শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬

সুমহান পবিত্র ৬ই রমাদ্বান শরীফ- সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার দিবস; যা কুল কায়িনাতবাসীর জন্য রহমত, বরকত ও সাকীনাপূর্ণ একটি ঈদের দিন।

সুমহান পবিত্র ৬ই রমাদ্বান শরীফ- সাইয়্যিদাতুনা হযরত আছ ছালিছা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার দিবস; যা কুল কায়িনাতবাসীর জন্য রহমত, বরকত ও সাকীনাপূর্ণ একটি ঈদের দিন।


পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিলাদত শরীফ, বিছাল শরীফ, পুনরুত্থান প্রত্যেকটিই রহমত, বরকত ও সাকীনার কারণ এবং ঈদ বা খুশি প্রকাশের কারণ। যেমন, হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- وسلم عليه يوم ولد ويوم يموت ويوم يبعث حيا অর্র্থ: ‘উনার প্রতি সালাম (শান্তি), যে দিন তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন এবং যেদিন তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন।’ (পবিত্র সূরা মারইয়াম-১৫) অনুরূপ হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে উনার নিজের বক্তব্য পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- والسلم على يوم ولدت ومو اموت ويوم ابعث حيا . অর্র্থ: ‘আমার প্রতি সালাম; যেদিন আমি পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করি, যেদিন আমি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করবো এবং যেদিন পুনরুত্থিত হবো।’ (পবিত্র সূরা মারইয়াম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৩) আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- حياتى خير لكم ومماتى خير لكم . অর্র্থ: ‘আমার পবিত্র হায়াত মুবারক অর্থাৎ আমার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ ও পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ সব অবস্থাই তোমাদের জন্য কল্যাণ বা খায়ের-বরকতের কারণ।’ সুবহানাল্লাহ! (কানযুল উম্মাল শরীফ) এছাড়া পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- ان من افضل ايامكم يوم الجمعة فيه خلق ادم وفيه قبض . অর্র্থ: ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে উত্তম দিন হচ্ছে পবিত্র জুমুআহ উনার দিন। এদিনে হযরত আদম শফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছন এবং এদিনেই তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।’ (নাসায়ী শরীফ) মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন- ان هذا يوم جعله الله عيدا . অর্র্থ: ‘এ পবিত্র জুমুআহ উনার দিন হচ্ছে এমন একটি দিন, যেদিনকে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র ঈদ উনার দিন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ) প্রতিভাত হলো যে, পবিত্র জুমুআহ উনার দিনটি মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত আদম শফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ উনার দিন হওয়া সত্ত্বেও মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই সে দিনটিকে খুশির দিন হিসেবে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ তিনি সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে কিছু দিন মারিদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করেছিলেন এবং এই সম্মানিত মারিদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় ৯ম হিজরী সনের ৬ রমাদ্বান শরীফ সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। অতএব, এ সম্মানিত দিনটিও কুল-কায়িনাতবাসী সকলের জন্যই পবিত্র ঈদ উনার দিন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত দিক-নির্দেশনা মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত গোসল মুবারক ও সম্মানিত কাফন মুবারক সম্পন করা হয়। সুবহানাল্লাহ! ‘আবূ দাঊদ শরীফ’ উনার মধ্যে এসেছে, “হযরত লায়লাহ বিনতে ক্বানিফ ছাক্বীফাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বলেন, বিনতু রসূলিল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর যারা উনার সম্মানিত গোসল মুবারক করান, আমি উনাদের মধ্যে ছিলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রথমে আমাদের দিয়েছিলেন এক টুকরো কাপড় মুবারক, অতঃপর উপরের অংশ, একটি চাদর মুবারক এবং অবশেষে কাপড়ের একটি বড় টুকরো মুবারক। পরে উনাকে একটি কাপড় মুবারক দ্বারা জরানো হয়েছিলো। যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে গোসল মুবারক করানো হচ্ছিলো, তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত দরজা মুবারক-এ দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় কাপড় মুবারক সরবরাহ করে যাচ্ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ দাঊদ শরীফ) স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত ইমামতী মুবারক করে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জানাযা উনার নামায মুবারক পড়ান। সুবহানাল্লাহ! “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি যখন সম্মানিত বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন, তখন আমরা উপস্থিত ছিলাম। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রওযা শরীফ উনার নিকট বসা ছিলেন। আর আমি দেখেছি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত দু’চোখ মুবারক দিয়ে অজস্র ধারায় সম্মানিত নূরুল মুহব্বত মুবারক প্রবাহিত হচ্ছেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ) অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত রওযা শরীফ মুবারক উনার মধ্যে রাখা হয়। সুবহানাল্লাহ!




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন