মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০১৬

উম্মুল মুমিনীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম

উম্মুল মুমিনীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামিন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম

পবিত্র নিসবতুল আযীম মুবারক উনার ধারাবাহিকতায় সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি তৃতীয় উম্মুল মু’মিনীন। সর্বাধিক বিশুদ্ধ, মশহুর, গ্রহণযোগ্য ও প্রণিধানপ্রাপ্ত মতে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম আনুষ্ঠানিক নবুওওয়াত প্রকাশের ৪র্থ বর্ষের পবিত্র শাওওয়াল মাস মুতাবিক ৬১৪ ঈসায়ী সনের জুলাই মাসে অর্থাৎ হিজরত মুবারক উনার প্রায় ৯ বৎসর পূর্বে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। (সিয়ারুস সাহাবিয়াত আল ইসাবা) বলার অপেক্ষা রাখে না যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পিতা আফযালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম। মাতা হযরত উম্মু রুমান বিনতে উমায়র রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ নসব মুবারক কুরাইশ বংশে তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বনী তাইম গোত্রের। পিতৃ উনার দিক দিয়ে ঊর্ধ্বতন ৮ম পুরুষ এবং মাতৃধারা উনার দিক দিয়ে ঊর্ধ্বতন ৯ম পুরুষ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নসব মুবারক উনার সাথে মিলিত হয়েছেন। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মূল নাম মুবারক হযরত ‘আয়িশা’ আলাইহাস সালাম। তাছাড়া উনার ছুরত মুবারক উনার প্রতি লক্ষ্য রেখে ‘হুমায়রা’ আলাইহাস সালাম হিসেবেও উনাকে স্মরণ করা হয়। যা বিভিন্ন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে লক্ষণীয়। এছাড়া পিতৃ সম্পর্ক ব্যতীতই তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম লক্বব মুবারকে ভুবনজুড়ে বিখ্যাত ও মশহুর। আরবী রীতি অনুযায়ী কুনিয়াত হলো আভিজাত্য ও মর্যাদার প্রতীক। সন্তানের নামের পূর্বে উম্মু বা আবু শব্দযুক্ত করে প্রিয় সন্তানের প্রতি নিসবত করে কুনিয়াত করা হতো। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নিদের্শনা অনুযায়ী হযরত আসমা বিনতে আবী বকর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনার আওলাদ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নাম মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার কুনিয়াত মুবারক হলো হযরত উম্মু আব্দিল্লাহ আলাইহাস সালাম। পবিত্র ইসলাম গ্রহণের তালিকায় পুরুষদের মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার নাম মুবারক সর্বশীর্ষে। তাই সঙ্গতকারণেই আইয়ামে জাহিলিয়াত হতে সম্পূর্ণ পূত-পবিত্র হয়েই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। যা স্বয়ং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেন যে, যখন থেকে আমি আমার হযরত ওয়ালিদাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদেরকে চিনতে পেরেছি, তখন থেকে উনাদেরকে মুসলমান এবং মু’মিনে কামিল হিসেবে পেয়েছি। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ) ‘তিরমিযী’ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি একদা একখানা সবুজ রেশমের একটি টুকরো মুবারক উনার মধ্যে আমার আকৃতি মুবারক জড়িয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে উপস্থাপন করে বলেন- ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ইনি উভয় জগতেই আপনার জাওযুম মুতাহহারাহ তথা উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম হবেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার ব্যাপারে প্রস্তাব মুবারক পেশ করেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আনুষ্ঠানিক নবুওওয়াত প্রকাশের দশম বৎসরের পবিত্র শাওওয়াল মাসের ২১ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার ছয় বৎসর বয়স মুবারকে উনার সাথে আক্বদ মুবারক সম্পন্ন করেন। অতপর, হিজরত মুবারকের প্রায় ছয় মাস পর মুবারক ইচ্ছা অনুযায়ী আনসারী মহিলা ছাহাবীগণ সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার হুজরা শরীফে একত্রিত হয়ে আযীমুশ শান বরকতময় ওয়ালিমা মুবারকের আয়োজন করেন। আর সেই মুবারক আয়োজনেই প্রথম হিজরী সনের পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম নয় (৯) বছর বয়স মুবারকে হাবীবী-নববী হুজরা শরীফে তাশরীফ মুবারক রাখেন। আর সেই তারিখ মুবারকেই উনার আযীমুশ শান উরুস মুবারক সুসম্পন্ন হয়। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সাল্লাম উনার হুজরা শরীফ মসজিদে নববী শরীফ উনার সর্বাধিক নিকটবর্তী ছিল। পবিত্র মদীনা শরীফ হতে পবিত্র মক্কা শরীফ দক্ষিণ দিকে। ক্বিবলা উনার বাম দিকে ছিল উনার হুজরা শরীফ। আর উনার হুজরা শরীফ হতে মসজিদে যাওয়ার সরাসরি দরজা মুবারক ছিল। অন্যান্য হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের ন্যায় সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মোহর মুবারক পাঁচশত দিরহাম বা একশত সোয়া একত্রিশ তোলা রৌপ্য নির্ধারণ করা হয়। যা স্বয়ং সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি পরিশোধ করেন। উল্লেখ্য যে, পাঁচশত দিরহাম মোহরের বিষয়টি মোহরে যাহরায়ী শরীফ নামে সমধিক মশহুর। যা একজন ব্যতীত সকল হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে হাদিয়া করা হয়। বানাতু রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সকলের জন্যও তা নির্দিষ্ট করা হয়। যা বর্তমান যুগে হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি জারি রেখেছেন। উনার মুবারক পৃষ্ঠপোষকতায় সম্পাদিত প্রতিটি বিবাহে তিনি মোহরে যাহরায়ী শরীফ নির্ধারণ করে থাকেন। বনী মুস্তালিক যুদ্ধের সফরকে কেন্দ্র করে মুনাফিকরা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারকে অপবাদ লেপনের অপচেষ্টা চালায়। যা ইতিহাসে ‘ইফকের ঘটনা’ নামে মশহুর। আর এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা নূর শরীফ উনার ১১ হতে ২০ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ মুবারকে উনার পবিত্রতা মুবারকের ঘোষণা করেন। ইফকের ঘটনা ছাড়াও এমন কিছু ঘটনার সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি সম্পৃক্ত। যা ক্বিয়ামত পর্যন্ত মানবজাতির জন্য ইবরত-নছীহত এবং রহমত-বরকত লাভের কারণ। তন্মধ্যে ইলার ঘটনা, তাহরীমের ঘটনা ও তাখইয়িবের ঘটনা অন্যতম। তাছাড়া তায়াম্মুমের হুকুম উনাকে কেন্দ্র করেই নাযিল হয়েছে, যার সুবিধা ক্বিয়ামত পর্যন্ত মানুষ ভোগ করতে থাকবে। এগুলো ছাড়াও পবিত্র শবে বরাত বা লাইলাতু নিছফি মিন শা’বানের বিষয়টিও উনার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি স্বয়ং ইরশাদ মুবারক করেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে যে সমস্ত নিয়ামত মুবারক হাদিয়া করেছেন, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণ করেছেন আমার পবিত্র হুজরা শরীফ-এ। আমার পালার দিনে এবং আমার কোল মুবারকে। নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণের পূর্ব মুহূর্তে মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং আমার নূরুল বারাকাহ মুবারক একত্রিত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ) একদা উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি স্বপ্নে দেখেন যে, উনার পবিত্র হুজরা শরীফ-এ এক এক করে তিনখানা সম্মানিত চাঁদ মুবারক প্রবেশ করেছেন। এ স্বপ্নের ব্যাপারে তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনাকে জানান। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র রওযা শরীফ উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার হুজরা শরীফে হওয়ার পর হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে, ওই তিনখানা সম্মানিত চাঁদ মুবারক উনাদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং সর্বশ্রেষ্ঠ চাঁদ মুবারক হলেন ইনি। পরবর্তীতে প্রমাণিত হয়েছে যে, বাকী দু’খানা চাঁদ মুবারক হলেন সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম। (ইবনে কাছীর) উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার বিছানা মুবারকে ওহী মুবারক নাযিল হতো। সঙ্গতকারণেই তিনি তাফসীর বিষয়ে বেমেছাল অবদান রেখেছেন। যেমন হজ্জ ও উমরার সময়ে সাফা-মারওয়া সায়ী করার ব্যাপারটি উনার তাফসীর মুবারক দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। অপরদিকে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পুরো জিন্দেগী মুবারকই পবিত্র কুরআন ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার অন্তর্ভুক্ত। তথাপি মুহাদ্দিসগণ উনার থেকে ২২১০খানা পবিত্র হাদীছ শরীফ সঙ্কলনের অবকাশ পেয়েছেন। উল্লেখ্য যে, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ফিক্বাহ, ফতওয়া, পত্রসাহিত্য, কাব্য সাহিত্য, আরবী সাহিত্য, চিকিৎসা, ইতিহাস, নসবনামা, কালাম শাস্ত্রসহ বিবাদমান যাবতীয় সমস্যার সমাধানে বেমেছাল নজির স্থাপন করেছেন। যা অন্য কারো সাওয়ানেহ উমরী মুবারকে দেখা যায় না। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বাতাসের চেয়েও দ্রুতগতি সম্পন্ন দানশীলা ছিলেন। হযরত উরওয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন যে, একদা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি সত্তর হাজার দিরহাম এক সাথে দান করে চাদরের কোণা ঝেড়ে ফেলেন। সুবহানাল্লাহ! (আত তাবাকাত) একদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে এক লক্ষ দিরহাম হাদিয়া করলে রোযা অবস্থায় তিনি সব কিছুই দান করে দেন। অতঃপর ইফতারীর সময় দেখা গেলো ইফতারীর জন্য কিছুই রাখা হয়নি। সুবহানাল্লাহ! (তাযকিরাতুল হুফফায) উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ৫৮ হিজরী সনের মহাসম্মানিত ১৭ রমাদ্বান শরীফ লাইলাতু আহাদ ৬৭ বছর বয়স মুবারকে হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার খিলাফতকালে পবিত্র বিছালী শান মুবারক গ্রহণ করেন। হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার জানাযা নামায পড়ান। রাতেই উনার দাফন মুবারক সম্পন্ন করা হয়। উনার রওযা শরীফ সম্মানিত জান্নাতুল বাক্বী উনার মধ্যে। মূলত, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আলোচনা মুবারক শুরু হবে কিন্তু শেষ করার সীমানা কারোরই জানা নেই। তথাপি উনার শান মুবারকে হুসনে যন বিশুদ্ধ করতে, উনার সম্পর্কে জানতে, উনার সাওয়ানেহ উমরী মুবারক হতে ইবরত-নসীহত হাসিল করতে, সর্বপোরি উনার মুবারক ফায়িয-তাওয়াজ্জুহ এবং নেক দৃষ্টি ও নিসবত মুবারক হাসিলে বর্তমান সময়ে মহিলাদের জন্য উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার কোনো বিকল্প নেই। কেননা, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার পরিপূর্ণ ক্বায়িম-মাক্বাম হলেন সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম। যা বিভিন্নজন স্বপ্ন, কাশফ এবং রিয়াজত-মাশাক্কাতের মাধ্যমে সরাসরি দেখতে সক্ষম হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! তাই সকল পুরুষের দায়িত্ব হলো তার অধীনস্থ মহিলাদেরকে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারকে প্রেরণ করা। আর মহিলাদের দায়িত্ব হলো সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারক ও তা’লীম-তালকীন মুবারক গ্রহণ করত তা আমলে বাস্তবায়নের কোশেশ করা। মহান আল্লাহ পাক তিনি মুসলিম উম্মাকে এ ব্যাপারে তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন