বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০১৬

মুবারক হো ১৭ই রমাদ্বান শরীফ!!! আজ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম এবং আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস। সুবহানাল্লাহ! অতএব, প্রত্যেকের উচিত- ব্যাপক যওক-শওকের মাধ্যমে এ মহিমান্বিত দিনখানি যথাযথ মর্যাদায় পালনের ব্যবস্থা করা।

মুবারক হো ১৭ই রমাদ্বান শরীফ!!! আজ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম এবং আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস। সুবহানাল্লাহ! অতএব, প্রত্যেকের উচিত- ব্যাপক যওক-শওকের মাধ্যমে এ মহিমান্বিত দিনখানি যথাযথ মর্যাদায় পালনের ব্যবস্থা করা।

সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন সম্বলিত দিবসসমূহকে স্মরণ করিয়ে দিন সমস্ত কায়িনাতকে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে ধৈর্যশীল ও শোকরগোজার বান্দা-বান্দীদের জন্য ইবরত ও নছীহত রয়েছে।” (পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫) মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ‘পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ’ উনার পবিত্র ১৫ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম উনার শান মুবারকে ইরশাদ মুবারক করেন- “উনার প্রতি শান্তি সালাম অবারিত ধারায় বর্ষিত হোক, যেদিন তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন ও যেদিন তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন আবার যেদিন তিনি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবেন।” সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। (আর তোমাদের পক্ষে তা দেয়াও সম্ভব নয়) তবে যেহেতু তোমাদের ইহকাল ও পরকালে নাজাত লাভ করতে হবে, মুহব্বত-মা’রিফাত, রেযামন্দি মুবারক হাছিল করতে হবে, সেহেতু তোমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- আমার নিকটজন তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রতি তোমরা সদাচারণ করবে।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩) এসব পবিত্র আয়াত শরীফ থেকে প্রত্যেক ঈমানদার মুসলমানসহ কায়িনাতের সকলের জন্যই উপলব্ধি করা জরুরী যে, হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম তথা হযরত আওলাদ আলাইহিমুস সালামগণ ও আলাইহিন্নাস সালামগণ উনাদের বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ ও বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উভয়টিই উম্মতের তথা কায়িনাতের জন্য বেমেছাল ফযীলত, ইতমিনান ও রহমত হাছিল এবং নিয়ামত মুবারক হাছিলের কারণ। প্রসঙ্গত, আজ মহিমান্বিত, ফযীলতপূর্ণ, ঐতিহ্যম-িত ১৭ই রমাদ্বান শরীফ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠা নিসা, প্রথম উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম, পবিত্র দ্বীন ইসলাম শিক্ষাদাতা উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম এবং আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম ইমাম আলাইহিস সালাম এবং পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার চতুর্থ খলীফা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার সুমহান দিবস আজ। মূলত, উনাদের মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব ও রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। খাছ করে যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, উনাদের প্রকৃত মর্যাদা মুবারক অনুধাবনে নিকটবর্তী কোনো হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারাও অক্ষম। বরং উনারা উনাদের খাদিম; এক কথায় উনারা শুধু হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম নন। কিন্তু বাকী সব যোগ্যতা, নিসবত মুবারক, নিয়ামত মুবারক-এ উনারা পরিপূর্ণ। সুবহানাল্লাহ! উনাদের মা’রিফাত হাছিল, মুহব্বত অর্জন, তা’যীম-তাকরীম প্রদর্শনে উম্মতের অন্তহীন প্রচেষ্টা থাকা উচিত। বর্তমান পৃথিবীতে মুসলমান সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিনশত কোটির। আর গত পনেরশ’ বছরে ইন্তিকাল করেছে আরো শত শত কোটি মুসলমান। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম, বর্তমানে পৃথিবীর প্রধান ও সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী একমাত্র দ্বীন। দুনিয়ার কোনো শক্তিই এখন মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না। কিন্তু এমন এক সময় ছিল যখন পৃথিবীর সব মানুষ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিপক্ষে ছিল। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধিতা করেছিল। নাঊযুবিল্লাহ! সে সময়ে যিনি সর্বপ্রথম সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে গ্রহণ করেছিলেন তিনি মুসলমানদের প্রথম উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তবে তিনি যে কেবল প্রথম সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনাকে গ্রহণ করেছিলেন শুধু তাই নয়; পাশাপাশি তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারক উনার সর্বোচ্চ যোগান এবং বেমেছাল আর্থিক খিদমতের আঞ্জাম তথা সার্বিক ও পরিপূর্ণ আঞ্জাম দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! অপরদিকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা দ্বীনি ইলম হুমায়রা অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার কাছ থেকে গ্রহণ করবে।” সুবহানাল্লাহ! পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “নারী জাতির উপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মর্যাদা তেমন, যেমন খাদ্য সামগ্রীর উপর ‘সারীদ’ উনার মর্যাদা।” সুবহানাল্লাহ! প্রসঙ্গত, একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার উসীলা মুবারকে অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে- যাতে উম্মাহ পবিত্র দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে জানতে পেরেছে। পর্দানশীন নারীর প্রতি অপবাদের মাসয়ালা, তায়াম্মুমের মাসয়ালা এক্ষেত্রে তার প্রমাণ। অপরদিকে সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন সেই ব্যক্তিত্ব যার সম্পর্কে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, হযরত কালিমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে হযরত হারুন আলাইহিস সালাম উনার যে সম্পর্ক আপনার সাথে আমার সেই সম্পর্ক, শুধু পার্থক্য হলো হযরত হারুন আলাইহিস সালাম তিনি নবী ছিলেন, আপনি নবী নন। মহান আল্লাহ পাক উনার সিংহ বা আসাদুল্লাহ ছিল উনার উপাধি। তাই বলা হয়, সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার তরবারি জুলফিক্বার ছাড়া পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার কোনো বিজয়ই অর্জিত হতো না আমীরুল মুমিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমেই সম্প্রসারিত হয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বংশধারা বা উনার পবিত্র আহলে বাইত শরীফ। সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনিই বেহেশতী যুবক উনাদের সাইয়্যিদ হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও হযরত ইমামুছ ছালীছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সম্মানিত পিতা। তিনি উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল ও যথাযোগ্যরূপে খিদমতের আঞ্জাম দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ইতিহাসের দ্বিতীয় খলীফা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি, হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার পরামর্শ ও জ্ঞানগত সহযোগিতার কাছে নিজের ঋণ স্বীকার করে বলেছেন, “হযরত আলী ইবনে আবি তালিব আলাইহিস সালাম উনার মত আরেকজনকে পবিত্র রেহেম শরীফে ধারণ ও জমিনে তাশরীফ মুবারক আনয়ন করার ক্ষেত্রে সহযোগীতা করার ক্ষমতা নারীকুলের কারো নেই।” হযরত ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনিও ইরশাদ মুবারক করেছেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে ডাকলেন ও একান্তে বসলেন। যখন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ফিরে আসলেন, উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম, কী আলোচনা করছিলেন? তিনি বললেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জ্ঞানের হাজারটি দরজা আমার জন্য উন্মুক্ত করলেন, আর প্রত্যেকটি দরজা থেকে আরো সহস্রটি দরজা খুলে যায়। সুবহানাল্লাহ! উল্লেখ্য, ১৭ই রমাদ্বান শরীফ উনার মতো এমন ফযীলতপূর্ণ দিন খুব কমই হয়। যেদিন একই সাথে এত মহিমান্বিত অনুষঙ্গ সংযুক্ত থাকে। সেক্ষেত্রে এই পবিত্র ১৭ই রমাদ্বান শরীফ উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য এক আলাদা রহমত-বরকত মুবারক উনার কারণ। প্রসঙ্গত, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আযম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “১৭ই রমাদ্বান শরীফ খুলুছিয়ত সহকারে পালন করলে সব গুনাহ মাফ হবে ও সবার সব দোয়া কবুল হবে।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আযম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, সরকারের উচিত- এ দিনে সরকারিভাবে ছুটির ঘোষণা করা এবং বেমেছাল তা’যীম-তাকরীম ও গভীর জওক-শওকের সাথে ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে যথাযথভাবে দিনটি পালন করা। মূলত, এসব দায়িত্ব ও সচেতনতা তখনই অর্জিত হবে যখন যথাযথ পবিত্র দ্বীন ইসলামী মূল্যবোধ জাগরূক থাকবে। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন খাছ রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আযম, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা লাভ করা সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন