বুধবার, ৮ জুন, ২০১৬

উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশকালেও উসওয়াতুন হাসানাহ

উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশকালেও উসওয়াতুন হাসানাহ


খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমাদের জন্য নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই হচ্ছেন সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক।” পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমরা উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আল্ইাহাস সালাম উনার কাছ থেকে দ্বীন শিক্ষা করো।” অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকলের জন্য অনুসরণীয়, অনুকরণীয়। অনুরূপভাবে উনার আখাছছুল খাছ নিসবত মুবারক প্রাপ্তির দরুন হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারাও অনুসরণীয়, অনুকরণীয়। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সাইয়্যিদাতুন নিসা উম্মু আবীহা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে অন্যতম। সঙ্গতকারণেই তিনি সকলের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক। মহান আল্লাহ পাক তিনি মহিলাদের জন্য পর্দাকে ফরয করেছেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বেপর্দা পুরুষ-মহিলাকে লা’নত প্রদান করেছেন, এজন্যই সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মহিলাদের জন্য পর্দাকে সর্বোত্তম ইবাদত হিসেবে ঘোষণা মুবারক করেছেন। তাহলে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি কিরূপ পর্দা করেছেন? কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, পঞ্চম হিজরীতে পর্দা ফরয করা হয়েছে। পর্দা ফরয হওয়ার পূর্বে পুরুষরা মহিলাদরে সাথে দেখা করতো, কথা বলতো। এ ক্ষেত্রে সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি কেবল ব্যতিক্রম। পর্দা ফরয হওয়ার পূর্ব হতেই তিনি পর-পুরুষের সাথে সাক্ষাৎ করতেন না, কথা বলতেন না। গাইরে মাহরাম কোনো পুরুষই কখনো উনাকে দেখেনি। উনার পর্দার বিষয়টি উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশকালে আরো সুস্পষ্ট হয়েছে। ১১ হিজরী সনের ৩রা রমাদ্বান শরীফ তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পূর্বে তিনি হযরত আসমা বিনতে উমায়স রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা উনাকে বললেন, খোলা অবস্থায় মহিলাদের মৃতদেহ বহন করে নেয়া আমি অপছন্দ করি। তখন হযরত আসমা বিনতে উমায়স রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি বললেন, আমি হাবশায় একটি ব্যবস্থা দেখে এসেছি, মুবারক অনুমতি হলে তা পেশ করতে পারি। সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার মুবারক অনুমতি দিলেন। তখন হযরত আসমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা তিনি কয়েকটি খেজুর ডালের উপর কাপর টেনে দিলেন। অর্থাৎ তিনি কাপর দ্বারা মহিলাদের মৃতদেহ পুরো ঢেকে দেয়ার বিষয়টি পেশ করলেন। সাইয়্যিদাতুন নসিা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম এ বিষয়টি দেখে অত্যাধিক খুশি হলেন। এবং উনার ক্ষেত্রে এরূপ করার জন্য অসিয়ত মুবারক করলেন। সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। ফযরের পূর্বেই উনার রওযা শরীফ স্থাপিত হয়। উনার মুবারক অসীয়ত অনুযায়ী উনার জিসিম মুবারক কাপড় দ্বারা ঢেকে এমনভাবে নেয়া হয়, উনার কাফন মুবারকও কেউ দেখতে পায়নি। রাতের আঁধারে উনার গোসল মুবারক দেয়া হয়।রাতের আধারে উনার জানাজা মুবারক অনুষ্ঠিত হয়। রাতের আধারে উনাকে জান্নাতুল বাক্বী শরীফে নিয়ে যাওয়া হয়। কিতাবে উল্লেখ করা হয়, কবর দেখলে মৃতের আকার- আকৃতি, দেহের উচ্চতা- প্রশস্ততা উপলব্ধি করা যায়। সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার রওযা শরীফ দেখে কেউ যেন উনার হুলিয়া মুবারক অনুধাবন করতে না পারে সেজন্য কুদরতীভাবে উনার রওযা শরীফ উনার চতুর্দিকে অনেকগুলো কবর স্থাপিত হয়। ফলশ্রুতিতে, সকাল বেলা উনার রওযা শরীফ সনাক্ত করা যায়নি। কুদরতীভাবে উনার পর্দা হিফাযত করা হয়। সুবহানাল্লাহ! হায়াত মুবারকে তিনি সর্বোত্তম পর্দা মুবারক করেছেন, বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পরেও তিনি সর্বোত্তম পর্দা মুবারক করেছেন। এমনকি হাশরের ময়দানেও তিনি সর্বোত্তম পর্দা করবেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, ক্বিয়ামতের দিন বলা হবে, হে হাশরবাসী! তোমরা তোমরাদের দৃষ্টিকে অবনত করো। এখনি সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি জান্নাতে গমন করবেন। হাশরবাসী দৃষ্টিকে অবনত করবে। সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি জান্নাতে পৌঁছে যাবেন। সুবহানাল্লাহ! কাজেই মুসলিম মহিলাদের উচিত উম্মুল উমাম হযরত আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার মুবারক ছোহবত অজন করত সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার অনুকরণে হাক্বীক্বী পদা শিখে তা আমলে বাস্তবায়ন করা। মহান আল্লাহ পাক সকলকে তাওফীক দান

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন