শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬

১৯শে শাওওয়াল শরীফ ওলীআল্লাহগণ উনাদের স্মরণে থাকার পথ যেদিন উন্মোচিত হয়েছে

১৯শে শাওওয়াল শরীফ ওলীআল্লাহগণ উনাদের স্মরণে থাকার পথ যেদিন উন্মোচিত হয়েছে


হযরত যায়িদ ইবনে হারিছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জীবনী মুবারক আমরা অনেকেই জানি। ছোটবেলা ইয়েমেন থেকে উনার মার সঙ্গে মামার বাড়ি যাবার পথে একটি ডাকাত দল আক্রমণের শিকার হন এবং উনাকে ওকাজ মেলায় বিক্রি করে দেয়া হয়। তখন হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার ভাইয়ের ছেলে উনাকে কিনে নেন এবং পরে উনার ফুফুর (অর্থাৎ হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার) মুবারক খিদমতে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত যায়িদ ইবনে হারিছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবরকে পেশ করলে তিনি আযাদ করে দেন এবং পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। অনেক বছর পর হজ্জযাত্রীদের মাধ্যমে উনার বাবা-চাচারা খবর পেয়ে উনাকে নিতে আসেন। পবিত্র কা’বা শরীফ উনার মাঝে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পাশে হযরত যায়িদ ইবনে হারিছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে দেখতে পেয়ে উনার বাবা-চাচা বিনিময়ের মাধ্যমে উনাকে নিয়ে যেতে চাইলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন- কোনো বিনিময় প্রয়োজন নেই, বরং তিনি স্বেচ্ছায় যেতে চাইলে কোনো সমস্যা নেই। তখন হযরত যায়িদ ইবনে হারিছা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছিলেন- আমি যাবো না। এবং তিনি এক কথার জবাবে বলেছিলেন- “আমি উনার মাঝে এমন কিছু পেয়েছি; যা কারো মাঝে নেই। এবং তিনি ছাড়া দ্বিতীয় কাউকে আমি পছন্দ করতে পারি না”। যুগে যুগে সেই একই ঘটনার (একই সুন্নতের পুনারবৃত্তি ঘটছে) ওলীআল্লাহগণ উনাদের জীবনে। অনেকেই আছেন যারা বাবা-মা ছেড়ে এখানেই হযরত শায়েখ ক্বিবলা উনার মুহব্বতে থাকছেন। কেউ কেউ বাড়ি যাবার কথা কালেভদ্রে মনে করেন। যারা পবিত্র রাজারবাগ দরবার শরীফে প্রথমে এসেছিলেন উনারা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ছোহবত শরীফে থাকতেন। উনার স্মরণে থাকতেন, মুহব্বতে থাকতেন এবং আছেন। হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম- যিনি কায়িনাতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, যিনি সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম। তিনি কোনো মুরীদকে চেনেন বা কখনো তাকে খোঁজেন অথবা কেবল উনার মুরীদ হিসেবে নাম লিখিয়েছেন- এটা একজন মুরীদের জন্য চরম পাওয়া। এই যে আমারা বলি- আমার জন্য দোয়া করবেন। কিন্তু উর্দু ভাষা ভাষীরা বলে- ‘দোয়া মে ইয়াদ রাখনা’। অর্থাৎ যেন দোয়া করা হয় বা দোয়ার মধ্যে স্মরণ রাখা হয়। তাহলে প্রথমে মুরীদগণের সুযোগ ছিল শুধু হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র স্মরণে থাকার। আর এখন এই ১৯শে শাওওয়াল শরীফ উনার পর মুরীদগণের সুযোগ হয়েছে হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার এবং উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের দু’জনের স্মরণে থাকার। সুবহানাল্লাহ! বরং বলা যায়- এই দিনের সূচনার জন্য আজকে আমাদের সুযোগ হয়েছে হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সবার স্মরণে থাকার। তাহলে মুরীদগণের জন্য এই দিন কত খুশির দিন, তা বলার অপেক্ষাই রাখে না। আরো একটি ঘটনা আপনাদের শোনাবো। আপনারা বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার ঘটনা শুনেছেন। সকল হযরত ছাহাবা আযমাইন রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মধ্যে যারা সবার শেষে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার দীদার মুবারকে মিলিত হন, তিনি উনাদের মধ্যে একজন। উনার সম্মানিত আম্মাজান ছিলেন আনসার মহিলাগণ উনাদের মধ্যে প্রথম ইসলাম কবুলকারিণী। উনার নাম মুবারক হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। তিনি যখন ইসলাম কবুল করেন, তখন হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার বাবা মালিক বিন নযর পবিত্র মদীনা শরীফ শহরের বাইরে ছিলো। সে যখন জানলো তার স্ত্রী ইসলাম কবুল করেছেন, তখন সে খুব বিরক্ত হলো। বরং সে যখন ঘরে ফিরলো, তখন তার সামনেই ছোট্ট শিশু হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পবিত্র কলেমা শরীফ শুনালেন; তিনিও বিড়বিড় করে তাই পাঠ করলেন। কিন্তু মালিক বিন নযর সে পবিত্র কালেমা শরীফ পাঠ না করে মনের দুঃখে সিরিয়া যাবার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো এবং পথে ডাকাত দলের হাতে মারা যায়। তখন একজন ছাহাবী হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (তিনি তখনো ইসলাম কবুল করেননি) তিনি হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মাকে শাদী করতে চাইলেন। জবাবে হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বললেন- আমি স্বেচ্ছায় হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার দুধ ছাড়াবো না। যেদিন দুধ খাওয়া ছাড়বেন, বড় হবেন, তখন যদি আমার সন্তান শাদী করতে বলেন তখন শাদী করবো। হযরত আনাস বিন মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যখন বড় হলেন মজলিসে আসা যাওয়া করেন, তখন হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আবার এসে বললেন আপনার সন্তান বড় হয়েছে, এখন তো আপনি আমাকে শাদী করতে পারেন। হযরত উম্মে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বললেন- আমি আমার কথা ভুলে যাইনি। কিন্তু আমি মু’মিনা আর আপনি মুশরিক কি করে শাদী করবো? আপনাকে ইসলাম কবুল করতে হবে। তখন হযরত আবু তালহা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র দরবার শরীফ গিয়ে পবিত্র দ্বীন ইসলাম কবুল করলেন। পবিত্র দ্বীন ইসলাম কবুলই ছিল মোহরানা। সুবহানাল্লাহ! তাহলে এ রকম সুন্নত কি বেঁচে থাকবে না? এই সময় অনেক পুরুষ রয়েছেন, যাদের স্ত্রী প্রথমে পবিত্র রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার মাঝে এসেছেন, উনারা বায়াত হয়েছেন, হক্ব বুঝেছেন পরে সন্তান-স্বামী হক্ব পেয়েছেন। তাহলে কোনো মহিলা প্রথমে আসতে হলে কার কাছে আসবেন? এই ১৯শে শাওওয়াল শরীফ উনার কারণে সেই পথ উন্মোচিত হয়েছে। মহিলাগণ উনারা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার কাছে আসার পথ পেয়ে হক্ব জানতে পারছেন। আর সেই আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন কায়িনাতের বুকে। তাহলে মহিলা-পুরুষ সবার কাছেই এই ১৯শে শাওওয়াল শরীফ উনার গভীর তাৎপর্য রয়েছে।





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন