(১)
আজ
২৯ শে মাহে শাবান শরীফ। এই দিনে
নূরে মদীনা, গুলো মুবীনা,হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের মুবারক বিলাদত
(জন্ম দিবস) শরীফ। উক্ত মুবারক বিলাদত
দিবসের সম্মানার্থে নূরে মদীনা, গুলো মুবীনা, আওলাদে রসূল,হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের মুবারক শানে
সামান্যতম উপস্থাপনার প্রয়াস।
মহান
আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ-এ ইরশাদ করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে ইচ্ছা উনার রহমতে খাছ
দ্বারা পরিবেষ্টন করে নেন।’ অর্থাৎ মুরাদ বা বা মাহবুব তথা একান্ত আপন করে
নেন। উক্ত আয়াত শরীফ-এর হাক্বীক্বী মিছদাক হচ্ছেন নূরে মদীনা, গুলো মুবীনা, হাবীবাতুল্লাহ, রাইহানাতু মুর্শিদিনা, আওলাদে রসূল, ত্বাহিরা, তইয়িবা হযরত শাহ নাওয়াসী
ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহান
আল্লাহ পাক তিনি কুরআন শরীফ-এ আর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন
নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাদীছ শরীফ-এ উনাদের
ফাযায়িল, ফযীলত, বুযুর্গী,
সম্মান বর্ণনা করেছেন। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আাইহি ওয়া সাল্লাম
উনার যাঁরা আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইজ্জত, সম্মান,
বুযুর্গী এত বেশি রয়েছে যেটা সাধারণভাবে কোন মানুষের পক্ষে,
কোনো জিন-ইনসানের পক্ষে, কায়িনাতের
পক্ষে বর্ণনা করা সম্ভব নয়; উনাদের হাক্বীক্বী ছানা-ছিফত
বিন্দু থেকে বিন্দুতম পর্যন্ত করা সম্ভব নয়। তবে মহান আল্লাহ পাক তিনি আর যিনি
হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল
আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আালাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যাঁকে বা যাঁদেরকে তাওফীক দিবেন উনাদের
পক্ষেই সেটা সম্ভব। হাক্বীক্বত অন্যথ্যায় এটা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।
বলাবাহুল্য, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা হচ্ছেন আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন- হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। তবে আমার নিকটজন তথা আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।” (সূরা শুরা : আয়াত শরীফ-২৩)
এ আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর “তাফসীরে মাযহারী” ৮ম জিলদ ৩২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে- আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাই না, তবে তোমরা আমার নিকট আত্মীয়, আহলে বাইত ও বংশধর উনাদের (যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক) হক্ব আদায় করবে। কেননা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন শেষ নবী। উনার পরে কোনো নবী নেই।
হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি। তিনি (বিদায়) হজ্জে আরাফাত-এর দিন উনার কাসওয়া নামক উষ্ট্রির উপর সওয়ার অবস্থায় খুতবা দান করেছেন। আমি শুনেছি, তিনি খুতবায় বলেছেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি তা শক্তভাবে ধরে রাখো; তবে কখনও গুমরাহ হবে না। তাহলো মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব ও আমার ইতরাত বা আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন- একজন শায়েখ, পীর বা মুর্শিদ উনার ক্বওমের মাঝে ওই রকম তা’যীম, তাকরীম, সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখেন, যেমনভাবে একজন নবী উনার উম্মতের মাঝে তা’যীম, তাকরীম ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখেন। সুবহানাল্লাহ!
সর্বকালের, সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন একজন হাক্বীক্বী নায়িবে নবী, হাক্বীক্বী পীর, হাক্বীক্বী মুর্শিদ, হাক্বীক্বী শায়খ। উনার সন্তুষ্টি রিযামন্দি ছাড়া বর্তমান যামানায় কেউই মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি রিযামন্দি হাছিল করতে পারবে না। উনি হচ্ছেন ক্বায়িম-মক্বামে হাবীবুল্লাহ,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর হযরত সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম মক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদু শাবাবি আহলে জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের ক্বায়িম-মক্বাম হচ্ছেন হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, হযরত হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা দুনিয়াতে আমার দুটি ফুলস্বরূপ।
উক্ত হাদীছ শরীফ-এর হাক্বীক্বী মিছদাক হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা হচ্ছেন- মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দুনিয়াতে দুটি ফুলস্বরূপ। সুবহানাল্লাহ!
হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আলী আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের সম্পর্কে বলেছেন, যারা উনাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করবে আমি তাদের শত্রু। পক্ষান্তরে যে উনাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবো। (তিরমিযি শরীফ)
উক্ত হাদীছ শরীফ-এর হাক্বীক্বী মিছদাক হচ্ছেন কুতুবুল আলম হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম, হযরর শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, উনাদের সাথে সদ্ব্যবহার, উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম করার মাধ্যমে মুজাদ্দিদে আ’যম, হযরত মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার রিযামন্দি-সন্তুষ্টি হাছিল করা সম্ভব।
তাই কুল-কায়িনাতের জিন-ইনসানসহ সব মাখলুক্বাতের উচিত- নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, হাবীবাতুল্লাহ, রাইহানাতা মুর্শিদিনা, আওলাদে রসূল, তাহিরা, তইয়িবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের তা’যীম-তাকরীম, সম্মান করার মাধ্যমে মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সন্তুষ্টি, রেযামন্দি হাছিল করা। আর উনার রেযামন্দি সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারলেই মহান আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি, রেযামন্দি হাছিল করা সম্ভব।
মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সেই তাওফীক দান করুন। আমীন!
বলাবাহুল্য, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা হচ্ছেন আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন- হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি (উম্মতদেরকে) বলুন, আমি তোমাদের নিকট কোনো প্রতিদান চাই না। তবে আমার নিকটজন তথা আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি তোমরা সদাচরণ করবে।” (সূরা শুরা : আয়াত শরীফ-২৩)
এ আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যায় বিশ্ব বিখ্যাত তাফসীর “তাফসীরে মাযহারী” ৮ম জিলদ ৩২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে- আমি তোমাদের নিকট প্রতিদান চাই না, তবে তোমরা আমার নিকট আত্মীয়, আহলে বাইত ও বংশধর উনাদের (যথাযথ সম্মান প্রদর্শনপূর্বক) হক্ব আদায় করবে। কেননা মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন শেষ নবী। উনার পরে কোনো নবী নেই।
হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখেছি। তিনি (বিদায়) হজ্জে আরাফাত-এর দিন উনার কাসওয়া নামক উষ্ট্রির উপর সওয়ার অবস্থায় খুতবা দান করেছেন। আমি শুনেছি, তিনি খুতবায় বলেছেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি তা শক্তভাবে ধরে রাখো; তবে কখনও গুমরাহ হবে না। তাহলো মহান আল্লাহ পাক উনার কিতাব ও আমার ইতরাত বা আহলে বাইত আলাইহিমুস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন- একজন শায়েখ, পীর বা মুর্শিদ উনার ক্বওমের মাঝে ওই রকম তা’যীম, তাকরীম, সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখেন, যেমনভাবে একজন নবী উনার উম্মতের মাঝে তা’যীম, তাকরীম ও সম্মান পাওয়ার অধিকার রাখেন। সুবহানাল্লাহ!
সর্বকালের, সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন একজন হাক্বীক্বী নায়িবে নবী, হাক্বীক্বী পীর, হাক্বীক্বী মুর্শিদ, হাক্বীক্বী শায়খ। উনার সন্তুষ্টি রিযামন্দি ছাড়া বর্তমান যামানায় কেউই মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি রিযামন্দি হাছিল করতে পারবে না। উনি হচ্ছেন ক্বায়িম-মক্বামে হাবীবুল্লাহ,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আর হযরত সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম মক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম এবং সাইয়্যিদু শাবাবি আহলে জান্নাহ হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের ক্বায়িম-মক্বাম হচ্ছেন হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, হযরত হাসান আলাইহিস সালাম ও হযরত হুসাইন আলাইহিস সালাম উনারা দুনিয়াতে আমার দুটি ফুলস্বরূপ।
উক্ত হাদীছ শরীফ-এর হাক্বীক্বী মিছদাক হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা হচ্ছেন- মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দুনিয়াতে দুটি ফুলস্বরূপ। সুবহানাল্লাহ!
হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নিশ্চয়ই রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত আলী আলাইহিস সালাম, সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম, হযরত ইমাম হুসাইন আলাইহিস সালাম উনাদের সম্পর্কে বলেছেন, যারা উনাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করবে আমি তাদের শত্রু। পক্ষান্তরে যে উনাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, আমি তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবো। (তিরমিযি শরীফ)
উক্ত হাদীছ শরীফ-এর হাক্বীক্বী মিছদাক হচ্ছেন কুতুবুল আলম হযরত শাহদামাদ হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম, হযরত শাহযাদী উলা ক্বিবলা আলাইহাস সালাম, হযরর শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!
মূলত, উনাদের সাথে সদ্ব্যবহার, উনাদেরকে তা’যীম-তাকরীম করার মাধ্যমে মুজাদ্দিদে আ’যম, হযরত মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার রিযামন্দি-সন্তুষ্টি হাছিল করা সম্ভব।
তাই কুল-কায়িনাতের জিন-ইনসানসহ সব মাখলুক্বাতের উচিত- নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, হাবীবাতুল্লাহ, রাইহানাতা মুর্শিদিনা, আওলাদে রসূল, তাহিরা, তইয়িবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের তা’যীম-তাকরীম, সম্মান করার মাধ্যমে মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সন্তুষ্টি, রেযামন্দি হাছিল করা। আর উনার রেযামন্দি সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারলেই মহান আল্লাহ পাক এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি, রেযামন্দি হাছিল করা সম্ভব।
মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সেই তাওফীক দান করুন। আমীন!
2
আওলাদে
রসূল, নূরে মদীনা, সাইয়্যিদাতাল উমাম হযরত শাহ নাওয়াসীদ্বয় আলাইহিমাস সালাম উনাদের
পবিত্র বিলাদত শরীফ উপলক্ষে সবাইকে ঈদ মুবারক জানাই। মহান আল্লাহ পাক, তিনি আমাদেরকে বিশেষ নিয়ামত স্মরণ করতে বলেছেন এবং রহমত লাভ করার
কারণে খুশি করতে বলেছেন। তাই আজ দিনটি খুশি করার দিন।
মহান
আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ ফরমান-
قل بفضل الله وبرحمته فبذلك فليفرحوا هو
خير مما يجمعون .
অর্র্থ:
” “হে আমার হাবীব! আপনি উম্মতদেরকে বলে দিন- যিনি
মহান আল্লাহ পাক উনার ফযল-করম ও রহমত লাভ করার কারণে তোমাদের জন্য দায়িত্ব ও
কর্তব্য হচ্ছে ঈদ বা খুশি প্রকাশ করা। এই খুশি প্রকাশ করাটা সেসবকিছু থেকে উত্তম, যা তারা দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য সঞ্চয় করে।”
(সূরা ইউনুস : আয়াত শরীফ ৫৮)
মহান
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘তোমাদেরকে যে নিয়ামত দেয়া হয়েছে তা তোমরা আলোচনা কর, প্রকাশ কর।’
(সূরা দোহা/১১)
আজকের
এই পবিত্র দিনেই আমি হযরত শাহ নাওয়াসীদ্বয় আলাইহিমাস সালাম উনাদের সম্মানার্থে
ও মুহব্বতে নেক কাজে সর্বক্ষণ মশগুল থাকার নিয়ত করছি। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন
আমাদের সকলকে কবুল করেন। আমীন
3
মহান
মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে
আ’যম,
কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল, আস্ সাফফাহ হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম এবং গুলে মুবিনা, নূরে মাদীনা, নূরে জাহান হযরত উম্মুল উমাম
আলাইহাস সালাম উনাদের লখতে জিগার, ক্বায়িম-মাক্বামে হযরত
যাহরা আলাইহাস সালাম, নাক্বীবাতুল উমাম হযরত শাহযাদী ঊলা
আলাইহাস সালাম এবং শাফিউল উমাম হযরত শাহদামাদ আউওয়াল আলাইহিস সালাম উনাদের পবিত্র
মুবারক গৃহে যাঁরা পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেছেন, উনারা
হলেন সাইয়্যিদাতাল উমাম হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম।
সুবহানাল্লাহ! আর হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা হচ্ছেন জগৎ
ধন্যকারিণী দুই সম্মানিতা মুবারক মেহমান। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতাল উমাম, আওলাদে রসূল হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা পবিত্র শা’বান শরীফ মাসে তাশরীফ এনে এ মাস উনাকে ধন্য করেছেন এবং পবিত্র ২৯ তারিখে বিলাদত শরীফ গ্রহণ করে এ ‘২৯’ সংখ্যাকে সম্মানিত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এমনকি আমাদের সকলকেও ধন্য করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং সাইয়্যিদাতাল উমাম হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের শান, মান, মর্যাদা-মর্তবা, খুছুছিয়ত, সম্মান, বুযুর্গী, বৈশিষ্ট্য সীমাহীন ও অফুরান (অধিক); যা কস্মিনকালেও আমরা বলে, লিখে শেষ করতে পারবো না।
কাজেই সকলের উচিত সাইয়্যিদাতাল উমাম হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের শান, মান, মর্যাদা-মর্তবা, সম্মান, খুছুছিয়ত, বৈশিষ্ট্য, বুযুর্গী সম্পর্কে সকলকে জানানো এবং এসব নিয়ে পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করা এবং উনাদের ছানা-ছিফত করা।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি যেন আমাদের সকলকে সেই তাওফীক দান করেন। আমীন।
সাইয়্যিদাতাল উমাম, আওলাদে রসূল হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা পবিত্র শা’বান শরীফ মাসে তাশরীফ এনে এ মাস উনাকে ধন্য করেছেন এবং পবিত্র ২৯ তারিখে বিলাদত শরীফ গ্রহণ করে এ ‘২৯’ সংখ্যাকে সম্মানিত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এমনকি আমাদের সকলকেও ধন্য করেছেন। সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং সাইয়্যিদাতাল উমাম হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের শান, মান, মর্যাদা-মর্তবা, খুছুছিয়ত, সম্মান, বুযুর্গী, বৈশিষ্ট্য সীমাহীন ও অফুরান (অধিক); যা কস্মিনকালেও আমরা বলে, লিখে শেষ করতে পারবো না।
কাজেই সকলের উচিত সাইয়্যিদাতাল উমাম হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের শান, মান, মর্যাদা-মর্তবা, সম্মান, খুছুছিয়ত, বৈশিষ্ট্য, বুযুর্গী সম্পর্কে সকলকে জানানো এবং এসব নিয়ে পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে আলোচনা করা এবং উনাদের ছানা-ছিফত করা।
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি যেন আমাদের সকলকে সেই তাওফীক দান করেন। আমীন।
৪
ايام الله (আইয়্যামিল্লাহ) অর্থ মহান আল্লাহ পাক উনার
দিনসমূহ। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাক উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক
করেন,
وذكرهم بايام الله ان فى ذلك لايات لكل صبار شكور.
অর্থ: “তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিন। নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল শোকর গোজারকারীগণের জন্য অনেক নির্দশন রয়েছে।” (পবিত্র সূরা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)
দিন-কাল, মাস, বছরসহ কায়িনাতের সবকিছুরই মালিক মহান আল্লাহ পাক। তিনি সকলেরই একচ্ছত্র অধিপতি, মালিক। তারপরেও কিছু দিন, কাল, স্থান, মাস, বছর এবং বিষয়কে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজের জন্য খাছ করেছেন। পবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে بيت الله (বাইতুল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর, পবিত্র রজব মাস উনাকে شهرالله (শাহরুল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার মাস, পবিত্র কুরআন শরীফ অধিক তিলাওয়াতকারীকে اهل الله (আহলুল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার আহাল বা পরিবার বলা হয়েছে। এমনিভাবে আরো অনেক বিষয় বা বস্তু আছে যেগুলোকে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহান শান মুবারক উনার সাথে নিছবত বা সম্পর্কযুক্ত করেছেন। তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালাম শরীফ উনার অনেক জায়গায় কিছু স্থান, কাল, সময়, বিষয় ইত্যাদি নামে শপথ বা কসম করেছেন। অনুসরণীয় হযরত ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম তথা মুফাসসিরে কিরাম এবং মুহাদ্দিসসীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা সেই নিসবত বা সম্পর্ক এবং শপথের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, মূলত মহান আল্লাহ পাক তিনি শপথ দ্বারা সেই বিষয়, স্থান, কাল, মাস, বছর ইত্যাদির মর্যাদা-মর্তবা, গুরুত্ব-তাৎপর্যের বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছেন।
একইভাবে ايام الله (আইয়্যামিল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহ বলে বিশেষ বিশেষ দিন তথা পূর্ববর্তী বা পরবর্তী লোকদের উপর উনার দেয়া নিয়ামত, রহমত, মাগফিরাত, দয়া, দান ইহসান নাযিলের দিনসমূহের কথা বলেছেন। আবার পূর্বাপর সকল উম্মতের উপর আপতিত আযাব-গযব কিংবা ধ্বংসপ্রাপ্তির দিনগুলো সেই ايام الله (আইয়্যামিল্লাহ) উনার অন্তর্ভুক্ত।
মহান আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা হচ্ছেন ولى الله (ওলীউল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী বা বন্ধু। উনারা উনার আহাল তথা পরিবারভুক্ত, সদস্য। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই ওলীআল্লাহ বা হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সাথে নিসবত বা সম্পর্কযুক্ত কিংবা সংশ্লিষ্ট সকল দিন, কাল, সময়, স্থান ইত্যাদি বিষয়গুলোও যে ايام الله (আইয়ামুল্লাহ) বা মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহের অন্তর্ভুক্ত তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর সে ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ মুবারক দ্বারা এ কথা দিবালোকের ন্যায় পরিস্ফুটিত হয়েছে যে, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের বিলাদত শরীফ, বিছাল শরীফ এবং অন্যান্য বিশেষ ঘটনা বা স্মৃতি বিজড়িত দিনসমূহ স্মরণ করা বা করানো উচিত। কেননা সেই দিনগুলোতে ছবর ও শোকর ইখতিয়ারকারী তথা ধৈর্যশীল এবং চরম শোকরগোজার বা অধিক পরিমাণে শুকরিয়া আদায়কারীগণের জন্য এতে অসংখ্য অগণিত নিয়ামতরাজি রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এমনি এক মহান ব্যক্তিত্ব যে, উনাদেরকে দেখলে, উনাদের আলোচনা করলে, শুনলে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কথা স্মরণ হয়। মানুষ আল্লাহওয়ালা হওয়ার জযবা বা অনুপ্রেরণা লাভ ।হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে,
الا اننبئكم بخياركم قالوا بلى يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال خياركم الذين اذا رأوا ذكرالله تعالى.
অর্থ: “আমি কী আপনাদেরকে জানিয়ে দিবো না যে, আপনাদের মধ্যে খিয়ার তথা ওলীআল্লাহ কে? হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা বললেন, অবশ্যই, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তখন তিনি বললেন, আপনাদের মধ্যে উনারাই খিয়ার তথা ওলীআল্লাহ যাঁদেরকে দেখলে মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ হয়।”
ايام الله (আইয়্যামুল্লাহ) অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহ স্মরণ করা বা পালন করার আরো রহস্য ও তাৎপর্য হচ্ছে যে, সেই দিনগুলোতে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রহমত, বরকত এবং ইহসান অধিক পরিমাণে বা খাছভাবে নাযিল হয়। কুল-কায়িনাত বিশেষভাবে ও অতি সহজেই সেই রহমত, বরকত, দয়া, দান, ইহসান লাভ করতে পারে। অথচ সেই রহমত, বরকত, দয়া-দান, ইহসান ব্যতীত কারো পক্ষেই কামিয়াবী লাভ করা সম্ভব নয়। এমনকি কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। সেই অতীব গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রয়েছে মহান আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সাথে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
ان رحمت الله قريب من المحسنين
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত রয়েছে মুহসিন তথা ওলীআল্লাহগণ উনাদের নিকটে।”
আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন
ان ذكر الصالحين تنزل الرحمة
অর্থ: “নিশ্চয়ই ছলেহীন তথা ওলীআল্লাহগণ উনাদের আলোচনায় রহমত নাযিল হয়।”
কাজেই ২৯ শা’বান শরীফ সেই রহমত, বরকত, সাকীনা, দয়া, দান, ইহসান নাযিলের বিশেষ দিন। সেই দিন মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুইজন মাহবুবা দুনিয়ায় মুবারক তাশরীফ এনেছেন। উনাদেরকে দুনিয়াবাসী সকলেই সাইয়্যিদাতাল উমাম ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম হিসেবে চিনে, জানে। মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন, উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের অতি আদরের নাওয়াসী বা নাতনীদ্বয়। নাক্বীবাতুল উমাম, ক্বায়িম মক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, উম্মু আবিহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা আলাইহাস সালাম এবং শাফিউল উমাম, বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম, আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত শাহদামাদ ক্বিবলা, আলাইহিস সালাম উনাদের অতি আদরের মেয়েদ্বয় আলাইহিমাস সালাম। উনারা দু’জনই আখাছছুল খাছ নিয়ামতপ্রাপ্তা মহান ওলীআল্লাহ। উনাদের বেমেছাল শান, মান, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক। এক্ষেত্রে উনাদের দৃষ্টান্ত উনারা নিজেই। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ২৯ শা’বান শরীফে উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ হওয়ার অন্যতম হিকমত হচ্ছে- বান্দা-বান্দী, উম্মত সবাইকে বিশেষ রহমত, বরকত, সাকীনা, দয়া-মায়া, ইহসান দান করতঃ পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার নিয়ামত লাভের যোগ্যতাসম্পন্ন করা। কাজেই আসুন! সবাই মিলে অত্যন্ত আদব-ইহতিরামের সাথে সেই মহান দিনটি পালন করি এবং খালিছ বান্দা, উম্মত ও মুরীদ হওয়ার সর্বাত্মক কোশেশ করি। হে মালিকে আ’যম আলাইহিস সালাম! আমাদের সবাইকে কবুল করুন। ইহসান করুন, গাইবী মদদ করুন। আমীন! আমীন।
وذكرهم بايام الله ان فى ذلك لايات لكل صبار شكور.
অর্থ: “তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিন। নিশ্চয়ই এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল শোকর গোজারকারীগণের জন্য অনেক নির্দশন রয়েছে।” (পবিত্র সূরা ইবরাহীম আলাইহিস সালাম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)
দিন-কাল, মাস, বছরসহ কায়িনাতের সবকিছুরই মালিক মহান আল্লাহ পাক। তিনি সকলেরই একচ্ছত্র অধিপতি, মালিক। তারপরেও কিছু দিন, কাল, স্থান, মাস, বছর এবং বিষয়কে মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজের জন্য খাছ করেছেন। পবিত্র কা’বা শরীফ উনাকে بيت الله (বাইতুল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার ঘর, পবিত্র রজব মাস উনাকে شهرالله (শাহরুল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার মাস, পবিত্র কুরআন শরীফ অধিক তিলাওয়াতকারীকে اهل الله (আহলুল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার আহাল বা পরিবার বলা হয়েছে। এমনিভাবে আরো অনেক বিষয় বা বস্তু আছে যেগুলোকে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহান শান মুবারক উনার সাথে নিছবত বা সম্পর্কযুক্ত করেছেন। তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালাম শরীফ উনার অনেক জায়গায় কিছু স্থান, কাল, সময়, বিষয় ইত্যাদি নামে শপথ বা কসম করেছেন। অনুসরণীয় হযরত ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম তথা মুফাসসিরে কিরাম এবং মুহাদ্দিসসীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা সেই নিসবত বা সম্পর্ক এবং শপথের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, মূলত মহান আল্লাহ পাক তিনি শপথ দ্বারা সেই বিষয়, স্থান, কাল, মাস, বছর ইত্যাদির মর্যাদা-মর্তবা, গুরুত্ব-তাৎপর্যের বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছেন।
একইভাবে ايام الله (আইয়্যামিল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহ বলে বিশেষ বিশেষ দিন তথা পূর্ববর্তী বা পরবর্তী লোকদের উপর উনার দেয়া নিয়ামত, রহমত, মাগফিরাত, দয়া, দান ইহসান নাযিলের দিনসমূহের কথা বলেছেন। আবার পূর্বাপর সকল উম্মতের উপর আপতিত আযাব-গযব কিংবা ধ্বংসপ্রাপ্তির দিনগুলো সেই ايام الله (আইয়্যামিল্লাহ) উনার অন্তর্ভুক্ত।
মহান আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা হচ্ছেন ولى الله (ওলীউল্লাহ) মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী বা বন্ধু। উনারা উনার আহাল তথা পরিবারভুক্ত, সদস্য। সুবহানাল্লাহ!
কাজেই ওলীআল্লাহ বা হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সাথে নিসবত বা সম্পর্কযুক্ত কিংবা সংশ্লিষ্ট সকল দিন, কাল, সময়, স্থান ইত্যাদি বিষয়গুলোও যে ايام الله (আইয়ামুল্লাহ) বা মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহের অন্তর্ভুক্ত তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর সে ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই।
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ মুবারক দ্বারা এ কথা দিবালোকের ন্যায় পরিস্ফুটিত হয়েছে যে, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের বিলাদত শরীফ, বিছাল শরীফ এবং অন্যান্য বিশেষ ঘটনা বা স্মৃতি বিজড়িত দিনসমূহ স্মরণ করা বা করানো উচিত। কেননা সেই দিনগুলোতে ছবর ও শোকর ইখতিয়ারকারী তথা ধৈর্যশীল এবং চরম শোকরগোজার বা অধিক পরিমাণে শুকরিয়া আদায়কারীগণের জন্য এতে অসংখ্য অগণিত নিয়ামতরাজি রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা এমনি এক মহান ব্যক্তিত্ব যে, উনাদেরকে দেখলে, উনাদের আলোচনা করলে, শুনলে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের কথা স্মরণ হয়। মানুষ আল্লাহওয়ালা হওয়ার জযবা বা অনুপ্রেরণা লাভ ।হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন যে,
الا اننبئكم بخياركم قالوا بلى يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال خياركم الذين اذا رأوا ذكرالله تعالى.
অর্থ: “আমি কী আপনাদেরকে জানিয়ে দিবো না যে, আপনাদের মধ্যে খিয়ার তথা ওলীআল্লাহ কে? হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারা বললেন, অবশ্যই, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তখন তিনি বললেন, আপনাদের মধ্যে উনারাই খিয়ার তথা ওলীআল্লাহ যাঁদেরকে দেখলে মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ হয়।”
ايام الله (আইয়্যামুল্লাহ) অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার দিনসমূহ স্মরণ করা বা পালন করার আরো রহস্য ও তাৎপর্য হচ্ছে যে, সেই দিনগুলোতে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রহমত, বরকত এবং ইহসান অধিক পরিমাণে বা খাছভাবে নাযিল হয়। কুল-কায়িনাত বিশেষভাবে ও অতি সহজেই সেই রহমত, বরকত, দয়া, দান, ইহসান লাভ করতে পারে। অথচ সেই রহমত, বরকত, দয়া-দান, ইহসান ব্যতীত কারো পক্ষেই কামিয়াবী লাভ করা সম্ভব নয়। এমনকি কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। সেই অতীব গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রয়েছে মহান আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের সাথে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
ان رحمت الله قريب من المحسنين
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত রয়েছে মুহসিন তথা ওলীআল্লাহগণ উনাদের নিকটে।”
আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন
ان ذكر الصالحين تنزل الرحمة
অর্থ: “নিশ্চয়ই ছলেহীন তথা ওলীআল্লাহগণ উনাদের আলোচনায় রহমত নাযিল হয়।”
কাজেই ২৯ শা’বান শরীফ সেই রহমত, বরকত, সাকীনা, দয়া, দান, ইহসান নাযিলের বিশেষ দিন। সেই দিন মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দুইজন মাহবুবা দুনিয়ায় মুবারক তাশরীফ এনেছেন। উনাদেরকে দুনিয়াবাসী সকলেই সাইয়্যিদাতাল উমাম ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম হিসেবে চিনে, জানে। মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম এবং সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ক্বায়িম-মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন, উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাদের অতি আদরের নাওয়াসী বা নাতনীদ্বয়। নাক্বীবাতুল উমাম, ক্বায়িম মক্বামে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, উম্মু আবিহা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত শাহযাদী ঊলা আলাইহাস সালাম এবং শাফিউল উমাম, বাবুল ইলমি ওয়াল হিকাম, আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত শাহদামাদ ক্বিবলা, আলাইহিস সালাম উনাদের অতি আদরের মেয়েদ্বয় আলাইহিমাস সালাম। উনারা দু’জনই আখাছছুল খাছ নিয়ামতপ্রাপ্তা মহান ওলীআল্লাহ। উনাদের বেমেছাল শান, মান, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক। এক্ষেত্রে উনাদের দৃষ্টান্ত উনারা নিজেই। সুবহানাল্লাহ!
পবিত্র ২৯ শা’বান শরীফে উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ হওয়ার অন্যতম হিকমত হচ্ছে- বান্দা-বান্দী, উম্মত সবাইকে বিশেষ রহমত, বরকত, সাকীনা, দয়া-মায়া, ইহসান দান করতঃ পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার নিয়ামত লাভের যোগ্যতাসম্পন্ন করা। কাজেই আসুন! সবাই মিলে অত্যন্ত আদব-ইহতিরামের সাথে সেই মহান দিনটি পালন করি এবং খালিছ বান্দা, উম্মত ও মুরীদ হওয়ার সর্বাত্মক কোশেশ করি। হে মালিকে আ’যম আলাইহিস সালাম! আমাদের সবাইকে কবুল করুন। ইহসান করুন, গাইবী মদদ করুন। আমীন! আমীন।
-মুফতী
মুহম্মদ আল কাওসার।
৫
মুবারক
হো মহিমান্বিত পবিত্র সুমহান ২৯শে শা’বান শরীফ
|
খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ
উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি জিন-ইনসান
উনাদেরকে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ বিশেষ দিন সম্পর্কে
জানিয়ে দিন, বুঝিয়ে
দিন, স্মরণ করিয়ে দিন।” আর কিতাবে এসেছে, ব্যক্তির
মর্যাদার কারণে স্থানের মর্যাদা বেড়ে যায়। আবার স্থানের মর্যাদার কারণে ওই
স্থানের ব্যক্তিবর্গেরও মর্যাদা বেড়ে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কোনো সুমহান
ব্যক্তির সংস্পর্শ, ছোঁয়া, পবিত্র
বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ, পবিত্র বিছালী শান মুবারক
প্রকাশ, বিশেষ বিশেষ ঘটনা ইত্যাদির কারণে মাসের,
দিনের, তারিখের, সময়ের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত বেড়ে যায়।
যেমন: পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার
কারণে সর্বশ্রেষ্ঠ ঈদ তথা সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ
শরীফ উনার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। ঠিক তেমনিভাবে পবিত্র ২৯শে শা’বান শরীফ সাইয়্যিদাতা নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতাল উমাম
রাজারবাগ শরীফ উনার সুসম্মানিত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের
মুবারক বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার কারণে সুসম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ হয়েছেন।
কেননা উনারা হলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনাদের খাছ আওলাদ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে উনারা হচ্ছেন সর্বকালের
সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ
ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম
উনার সম্মানিত নাওয়াসী (নাতনীদ্বয়) আলাইহিমাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! আর এ কারণেই
পবিত্র ২৯শে শা’বান শরীফ হয়েছেন, মহিমান্বিত, মর্যাদাপূর্ণ, ফযীলতপূর্ণ। তাই সকল
সালিক-সালিকা, মুরীদ-মুরীদান, আশিক্বীন,
মুহিব্বীনসহ সকল জিন-ইনসানের জন্য উচিত- এই দিনটি উনাকে অত্যন্ত
জাঁকজমকপূর্ণভাবে, জৌলুসপূর্ণভাবে উদযাপন করা। আর তার
জন্য আগে থেকেই আর্থিক, শারীরিক, মানসিক প্রস্তুতি নেয়া। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি
আমাদেরকে সেই মুবারক তাওফীক দান করুন। আমীন।
|
৬
সুমহান
২৯শে শা’বান শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করার বেমেছাল
ফযীলত।
********************************************************
********************************************************
পবিত্র
হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
من مات على حب ال محمد صلى الله عليه وسلم بشره ملك الموت بالجنة ثم منكرونكير.
من مات على حب ال محمد صلى الله عليه وسلم بشره ملك الموت بالجنة ثم منكرونكير.
অর্থ:
“যে ব্যক্তি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার নূরানী পরিবার ও আওলাদ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত নিয়ে ইনতিকাল
করবে, তাকে মালাকুল মউত হযরত
আযরাইল আলাইহিস সালাম এবং হযরত মুনকার ও নাকীর ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনারা
সম্মানিত জান্নাত উনার সুসংবাদ দিবেন।”
যিনি
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল
মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি
সবচাইতে বেশি খুশি হয়ে থাকেন উনার সুমহান আওলাদ হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম
উনার এবং হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনাদের পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক
প্রকাশ উনার সম্মানার্থে খুশি প্রকাশ করলে, ঈদ পালন করলে।
সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু
নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, সাইয়্যিদাতাল উমাম হযরত শাহ
নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা হচ্ছেন উক্ত সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার
পরিপূর্ণ মিছদাক্ব। তাই মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল
খুলাফা, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল
মু’মিনীন,
আওলাদে রসূল মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম
খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিও সবচাইতে বেশি খুশি
হয়ে থাকেন উনার সুমহান আওলাদ সাইয়্যিদাতাল উমাম হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন
আলাইহিমাস সালাম উনাদের সম্মানিত বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সম্মানার্থে খুশি
প্রকাশ করলে, ঈদ পালন করলে। সুবহানাল্লাহ! সুতরাং আমাদের
প্রত্যেকের জন্যই ফরয হচ্ছে- মাল ও জান দিয়ে হযরত শাহ নাওয়াসী ক্বিবলাতাইন
আলাইহিমাস সালাম উনাদের পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক উনার সম্মানার্থে খুশি প্রকাশ
করা, ঈদ পালন করা। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক
তিনি আমাদের সবাইকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
৭
মহান
আল্লাহ পাক তিনি উনার মনোনীত ও মাহবুব বান্দা-বান্দী উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ ও
পবিত্র বিছাল শরীফ উনাদের মাধ্যমে অনেক মাস,
তারিখ ও বারকে মহাসম্মানিত করেন। যেমন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ ও পবিত্র বিছাল শরীফ উনাদের মাধ্যমে
পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাস উনাকে, পবিত্র ১২ই শরীফ
তারিখ উনাকে এবং পবিত্র ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ বার উনাকে
মহাসম্মানিত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপ এ পবিত্র শা’বান মাসটিও অনেক সুমহান ব্যক্তিগণ উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ উনার
কারণে মহাসম্মানিত। কারণ এ পবিত্র শা’বান মাস
উনার ৫ তারিখ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি
ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং সাইয়্যিদুনা ইমামুর রবি’
মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস। ১৫ই শা’বান শরীফ
সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস। সুবহানাল্লাহ! আর সুমহান ২৯শে শা’বান শরীফ হচ্ছে লখতে জিগারে মুজাদ্দিদে আ’যম, বেহেশতী
মেহমান, ওলীয়ে মাদারযাদ, নারীকুলের
মুক্তির দিশারী, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত সাইয়্যিদাতাল
উমাম ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনাদের মহা পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস। যে
দিবসগুলো কুল-কায়িনাতের সকলের জন্যই মহান ঈদের বা খুশির দিন। সুবহানাল্লাহ! আর আজই
হচ্ছে সেই সুমহান ২৯শে শা’বান শরীফ।
মুজাদ্দিদে
আ’যম,
ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস
সালাম তিনি বলেন, হযরত সাইয়্যিদাতাল উমাম ক্বিবলাতাইন
আলাইহিমাস সালাম উনারা আখাছ্ছুল খাছ আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
সম্মানিত পিতা এবং সম্মানিত মাতা উভয় দিক থেকেই উনারা আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন,
খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম,
হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ
বংশধর। অর্থাৎ খাছ হযরত আওলাদে রসূল আলাইহিমাস সালাম।
মুজাদ্দিদে
আ’যম,
ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস
সালাম তিনি হযরত আওলাদে রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ফাযায়িল-ফযীলত সম্পর্কে
পবিত্র হাদীছ উনার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, হযরত আবূ যর
রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, তিনি পবিত্র
কা’বা শরীফ উনার দরজা মুবারক ধরে বলেছেন, আমি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
উনাকে বলতে শুনেছি, সাবধান! আমার হযরত আওলাদ আলাইহিমুস
সালাম উনারা হলেন তোমাদের জন্য হযরত নূহ আলাইহিস্ সালাম উনার নৌকার মত। যে তাতে
আরোহণ করবে, সে নাজাত পাবে। আর যে তা হতে পশ্চাতে থাকবে
সে ধ্বংস হবে।”
মুজাদ্দিদে
আ’যম,
ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস
সালাম তিনি বলেন, আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদাতাল উমাম
ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের হাক্বীক্বী
মিছদাক। উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারা বুঝা যায়, আওলাদে
রসূল হযরত সাইয়্যিদাতাল উমাম ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম উনারা উম্মতগণের জন্য
সুমহান নিয়ামত, বরকত, সাকীনা এবং
মাগফিরাত, নাযাত লাভের উসীলা। তাই পবিত্র ২৯শে শা’বান শরীফ জ্বিন-ইনসান সকলের জন্যই অত্যন্ত আনন্দের দিন তথা ঈদ বা
খুশীর দিন। অতএব, সকলের
দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- আওলাদে রসূল হযরত সাইয়্যিদাতাল উমাম ক্বিবলাতাইন
আলাইহিমাস সালাম উনাদের পবিত্র বিলাদত শরীফ দিবস অত্যন্ত জওক্ব-শওক্ব ও শান-শওক্বত
উনার সাথে উদযাপন করা। পাশাপাশি উনাদের মুবারক ছোহবত ইখতিয়ার করা, উনাদেরকে মুহব্বত করা, অনুসরণ-অনুকরণ করা ও
উনাদের যথাযথ খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেয়া। যা সকলের জন্যই রহমত, বরকত, নিয়ামত, সাকীনা
ও নাযাত লাভের কারণ হবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন