বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৬

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায ও জানাযার নামাযের পর মুনাজাত করা খাছ সুন্নত ॥ বিরোধতা করা কুফরী

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায ও জানাযার নামাযের পর মুনাজাত করা খাছ সুন্নত ॥ বিরোধতা করা কুফরী-২


এছাড়াও ফরয নামাযের পর মুনাজাত কবুল হওয়া সম্পর্কিত বহু ক্বওলী হাদীছ শরীফ বিদ্যমান রয়েছে। অনুসরণীয় মুহাক্কিক-মুদাক্কিক ইমামগণের মতে, “দলীলের ক্ষেত্রে ফে’লী হাদীছ শরীফ উনার চেয়ে ক্বওলী হাদীছ শরীফ বেশি শক্তিশালী । শুধু তাই নয়, র্নিভরযোগ্য ও বিখ্যাত সকল ফিক্বাহের কিতাবসমূহেই ফরয নামাযের পর মুনাজাত করাকে মুস্তাহাব সুন্নত বলে ফতওয়া দেয়া হয়েছে। যেমন, ফিক্বাহের বিখ্যাত কিতাব হেদায়ার মশহুর শরাহ বা ব্যাখ্যাগ্রন্থ “আইনুল হেদায়া”-এর ১ম খন্ডের ৬৮৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, “প্রত্যেক ফরয নামাযের পর দোয়া বা মুনাজাত করার নির্দেশ এসেছে কেননা ফরয নামাযের পর মুনাজাত কবুল হয়। তাছাড়া দেওবন্দীদের কিতাবাদিতেও ফরয নামাযের পর মুনাজাত করাকে মুস্তাহাব সুন্নত বলা হয়েছে এবং যারা এটাকে নাজায়িয বিদয়াত বলে তাদের কঠোর ভাষায় তিরষ্কার করা হয়েছে। যেমন, থানভীর “ইস্তেবাবুদ দাওয়াত আক্বীবুছ ছলাওয়াত” নামক কিতাবে লিখেছে, “চার মাযহাবের প্রত্যেকের মতে ফরয নামাযের পর দোয়া বা মুনাজাত করা অবশ্যই সুন্নত ও শরীয়তসম্মত। যে ব্যক্তি এটা অস্বীকার করবে সে নিশ্চিতরূপে মতিভ্রম ও নফসের তাড়নায় পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং সে শয়তানী কু-প্রচারণায় ও ধোঁকায় পড়েছে। এসব দলীল থাকার পরও কি করে বলা যেতে পারে যে, ফরয নামাযের পর দোয়া বা মুনাজাত করার কোনো প্রমাণ নেই বা এটা সুন্নতের পর্যায়ে পড়ে না?

প্রয়োজনীয় কতিপয় সুন্নত মুবারক

প্রয়োজনীয় কতিপয় সুন্নত মুবারক


সমস্ত প্রশংসা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সমস্ত সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত ছলাত ও সালাম। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।” (পবিত্র সূরা আহ্যাব শরীফ/২১) উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার স্বয়ং আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রিয়তম হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শকেই উত্তম বলে ঘোষণা করেছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ তথা সুন্নত পালন করতে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অসংখ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে নির্দেশ মুবারক করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, তোমরা অনুসরণ কর মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের। অতঃপর তারা যদি ফিরে যায়, তবে (শুনে রাখুক) আল্লাহ তায়ালা কাফিরদেরকে ভালবাসেন না।”(পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৩২) মূলত, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমল (পবিত্র সুন্নত) ব্যতীত বান্দার কোনো আমলই মহান আল্লাহ পাক তিনি পছন্দ করবেন না। আর মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্যতা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনারই আনুগত্যতা। যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করলো সে মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক উনারই আনুগত্যতা করলো।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮০) আলোচ্য প্রবন্ধে প্রয়োজনীয় কতিপয় সুন্নত মুবারক উনাদের বর্ণনা তুলে ধরা হইলো যা পালনের মাধ্যমে মানুষ কাফির-মুশরিক, মুজুসী, ইহুদী, খ্রিস্টান, ওহাবী, শিয়া, কাদিয়ানী ইত্যাদি বাতিল ফিরকাদের কুফরী, শিরকী মত, পথ থেকে বিরত থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দী ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে পারে। পোশাক-পরিচ্ছদ: ১. অধিকাংশ সময় সাদা কাপড়ের পোশাক ব্যবহার করা। শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য। ২. জামা কাপড়, সেলোয়ার ইত্যাদি (ডান দিক থেকে) পরা খোলার সময় (বাম দিক থেকে) খোলা। ৩. লুঙ্গি সেলোয়ার টাখনুর উপরিভাগে রাখা। শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য। ৪. নতুন কাপড় ইছনাইলিন আযীম শরীফ বা সোমবার ও জুমুয়াহ দিন পরিধান করা। ৫. পোশাক পরিধানকালে ও খোলার সময় বিসমিল্লাহ বলা। ৬. সুতি ও সাদা রংয়ের কাপড়কে অধিক গুরুত্ব দেয়া। সাদা রংয়ের কাপড় মহান আল্লাহ পাক উনারও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে অত্যান্ত প্রিয়। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পোশাকের মধ্যে উত্তম হচ্ছে সাদা রংয়ের পোশাক তা পরিধান করুন। আর মৃত্যুর সময় সেই পোশাক দ্বারা কাফন তৈরি করুন।” (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ শরীফ) ৭. টুপি, পাগড়ী ও রুমাল পরা। ৮. পাগড়ী দাঁড়িয়ে পরিধান করা। ৯. কামিছ বা কোর্তা গোল নিছফুছছাক হওয়া। সেন্ডেলঃ ১. ক্রস দু’ফিতা বিশিষ্ট চামড়ার সেন্ডেল ব্যবহার করা। ২. চামড়ার মোজা ব্যবহার করা। ৩. সেন্ডেল ব্যবহারের পূর্বে ভালোভাবে পরিষ্কার করা। ৪. পরিষ্কারের সময় বাম হাতের তর্জনী ব্যবহার করা। ৫. পরার সময় ডান পা আগে পরা। ৬. খোলার সময় বাম পা আগে খোলা। নখ-পরিষ্কার: ১. নখ পরিষ্কার করা। ২. ইছনাইনিল আযীম শরীফ, খামীস ও জুমুয়াবার নখ কাটা। ৩. কর্তিত নখ মাটিতে পুঁতে ফেলা। ৪. নখ কাটার সময়- ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলী থেকে শুরু করে কনিষ্ঠাঙ্গুলী পর্যন্ত। এর পর বাম হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলী থেকে শুরু করে বৃদ্ধাঙ্গুলী পর্যন্ত শেষ করে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলীর নখ কাটা। ৫. পায়ের নখ ডান কনিষ্ঠাঙ্গুলী থেকে শুরু করে ধারাবাহিকতাভাবে বাম পায়ের কনিষ্ঠাঙ্গুলীতে শেষ করা। ৬. মহিলাদের নখে, হাতে ও পায়ে মেহেদি ব্যবহার করা। চুল: ১. মাথার চুল লতি পর্যন্ত অথবা কাঁধ পর্যন্ত অথবা লতি ও কাঁধের মাঝ অথবা কানের মধ্যখান পর্যন্ত রাখা। শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য। ২. হজ্জের সময় মাথা মুন্ডন করা। (হজ্জ ব্যতীত মাথা মুন্ডানো সুন্নত নয়)। ৩. মাথায় তেল দেয়া, চিরুনী দিয়ে আচড়ানো, সিঁথি করা। ৪. দাড়ি এক মুষ্ঠি রাখা। (এক মুষ্ঠির কম রাখা হারাম) ৫. মোচ ছোট রাখা। (মুন্ডানো মাকরূহ) ৬. মোচ ও দাড়ি চিরুনী দিয়ে আঁচড়ানো, তেল দেয়া। ৭. ৪০ দিনের মধ্যে ইছনাইনিল আযীম শরীফ, খামীস বা জুমুয়াবার অতিরিক্ত কেশ পরিষ্কার করা। ৮. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা। ঘুমানো: ১. ঘুমানোর পূর্বে মিসওয়াক করা। ২. ওযু করে তৎপর মাথার চুল ও দাড়ি চিরুনী দ্বারা আচড়ানো। ৩. ইশার নামায আদায় করে পবিত্র দুরূদ শরীফ ও নিয়মিত ওযীফা শরীফ পাঠ করা। ৪. চোখে সুরমা লাগানো। ৫. ঘুমানোর পূর্বে বিছানার সব কিছু ঝেড়ে পরিষ্কার করা। (সাধারনভাবে তিনবার) ৬. শিয়রে-আয়না, চিরুনী, কাঁচি, সুরমাদানী, মিসওয়াক, তেলের শিশি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় বস্তু রাখা। ৭. শোয়ার সময় চৌকি, খেজুর পাতার চাটাই, চাদর, চামড়া ইত্যাদি ব্যবহার করা। ৮. খেজুরের ছালভর্তি চামড়ার বালিশ ব্যবহার করা। চাঁদর দিয়ে শরীর ঢেকে রাখা। ৯. রাতের শেষার্ধ্বে তাহাজ্জুদ নামায পড়া। ১০. দুপুরের খাবার পর কায়লুলা তথা কিছুক্ষণ বিছানায় আরাম করা। মসজিদের সুন্নত: ১. ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা। ২. প্রবেশকালে দোয়া পড়া। ৩. অশ্লীল কিংবা অপ্রয়োজনীয় কথা না বলা। ৪. অবস্থানকালীন সময় যিকির-আযকার, পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ও ইবাদত-বন্দেগীতে কাটানো। (নামাযের ক্ষতি হবে এমন উচ্চ স্বরে যিকির ও তিলাওয়াত না করা।) ৫. উচ্চ আওয়াজে কাউকে না ডাকা। ৬. আঙ্গুল না ফুটানো। ৭. বাইরে হারানো জিনিসের ঘোষণা বা সন্ধান না করা। ৮. মসজিদের পবিত্রতার দিকে খেয়াল রাখা। ৯. বের হওয়ার সময় বাম পা দিয়ে বের হওয়া। ১০. বের হওয়ার সময় দোয়া পড়া।





সেই মহাসম্মানিত, মহামর্যাদাবান, সুমহান, অশেষ বরকতময় ও বেমেছাল ফযীলতপূর্ণ মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফই হচ্ছেন- কুল-কায়িনাতের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ উনার দিন। সুবহানাল্লাহ!

মুজাদ্দিদে আ’যম হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম-উনার ক্বওল শরীফ
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলুন, মহান আল্লাহ পাক উনার ফযল ও রহমত মুবারক অর্থাৎ আমাকে পাওয়ার কারণে তোমাদের উচিত ঈদ বা খুশি প্রকাশ করা।’ সুবহানাল্লাহ!

অর্থাৎ যেদিন আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনে মুবারক তাশরীফ আনেন-

সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দিন মুবারক উনার নামকরণ করা হয়েছে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদে ঈদে আ’যম, সাইয়্যিদে ঈদে আকবর পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!

যা সংক্ষেপে মুবারক নামকরণ করা হয়েছে পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ।

অর্থাৎ সেই মহাসম্মানিত, মহামর্যাদাবান, সুমহান, অশেষ বরকতময় ও বেমেছাল ফযীলতপূর্ণ মহাপবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফই হচ্ছেন- কুল-কায়িনাতের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ উনার দিন। সুবহানাল্লাহ!

যা আসতে আর মাত্র ১৩৫ দিন বাকি।

আর এ কারণেই পবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফই হচ্ছেন- সাইয়্যিদুল আসইয়াদ, সাইয়্যিদুশ শুহূর, শাহরুল আ’যম। সুবহানাল্লাহ!

অতএব, সেই মহাসম্মানিত দিন উনাকে তা’যীম-তাকরীম ও মুহব্বত মুবারক উনার সাথে পালন করা ফরয এবং ইহকাল ও পরকাল উভয়কালের জন্যই নাজাত লাভেরও কারণ। সুবহানাল্লাহ!

বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০১৬

আজিকে শাদী বা নিসবাতুল আযীম দিবস!

আজিকে শাদী বা নিসবাতুল আযীম দিবস!


মহাসমারোহে, মহা আয়োজন! ব্যাকুল বিশ্ব, মহা আলোড়ন! ছুটাছুটি করে হুর গেলমান সজ্জিত সাত যমীন আসমান! অপরূপ সাজে কেন সাজে ধরা? ফুলে ফুলে আজ কেন ডালি ভরা? হাজার চাঁদে ভরেছে আকাশ, লক্ষ সিতারা হাসে, কুল-কায়িনাত ব্যস্ত আজিকে কেন মহা উল্লাসে! দিকে দিকে শুনি খোশ খবর! ছিটায় গোলাপ মেশক-আম্বর! চাঁদের ঝালরে জলসা আজিকে ক্বাছীদার বনে বুলবুলি, বাগে জুঁই কলি- কী বেকারার! জান্নাতে বহে ঝর্ণা বাহারী খোশবুদার, খুশি জৌলুসে মিলন হয়েছে সব আত্মার! মহাবিশ্বের মহা মহীমের মহা এ আয়োজন আছেন শামিল আল্লাহ পাক ও রসূল, পয়গম্বর সব ছাহাবীগণ! ওরে! জানো না, আজিকে শাদী বা নিসবাতুল আযীম দিবস শাহযাদী ঊলার! তাই তো বিশ্ব লয়ে অধীর- মহাসৃষ্টির যতো উপহার!!





জোড়া ফুলের বাহার

জোড়া ফুলের বাহার



যে বাগানের ফোটা ফুল আপনি, ধরাতে নেই যে আর, গেলে ছেঁড়ে কেবলি আসবে শুধু হাহাকার। ক্ষমা করুন হে শাহযাদী উলা! আরজু মোদের সবার, থাকেন যেন মোদের মাঝে, চাই জোড়া ফুলের বাহার, যে বাগানের ফোটা ফুল আপনি, রয়ে যাক সুরভী তার। আপনার উপমা আপনি, মহীয়ান অনন্তকাল ধরে, নিয়ামত দেবেন ভিন্নরূপে, এ গোলামদের হৃদয় ভরে। চাই মোরা শুধু রিযা পেতে, করে হৃদয় উজাড়। মানিনা কোন রীতিনীতি, নিয়ম আপনার অধীন, গোলামী করুক সবাই মিলে আপনার মাঝে আপনি স্বাধীন, লিখিত হোক নতুন করে, সুন্নাহ রঙে সাজার। কুল-কায়িনাত অপেক্ষমাণ প্রহর গুণে ব্যাকুল নিয়ামত দেবেন উদার হাতে, নাজাত পেতে আকুল হে শাহযাদী উলা, করুন কবুল, দূর করুন সব আঁধার।

শাহযাদী উলার মুবারক নিকাহ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক

শাহযাদী উলার মুবারক নিকাহ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক


শাহযাদী উলার নিকাহ মুবারকে খুশি করতেছে ধরার বুকে। ২২শে শাওওয়াল অনুষ্ঠিত হয় শাহযাদী উলার নিকাহ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক হয়। খুশি করছে যমীন ও আসমান আরো করছে ফেরেশতা জাহান, শাহযাদী উলার শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক এসে গেছে খুশিতে ধরা আনন্দ করছে। শাহযাদী উলার শান মান রয় ওয়ারাউল ওয়ারা, ওয়ারাউল ওয়ারায়। খুশির বন্যা বয়ে গেছে রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ কাছে। সুন্নতী নিকাহ অনুষ্ঠিত হয় মুজাদ্দিদ আ’যম করেন তার ব্যয়। ওলীদের ওলী হয়ে আসেন শ্রেষ্ঠ ওলী রাজারবাগে। সেই ওলীরই খুশির দিন ২২শে শাওওয়াল ঈদের দিন।

নিসবাতুল আযীম মুবারক

নিসবাতুল আযীম মুবারক


প্রথমা শাহযাদীর শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক কায়িনাত বলে শুধু ঈদ মুবারক! আকাশ সাজিলো ধরণী সাজিলো ঈদ মুবারক এক সাথে বলিয়া উঠিল! মামদূহর চোখের মণি আম্মার প্রাণের খনি ঈদ মুবারক বলিয়া উঠিল ধরণী! শাহযাদী উলা কুল কায়িনাতের রাহবার বেহেশত হল প্রথমা শাহযাদীতে উজাড়! শাহযাদী উলার শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারকে কত যে আনন্দ হবে কুল-কায়িনাত কখনো তাহা ভেবে নাহি পাবে। সুন্নতী শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক দেখতে তোমরা এসো রাজারবাগে দেখে যাও সুন্নতী শাদী বা নিসবাতুল আযীম মুবারক কিভাবে হবে?