উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বাল্যবস্থায় আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হওয়ার ব্যাপারে যারা চু-চেরা করেছে তারা চরম মিথ্যাবাদী, মুনাফিক ও আশাদ্দুদ্ দরজার জাহিলও বটে।
| সম্প্রতি কিছু মুনাফিক শ্রেণীর লোক তারা ইন্টারনেটে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বয়স মুবারক নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা একথা ছড়াচ্ছে যে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ্ মুবারক সম্পন্ন হওয়ার সময় উনার বয়স মুবারক ৬ বৎসর ছিলো না; বরং তখন উনার বয়স মুবারক ১৯ বৎসর ছিলো।” নাউযুবিল্লাহ! যারা বলছে বা প্রচার করছে যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারক উনার সময় উনার বয়স মুবরক ১৯ বৎসর ছিলো, তারা চরম জাহিল, মিথ্যাবাদী, প্রতারক ও মুনাফিক। এসব মুনাফিকদের প্রচারণা থেকে মুসলমানদের সতর্ক থাকতে হবে। অন্যথায় তাদের অনুসারী হয়ে তাদের মতোই চিরজাহান্নামী হতে হবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তিন শ্রেণীর লোক পবিত্র দ্বীন ইসলাম ক্ষতিকারী। ১. উলামায়ে ‘সূ’ ২. কিতাবের বর্ণনা নিয়ে বিতর্ককারী মুনাফিক ৩. পথভ্রষ্ট শাসক। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ মুবারকের বয়স সম্পর্কে যারা মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে তারা পবিত্র দ্বীন ইসলাম ধ্বংসকারী মুনাফিকের অন্তর্ভুক্ত। মুনাফিকদের কাজই হচ্ছে- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার সম্মানিত হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের নামে মিথ্যা প্রপাগান্ডা করা, সমালোচনা ও বিরোধিতা করা। নাউযুবিল্লাহ! এর নিকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে- মুনাফিক সর্দার উবাই বিন সুলূল। সে এবং তার অনুসারী মুনাফিকরাই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার সম্পর্কে মহাঅপবাদ রটনা করেছিলো। স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার নির্দোষিতা ঘোষণা করে পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিল করেন। অতএব, বর্তমানেও যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলইহাস সালাম উনার আক্বদ্ বা নিসবাতুল আযীম মুবারকের বয়স মুবারক নিয়ে মিথ্যা প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে তারা মূলত ঐ মুনাফিক সর্দার উবাই বিন সুলূলেরই উত্তরসূরি। এরা যে উবাই বিন সুলূলের উত্তরসূরি তা তাদের লেখাতেই পরিস্কারভাবে ফুটে উঠেছে। কেননা, সাধারণ মানুষেরা যেভাবে একজন আরেকজনকে সম্বোধন করে থাকে তারা সেভাবেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার নাম মুবারক উল্লেখ করেছে। নাউযুবিল্লাহ! এরপর তারা উল্লেখ করেছে, “পবিত্র সূরা নিসা শরীফ উনার ৬ ও ২১ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ, পবিত্র সূরা ফুরক্বান শরীফ উনার ২১ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ এবং পবিত্র রূম শরীফ উনার ৭৪ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মধ্যে শিশু বা বাল্যবিবাহকে নিষেধ করা হয়েছে।” নাউযুবিল্লাহ! অথচ এসব পবিত্র আয়াত শরীফসমূহের মধ্যে ‘বাল্যবিবাহ’ সম্পর্কে মোটেও উল্লেখ নেই। এটা তাদের চরম মিথ্যাচার ও জালিয়াতি। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যে বিবাহ করা বা বিবাহ দেয়ার জন্য কোনো বয়স নির্দিষ্ট করা হয়নি। বরং ছেলে ও মেয়ের যেকোনো বয়সের তারতম্যে বিবাহ করা বা বিবাহ দেয়া জায়িয তথা সম্মানিত ইসলামী শরীয়তসম্মত। এরপর তারা বলেছে যে, “পবিত্র আয়াত শরীফসমূহের ব্যাখ্যায় তারা যায়নি।” এ বক্তব্যও তাদের প্রতারণা ও উদ্ভটপূর্ণ। কেননা, যখন পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যেই বাল্যবিবাহ সম্পর্কে কোনোকিছুই বর্ণিত নেই, সেখানে পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যার মধ্যে কোনোকিছু না পেয়ে অগত্যা বলতে বাধ্য হয়ে বলেছে যে, বিস্তারিত ব্যাখ্যায় তারা যায়নি। এরপর এই মুনাফিকরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে আরো বলতে চেয়েছে যে, “ছহীহ বুখারী শরীফ উনার কিতাবুত তাফসীরে একটি হাদীছ শরীফ পাওয়া যায়। সেখানে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি নিজেকে ‘পবিত্র সূরা ক্বমার শরীফ’ উনার ৫৪ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ নাযিলের সময় জারিয়াহ বা কিশোরী মেয়ে হিসেবে দাবি করেছেন।” এ বক্তব্যও তাদের ধোঁকাপূর্ণ ও মিথ্যা। কেননা জারিয়াহ শব্দের অর্থ কিশোরী নয়, বরং তার অর্থ হচ্ছে বালিকা বা মেয়ে। মোটকথা, এই মুনাফিকরা খোঁড়া যুক্তি ও তথ্য উপস্থাপন করে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ্ মুবারকের সময়কে ন্যূনতম ১৬ বৎসর আর ঊর্ধ্বতম ১৯ বছর বয়স বলে মিথ্যা অপপ্রচার চালানোর ব্যর্থ চেষ্টা করেছে, যা অসংখ্যা পবিত্র হাদীছ শরীফ ও সীরাতগ্রন্থসমূহের বিশুদ্ধ বর্ণনার খিলাফ বা বিরোধী। এই মুনাফিকদের মনে রাখা উচিত যে, ইতিহাসের বিশ্লেষণে পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনাকে বিসর্জন দেয়া চলবে না। সকল ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ হবে সমাধানের মানদ-, ইতিহাস নয়। অতএব, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হয়েছে উনার বাল্যকালে অর্থাৎ বিশুদ্ধ বর্ণনানুযায়ী তখন উনার বয়স মুবারক ছিলো ৬ বৎসর আর উনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে যখন তাশরীফ মুবারক আনেন তখন উনার বয়স মুবারক ছিলো ৯ বৎসর এবং তিনি ছিলেন বাকেরা। আর উক্ত ‘বাকেরা’ শব্দ মুবারক থেকেই উনার সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার কুনিয়ানত মুবারক হয় ‘আবু বকর’ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! স্মরণীয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকলের জন্য সর্বক্ষেত্রে সর্বোত্তম আদর্শ। অপ্রাপ্ত বয়সে, প্রাপ্ত বয়সে বিধবাকালে সকল সময়ে বিবাহ করা বা দেয়া উনার সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত। কাজেই কোনো সুন্নত মুবারক উনার বিরোধিতা করার অর্থই হচ্ছে উনার বিরোধিতা করা। পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, “সুন্নত মুবারক উনার বিরোধিতাকারীরা কাফির, পথভ্রষ্ট ও জাহান্নামী।” অতএব, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বদ্ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক উনার বয়স মুবারক নিয়ে যারা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিশুদ্ধ বর্ণনার বিপরীত প্রচারণা চালাচ্ছে তারা প্রকাশ্য মুনাফিক এবং তারা মুনাফিক সর্দার উবাই বিন সুলূলের উত্তরসূরি। আরো উল্লেখ্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাস উনার বাল্যকালে আক্বদ্ বা নিসবাতুল আযীম মুবারকের এই সুন্নত মুবারকের বিরোধী শুধু তথাকথিত মুনাফিকরাই নয়, বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরোধিতা করার জন্যই কাফিরেরা বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন পর্যন্ত প্রণয়ন করেছে। নাউযুবিল্লাহ! |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন