মিলাদ শব্দের অর্থ
মিলাদ (ميلاد), মাওলেদ (مولد) এবং মাওলুদ (مولود) এ তিনটি শব্দের আভিধানিক অর্থ যথাক্রমে হল জন্মদিন, জন্মকাল ও জন্মস্থান প্রভৃতি।
সুপ্রসিদ্ধ আল মুনজিদ নামক আরবি অভিধানের ৯১৮ পৃষ্ঠায় রয়েছে, الميلاد – وقت الولادة অর্থাৎ মিলাদ অর্থ জন্মসময়।المولد – موضع الولادة او وقتها মাওলেদ অর্থ জন্মস্থান অথবা জন্মসময়। المولود – الولد الصغير মাওলুদ অর্থ ছোট শিশু।
অনুরূপ মিসবাহুল লুগাতের ৯৬৬ পৃষ্ঠায় রয়েছে, ‘মিলাদ’ অর্থ জন্মসময়। ‘মাওলেদ’ অর্থ জন্মস্থান অথবা জন্মসময়। ‘মাওলুদ’ অর্থ ছোট শিশু।
‘মিলাদ’ শরীফ অর্থ হযরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্মোৎসব উদ্যাপন। তাছাড়া আল্ মিসবাহুল মুনীর, ফিরুজুল লুগাত, গিয়াসুল লুগাত, লুগাতে সুরাহ, প্রভৃতি আরবি অভিধানে ‘মিলাদ’শব্দের উপরোক্ত অর্থই উল্লেখ করা হয়েছে।
মোদ্দাকথা ‘মিলাদ’ শব্দটি জন্মকাল বা জন্মদিন ব্যতীত অন্য কোন অর্থে ব্যবহৃত হয় না। সুতরাং মিলাদুন্নবী, মাওলেদুন্নবী ও মাওলুদুন্নবী শব্দগুলির অর্থ হল, নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা জন্মকাল।
ইসলামের পরিভাষায় একমাত্র আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম সংক্রান্ত কাহিনী ও তদসম্বলিত ঘটনাবলী আলোচনা করা এবং এ অনুষ্ঠানকেই মিলাদুন্নবী বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে। সংক্ষেপে বলা হয় ‘মিলাদ শরীফ’।
মিলাদ শরীফ পাঠ করার ফজিলত
আল্লামা শিহাব উদ্দিন আহমদ ইবনে হাজর মক্কী হায়তামী শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বিশ্বখ্যাত ‘আন নিয়ামাতুল কুবরা’ আলাল আলাম নামক কিতাবে মিলাদ শরীফ পাঠ করার ফজিলত ও উপকারিতা সম্পর্কে কয়েকখানা হাদিস শরীফ ও ইমামদের মতামত বর্ণনা করেছেন।
অর্থাৎ হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন,
قال ابوبكر الصديق رضى الله عنه من انفق درهما على قراءة مولد النبى صلی الله عليه وسلم كان رفيق فى الجنة
অর্থাৎ যে ব্যক্তি নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিলাদ শরীফে এক দিরহাম খরচ করবে সে বেহেশতে আমার সঙ্গে দোস্ত হিসেবে থাকবে।
হযরত ওমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন যে,
قال عمر رضى الله عنه من عظم مولد النبى صلى الله عليه وسلم فقد احيا اللاسلام
অর্থাৎ যে ব্যক্তি নবীয়ে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামার মিলাদ শরীফের সম্মান করলো, নিশ্চয়ই সে ইসলামকে জিন্দা করল।
হযরত উসমান গণি রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন যে,
قال عثمان رضى الله عنه من انفق درهما على قراءة مولد النبى صلى الله عليه وسلم فكانما شهد غزوة بدر و حنين
অর্থাৎ যে ব্যক্তি নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিলাদ শরীফ পাঠে এক দিরহাম খরচ করল, সে যেন বদর ও হুনাইনের যুদ্ধে শরিক হল।’
শেরে খোদা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন-
قال على رضى الله عنه وكرم الله وجهه من عظم مولد النبى صلى الله عليه وسلم وكان سببا لقراءته لايخرج من الدنيا الا بالايمان ويدخل الجنة بغير حساب
অর্থাৎ যে ব্যক্তি নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিলাদ শরীফের সম্মান করল, তার মৃত্যু ঈমানের সাথে হবে। অর্থাৎ সে ঈমানদার হিসেবে মারা যাবে এবং বিনা হিসেবে বেহেশতে যাবে।’
ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি তায়ালা আলাইহি বলেন, যে ব্যক্তি নবীয়ে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিলাদ শরীফের জন্য বন্ধুবান্ধবকে একত্রিত করবে এবং তাদের জন্য খাদ্য পানীয় তৈরি করে রাখবে ও ভাল ভাল কাজ করবে। আল্লাহ তা’য়ালা কিয়ামতের দিনে নবীগণ, শহীদগণ ও সালেহগণের সঙ্গে তাঁর হাশর করবেন এবং সে জান্নাতে নাঈমে থাকবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন