বৃহস্পতিবার, ৯ জুন, ২০১৬

যাকাত দিলে কি হয়


যাকাত দিলে কি হয়

আমরা প্রথমেই জেনেছি যাকাত না দিলে কি হয়। যেমন ১) মাল সম্পদ নষ্ট হয় ২) হারাম মিশ্রিত হয়ে হালাল কেও হারাম করে দেয় ৩) নামায কবুল হয় না ৪) মহান আল্লাহ পাক ও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অসন্তুষ্ট হন ও জিহাদ ঘোষণা করেন।
তাহলে যখন কেও যাকাত আদায় করবেন এবং যাকাতের কাজ করবেন প্রথমত তিনি উপরের চারটি ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবেন। অর্থাৎ ১) মাল সম্পদ হিফাযত হবে। শুধু হিফাজত হবে তা নয় মাল সম্পদ বৃদ্ধি পাবে ২) হালাল মালে বরকত হবে এবং হালাল রোজগারের ব্যবস্থা সহজ হয়ে যাবে। ৩) শুধু নামায নয়, সকল ইবাদত কবুল হবে এবং ইবাদতে একাগ্রতা বাড়বে।৪) মহান আল্লাহ পাক ও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সন্তুষ্ট হবেন এবং উনারা উত্তম অভিভাবক হবেন। আর যাকাত দাতা নিজেই হাবিবুল্লাহ হবেন ।
এছাড়াও যাকাত দিলে আরও অনেক অনেক ফযীলত রয়েছে। যেমন বলা যেতে পারে, যখন মানুষ গুনাহ করে তখন শুধু গুনাহ লিখা হয় আর যখন নেকি করে তখন তা ১০ গুন বাড়িয়ে লিখা হয়।আর যখন মাল সম্পদ মহান আল্লাহ পাক উনার পথে খরচ করা হয় তখন মানুষের অন্তরের বিশুদ্ধতা অনুযায়ী ৭০০,৭০০০, ৭০০০০০ গুন এভাবে বাড়িয়ে লিখা হয়। সুবহানাল্লাহ।

যাকাত না দিলে কি হয়ঃ

৪) জিহাদ ঘোষণাঃ
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে আদেশ করেছেন, ওই সমস্ত মানুষের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করার জন্য, তাদেরকে কতল করে দেয়ার জন্য, যারা এটা ঘোষণা করবে না, স্বীকার করবে না, মহান আল্লাহ পাক তিনি এক এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার হাবীব এবং রসূল। এবং নামায কায়িম করবে না, যাকাত আদায় করবে না।” (পবিত্র মিশকাত শরীফ)
যদি কোন বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অসন্তুষ্ট হন ও জিহাদ ঘোষণা করেন তাহলে সেই বান্দার মুক্তিরতো আর কোন পথ খোলা থাকলো না। তাহলে বান্দা এমন কাজ কেন করবে যাতে বান্দার মালিক অসন্তুষ্ট হবেন? আরো একটি বিষয়আছে উপলব্ধি করার তা হচ্ছে আমাদের যাদের যা ধন সম্পদ রয়েছে তার কোনটারই মালিক আমরা নই। ক্ষনস্থায়ী পৃথিবীতে অল্প সময়ের জন্য আমাদের জিম্মাদারীতে দেয়া হয়েছে এ সকল সম্পদ। তাহলে যিনি এই সম্পদের মালিক উনার নির্দেশ অমান্য করে যাকাত না দেয়ার স্পর্ধা কার। অথচ যার সম্পদ তিনি নির্দেশ দিচ্ছেন সেখান থেকে যাকাত দিলে তিনি আমাদের সুখ দিবেন, জান্নাত দিবেন, অন্তর প্রশান্ত করবেন ইত্যাদি ইত্যাদি।
আরো একটি বিষয় মনে রাখার মত তা হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা কিন্তু জিহাদ করেন না বরং জিহাদ ঘোষণা করেন অর্থাৎ ক্ষমা চাওয়ার,ভুলের জন্য আত্মসমর্পণ করার সুযোগ দেন। সুতরাং অতীতের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে সঠিক জায়গায় ,নির্ভুল গননা করে যাকাত আদায় করা উচিৎ এবং যাকাতের কাজ করা উচিৎ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন