পবিত্রতম আহলু বাইত শরীফ উনাদের মূল মধ্যমণি হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাই। উনাদের বে-মেছাল শান, মান, বুযুর্গী, মর্যাদা, মর্তবা, ফাযায়িল, ফযীলত ও খুছূছিয়ত মুবারক সম্পর্কে আলোচনা
| নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে পবিত্রতম রূহানী, জিসমানী সার্বিক দিক থেকে সুমহান গভীরতম ও অবিচ্ছেদ্য নিসবত মুবারক থাকার কারণেই সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টির সূচনা লগ্ন থেকে পূত-পবিত্রা থেকে পূত-পবিত্রতমা করেই সৃষ্টি মুবারক করেছেন এবং পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র প্রতিটি আয়াত শরীফ উনার আয়াত শরীফে, হরফে-হরফে, নুকতায় নুকতায় নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক উনার সাথে সাথেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবেই হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক অবিচ্ছেদ্যভাবে উল্লেখ রয়েছে। সুবহানাল্লাহ! সমগ্র পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে যেমনিভাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক, গুরুত্ব তাৎপর্য মুবারক, শান-মান মুবারক, বুযুর্গী মুবারক’ বিদ্যমান। ঠিক অনুরূপভাবে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন নাস সালাম উনাদেরও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক গুরুত্বপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ, অকৃত্রিম এবং অবিচ্ছেদ্য অন্তর্নিহিত গভীর থেকে গভীরতম চিরস্থায়ী মুহব্বতের চিরন্তন বন্ধনে চির আবদ্ধ থাকার কারণেই উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলতও সমভাবে বিদ্যমান। সুবহানাল্লাহ! কাজেই যেখানেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানেই সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সকলেই অবিচ্ছেদ্যভাবে রয়েছেন। যে কারণেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তা’যীম-তাকরীম, শান-মান, আলোচনা ও পবিত্রতম মুহব্বত মুবারক করা ফরযে আইন ও পবিত্র ঈমান। ঠিক একই মুবারক কারণেই হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে এবং উনাদের মধ্যমণি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করাও ফরযে আইন। ও পবিত্র ঈমান সুবহানাল্লাহ! কেননা উনারা সুখে-দুঃখে সমআনন্দে, সমবেদনায়, মুবারক খিদমতে সাহায্য-সহযোগিতায় এবং পবিত্রতম সহমর্মিতায়- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পূত-পবিত্রতম অন্তর মুবারক উনার গভীরতম এক কোণে পবিত্রতম স্থান করে নিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তা থেকে কস্মিনকালেও জুদা নন। হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মর্যাদা, মর্তবা, শান-মান ও বিশালতা কেউই পরিমাপ করতে কস্মিনকালে পারেনি এবং পারবেও না। কারণ উনাদের সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ও মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে গভীর থেকে গভীরতম এক নিগুঢ় ও তাত্ত্বিক-সুমহান অবিচ্ছেদ্য নিসবত মুবারক রয়েছেন। উনারা নিজেদের ধন-সম্পদ, টাকা-পয়সা, শ্রম-সাধনা, ত্যাগ-তিতীক্ষা এমনকি নিজের পবিত্রতম ‘জান’ মুবারককেও কুরবান মুবারক করতে বিন্দু থেকে বিন্দুতম দ্বিধাগ্রস্ত হননি। বরং তা থেকে ছিলেন পূত-পবিত্র থেকে পবিত্রতম। যা কল্পনাতীত ও বর্ণনাতীত। এটাই ছিলেন উনাদের সুমহান আদর্শ, গুণ ও বৈশিষ্ট্য মুবারক। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্রতম মুহব্বতে কত যে গরক্ব ছিলেন, যা অন্য কোনো মানুষের পক্ষে থাকা সম্ভব নয়। এ কারণেই মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার অনেক পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের বেমেছাল শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, বুযূর্গী, সম্মান, ফাযায়িল-ফযীলত ও পবিত্রতা সম্পর্কে বর্ণনা করেন। সুবহানাল্লাহ! এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, يَا نِسَاء النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاء অর্থ: হে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম! আপনারা অন্য কোনো মহিলাদের মতো নন। অর্থাৎ আপনাদের শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরেই এবং সমস্ত সৃষ্টিকুলের ঊর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২) হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সীমাহীন পবিত্রতম শান-মান, মর্যাদ-মর্তবা, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান প্রসঙ্গে ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলাম, আল গাউছুল আ’যম, হাবীবে আ’যম, খলীফায়ে আ’যম, নূরে মুকাররাম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আখাছ্ছুল খাছ আওলাদুর রসূল, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা হযরত মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পরেই হচ্ছেন হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পবিত্রতম স্থান মুবারক। সুবহানাল্লাহ! সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনারাসহ সমগ্র কায়িনাতবাসী হচ্ছেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত। সুবহানাল্লাহ! আর এ হেতুতে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন- সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনারাসহ সমগ্র কায়িনাতের মা তথা উম্মুল কায়িনাত। সুবহানাল্লাহ! এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, النَّبِيُّ أَوْلى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنفُسِهِمْ وَأَزْوَاجُه أُمَّهَاتُهُمْ অর্থ: নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন- মু’মিনগণের জানের চেয়েও বেশি নিকটবর্তী এবং হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হলেন- উনাদের পবিত্রতম মা তথা সমস্ত কায়িনাতেরই পবিত্রতম ও সম্মানিত মা। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : আয়াত শরীফ ৬) যেহেতু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমগ্র কায়িনাতের নবী এবং রসূল হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! এ প্রসঙ্গে পবিত্রতম কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, يا ايها الناس انى رسول الله اليكم جميعا- অর্থ: হে লোকসকল! তথা হে কায়িনাতবাসী! আমি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে তোমাদের সকলের জন্য রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। (পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫৮) এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে- كنت نبيا و حضرة ادم عليه السلام بين الروح و الجسد و فى رواية بين الماء و الطين অর্থ: “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি তখনো নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে ছিলাম যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার পবিত্রতম রূহ মুবারক এবং পবিত্রতম জিসিম মুবারক সৃষ্টি করা হয়। অপর বর্ণনায় রয়েছে, যখন মাটি এবং পানি সংমিশ্রণে ছিলেন তখনো আমি নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে ছিলাম।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ, শারহুয যারকারনী শরীফ) এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عن حضرة أبي هريرة رضى الله تعالى عنه قال أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال أرسلت إلى الخلق كافة وختم بي النبيون". অর্থ: “আমি সমস্ত সৃষ্টিকুলের মাঝে প্রেরিত হয়েছি এবং আমার দ্বারা পবিত্রতম নবুওওয়ত মুবারক উনার ধারাবাহিকতা সমাপ্ত করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ) এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ তো অসংখ্য রয়েছেই তাছাড়াও ‘ফতওয়ায়ে শামী’ ৩য় খ- জিয়ারত অধ্যায়ে উল্লেখ আছে- সমস্ত হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ইজমা তথা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ان التربة التى اتصلت الى اعظم النبى صلى الله عليه وسلم افضل من الارض والسماء حتى العرش العظيم অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম জিসিম তথা শরীর মুবারক উনার সাথে যে পবিত্র মাটি মুবারক স্পর্শ করেছে তা আসমান-যমীন, আরশ-কুরসি, লওহো, কলম তথা সকল কিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। ” পঞ্চদশ হিজরী শতকের মহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবে আ’যম, গাউছুল আ’যম, খলীফায়ে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, জামিউল আলক্বাব, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যে সমস্ত বস্তু, বিষয় বা যা কিছু এক মুহূর্তের তরে পবিত্রতম ছোহবত মুবারক তথা স্পর্শ মুবারক-এ ধন্য হয়েছেন, ঐ সমস্ত বস্তু ও বিষয় মুবারকগুলো পবিত্রতম কা’বা শরীফ, কুরসী শরীফ এমনকি আরশে আযীমসহ যত মর্যাদা ও ফযীলতপূর্ণ বিষয়গুলো রয়েছেন তার চেয়েও লক্ষ-কোটিগুণে মর্যাদায় মর্যাদাবান হয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! তাহলে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত, শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা, বুযুর্গী-সম্মান কত বে-মিছাল হবে তা ফিকিরের বিষয়! কেননা উনারা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবত্রিতম খিদমত মুবারক-এ উনাদের পবিত্রতম জান-মাল সবকিছুই কুরবান তথা বিলীন করে তো দিয়েছেনই, এমনকি সারাটা জীবন মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্রতম ছোহবত মুবারক-এ ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকালব্যাপী থাকবেন। সুবহানাল্লাহ! কাজেই উনাদের শান-মান, মর্যাদা, বুযূর্গী মুবারক যে কত ব্যাপক ও বেমেছাল; তা সমস্ত সৃষ্টিকুলের আকল-সমঝ, বিবেক-বুদ্ধি, চিন্তা-ফিকির সবকিছ্রুই সীমাহীন ঊর্ধ্বে। অতএব, জীন-ইনসান, তামাম ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম, হুর-গেলমান, পশু-পাখি, কীট-পতঙ্গ, তরুলতা, জামাদাত, হাজারাত, শাজারাতসহ সমস্ত কায়িনাতের জন্য ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে উনাদের প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদা ও সর্বোচ্চ “হুসনে-যন” পোষণ করা। জীবনের সর্বাত্মক কোশেশ দ্বারা তা’যীম-তাকরীম, ইয্যত-সম্মান, তায়াল্লুক, নিসবত ও মুহব্বত রাখা এবং অনন্তকালব্যাপী উনাদের ছানা-ছিফত মুবারকে মশগুল থাকা। উনাদের ছানা-ছিফত মুবারক, তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক, রেযামন্দি-সন্তোষ্টি মুবারক ও মুহব্বত মুবারকই সমস্ত কায়িনতবাসীসহ সকল জিন-ইনসান মু’মিন বান্দা-বান্দিগণের পবিত্রতম ঈমান ও নাজাত এর মূল তথা ঈমান ও নাজাতের একমাত্র উপায় ও অবলম্বন। সুবহানাল্লাহ! আরো স্মরণীয় যে, কোনো মু’মিন-মুসলমান বান্দা-বান্দী উনারা নিজেদেরকে ঈমানদার দাবি করার পর যদি তাদের পবিত্রতম মা তথা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পবিত্রতম শান-মান ইজ্জত-ঐতিহ্য মুবারক সম্পর্কে, উনারা কতজন উনাদের সংখ্যা মুবারক সম্পর্কে এবং উনাদের নাম মুবারক সম্পর্কে না জানে বা জানা না থাকে উনাদের পবিত্রতম বিলাদত শরীফ ও পবিত্র বিছাল শরীফ জানা না থাকে, তাহলে তাদের পবিত্র ঈমানের দাবি করাটা একেবারেই অনর্থক! ধিক! অভিসম্পাত তাদের জীবনের! নাউযুবিল্লাহ! কাজেই ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় ১৭ই রমাদ্বান- সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মুল কায়িনাত, উম্মুল মু’মিনীন আল উলা, ত্বহিরা, ত্বইয়্যিবা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম ও সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মুল কায়িনাত, উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা, ত্বহিরা, ত্বইয়্যিবা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পবিত্রতম বিছাল শরীফ দিবস যা যথাযথ তা’যীম, তাকরীম, ইয্যত, সম্মান, অত্যন্ত মুহব্বতের ও সাখাওয়াতীর সাথে পালন করাই পবিত্র ঈমানের দাবি ও ফরযে আইন। |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন