শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায ও জানাযার নামাযের পর মুনাজাত করা খাছ সুন্নত ॥ বিরোধীতা করা কুফরী (১)

পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায ও জানাযার নামাযের পর মুনাজাত করা খাছ সুন্নত ॥ বিরোধীতা করা কুফরী (১)


সমস্ত প্রশংসা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত ছলাত ও সালাম। দোয়া বা মুনাজাত ইসলামের একটি অন্যতম আমল। স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনি দোয়া করতে মুবারক নির্দেশ করেছেন এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতদেরকে দোয়া বা মুনাজাত করার নির্দেশ ও তাকীদ দিয়েছেন। যেমন মহান অল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা আমার নিকট দোয়া বা মুনাজাত করো, আমি তোমাদের দোয়া বা মুনাজাত কবুল করবো।” (পবিত্র সূরা ম’মিন শরীফ) আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া বা মুনাজাত করে না, মহান আল্লাহ পাক তার উপর রাগান্বিত হন।” অতঃপর মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব উম্মদেরকে এ বলে নির্দেশ দিয়েছেন যে, “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া বা মুনাজাত করো।” উপরোক্ত আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, মৌলিকভাবে দোয়া বা মুনাজাত হচ্ছে ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। কেননা মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নির্দেশ পালন করা জিন-ইনসানদের উপর ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। তা নামাযের শেষেই হোক অথবা আগেই হোক অথবা অন্য কোনো সময়ই হোক না কেন। বান্দাকে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া বা মুনাজাত করতেই হবে। আর পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর দোয়া বা মুনাজাত করা খাছ মুস্তাহাব সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। কারণ স্বয়ং নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফরয নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিত ভাবে মুনাজাত করেছেন। এবং উম্মতদেরকেও ফরয নামাযের পর দোয়া বা মুনাজাত করার ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন। যেমন, এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফের বিশ্ববিখ্যাত কিতাব ুমুছান্নেফ ইবনে আবী শায়বায়” উল্লেখ আছে, হযরত আসওয়াদ আমেরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত তিনি উনার পিতা হতে বর্ণনা করেন, উনার পিতা বলেন, “আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে ফজর নামায পড়লাম যখন তিনি নামাযের সালাম ফিরালেন,(আমাদের দিকে) ঘুরে বসলেন এবং উভয় হাত মুবারক তুলে দোয়া বা মুনাজাত করলেন”। সুতরাং ফরয নামাযের পর দোয়া বা মুনাজাত করাটা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক‘ফেল বা আমল’ দ্বারাই সু-স্পষ্ট ভাবে প্রমাণিত। শুধু তাই নয়, উনার ুক্বওল মুবারক বা ক্বওলী হাদীছ শরীফ” দ্বারাও ফরয নামাযের পর দোয়া বা মুনাজাত করা প্রমাণিত হয়। যেমন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, হযরত আবু উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞেস করা হলো- ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কোন সময়ের দোয়া বা মুনাজাত মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবুল করেন? জবাবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, শেষ রাতের দোয়া বা মুনাজাত এবং ফরয নামাযের পরের দোয়া বা মুনাজাত। (তিরমিযী শরীফ)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন