বৃহস্পতিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৬

প্রয়োজনীয় কতিপয় সুন্নত মুবারক

প্রয়োজনীয় কতিপয় সুন্নত মুবারক


সমস্ত প্রশংসা যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সমস্ত সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত ছলাত ও সালাম। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।” (পবিত্র সূরা আহ্যাব শরীফ/২১) উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার স্বয়ং আল্লাহ পাক তিনি উনার প্রিয়তম হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদর্শকেই উত্তম বলে ঘোষণা করেছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ তথা সুন্নত পালন করতে স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অসংখ্য পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে নির্দেশ মুবারক করেছেন। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “(হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি বলে দিন, তোমরা অনুসরণ কর মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের। অতঃপর তারা যদি ফিরে যায়, তবে (শুনে রাখুক) আল্লাহ তায়ালা কাফিরদেরকে ভালবাসেন না।”(পবিত্র সূরা আল ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ-৩২) মূলত, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আমল (পবিত্র সুন্নত) ব্যতীত বান্দার কোনো আমলই মহান আল্লাহ পাক তিনি পছন্দ করবেন না। আর মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্যতা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনারই আনুগত্যতা। যেমন এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করলো সে মূলতঃ মহান আল্লাহ পাক উনারই আনুগত্যতা করলো।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮০) আলোচ্য প্রবন্ধে প্রয়োজনীয় কতিপয় সুন্নত মুবারক উনাদের বর্ণনা তুলে ধরা হইলো যা পালনের মাধ্যমে মানুষ কাফির-মুশরিক, মুজুসী, ইহুদী, খ্রিস্টান, ওহাবী, শিয়া, কাদিয়ানী ইত্যাদি বাতিল ফিরকাদের কুফরী, শিরকী মত, পথ থেকে বিরত থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দী ও সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে পারে। পোশাক-পরিচ্ছদ: ১. অধিকাংশ সময় সাদা কাপড়ের পোশাক ব্যবহার করা। শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য। ২. জামা কাপড়, সেলোয়ার ইত্যাদি (ডান দিক থেকে) পরা খোলার সময় (বাম দিক থেকে) খোলা। ৩. লুঙ্গি সেলোয়ার টাখনুর উপরিভাগে রাখা। শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য। ৪. নতুন কাপড় ইছনাইলিন আযীম শরীফ বা সোমবার ও জুমুয়াহ দিন পরিধান করা। ৫. পোশাক পরিধানকালে ও খোলার সময় বিসমিল্লাহ বলা। ৬. সুতি ও সাদা রংয়ের কাপড়কে অধিক গুরুত্ব দেয়া। সাদা রংয়ের কাপড় মহান আল্লাহ পাক উনারও উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে অত্যান্ত প্রিয়। এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পোশাকের মধ্যে উত্তম হচ্ছে সাদা রংয়ের পোশাক তা পরিধান করুন। আর মৃত্যুর সময় সেই পোশাক দ্বারা কাফন তৈরি করুন।” (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ শরীফ) ৭. টুপি, পাগড়ী ও রুমাল পরা। ৮. পাগড়ী দাঁড়িয়ে পরিধান করা। ৯. কামিছ বা কোর্তা গোল নিছফুছছাক হওয়া। সেন্ডেলঃ ১. ক্রস দু’ফিতা বিশিষ্ট চামড়ার সেন্ডেল ব্যবহার করা। ২. চামড়ার মোজা ব্যবহার করা। ৩. সেন্ডেল ব্যবহারের পূর্বে ভালোভাবে পরিষ্কার করা। ৪. পরিষ্কারের সময় বাম হাতের তর্জনী ব্যবহার করা। ৫. পরার সময় ডান পা আগে পরা। ৬. খোলার সময় বাম পা আগে খোলা। নখ-পরিষ্কার: ১. নখ পরিষ্কার করা। ২. ইছনাইনিল আযীম শরীফ, খামীস ও জুমুয়াবার নখ কাটা। ৩. কর্তিত নখ মাটিতে পুঁতে ফেলা। ৪. নখ কাটার সময়- ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলী থেকে শুরু করে কনিষ্ঠাঙ্গুলী পর্যন্ত। এর পর বাম হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলী থেকে শুরু করে বৃদ্ধাঙ্গুলী পর্যন্ত শেষ করে ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলীর নখ কাটা। ৫. পায়ের নখ ডান কনিষ্ঠাঙ্গুলী থেকে শুরু করে ধারাবাহিকতাভাবে বাম পায়ের কনিষ্ঠাঙ্গুলীতে শেষ করা। ৬. মহিলাদের নখে, হাতে ও পায়ে মেহেদি ব্যবহার করা। চুল: ১. মাথার চুল লতি পর্যন্ত অথবা কাঁধ পর্যন্ত অথবা লতি ও কাঁধের মাঝ অথবা কানের মধ্যখান পর্যন্ত রাখা। শুধুমাত্র পুরুষদের জন্য। ২. হজ্জের সময় মাথা মুন্ডন করা। (হজ্জ ব্যতীত মাথা মুন্ডানো সুন্নত নয়)। ৩. মাথায় তেল দেয়া, চিরুনী দিয়ে আচড়ানো, সিঁথি করা। ৪. দাড়ি এক মুষ্ঠি রাখা। (এক মুষ্ঠির কম রাখা হারাম) ৫. মোচ ছোট রাখা। (মুন্ডানো মাকরূহ) ৬. মোচ ও দাড়ি চিরুনী দিয়ে আঁচড়ানো, তেল দেয়া। ৭. ৪০ দিনের মধ্যে ইছনাইনিল আযীম শরীফ, খামীস বা জুমুয়াবার অতিরিক্ত কেশ পরিষ্কার করা। ৮. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা। ঘুমানো: ১. ঘুমানোর পূর্বে মিসওয়াক করা। ২. ওযু করে তৎপর মাথার চুল ও দাড়ি চিরুনী দ্বারা আচড়ানো। ৩. ইশার নামায আদায় করে পবিত্র দুরূদ শরীফ ও নিয়মিত ওযীফা শরীফ পাঠ করা। ৪. চোখে সুরমা লাগানো। ৫. ঘুমানোর পূর্বে বিছানার সব কিছু ঝেড়ে পরিষ্কার করা। (সাধারনভাবে তিনবার) ৬. শিয়রে-আয়না, চিরুনী, কাঁচি, সুরমাদানী, মিসওয়াক, তেলের শিশি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় বস্তু রাখা। ৭. শোয়ার সময় চৌকি, খেজুর পাতার চাটাই, চাদর, চামড়া ইত্যাদি ব্যবহার করা। ৮. খেজুরের ছালভর্তি চামড়ার বালিশ ব্যবহার করা। চাঁদর দিয়ে শরীর ঢেকে রাখা। ৯. রাতের শেষার্ধ্বে তাহাজ্জুদ নামায পড়া। ১০. দুপুরের খাবার পর কায়লুলা তথা কিছুক্ষণ বিছানায় আরাম করা। মসজিদের সুন্নত: ১. ডান পা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করা। ২. প্রবেশকালে দোয়া পড়া। ৩. অশ্লীল কিংবা অপ্রয়োজনীয় কথা না বলা। ৪. অবস্থানকালীন সময় যিকির-আযকার, পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত ও ইবাদত-বন্দেগীতে কাটানো। (নামাযের ক্ষতি হবে এমন উচ্চ স্বরে যিকির ও তিলাওয়াত না করা।) ৫. উচ্চ আওয়াজে কাউকে না ডাকা। ৬. আঙ্গুল না ফুটানো। ৭. বাইরে হারানো জিনিসের ঘোষণা বা সন্ধান না করা। ৮. মসজিদের পবিত্রতার দিকে খেয়াল রাখা। ৯. বের হওয়ার সময় বাম পা দিয়ে বের হওয়া। ১০. বের হওয়ার সময় দোয়া পড়া।





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন