজাদ্দিদ আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ‘শাহদামাদ’ হওয়ার সৌভাগ্য লাভে ধন্য হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এ নিয়ামত এমন এক নিয়ামত যা বর্ণনার ভাষা কারো নেই। এ নিয়ামতের বর্ণনা কেবল জান্নাতের নিয়ামতরাজির বর্ণনার সাথে সাদৃশ্য হতে পারে; যা কোনো কান শ্রবণ করেনি, কোনো চোখ দেখেনি এবং কোনো অন্তর উপলব্ধি করেনি। সুবহানাল্লাহ! আরো একটু ব্যাখ্যা করে বলা যায়, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বীয় আত্বায়ী গুণে এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ক্বাসিমী গুণে শাফিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম এবং হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদেরকে দুনিয়াতেই জান্নাতের নাজ-নিয়ামত উনার অধিকারী করেছেন। সুবহানাল্লাহ! উনারা এমন মর্যাদা-মর্তবার অধিকারী উনাদের উদাহরণ মেলে শুধুমাত্র আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার সাথে। কাজেই উনাদের মুহব্বত, তা’যীম-তাকরীম, ইত্তিবা, খিদমত কায়িনাতবাসীর জন্য ফরয।


সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার অতুলনীয় শান-মান,

একজন ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, কুতুবুল আলম, হাদিউল উমাম, বাবুল ইলম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার অতুলনীয় শান-মান, ইয্যত-ঐতিহ্য, বুযূর্গী-সম্মান এবং উনার অনন্য মানস প্রকৃতি


মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা এবং উনার প্রিয়তম রসূল, মাশুকে মাওলা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা উনাদের উদিষ্ট ব্যবস্থায় জগৎ-সংসার পরিচালনা এবং বিশ্ব পরিসরে মনোনীত দ্বীন-ইসলাম উনার হাক্বীক্বী আবাদের জন্য কালে কালে, যুগে যুগে, সময়ে সময়ে লক্ষ্যস্থল হাদী, লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ উনাদেরকে যমীনে পাঠিয়ে থাকেন। জাগতিক কোলাহল, প্রবল বাধা-বিপত্তি, প্রতিকূল পরিবেশ-প্রতিবেশকে পিছনে ফেলে উনারা লক্ষ্যপানে কেবলই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। উনাদের অনুপম ব্যক্তিত্ব, স্নিগ্ধ আচরণ, প্রগাঢ় প্রজ্ঞা, দুর্বার স্বাধীনতা, অতলান্ত মুহব্বত-মা’রিফাত, অনুসন্ধিৎসু মন ও মনন, ক্লান্তিহীন পথচলা, অনুক্ষণ কর্মপ্রবাহে সম্পৃক্ত থাকার গুণ-বৈশিষ্ট্য উনাদের মুবারক স্বভাব-সঞ্জাত। বুযূর্গ পূর্বপুরুষ উনাদের থেকে উনাদের অধস্তন পুরুষ উনাদের মধ্যে এসব গুণ-বৈশিষ্ট্য সঞ্চারিত হয়। অতুলনীয় কামিয়াবীর পীযূষধারায় উনাদের নিয়ামত-সমৃদ্ধ যে মুবারক অবস্থান, উনাদের বুযূর্গ পূর্বপুরুষ উনাদের পুঞ্জীভূত নিয়ামত সম্ভারই সেসবের উৎসমূল। কামিয়াবীর ক্রমধারায় এ মুবারক প্রক্রিয়ার ব্যতিক্রম থাকলেও তার পরিমাণ নগণ্য। মুবারক বুযূর্গ পূর্বপুরুষ উনাদের নিয়ামত-সমৃদ্ধ এমনি এক অসাধারণ বুযূর্গ ব্যক্তিত্ব তিনি দুনিয়ায় তাশরীফ আনেন। আর তিনি হলেন- ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিমাস সালাম, বাহরুল উলূম, কুতুবুল আলম, কুতুবুল ইরশাদ, বাবুল ইলম, মাহিউল বিদয়াত, ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, ছাহিবে কাশফ ওয়াল কারামত, ছাহিবে ইলম ওয়াল হিকাম, ছহিবুত তাক্বওয়া, ছহিবুশ শুকুর, ছাহিবে হিলম হযরত হাদিউল উমাম আলাইহিস সালাম। সম্মানিত ‘সাইয়্যিদ’ পরিবারে উনার মুবারক বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ। বুযূর্গ পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা উভয়েই সাইয়্যিদ, অর্থাৎ উনারা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ! বুযূর্গ পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের উভয়ের মাধ্যমে ওলীয়ে মারাদাজাদ, আওলাদুর রসূল, হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক সম্পৃক্তি ঘটেছে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সঙ্গে। সুবহানাল্লাহ! বুযূর্গ পূর্বপুরুষ উনারা পবিত্র মদীনা শরীফ উনার অধিবাসী। উনাদের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ আকবর শাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার কয়েকজন ছফর সঙ্গীসহ প্রায় তিনশ বছর পূর্বে সম্মানিত ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে প্রথমে ইয়েমেন আসেন। অতঃপর উনারা ইরাক ও আফগানিস্তান আগমন করেন। নদীপথেও উনারা অনেক পথ অতিক্রম করেন। অবশেষে উনারা আসেন চট্টগ্রামে। আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদ মুহম্মদ আকবর শাহ আলাইহিস সালাম উনার বুযূর্গ পুত্রের নাম মুবারক আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ পানাউল্লাহ শাহ আলাইহিস সালাম। আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ পানাউল্লাহ শাহ আলাইহিস সালাম উনার অধস্তন বুযূর্গ পুরুষ আওলাদে রসূল হাফিয সাইয়্যিদ মুহম্মদ আশরাফ আলী আলাইহিস সালাম। তিনি ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়ায় নিবাস স্থাপন করেন। সেখানে তিনি হিদায়েত ও নছীহতের কাজে ব্যাপৃত থাকেন। উনার বুযূর্গ সন্তান আওলাদে রসূল হাফিয মৌলভী সাইয়্যিদ মুহম্মদ হাবীবুল্লাহ আলাইহিস সালাম। উনার বুযূর্গ সন্তান আওলাদে রসূল হাফিয মৌলভী সাইয়্যিদ মুহম্মদ নূরুল ইসলাম আলাইহিস সালাম। উনারই বুযূর্গ সন্তান হলেন আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ খাইরুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি, যিনি ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম হযরতুল আল্লামা শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত পিতা। সুবহানাল্লাহ! ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, হযরতুল আল্লামা হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার বুযূর্গ ঊর্ধ্বতন পুরুষ ও মহিলা উনারা সকলেই খালিছ আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী ছিলেন। উনার বুযূর্গ পিতা আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ খাইরুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং উনার বুযূর্গ মাতা আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাহ মুবাশ্বিরা খাতুন আলাইহাস সালাম উনারা মুবারক বংশ গৌরব, শরাফত, আচার-আচরণ, বদান্যতা, কৌলীন্য, শরয়ী পর্দাপালন ও আমলে সর্বজন শ্রদ্ধেয়। উনার বুযূর্গ পিতা তিনি ১৪১৯ হিজরী সনের ১৯ রমাদ্বান শরীফ, পবিত্র জুমুয়া শরীফ বাদ ফজর বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার মাযার শরীফ ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়ায় অবস্থিত। উনার বুযূর্গ আম্মাজান তিনি ১৩৬৯ হিজরী সনের ১৩ মুহররম শরীফ বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। ওলীয়ে মাদরাজাদ, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরতুল আল্লামা শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার বুযূর্গ দাদাজান আওলাদে রসূল হাফিয সাইয়্যিদ মুহম্মদ নূরুল ইসলাম আলাইহিস সালাম তিনি ১৩৯২ হিজরী সনের ৩০ শা’বান শরীফ বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার সম্মানিতা মাতা ছিলেন যিন্দাপীর হিসেবে মশহুর আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরতুল আল্লামা মুহম্মদ ওলীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বুযূর্গ মেয়ে। সম্মানিতা দাদীজান আওলাদে রসূল হযরত আয়িশা খাতুন আলাইহাস সালাম। বুযূর্গ আব্বাজান আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ খাইরুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বয়স মুবারক যখন তিন বছর, তখন দাদীজান আলাইহাস সালাম তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। উনার বুযূর্গ নানাজান আওলাদে রসূল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ সিরাজুল ইসলাম আলাইহিস সালাম তিনি ১৪০৮ হিজরী সনের ৩০ যিলহজ্জ শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। বুযূর্গ দাদাজান ও বুযূর্গ নানাজান আলাইহিমাস সালাম উনারা ছিলেন সহোদর ভাই। বুযূর্গ নানীজান হযরত আবিদা খাতুন আলাইহাস সালাম তিনি বাংলাদেশের সুপ্রসিদ্ধ পীর ছাহিব হযরত আল্লামা ইছহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দ্বিতীয়া আহলিয়া উনার বুযূর্গ বড় মেয়ে। হযরত আল্লামা ইছহাক্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছিলেন হযরত আব্দুল হক্ব মুহাজিরে মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত আল্লামা আব্দুর রব জৈনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের প্রধান খলীফা। আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ খাইরুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব। বুযূর্গী, তাক্বওয়া, ব্যক্তিত্ব, মন ও মননে তিনি ছিলেন অতুলনীয়। তিনি ছিলেন একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা। চাকুরির সুবাদে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় গমন করেছেন, থেকেছেন। বদলিসূত্রে তিনি ঢাকা জেলার সাভারেও ছিলেন বেশ কিছুকাল। ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়ায় উনার মূল নিবাস থাকা সত্ত্বেও তিনি সাভারে একখ- জমি কিনে সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেন। ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়ার বাড়িটি বুযূর্গ পূর্বপুরুষ উনাদের অনেকেরই আবাসস্থল। এখনো সেখানে কেউ কেউ বাস করেন। এতোক্ষণের আলোচনায় স্পষ্ট হয়েছে যে, ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত হাদিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার বুযূর্গ পূর্বপুরুষ, উনার দাদা-দাদী, নানা-নানী আলাইহিমুস সালাম, বিশেষতঃ উনার বুযূর্গ পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনারা সকলেই আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। উনারা সকলেই খালিছ আল্লাহওয়ালা-আল্লাহওয়ালী। এমন অতুলনীয় বুযূর্গ পিতা-মাতা উনাদের মুবারক ঘরে ৯ জুমাদাল ঊলা শরীফ ১৪০১ হিজরী, ১৭ আশির ১৩৪৮ শামসী, ২ চৈত্র ১৩৮৭ ফসলী সন, ১৬ মার্চ ১৯৮১ ঈসায়ী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আ’যীমি বা সোমবার শরীফ সূর্যোদয়ের অব্যবহিত পর ঢাকা জেলার সাভারে মুবারক পৈত্রিক নিবাসে উনার মুবারক বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ্ন হয়। সুবহানাল্লাহ! উনারা পাঁচ ভাই, এক বোন। উনাদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত শাহদামাদ ছানী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি কনিষ্ঠ। বুযূর্গ পিতা-মাতা উনাদের সবিশেষ নেকদৃষ্টি, সযতœ লালন-পালন ও তত্ত্বাবধান, বিশুদ্ধ ঈমান-আক্বীদা, ইলম ও আমল উনাদের সুষ্ঠু প্রশিক্ষণলাভে তিনি সম্মানিত সাইয়্যিদ পরিবার উনাদের পূর্ণাঙ্গ ইসলামী আবহে বেড়ে উঠতে থাকেন। পবিত্র দ্বীন-ইসলাম উনার শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য যাবতীয় ইলম ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণতাদানের লক্ষ্যে বুযূর্গ পিতা তিনি উনাকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে দেন। মুবারক বিলাদত শরীফ সূত্রেই তিনি তীক্ষè মেধা ও মননের অধিকারী ছিলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণীবিন্যাসকৃত সমস্ত পরীক্ষায় তিনি যথাযথ সাফল্যের সাক্ষর রাখেন। বুযূর্গ পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম উনাদের মুবারক মন, মনন, আদর্শ, ঐতিহ্য, বুযূর্গী, মুহব্বত-মা’রিফাত সম্পৃক্ত সযতœ লালন-পালন প্রশিক্ষণ, তত্ত্বাবধান ও সুষ্ঠু পরিশীলনে দ্বীন-ইসলাম উনার পরিপুষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ আবহে ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল হযরত হাদিউল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক মানসভূমিতে তাসাউফ চর্চার মাধ্যমে খালিছ ওলীআল্লাহ হওয়ার মজবুত ভিত নির্মিত হয়। ক্রমান্বয়ে তিনি বাইয়াত হওয়ার গুরুত্ব ও অনিবার্যতা অনুভব করতে থাকেন। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মুবারক নির্দেশনায় মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বীক্বী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য বাইয়াত হওয়া ফরয। এ মুবারক লক্ষ্যে একজন লক্ষ্যস্থল শায়েখ উনার কদম মুবারক-এ ঠাঁই পেতে তিনি উন্মুখ অন্তরে অপেক্ষা করতে থাকেন। অবশেষে ১৪২৬ হিজরী সনে তিনি মুজাদ্দিদে মাদারজাদ, পঞ্চদশ হিজরী শতক উনার মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বায়িম-মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আওলাদে রসূল, হুজ্জাতুল ইসলাম, ছহিবে সুলত্বানিন নাছীর, জব্বারিউল আউওয়াল, কাবিউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হয়ে গন্তব্য মঞ্জিলে উপনীত হওয়ার পথ অবারিত করেন। সুবহানাল্লাহ! নিয়মিত মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করে এবং যিকির-ফিকির, মুরাক্বাবা-মুশাহাদা ও ইবাদত-বন্দেগীতে নিবিষ্ট হয়ে তিনি কামিয়াবীর চূড়ান্ত সোপানে উপনীত হন। স্বল্পকালের মধ্যে তিনি সমস্ত তরীক্বার ছবক সাফল্যের সঙ্গে সুসম্পন্ন করেন। সুবহানাল্লাহ! মাহবুব ওলীআল্লাহ উনাদের শাদী মুবারক মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ তায়ালা এবং রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, মাশুকে মাওলা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুবারক ইচ্ছা ও মনোনয়নে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সহজেই অনুমেয় যে, মুজাদ্দিদে মাদারজাদ, পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, জামিউল আলক্বাব, হুজ্জাতুল ইসলাম, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার লখতে জিগার, উনার নূরে চশম, নিবরাসাতুল উমাম, ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাকে পাত্রস্থ করার জন্য বেমেছাল মর্যাদা ও যোগ্যতাসম্পন্ন একজন ওলীআল্লাহ প্রয়োজন। নিবরাসাতুল উমাম, ওলীয়ে মাদরাজাদ, আওলাদে রসূল, হাবীবাতুল্লাহ, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান হলেন- সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, ইমামতুছ ছিদ্দীক্বা, বাহরুল উলূম, ছিদ্দীক্বায়ে কুবরা, নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, উম্মুল খইর, রাহনুমায়ে দ্বীন, ছাহিবাতুল ইলম ওয়াল হিকাম ওয়াল কাশফ ওয়াল কারামত, মিছদাক্বে কুরআন ওয়াল হাদীছ, মাহবূবায়ে ইলাহী, হাবীবাতুল্লাহ, হাবীবাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আফদ্বালুন নিসা, ইমামাতুন নিসা, উম্মুল উমাম, উম্মুল মুরিদীন, উম্মুল খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম, ছাহিবাতুল মুকররামা লি মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম, জাদ্দাতু হযরত শাহনাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম, ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি। মুজাদ্দিদে মাদারজাদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম এবং ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনাদেরই বেমেছাল মর্যাদা ও মাক্বাম সম্পন্না নেক আওলাদ হলেন সাইয়্যিদাতুন নিসা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মে কুলসুম আলাইহাস সালাম, ত্বহিরা, ত্বইয়্যিবা, মাহবূবা, ফক্বীহা, মাশুক্বাহ, সাইয়্যিদাহ, আফক্বাহু নিসায়িল উম্মাতী, আলামুন নিসায়ী, আহাব্বুন নাসি ইলা আহলে বাইতি, আফদ্বালু আলা সাইয়িরিম ছিদ্দীক্বাত, আওসাউ ইলমান, ছাহিবাতু কামালাতিত্ তাক্বওয়া, ছাহিবাতু আজরিন আ’যীম, লাছতুন্নাকা আহাদিম মিনান নিসায়ী, উলুল আলবাবি, ওয়ারিসাতুন নাবিইয়ী, আল আমিরু বিল মা’রূফ, আন নাহিউ আনিল মুনকার, আল খাইরু, আস সিতরুর রফীউ, হাবীবাতু মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম, লখতে জিগারে হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম, মাহবুবায়ে ইলাহী, উম্মু আবীহা, উম্মুল ওয়ারা, ছাহিবাতুল হুসনা, বাহরুল উলূম, মিছদাক্বে কুরআন ওয়াল হাদীছ, ছাহিবাতুল ইলম ওয়াল হিকাম ওয়াল কাশফ ওয়াল কারামত, হাবীবাতুল্লাহ, হাবীবাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, নিবরাসাতুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম তিনি। শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার লক্ষ্যে উনার জন্য যে পাত্র দরকার, সে পাত্র উনার কতটুকু শান-মান, মর্যাদা, বুযূর্গী, মাক্বামাত প্রয়োজন, তা আমাদের আক্বল-সমঝ, উপলব্ধি ও অনুভূতির সীমাহীন ঊর্ধ্বে। আর সে বুযূর্গ পাত্র তিনি হলেন- কুতুবুল আলম, কুতুবুল ইরশাদ, বাহরুল উলূম, বাবুল ইলম, মাহিউল বিদয়াত, ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, ছাহিবুল ইলম ওয়াল হিকাম ওয়াল কাশফ ওয়াল কারামত, ছাহিবুত তাক্বওয়া, ছাহিবুশ শুকুর, ছাহিবুল হিলম, হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী আলাইহিস সালাম তিনি। উনার মান-শান, সম্মান-ইযযত, ঐতিহ্য, বুযূর্গী, খুছুছিয়ত, মাক্বামাত উপলব্ধি ও বর্ণনার যোগ্যতা আমাদের নেই। অবশেষে উনার শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার দিন ধার্য হয়। ১৪৩৩ হিজরী সনের ২২ শাওওয়াল শরীফ শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ তায়ালা উনার মুবারক নির্দেশে এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সদয় উপস্থিতে এ মুবারক শাদী অনুষ্ঠিত হয় জান্নাতে। ওই মুবারক অনুষ্ঠানের একই আদলে ঢাকা রাজারবাগ পাক দরবার শরীফস্থ সুন্নতী জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত মাহফিলে মুবারক তাশরীফ আনেন সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম এবং সকল আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা। বিশেষতঃ সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক উপস্থিতিতে শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার মাহফিল কামিয়াবী ও মাক্ববুলিয়াতের চূড়ান্ত সোপানে উপনীত হন। সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি খুতবা মুবারক পাঠ করেন এবং মক্ববুল দোয়া ও মুনাজাত করেন। সুবহানাল্লাহ! শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠানের পর ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুজীবুর রহমান আলাইহিস সালাম তিনি “শাহদামাদ ছানী” লক্বব মুবারক-এ বিভূষিত হন। উনার যতো লক্বব মুবারক রয়েছে, সেসবের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদার লক্বব হচ্ছে, “হযরত শাহদামাদে ছানী লি মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইসি সালাম।” সুবহানাল্লাহ! উনার ইলম, প্রজ্ঞা, তাক্বওয়া, তায়াল্লুক-নিছবত, মুহব্বত-মা’রিফাত উনাদের পরিধি বেমেছাল। মান-শান, বুযূর্গী, ইযযত, ঐতিহ্য ও মাক্বামের উচ্চতায় তিনি অতুলনীয়। প্রত্যয়ী ব্যক্তিত্ব, শৌর্য, বংশ কৌলীন্য, সূক্ষ্ম মনন, তীক্ষè মেধা, স্থিরতা, স্বল্পবাক, ধৈর্য, স্থৈর্য, আদব, শরাফত, আন্তরিকতা, অমায়িকতা, সাহসিকতা এবং যিকির-ফিকির ও ইবাদ-বন্দেগীর নিবিষ্টতায় তিনি অনন্য। সর্বোপরি তিনি নিবরাসাতুল উমাম, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, উম্মু আবীহা, ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার যাওজুল মুহতারাম। এটি উনার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোত্তম মাক্বামাত এবং উনার সীমাহীন মর্যাদার পরিচায়ক। সুবহানাল্লাহ! ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম হযরতুল আল্লামা শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার অতুলনীয় শান-মান, মর্যাদা ও মাক্বামাত প্রকাশের ভাষা আমাদের জানা নেই। আমাদের সে যোগ্যতাও নেই। মুবারক একখানা ঘটনা আলোচনা করলেই উনার শান-মান, বুযূর্গী ও মাক্বাম যে কতো উচ্চতায়, তা বুঝতে সহজ ও সম্ভব হবে। এ মুবারক ঘটনা উনার মুবারক শাদী অনুষ্ঠানের আনুমানিক ছয় মাস পূর্বের। মুজাদ্দিদে মাদারজাদ, পঞ্চদশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার যবান মুবারক-এ আমরা শুনেছি। তিনি বলেন : “আমি স্বপ্নে দেখলাম- রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অতি সুন্দর একটি আসন মুবারক-এ বসে রয়েছেন। উনার মুবারক পাশে ঘেরাও করা মনোরম জায়গায় কয়েকটি আসন মুবারক রয়েছে। তিনি আমাকে এবং আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে ডেকে নিয়ে ওই আসন মুবারকগুলোয় বসালেন এবং বললেন : ‘চিহ্নিত এ আসন মুবারকগুলো আপনাদের জন্যই নির্ধারিত। আপনারা আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত।’ আমাদের সঙ্গে শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম তিনিও ছিলেন। আমাদের অদূরে বসে ছিলেন হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী আলাইহিস সালাম তিনি। নূরে মুজাসসাম, মাশুকে মাওলা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে লক্ষ্য করে বললেন : ‘হাদিউল উমাম মুহম্মদ মুজিবুর রহমান আলাইহিস সালাম তিনি আমার আওলাদ। তিনি আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত।’ আমাকে লক্ষ্য করে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো বললেন, হে আমার প্রিয়তম আওলাদ! হে আমার কায়িম-মাক্বাম! হে আমার আখাছছুল খাছ নায়িব! হে আমার মনোনীত ও লক্ষ্যস্থল মুজাদ্দিদে আ’যম! আপনি আমার প্রিয় আওলাদ সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুজীবুর রহমান আলাইহিস সালাম উনাকে আপনাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে নিন। আপনারা সকলেই আমার আওলাদ এবং আপনারা সকলেই আমার আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত।” সুবহানাল্লাহ! উপরোক্ত মুবারক ঘটনা অনুষ্ঠানের স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ভিন্ন এক মুবারক স্বপ্ন দেখেন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম, উম্মুল উমাম, ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি। তিনি স্বপ্নে দেখেন, উত্তম পোশাকে পরিশোভিত হয়ে এবং একখানা কম্বল মুবারক গায়ে জড়িয়ে হযরত হাদিউল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি রাজারবাগ পাক দরবার শরীফস্থ মুবারক হুজরা শরীফ উনার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! মুবারক দুটি স্বপ্ন বিবরণে বুঝতে কষ্ট হয় না যে, ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মক্ববুলিয়াতের সোপান কতো সীমাহীন উচ্চতায়! আরো বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয় যে, তিনিই সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম এবং উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাদের “দামাদ ছানী” হবেন। ওই দুটি স্বপ্ন মুবারকেই তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার মুবারক চেহারায় মাদানী নূর। অনুপম ব্যক্তিত্বে, স্নিগ্ধ আচার-আচরণে, স্বল্পবাক ও গাম্ভীর্যপূর্ণ অমায়িকতায়, দায়িমভাবে সুন্নত পালনের অভ্যস্থতায় এবং অতুলনীয় চরিত্র মাধুর্যে তিনি সুমহান। মুজাদ্দিদে মাদারজাদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি এবং উনার সম্মানিত আহাল ও ইয়াল শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা সকলেই রহমতুল্লিল আলামীন, রউফুর রহীম, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ! এ মুবারক আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সীমাহীন সম্মানের অধিকারী হয়েছেন ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুনা মুজাদ্দিদে আ’যম, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার কর্তৃক বিশ্বময় খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় মজবুত ভিত রচনা এবং তৎসংশ্লিষ্ট উনার অপ্রতিরোধ্য তাজদীদ বাস্তবায়নের আঞ্জামদানে নিরন্তর নিয়োজিত রয়েছেন ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম তিনি। একই সঙ্গে এ মহান কাজে অনুক্ষণ নিয়োজিত রয়েছেন, আমাদের আলোচ্য ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহি সালাম তিনি। এছাড়া দরবার শরীফ উনার যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরী কাজ সুন্নতী তর্জ-তরীক্বায় পরিচালনা ও সমাধানের কাজে উনাদের সর্বক্ষণের সম্পৃক্তি। বিশাল কর্মকা- দেখাশুনা ও নির্বাহে উনাদের অনুক্ষণের ব্যস্ততা। শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রার্থীর প্রার্থনা পূরণে, বিভিন্ন অভিযোগ শ্রবণ ও তার সমাধানে, বিপন্ন মানুষের দুঃখ মোচনে, প্রজ্ঞাময় উপদেশদানের আন্তরিকতায় এবং মুবারক ব্যবহারে কোমলান্তকরণময়তায় উনারা দু’জনেই ক্লান্তিহীন ও অনন্য। সুবহানাল্লাহ! ওলীয়ে মাদারজাদ, আওলাদে রসূল, কুতুবুল আলম, কুতুবুল ইরশাদ, বাবুল ইলম, বাহরুল উলূম, মাহিউল বিদয়াত, ছাহিবে কাশফ ওয়াল কারামাত, ছাহিবুল ইলম ওয়াল হিকাম, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম, ছাহিবুত তাক্বওয়া, ছাহিবুশ শুকুর, ছাহিবুল হিলম, হাদিয়ে ইলাহী, হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম উনার সীমাহীন শান-মান, বুযূর্গী, সম্মান, মাক্বামাত সম্পর্কে আমরা অজ্ঞাত এবং একান্তই অনভিজ্ঞ। উনার মুবারক ছানা-ছিফত করার ক্ষেত্রে বলায়, লিখায়, অনুভবে আমরা অযোগ্য ও অক্ষম। সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মুর্শিদ ক্বিবলা কা’বা আলাইহিস সালাম এবং উনার সম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের রেযামন্দি-সন্তুষ্টি হাছিলের লক্ষ্যেই আমাদের এ তুচ্ছ প্রয়াস। একান্ত দয়াবশতঃ কৃপা করে উনারা কবুল করলেই আমাদের সব চাওয়া পাওয়ায় পরিণত হবে।