মুবারক হো- সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, কুতুবুল আলম, উম্মু আবীহা, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, ক্বায়িম-মাক্বামে বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, নাক্বীবাতুল উমাম হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার এবং নূরে মদীনা, গুলে মুবিনা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, নিবরাসাতুল উমাম হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম উনাদের মহিমান্বিত ও আযীমুশ শান ঈদু নিসবাতিল আযীম
| সব প্রশংসা মুবারক যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আফদ্বালুন নিসা ওয়ান নাস বা’দা রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বিনতু মিন বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত রুক্বাইয়া আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর আমিরুল মু’মিনীন, খলিফাতুল মুসলিমীন, জামিউল কুরআন সাইয়্যিদুনা হযরত যুন নূরাইন আালাইহিস সালাম তিনি অত্যন্ত বিষন্ন, বিমর্ষ এবং শোকাতুর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। উনার এই ব্যথাতুর অবস্থার মূল কারণ ছিলো সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্ল্হাু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হযরত বানাত আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারক থেকে বঞ্চিত হওয়া। অর্থাৎ হযরত বিনতু মিন বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খিদমত মুবারকে যাওয়া তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া- এর চাইতে সৌভাগ্যের ও আনন্দের বিষয় দ্বিতীয়টি নেই। এটা মহিমান্বিত পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার মতোই ফযীলতযুক্ত, সম্মানিত ও বরকতপূর্ণ। প্রসঙ্গত, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারকে আসার জন্য বাবুল ইলম ওয়াল হিকাম, আসাদুল্লাহিল গালিব সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার যে নিসবাতুল আযীম মুবারক অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাও ছিল পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার মতো মহিমান্বিত। উল্লেখ্য, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, বতূল, ত্বাহিরা, ত্বইয়িবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক খিদমতে যাওয়ার জন্য অনেকেই প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশনার অপেক্ষা করছিলেন। এ নির্দেশনায় আমিরুল মু’মিনীন, খলিফাতুল মুসলিমীন, বাবুল ইলম, আসাদুল্লাহ হযরত কাররামাল্লাহ ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার পক্ষে প্রস্তাব এলে উনিই মনোনীত হন। সুবহানাল্লাহ! তদ্রƒপ নাক্বীবাতুল উমাম, কুতুবুল আলম, উম্মু আবীহা, লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদাতুন নিসা, ক্বায়িম-মাক্বামে বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম এবং নিবরাসাতুল উমাম, নূরে মদীনা, গুলে মুবিনা, সাইয়্যিদাতুন নিসা, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদীয়ে ছানী আলাইহাস সালাম উনাদের খিদমতে কারা যাবেন বা যাঁদের সাথে উনাদের আযীমুশ শান নিকাহ মুবারক বা নিসবাতুল আযীম অনুষ্ঠিত হবে এ বিষয়ে ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার এবং উম্মুল উমাম, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদেরকে বিশেষভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিশেষভাবে অবগত করেন। একাধিকবার উনাদেরকে স্বপ্ন মুবারকে দেখিয়েছেন। নিজের হযরত আহলে বাইত শরীফ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর ইমামুল উমাম, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, আওলাদে রসূল মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি একান্ত ও স্পষ্ট এবং সমুজ্জ্বলরূপে রূহানীভাবে সাইয়্যিদুনা হযরত শাফীউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত হাদিউল উমাম হযরত শাহদামাদ ছানী ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদের নসবনামা মুবারক অবগত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তবেও উনাদের নসবনামা মুবারক রয়েছে। উনারা ‘আওলাদে রসূল’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। উনাদের পূর্বপুরুষ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের ইতিহাস হচ্ছে উনারা হিদায়েতের কাজে পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে বাংলা মুলুকে এসেছেন। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক ফরমান- “মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দশন মুবারক সম্বলিত দিবসগুলিকে স্মরণ করিয়ে দিন সমস্ত কায়িনাতকে। নিশ্চয়ই এর মধ্যে ধৈর্যশীল ও শোকরগোজার বান্দা-বান্দীদের জন্য ইবরত ও নছীহত রয়েছে।” (পবিত্র সূরা ইবরাহীম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫) মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ উনার ১৫ নম্বর পবিত্র আয়াত পাক উনার মধ্যে হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম উনার মুবারক শানে ইরশাদ মুবারক ফরমান- “উনার প্রতি শান্তি বা সালাম অবারিত ধারায় বর্ষিত হোক, যেদিন তিনি দুনিয়ায় আগমন করেন অর্থাৎ পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন ও যেদিন তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন আবার যেদিন তিনি জীবিত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবেন।” সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। (আর তোমাদের পক্ষে তা দেয়াও সম্ভব নয়) তবে যেহেতু তোমাদের ইহকাল ও পরকালে নাজাত লাভ করতে হবে, মুহব্বত-মা’রিফাত, রেযামন্দি মুবারক হাছিল করতে হবে, সেহেতু তোমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে- আমার নিকটজন তথা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও আওলাদ আলাইহিমুস সালামগণ উনাদের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।” (পবিত্র সূরা শূরা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩) এসব পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের থেকে প্রত্যেক ঈমানদার মুসলমানসহ কায়িনাতের সকলের জন্যই উপলব্ধি করা জরুরী যে, হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের, উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়ই উম্মতের তথা কায়িনাতের জন্য বেমেছাল ফযীলত মুবারক, ইতমিনান, রহমত মুবারক হাছিল এবং নিয়ামত মুবারক হাছিলের কারণ। মূলত, আজকের আযীমুশ শান এ মুবারক দিনটি সমস্ত কায়িনাতের জন্যই এক মহান দিন; ঈদ উনার দিন, খুশির দিন, স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এ মহান দিবস উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করছেন। কেননা এ পবিত্র নিকাহাইনিল আযীম বা নিসবাতাইনিল আযীম মুবারক উনাদের ফায়ছালা তো উনাদের পক্ষ থেকেই হয়েছে। সুবহানাল্লাহ! মহিমান্বিত নিকাহাইনিল আযীম বা নিসবাতাইনিল আযীম উপলক্ষে সাইয়্যিদে মুজাদিদ্দে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার এবং উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনারা ওই রকমই খুশি হয়েছেন, যেমনটি বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নিসবাতুল আযীম মুবারক উপলক্ষে স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুশি হয়েছিলেন। সুবহানাল্লাহ! কাজেই মহিমান্বিত ও আযীমুশ শান ঈদুন নিকাহাইনিল আযীম বা নিসবাতাইনিল আযীম উপলক্ষে সর্বোচ্চ খুশি প্রকাশ করা এবং আর্থিক খিদমত করা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের অন্যতম বহিঃপ্রকাশ। যা উৎযাপন করা প্রত্যেক মুরীদ মুতাক্বিদ তথা মু’মিনের জন্য ফরয-ওয়াজিব। পাশাপাশি উল্লেখ্য, অতীব দুঃখজনক হলেও সত্য এ বিষয়ে মিডিয়া তথা রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারক মহল, পরিচালক মহল এমনকি নামধারী উলামায়ে ‘সূ’য়ের মাঝেও কোনো আলোড়ন বা অংশগ্রহণ নেই। ফলতঃ যা হবার তাই হচ্ছে। উম্মাহ বা দেশবাসী আযাব-গযবে আক্রান্ত হচ্ছে। বরং দিন দিন আরো ভয়াবহ গযবের মুখোমুখি হচ্ছে। নাঊযুবিল্লাহ! কিন্তু তারপরেও মানুষ বেখবর। তাদের প্রসঙ্গেই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তবে কী উত্তম পথের চেয়ে নিকৃষ্ট পথই তোমাদের পছন্দ?” মূলত, আযাব-গযব থেকে রক্ষার একটাই পথ, সেটা হল রহমত মুবারক। আর এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক যাঁরা মুহসিনীন উনাদের নিকটবর্তী।” এক্ষেত্রে যারা কুতুবুল আলম উনারাই রহমত মুবারক উনার আধার। মূল ধারক ও বাহক। আর ৭ জন কুতুবুল আলম উনাদের মধ্যে যিনি প্রধান তিনিই ইমামুল আইম্মাহ। তিনিই মুজাদ্দিদে আ’যম, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। বাকী সব কুতুবুল আলম উনারা সবাই উনার মুবারক আহাল ও ইয়াল আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ! সঙ্গতকারণেই উনাদের মুবারক ছোহবত ব্যতিরেকে বর্তমান উম্মাহর মাঝে একদিকে পবিত্র হিদায়েত লাভ; অপরদিকে আযাব-গযব থেকে রক্ষার দোসরা কোনো পথ খোলা নেই। এ অমোঘ সত্য এ উম্মাহ যত তাড়াতাড়ি অনুধাবন করবে, তত তাড়াতাড়িই তারা দ্বীন-দুনিয়ার ভালাই কামাতে পারবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং উনাদের লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ ও লক্ষ্যস্থল আওলাদে রসূল, ইমামে আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যেন আমাদের সবাইকে কোনো কারণ ছাড়াই কবুল করেন ও কামিয়াব করেন। আমীন! |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন