সোমবার, ২৭ জুন, ২০১৬

ই’তিকাফকারীর ভাগ্য অত্যন্ত সুপ্রসন্ন করেছেন মহান আল্লাহ পাক! সুবহানাল্লাহ!

ই’তিকাফকারীর ভাগ্য অত্যন্ত সুপ্রসন্ন করেছেন মহান আল্লাহ পাক! সুবহানাল্লাহ!


ই’তিকাফকারীর ভাগ্য অত্যন্ত সুপ্রসন্ন করেছেন মহান আল্লাহ পাক তিনি। ই’তিকাফ করনেওয়ালার আমলনামায় ২টি উমরাহ এবং ২টি মক্ববুল হজ্জের সওয়াব দান করা হয়। ইতিক্বাফের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম, যা বলার অপেক্ষা রাখে না। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে এর বহু ফাযায়িল-ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। মূলত, পবিত্র ই’তিকাফ হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে বান্দা ও উম্মতের নৈকট্য এবং রেযামন্দি হাছিলের মাধ্যম। ই’তিকাফ এমন একটি মাধ্যম যে, মুতাকিফ যেন নিষ্পাপ ও খুলুছিয়তের যোগ্যতায় যোগ্যবান হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! মুতাকিফ নিজস্ব আকুতিকে মহান আল্লাহ পাক উনার সান্নিধ্যে পেশ করেন। উনার হাক্বীক্বী গভীর ইশকে মুতাকিফ নিমজ্জিত থাকেন। তাই তো মুতাকিফ দুনিয়াবী কথাবার্তা, কর্মকা-, এমনকি নির্ধারিত সীমানার বাইরেও বেরুনো নিষেধ। হামেশাই ধ্যানে, খেয়ালে, দীদারে, মুতাকিফ মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতে মশগুল। মুতাকিফ যেন দুনিয়াতে জীবিত থেকেও দুনিয়ার থেকে বিরাগ, দুনিয়ার আকর্ষণ থেকে বিমুখ, দুনিয়ার লোভ থেকে নিজকে গুটিয়ে নিয়ে মহান খালিক্ব মালিক রব আল্লাহ পাক উনার কাছে নিজকে পুরোপুরি সোপর্দ করে দেয়। সুবহানাল্লাহ! মূলত ই’তিকাফ আমাদের এই শিক্ষাই দিচ্ছে যে, দুনিয়ার আকর্ষণ থেকে নিজকে হিফাযত করে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকতে হবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, “দুনিয়া হচ্ছে শরাইখানা বা বিশ্রামগার। যেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করেই স্থান ত্যাগ করতে হবে।” অন্যত্র বলেন, “দুনিয়া হচ্ছে মু’মিনের জন্য কারাগার আর কাফিরদের জন্য বেহেশত।” এভাবে বহু বহু পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে। যাতে করে উম্মত দুনিয়ার প্রতি গরক না থাকে। মহান আল্লাহ পাক তিনি মুতাকিফদের জন্য অনেক পুরস্কার রেখেছেন। মূলত, পবিত্র ই’তিকাফ থেকে আমরা এই শিক্ষাই গ্রহণ করতে পারি যে, সর্বপ্রকার পঙ্কিলতামুক্ত অন্তর দিয়ে অর্থাৎ মুখলিছ গুণে গুণান্বিত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, শাফিউল মুজনিবীন, রহমতাল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রাজি-খুশি হাছিল করা যায়। তাই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত ই’তিকাফ সম্পর্কে ইলম হাছিল করা এবং গুরুত্ব উপলব্ধি করা। এ ব্যাপারে সচেতন থাকা। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তাওফীক দান করুন। আমীন।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন