শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬

সুমহান ২১শে শাওওয়াল শরীফ প্রমাণ করে- বাল্যবিবাহ খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত

সুমহান ২১শে শাওওয়াল শরীফ প্রমাণ করে- বাল্যবিবাহ খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত


আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে ৬ বৎসর বয়স মুবারকে আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক করেন এবং ৯ বৎসর বয়স মুবারকে হুজরা শরীফে তুলে নেন। উনার আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারকে ৫০০ দিরহাম দেন মোহর ধার্য করা হয়। উনার সেই পবিত্র নিকাহ মুবারক সম্পন্ন হয়েছিল পবিত্র শাওওয়াল শরীফ মাসের ২১ তারিখ। তাই এই মুবারক দিনটি কুল-কায়িনাতের জন্য বিশেষ রহমত, বরকত, সাকীনা ও নাজাতের কারণ। পাশাপাশি ঈদ বা খুশি প্রকাশের দিন। এ মুবারক দিন উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে মাহফিলের আয়োজন করে উনার বরকতময় সাওয়ানেহ উমরী মুবারক আলোচনা করে ইবরত নছীহত হাছিল করা। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার মাধমেই বাল্যবিবাহকে সুন্নত হিসেবে সাব্যস্ত করেন। কারণ উনার আক্বদ বা নিসবাতুল আযীম মুবারক সম্পন্ন হয়েছে ৬ বৎসর বয়স মুবারকে। মূলত, পবিত্র ২১শে শাওওয়াল শরীফ উনাকে “বাল্যবিবাহ দিবস” হিসেবেও আখ্যায়িত করা যায়। তাই সম্মানিত পবিত্র দ্বীন ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া মুতাবিক বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলা, বাল্যবিবাহকে কটাক্ষ করা এবং বাল্যবিবাহ রোধে আইন করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। কুচক্রী যালিম ব্রিটিশ সরকার উদ্দেশ্যমূলকভাবেই মেয়েদের বিয়ে বসা বা বিয়ে দেয়ার জন্য কমপক্ষে ১৮ বছর বয়স হওয়ার আইন বা শর্ত করে দেয় এবং ১৮ বছর বয়সের নিচে কোনো মেয়েকে বিয়ে দেয়া, বিয়ে করা বা কোনো মেয়ের জন্য বিয়ে বসা দ-নীয় অপরাধ বলে সাব্যস্ত করে। (নাঊযুবিল্লাহ) যা সম্পূর্ণরূপে মহাপবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের খিলাফ। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে স্মরণীয় যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং নিজেই উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাকে ৬ বছর বয়স মুবারকে আক্বদ বা নিসবতে আযীম মুবারক করেছিলেন ও ৯ বছর বয়স মুবারকে ঘরে তুলে নিয়েছিলেন। তাহলে কি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি এবং উনার পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনারা তাদের ব্রিটিশ নিয়ম-নীতি অনুযায়ী দ-নীয় হবেন? নাঊযুবিল্লাহ্ মিন যালিক! যা কেউ কল্পনা করলেও কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। ব্রিটিশরা স্বয়ং খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ও উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা ুহযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনাদেরকে দোষী সাব্যস্ত করা এবং উনাদেরকে দ-নীয় অপরাধে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করার জন্যই ইসলামী আইন বাতিল করে এই আইন সম্মানিত ইসলাম উনার নামে চাপিয়ে দিয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! যা মানা ও বিশ্বাস করা কাট্টা কুফরী। ব্রিটিশদের এই আইন যদি কোনো মুসলমান মেনে নেয় তাহলে কস্মিনকালেও সে ঈমানদার থাকতে পারে না। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “কোনো মু’মিন নর-নারীর জন্য জায়িয হবে না খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যে ফায়ছালা করেছেন, সেই ফায়ছালার মধ্যে স্বীয় মত পেশ করা। (যে ব্যক্তি স্বীয় মত পেশ করলো, সে নাফরমানী করল) আর যে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাফরমানী করে, সে প্রকাশ্য গুমরাহীতে গুমরাহ হয়ে যাবে।” (পবিত্র সূরা আহ্যাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ : ৩৬) খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক আমল কিংবা ফয়সালাকৃত বিষয় সম্পর্কে বিন্দু থেকে বিন্দুতম যে চু-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করবে সে মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে কাট্টা কাফির ও মুরতাদে পরিণত হবে এবং পরিণামে সে চির জাহান্নামী হয়ে যাবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন