মহিলাদের ই’তিকাফ গুনাহখতা মাফ
পবিত্র ইসলামী শরীয়ত উনার মাঝে মহিলাদের জন্যও ই’তিকাফ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে। এ ব্যাপারে সকল ফিক্বাহবিদগণ উনারা একমত। এ সুর্বন সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারাও সীমাহীন ফযীলত লাভ করতে পারে। যেমন- ১. পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার শেষ দশকের ৯/১০ দিন ইতিকাফ করে দুটি হজ্জ ও দুটি ওমরাহ করার ছাওয়াব লাভ। সুবহানাল্লাহ! ২. পূর্বাকৃত গোনাহখতা হতে ক্ষমা লাভ। সুবহানাল্লাহ! ৩. অন্তত একটি ই’তিকাফ করে জাহান্নাম থেকে তিন খন্দক দূরে থাকতে পারা। উল্লেখ্য, প্রতি খন্দকের দূরত্ব পাঁচশত বছরের রাস্তা। সুবহানাল্লাহ! ৪. সর্বপ্রকার গুনাহমুক্ত থেকে সর্বপ্রকার নেকী কার্যত লাভকারীর ন্যায় লাভ করা। ইত্যাদি। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সুমহানন বিছালী শান মুবারক প্রকাশ পর্যন্ত তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসের শেষ দশ দিন ই’তিফাক করতেন। অতঃপর হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা (উক্ত দিন গুলোতে) ই’তিফাক করতেন। (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)। এভাবেই সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে মহিলাদেরকে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের অনুসরণে ই’তিকাফ করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। আর এটাকে উনাদের সুন্নত বলে অভিহিত করেছেন। তবে, ভালভাবে মনে রাখতে হবে, মহিলাদের ই’তিকাফের ত্বরীক্বা হলো, নিজ গৃহের গোপন প্রকোষ্ঠ নামাযের জন্য নির্ধারিত স্থানে তারা ই’তিকাফ করবে। কারণ, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ১. মহিলাদের জন্য উত্তম মসজিদ হলো, তাদের ঘরের গোপন প্রকোষ্ঠ। ২. তাদের (মহিলাদের) গৃহই হলো তাদের জন্য উত্তম। এ প্রসঙ্গে আল্লামা শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, পুরুষের জন্য এমন মসজিদে অবস্থান করা যে মসজিদে নামাযে জামায়াত প্রতিষ্ঠিত হয়; আর মহিলাদের জন্য নিজ ঘরে নির্ধাতি নামাযের স্থানে অবস্থান করাকে ই’তিকাফ বলে। (ফতওয়ায়ে শাম, মা’আরেফুস সুন্নান, ক্বাওয়ায়িদুল ফিকহ-১৮৪) ই’তিকাফের সংজ্ঞা থেকেও বুঝা গেল যে, মহিলাদের জন্য ই’তিকাফ করার অনুমতি রয়েছে। কিন্তু শর্ত হলো- ১. মহিলারা মসজিদে নয়, বরং নিজ ঘরে অথবা আপন স্বজনদের ঘরে নামাযের জন্য নির্ধারিত স্থানে, যেখানে পর্দার শর্তাবলী পাওয়া যায় এবং যে স্থানে সার্বিক বিবেচনায় নিরাপদ হয়, এমন স্থানে ই’তিকাফ করবে। ২. আল্লামা শামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিবাহিত মহিলাদের জন্য ই’তিকাফ সম্পর্কে আরেকটি শর্তের উল্লেখ করেছেন, বিবাহিত মহিলাদের জন্য স্বামীর অনুমতি ছাড়া ই’তিকাফ করা উচিত নয়। প্রকাশ্য অথবা সমর্থনগত অনুমতি হলেই চলবে। (আল ফিক্বহ আলা মাযাহিবিল আরবায়া’) এমতাবস্থায় স্বামীর জন্য উচিত হলো, স্ত্রীকে নিজ ঘরে ই’তিকাফ করার জন্য উৎসাহ-উদ্দীপনা বিজড়িত অনুমতি প্রদান করা। এতে সে ইহলৌকিক ও পারলৌকিক উপকার লাভ করতে পারবে। ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্ববিখ্যাত পবিত্র হাদীছ শরফি উনার সংকলন ছহীহ বুখারী শরীফ উনার মধ্যে (মহিলাদের ই’তিকাফ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ) নামে একটি পরিচ্ছেদ রাখেন। এতে মহিলাদের ই’তিকাফের বৈধতা প্রমানিত হয়। আল্লামা ইবনুল যাওজী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ই’তিকাফের উদ্দেশ্য হলো, রূহ ও অন্তরকে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে মিলানো। এক্ষেত্রে পুরুষ মহিলা ভেদাভেদ নেই। যাহোক, ই’তিকাফ করার যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্বেও মহিলাগণ ই’তিকাফের সুমহান সুন্নত আদায় করা থেকে প্রায়ই বঞ্চিত হয়। হায় আফসোস! অথচ একটি সুন্নত মুবারক পালন করলে একশত শহীদ উনাদের ছাওয়াব পাওয়া যায়। সুবহানাল্লাহ! কাজেই, ই’তিকাফের সমুদয় ফাযায়িল-ফযীলত লাভের সাথে সাথে জীবনের সমস্ত গুনাহখতা মাফীতে পুরুষের পাশাপাশি আপনিও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখতে পারেন ওহে মু’মিনা!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন