সম্মানিত মু’তাকিফ উনাদের জন্য নিষিদ্ধ কাজসমূহ
যিনি ই’তিকাফ করেন, উনাকে মু’তাকিফ বলা হয়। সম্মানিত মুতাকিফ উনাদের জন্য কিছু কাজ নিষিদ্ধ। যদি উনারা সেই কাজগুলো করেন তাহলে ই’তিকাফ ভঙ্গ হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ولا تبا شروهن وانتم عاكفون فى المساجد অর্থ: “পবিত্র মসজিদে ই’তিকাফ করাকালীন আপনারা আপনাদের আহলিয়া সাথে নিরিবিলি অবস্থান করবেন না।” (পবিত্র সূরা আল বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮৭) ই’তিকাফকারী ব্যক্তি ই’তিকাফ করাকালীন নিজের বৈধ আহলিয়ার সাথেও নিরিবিলি অবস্থান করতে পারবেন না। এমনকি নিরিবিলি অবস্থানের দিকে ধাবিত করে এমন সব কাজ থেকেও সম্মানিত মু’তাকিফ উনাকে বিরত থাকতে হবে। কোনো গুনাহের কাজ করতে পারবেন না। গুনাহের কাজের খেয়ালও করবেন না। সবসময় মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের ধ্যান-খেয়ালে, মুহব্বতে গরক থাকতে হবে। নামায-কালাম, যিকির-ফিকির, তাছবীহ-তাহলীল, পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, পবিত্র হাদীছ শরীফ তিলাওয়াত, দোয়া-মুনাজাত, দ্বীনি কিতাবাদি পাঠ ইত্যাদি নেক কাজ করবেন কিংবা করাবেন। তা’লীম-তরবিয়ত দিবেন বা নিবেন। উল্লেখ্য যে, রোযাদার ব্যক্তির চুপ করে থাকাটাও তাছবীহ তুল্য তথা তাছবীহ-তাহলীল পাঠের ফযীলত পাবেন। কিন্তু সম্মানিত মু’তাক্বিফ উনার জন্য চুপ করে থাকা মাকরূহ। পবিত্র মসজিদে সবসময় ওযূ সহকারে অবস্থান করতে হবে। কোনো কারণে ওযূ ভঙ্গ হলে সাথে সাথে ওযূ করে নিবেন। সম্মানিত মু’তাকিফ তিনি ই’তিকাফ অবস্থায় হাত-পায়ের নখ কাটতে পারবেন না। মাথার চুল-গোফসহ অন্যান্য অতিরিক্ত চুল বা পশম কাটতে পারবেন না। ওযূ করতে বাইরে গিয়ে মেসওয়াক করতে পারবেন না। তবে মসজিদে ভিতরে, অবস্থান করার স্থানে মেসওয়াক করে নিতে পারবেন। স্বাভাবিকভাবে গোসল করতে পারবেন না। তবে গোসল ফরয হলে কিংবা যদি এমন গরম পড়ে যে, গোসল না করে থাকা সম্ভব নয় বা অত্যন্ত কষ্টকর, সেক্ষেত্রে গোসল করার অনুমতি আছে। সেক্ষেত্রে শুধু গোসল করেই অবস্থান স্থলে আসতে হবে। পরনের কাপড়-চোপর অন্য কোনো লোক দ্বারা ধেয়াতে হবে। কিন্তু যদি এমন কোনো লোক পাওয়া না যায়, সেক্ষেত্রে ধুইতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে, এগুলো করতে গিয়ে যদি একান্ত প্রয়োজনের অতিরিক্ত এক সেকেন্ডও সময় ব্যয় করেন তাহলে ই’তিকাফ ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর ই’তিকাফ ভঙ্গ হলে তা পুনরায় কাযা করতে হবে। যেহেতু সে দশ দিন ই’তিকাফ করার নিয়ত করেছেন। সম্মানিত হানাফী মাযহাব মতে নফল বা সুন্নত কোনো কাজ করার নিয়ত করে শুরু করতঃ কোনো কারণে ভঙ্গ হলে বা করলে পুনরায় তা আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যায়। তখন আর নফল বা সুন্নত থাকে না। বরং ওয়াজিবে পরিণত হয়। আর ই’তিকাফ কাযা করলে তা রোযা সহকারেই আদায় করতে হবে। নিকটে কোনো ওযূ-ইস্তিঞ্জাখানা বা পানির ব্যবস্থা থাকলে সেটা ব্যবহার না করে পরেরটি বা তৎপরবর্তী দূরেরটি ব্যবহার করলে ই’তিকাফ ভঙ্গ হবে। সম্মানিত মু’তাকিফ ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বা হাঁটা বন্ধ করে সালাম দিলে কিংবা সালামের জওয়াব দিলে ই’তিকাফ ভঙ্গ হবে। তবে চলন্ত অবস্থায় সালাম দেয়া বা জওয়াব দেয়াতে কোনো দোষ নেই। সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, كان النبى صلى الله عليه وسلم يعود المريض وهو معتكف فيمر كما هو فلا يعرج يسال عنه. অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ই’তিকাফ অবস্থায় চলন্ত পথে এদিক-সেদিক না গিয়ে ও না দাঁড়িয়ে রোগীর অবস্থা জিজ্ঞাসা করতেন।” (আবু দাউদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ) তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, السنة على المعتكف ان لايعود مريضا ولا يشهد جنا زة ولايمس المراة ولا يباشرها ولا يخرج لحا جة الا لما لابد منه ولا اعتكاف الا بصوم ولا اعتكاف الا فى مسجد جامع. অর্থ: “সম্মানিত মু’তাকিফগণের জন্য সুন্নত হচ্ছে- ১. উনারা কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাবেন না। ২. কোনো জানাযার নামাযে শরীক হবেন না। ৩. আহলিয়াকে স্পর্শ করবেন না। অর্থাৎ নিরিবিলি অবস্থানের দিকে ধাবিত করে এমন সব কাজ করবেন না। ৪. আহলিয়ার সাথে নিরিবিলি অবস্থান করবেন না। ৫. একান্ত জরুরত (ওযু-ইস্তিঞ্জা, প্রয়োজনে গোসল এবং খাবার সরবরাহের কোনো লোক না থাকলে বাইরে গিয়ে খাবার নিয়ে আসা) ব্যতীত বাইরে বের হবেন না। ৬. রোযা ব্যতীত ই’তিকাফ হয় না ৭. আর জামে মসজিদ ব্যতীত ই’তিকাফ হয় না। (আবূ দাউদ শরীফ)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন