সম্মানিত হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম এবং প্রাসঙ্গিক পর্যালোচনা
যদি বলা হয়, সম্মানিত হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা কতজন? হয়ত অধিকাংশ লোকই বলবে যে, সম্মানিত হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা চারজন। অনুরূপভাবে যদি বলা হয়, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পঞ্চম খলীফা কে? হয়ত অধিকাংশ লোকই বলবে যে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পঞ্চম খলীফা হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি। অথচ সূক্ষভাবে ফিকির করলে দেখ যায়, বর্ণিত বিষয়গুলো কেবল অশুদ্ধই নয় বরং সুস্পষ্ট কুফরীও বটে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عن سفينة رضى الله تعالى عنه مولى رسول الله صلى الله عليه وسلم قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم خلافة النبوة ثلاثون سنة অর্থ: হযরত সাফীনাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সরাসরি খিলাফতে নবুওওয়ত ত্রিশ বছর স্থায়ী থাকবে। (আবু দাউদ শরীফ) অর্থাৎ নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আখাছছুল খাছ খিলাফত মুবারক ত্রিশ বছর চলমান থকবে। নিম্নে ত্রিশ বছর খিলাফতের সময়কাল তুলে ধরা হলো- ক্রম নাম মুবারক শুরু শেষ মোট সময় ১. সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ১১ হিজরী সনের ১৩ রবীউল আউওয়াল শরীফ ১৩ হিজরী সনের ২২ জুমাদাল উখরা শরীফ ২ বছর ৩ মাস ১০ দিন ২. সাইয়্যিদুনা হযরত ফারুক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম ১৩ হিজরী সনের ২২ জুমাদাল উখরা শরীফ ২৩ হিজরী সনের ১লা মুহররম শরীফ ১০ বছর ৬ মাস ৮ দিন ৩. সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম ২৩ হিজরী সনের ১লা মুহররম শরীফ ৩৫ হিজরী সনের ২৫ যিলহজ্ব শরীফ ১১ বছর ১১ মাস ২৫ দিন ৪. সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম ৩৫ হিজরী সনের ২৫ যিলহজ্ব শরীফ ৪০ হিজরী সনের ১৮ রমাদ্বান শরীফ ৪ বছর ৮ মাস ২৩ দিন ৫. সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম ৪০ হিজরী সনের ১৮ রমাদ্বান শরীফ ৪১ হিজরী সনের ১৭ রবীউল আউওয়াল শরীফ ৬ মাস আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহূ ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি ৪০ হিজরী ১৭ রমাদ্বান শরীফ শাহাদাতী মুবারক প্রকাশ করেন। উনার পর ছুরতান উম্মতের ইজমার ভিত্তিতে হাক্বীক্বতান নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ৪০ হিজরী ১৮ রমাদ্বান শরীফ বাইয়াত গ্রহণ করান। প্রথম চার খলীফা উনাদের খিলাফতকাল ত্রিশ বছর হতে ছয় মাস কম হয়। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছয় (৬) মাস খিলাফত মুবারক পরিচালনা করে সেই ত্রিশ (৩০) বছর পূর্ণ করেন। তিনি হচ্ছেন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পঞ্চম খলীফা। কাজেই, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পঞ্চম খলীফা। যে বা যারা হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পঞ্চম খলীফা বলবে, তারা বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা অস্বীকার করার দোষে দোষী হবে। অনুরুপভাবে যে বা যারা বলবে সম্মানিত হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা চারজন, তাদের উপরও ঐ একই হুকুম বর্তাবে। অতএব, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে সর্বোচ্চ হুসনে যন পোষণ করতে হবে। অন্যথায় কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। মহান আল্লাহ পাক সাইয়্যিদুনা হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক উছিলায় সকলের ঈমান, আমল, আক্বীদাহ এবং হুসনে যন হিফাযত করুন, হুসনে যন বিশুদ্ধ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন! কেউ যদি কামিয়াবী হাছিল করতে চায়, তবে তাকে অবশ্যই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের দিবসকে যথার্থ তা’যীম-তাকরীম মুবারক করতে হবে। মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- “হে আমার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বান্দাদেরকে জিন-ইনসানকে, সারা কায়িনাতবাসীদেরকে জানিয়ে দিন যে, আমি তোমাদের নিকট কোনো বিনিময় চাচ্ছি না। আর চাওয়াটাও স্বাভাবিক নয়; তোমাদের পক্ষে দেয়াও কস্মিনকালে সম্ভাব নয়। তবে তোমরা যদি ইহকালে ও পরকালে হাক্বীক্বী কামিয়াবী হাছিল করতে চাও; তাহলে তোমাদের জন্য ফরয হচ্ছে- আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা, তা’যীম-তাকরীম মুবারক করা- উনাদের খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেয়া।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা শুরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩) এবং মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত, করো। কেননা তিনি তোমাদেরকে নিয়ামত সামগ্রীর মাধ্যমে অনুগ্রহ মুবারক করে থাকেন। আর তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বত মা’রিফাত, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক পেতে হলে আমাকে মুহব্বত করো। আর তোমরা আমার মুহব্বত, মা’রিফাত, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক পেতে হলে আমার হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করো।” সুবহানাল্লাহ! মহাপবিত্র আয়াত শরীফ ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার প্রিয়তম রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মুহব্বত, মা’রিফাত, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক পেতে চায়, তবে অবশ্যই তাকে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম উনার যথার্থ তা’যীম-তাকরীম মুবারক করতে হবে, ছানা-ছিফত মুবারক ও উনার খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দিতে হবে। অন্যথায় কারো পক্ষে কস্মিনকালেও কামিয়াবী হাছিল করা সম্ভব নয়। কেননা তিনি হচ্ছেন হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে অন্যতম সুবহানাল্লাহ! সুতরাং উনার শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, বুযূর্গী-সম্মান বলার অপেক্ষাই রাখে না। সুবহানাল্লাহ! তাই প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা উনাদের জন্য ফরয হলো- মহাপবিত্র ১৫ই শা’বান শরীফ উনার যথার্থ তা’যীম-তাকরীম করা ও যথার্থ খিদমতের আঞ্জাম দেয়া। কারণ সুমহান পবিত্র ১৫ই শা’বান শরীফ ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার দিবস। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি যামানার ইমাম ও উনার পবিত্র আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক উসীলায় আমাদের সকলকেই ঐ সুমহান দিন উনার যথার্থ তা’যীম-তাকরীম করার তাওফীক দান করুন এবং আজীবন খিদমত মুবারক করারও তাওফীক দান করুন। আমীন!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন