হারাম কাজ বর্জন করতঃ পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার প্রচলন
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র সূরা হাশর শরীফ উনার ৭নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “আমার প্রিয়তম হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের মাঝে যা নিয়ে এসেছেন অর্থাৎ তিনি যা আদেশ মুবারক করেছেন তোমরা তা আঁকড়িয়ে ধরো এবং যা করতে নিষেধ করেছেন তা করা থেকে বিরত থাকো এবং এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।” এই পবিত্রতম আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ-নিষেধ মুবারক পরিপূর্ণভাবে মানার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন এবং এই বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করতে বলেছেন। অর্থাৎ তিনি (মহান আল্লাহ পাক) আরো জানিয়ে দিয়েছেন যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদেশ-নিষেধ মুবারক মানা না হয়, তাহলে তিনি কঠিন শাস্তি দিবেন। নাঊযুবিল্লাহ! এখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্রতম হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “আমি গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস করতে প্রেরিত হয়েছি।” আর উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র অপছন্দ করেছেন। আর তিনি যা অপছন্দ করেছেন তা করা থেকে সকল উম্মতকে বিরত থাকতে আদেশ মুবারক করেছেন। সুতরাং উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাধ্যমে আমাদের সকল উম্মতকে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র ইত্যাদি হারাম কাজ করা থেকে বিরত থাকতে আদেশ মুবারক করেছেন। তাই সকল উম্মতকে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র এবং অন্যান্য হারাম কাজ বর্জন করতে হবে। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেহেতু গান-বাজনা, বাদ্যযন্ত্র অপছন্দ করেছেন তাই এর বিপরীতে তিনি কি পছন্দ করেছেন সেটা আমাদেরকে জানতে হবে। এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত আছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিশিষ্ট ছাহাবী ও কবি হযরত হাসান বিন সাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার রচিত ও পাঠকৃত কবিতা শরীফ অর্থাৎ ক্বাছীদা শরীফ ও না’ত শরীফ খুবই পছন্দ করতেন।’ এবং আরো বর্ণিত আছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত ছাহাবী কবি হযরত হাসান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পবিত্র দ্বীনি কবিতা তথা পবিত্র ক্বাছীদা শরীফ ও পবিত্র না’ত শরীফ পাঠ করার জন্য মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে মিম্বর শরীফ তৈরি করে দিয়েছিলেন এবং হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার কর্তৃক উনাকে (হযরত হাসান বিন ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু) সাহায্য করার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করেছেন। (সুবহানাল্লাহ) সুতরাং এর থেকে আমরা বুঝতে পারলাম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্রের পরিবর্তে দ্বীনি কবিতা শরীফ তথা পবিত্র ক্বাছীদা শরীফ ও পবিত্র না’ত শরীফ পছন্দ করেছেন। এছাড়া পবিত্র কবিতা তথা পবিত্র ক্বাছীদা শরীফ ও পবিত্র না’ত শরীফ লেখা, পাঠ করা, শ্রবণ করা সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। আর সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার সুমহান শানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আখিরী যামানায় যে ব্যক্তি আমার একটি সুন্নত মুবারক উনাকে আঁকড়িয়ে ধরবে, সে একশত শহীদ উনাদের সমপরিমাণ ছওয়াব লাভ করবে।” সুবহানাল্লাহ! এখন আমরা যদি হারাম গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্রের পরিবর্তে পবিত্র ক্বাছীদা শরীফ পাঠ করি বা শ্রবণ করি তাহলে এর দ্বারা আমাদের সুন্নত মুবারক পালন করা সহজ ও সম্ভব হবে এবং পবিত্র সুন্নত মুবারক উনার ফযীলত মুবারক লাভ করতে পারবো। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সকল মুসলিম উম্মাহকে হারাম গান-বাজনা বর্জন করে সুন্নত উনার হাক্বীক্বী অনুসরণ-অনুকরণ করার তাওফীক দান করুন। আমীন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন