বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন, ২০১৬

উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল বৈশিষ্ট্য

  
উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল বৈশিষ্ট্য


উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, সাইয়্যিদুল খলায়িক্ব, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রথমা আহলিয়া ও প্রথমা উম্মুল মু’মিনীন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলিয়া হওয়ার মত মহাগৌরব লাভ যেমন-তেমন বিষয় নয়। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমতে বেশ কয়েকজন উম্মুল মুমিনীন আলাইহিন্নাস সালাম ছিলেন এবং একই সাথে একই সময়ে অনেকজনই ছিলেন। কিন্তু তা উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার পর। তিনি যতদিন দুনিয়াবী হায়াত মুবারকে ছিলেন ততদিন অন্য কোন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম ছিলেন না। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যতজন সন্তান-সন্তুতি আলাইহিমুস সালাম উনারা পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন, উনারা সকলেই একজন ব্যতীত উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে আগমন করেন। বর্ণিত আছে যে, উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যতীত একমাত্র উম্মুল মু’মিনীন হযরত মারিয়া কিবতিয়া আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে একজন পুত্র সন্তান আগমন করেন উনার নাম মুবারক ছিল হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। তবে তিনি শৈশবেই পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। মূলত, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক বংশ বা নসব শরীফ জারী রয়েছে উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার মাধ্যমে। অর্থাৎ উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার কনিষ্ঠা কন্যা সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম এবং উনার দু’সন্তান সাইয়্যিদা শাবাবি আহলিল জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম এবং হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের মাধ্যমেই মূলত নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক বংশ বা নসব শরীফ জারী রয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত তা স্থায়ী থাকবে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিছাল শরীফ-এর পর বেশ কয়েকজন উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হায়াত মুবারকে ছিলেন। কিন্তু সৌভাগ্যের অধিকারিণী উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মক্কী জিন্দেগী মুবারক-এই উনার কোল মুবারক-এ মাথা মুবারক রেখে পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দুনিয়াবী হায়াত মুবারক-এ বহু দুঃখ-কষ্ট সহ্য করেছেন, শোকাহত হয়েছেন। উনার সম্মুখে উনার বহু আত্মীয়-স্বজন এমনকি পরম প্রিয় সন্তান-সন্তুতি পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু উনার প্রিয়তমা আহলিয়া উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছাল শরীফ উনার সনটি শোকের বছর হিসেবে আখ্যায়িত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার একান্ত কঠিনতম সময়ে যে দু’জন ব্যক্তির আনুকুল্যে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিশেষ খিদমত লাভ করেছিলেন উনাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনীত ও প্রচারিত পবিত্র দ্বীন ইসলাম সমগ্র পুরুষ ও মহিলার মধ্যে বিনা দ্বিধায় সর্বপ্রথম যিনি স্বীকার করে তাতে দ্বীক্ষিত হন তিনি হলেন উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম। উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে জান্নাত দানের প্রতিশ্রুতি ও সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে এবং দাফন মুবারক-এর পর মুনকার-নাকীর ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুওয়ালের জাওয়াব স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই দিয়ে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাধ্যমে উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে নিজের ও মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পক্ষ থেকে সালাম জানিয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার বুদ্ধির তীক্ষèতা ও জ্ঞানের তুলনা মহিলা জগতের মধ্যে বিরল। প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি উনাকে সবদিক হতেই বৈশিষ্ট্যম-িত করেন । এক হাদীছ শরীফ-এর বর্ণনায় জানা যায়, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে বললেন, হে হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম! স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে আপনাকে সালাম দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু’মিনীন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি উক্ত সালামের জাওয়াব দিলেন এভাবে, “ওয়াসসালামু আলাইকা ওয়া আলা জিবরীল আলাইহিস সালাম ওয়া ইন্নাল্লাহা হুওয়াস সালাম।” অর্থাৎ ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার প্রতি সালাম এবং হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার প্রতিও আমার সালাম। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি তো নিজেই সালাম (শান্তিদাতা)। তিনি অন্য কারো সালামের মুহতাজ বা মুখাপেক্ষী নন। কাজেই, জ্ঞানের তীক্ষèতা কত বেশি থাকলে এ ধরনের জাওয়াব দেয়া সম্ভব হতে পারে; তা সত্যিই ফিকিরযোগ্য। মূলত এর নামই হচ্ছে ইলমে লাদুন্নী। অর্থাৎ মহান আল্লাহ তায়ালা উনার প্রদত্ত ইলমের অধিকারিণী ছিলেন উম্মুল মু’মিনীন হযরত খাদীজাতুল কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন