একাদশতম খলীফা, খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম তিনি হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় সারা পৃথিবীতো অবশ্যই; এমনকি সীমাহীন প্রতাপ ও ব্যাপকতার সাথে সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন। সুবহানাল্লাহ!
| মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, وَلَقَدْ كَتَبْنَا فِىْ الزَّبُوْرِ مِنْ بَعْدِ الذِّكْرِ اَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِىَ الصّٰلِحُوْنَ. “আর নিশ্চয়ই আমি সম্মানিত যাবূর শরীফ উনার মধ্যে সম্মানিত যিক্র মুবারক উনার পর এই কথা লিপিবদ্ধ করে দিয়েছি যে, আমার সম্মানিত ছালিহীন বান্দাগণ উনারা সারা পৃথিবীর, সারা কায়িনাতের সম্মানিত ওয়ারিছত্ব মুবারক লাভ করবেন। অর্থাৎ উনারা সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত সূরা আম্বিয়া শরীফঃ সম্মানিত আয়াত শরীফঃ ১০৫) এই সম্মানিত আয়াত শরীফ উনার ব্যাখায় রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন, أَخْبَرَ اللهُ سُبْحَانَه وَتَعَالـٰى فِى التَّوْرَاةِ وَالزَّبُوْرِ وَسَابِقِ عِلْمِهٖ قَبْلَ اَنْ تَكُوْنَ السَّمٰوَاتُ وَالْاَرْضُ اَنْ يُّوَرِّثَ اُمَّةَ سَيّـِدِنَا حَبِيْبِنَا مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَرْضَ. “মহান আল্লাহ পাক তিনি সাত আসমান, সাত যমীন, সারা পৃথিবী, সারা কায়িনাত সৃষ্টি করার পূর্বে সম্মানিত তাওরাত শরীফ, সম্মানিত যাবূর শরীফ এবং পূর্ববর্তী সমস্ত সম্মানিত আসমানী কিতাব মুবারক উনাদের মধ্যে এই কথা লিখে দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে উনার সম্মানিত উম্মতগণ উনাদেরকে সারা পৃথিবীর, সারা কায়িনাতের সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক, সম্মানিত খিলাফত মুবারক হাদিয়া করেছেন। অর্থাৎ উনার সম্মানার্থে উনার সম্মানিত উম্মতগণ উনারা সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক করবেন, সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালন করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ত্ববারী ১৮/৫৪৯, দুররে মানছূর ৫/৬৮৬, ইবনে আবী হাতিম ৮/২৪৭১, ফাতহু ক্বাদীর ৩/৫১২, ইবনে কাছীর ৫/৩৮৫, খছাইছুল কুবরা ১/৫১, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১০/২৭৭ ইত্যাদী) ১০ম হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে যামান হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব ‘খছাইছুল কুবরা শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত যাবূর শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন, يَا حَضْرَتْ دَاودُ عَلَيْهِ السَّلَامُ ِاسْـمَعْ مَا أَقُوْلُ وَمُرْ حَضْرَتْ سُلَيْمَانَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَلْيَقُلْهُ لِلنَّاسِ مِن بَعْدِكَ إِنَّ الْاَرْضَ لِىْ اُوْرِثُهَا سَيّـِدَنَا حَبِيْبَنَا مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَوْ اُمَّتَه . “হে আমার সম্মানিত নবী এবং রসূল হযরত দাঊদ আলাইহিস সালাম, আমি যা বলি তা আপনি শুনুন এবং আপনি আমার পক্ষ থেকে আপনার যিনি সুমহান আওলাদ হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম যিনি আসমানের নিচে, যমীনের উপরে সারা পৃথিবীতে সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক করবেন, উনাকে এই সম্মানিত নির্দেশ মুবারক জানিয়ে দেন যে, তিনি যেন আপনার পর সমস্ত মানুষদেরকে, সমস্ত জিন-ইনসানকে জানিয়ে দেন যে, নিশ্চয়ই সারা পৃথিবীর, সারা কায়িনাতের মালিক হচ্ছি আমি মহান আল্লাহ রব্বুল আলামীন। আর আমি এই সারা পৃথিবীর, সারা কায়িনাতের সম্মানিত ওয়ারিছত্ব মুবারক, সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক হাদিয়া করেছি আমার যিনি হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এবং উনার সম্মানার্থে উনার সম্মানিত উম্মতগণ উনাদেরকে। অর্থাৎ উনার সম্মানার্থে উনার সম্মানিত উম্মতগণ উনারা সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক করবেন, সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (খছাইছুল কুবরা ১/৫২, ইযালাতুল খফা ১/১০১) অর্থাৎ নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে উনার সম্মানিত উম্মতগণ উনারা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় সারা পৃথিবীতো অবশ্যই; এমনকি সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক করবেন, সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন। সুবহানাল্লাহ! আর এই বিষয়টি আরো স্পষ্টভাবে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে, عَنْ حَضْرَتْ ثَوْبَانَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰی عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّ اللهَ زَوٰى لِىَ الْاَرْضَ فَرَاَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا وَاِنَّ اُمَّتِىْ سَيَبْلُغُ مُلْكُهَا مَا زُوِىَ لِىْ مِنْهَا. অর্থ: “বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত ছাওবান রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি (আমার সম্মানিত উম্মত উনাদের সম্মানিত শান-মান মুবারক উনাদের বহিঃপ্রকাশ ঘটানোর জন্য) আমার সম্মুখে সারা কায়িনাত অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরলেন। অতঃপর আমি সারা কায়িনাত, উনার মধ্যে যা কিছু রয়েছে এবং উনার যত প্রান্তসমূহ রয়েছে সমস্ত কিছু দেখে নিলাম। (কোনো কিছুই বাকী রইলো না।) আর নিশ্চয়ই আমাকে যেই পর্যন্ত দেখানো হয়েছে অতিশীঘ্রই আমার সম্মানিত উম্মত উনাদের সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক সেখানে যেয়ে পৌঁছবে। অর্থাৎ আমার সম্মানিত উম্মতগণ উনারা সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন।” (সুবহানাল্লাহ) (মুসলিম, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, মুসনাদে আহমদ ৫/২৭৮, ইবনে হিব্বান ১৫/১০৯, মুছান্নাফে আবী শায়বা ১১/৪৫৮, মুসনাদে রূয়ানী ১/১২০, আহকামুশ শরীয়াহ ১/২১৫, জামউল জাওয়ামি’, জামিউল আহাদীছ, ফাতহুল কাবীর, মাজমাউঝ ঝাওয়াইদ, জামিউল উছুল ইত্যাদি) সুতরাং উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা থেকে অত্যান্ত সুস্পষ্ট ও অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে উনার সম্মানিত উম্মতগণ উনারা হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় সারা পৃথিবীতো অবশ্যই; এমনকি সীমাহীন প্রতাপ ও ব্যাপকতার সাথে সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক করবেন, সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন। সুবহানাল্লাহ! আমরা জানি, সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে এই পর্যন্ত ৯ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনারা অতীত হয়েছেন। উনারা কেউ সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করেননি এবং সর্বশেষ ইমাম ও ১২তম খলীফা হযরত ইমাম মহাদী আলাইহিস সালাম তিনিও করবেন না। তাহলে সেই সুমহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনারা কারা? মূলত সেই সুমহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনারাই হচ্ছেন ১০ম খলীফা, মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল খুলাফা, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইছি ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি এবং উনার নায়িব, উনার কায়িম মাক্বাম, উনার হুবহু নক্বশা মুবারক উনারই সুমহান আওলাদ ১১তম খলীফা, খলীফাতুল উমাম আল মানছূর হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَلَكَ الْاَرْضَ اَرْبَعَةٌ مُّؤْمِنَانِ وَكَافِرَانِ فَالْــمُؤْمِنَانِ حَضْـَرتْ ذُو الْقَرْنَيْنِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ وَحَضْـَرتْ سُلَيْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَالْكَافِرَانِ نَـمْرُوْدُ وَبـُخْتُ نَصَّرَ وَسَيَمْلِكُهَا خَامِسٌ مّـِنْ اَهْلِ بَيْتِـىْ. অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সারা পৃথিবী শাসন করেছেন চারজন। দুজন হচ্ছেন মু’মিন আর দুজন হচ্ছে কাফির। মু’মিন দুজন হচ্ছেন- হযরত সিকান্দার যুলক্বরনাঈন রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম। আর কাফির দুজন হচ্ছে- নমরূদ এবং বখতে নছর। আর অতিশীঘ্রই পঞ্চম একজন সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারক, একজন সুমহান খলীফা আলাইহিস সালাম তিনি সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন। তিনি হবেন আমার সম্মানিত পূত-পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত।” (সুবহানাল্লাহ) (ইবনে জাওযী, মাকতূবাত শরীফ, শরহু ছহীহ বুখারী শরীফ ৮/৮৬, ফাতওয়ায়ে হাদীছিয়্যাহ শরীফ লিলহাইতামী ১/৮১, আল হাওই শরীফ লিসসুয়ূত্বী ২/৭৬ ইত্যাদী ) আর সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারকই হচ্ছেন, সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তিনি সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনা মুবারক অনুযায়ী নূরে মুজাস্সাম, হবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম উনার সম্মানার্থে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় সারা পৃথিবীতো অবশ্যই; এমনকি সীমাহীন প্রতাপ ও ব্যাপকতার সাথে শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ব্যতিত সারা কায়িনাত বলতে যা বুঝায় সেই সারা কায়িনাতব্যাপী সুদীর্ঘ ৩০-৪০ বৎসর যাবত সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন। সুবহানাল্লাহ! আর উনার পর উনার হুবহু নক্বশা মুবারক হয়ে, পরিপূর্ণ কায়িম মাক্বাম হয়ে উনার অনুকরণে উনার সুমহান আওলাদ, খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহি সালাম তিনিও সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী সুদীর্ঘ ৩০-৪০ বৎসর যাবৎ সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন। সুবহানাল্লাহ! আর উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনাকে কেউ বিনষ্ট করতে পারবে না। কেননা উনার মুবারক শানে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, وَاَمَّا الْـمَنْصُوْرُ فَلَا تُرَدُّ لَه رَايَةٌ অর্থ: “আর যিনি মহান খলীফা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম হবেন উনার সম্মানিত খিলাফতী নিশান মুবারক উনাকে কেউ অবনত করতে পারবে না। অর্থাৎ উনার সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক উনাকে কেউ বিনষ্ট করতে পারবে না।” সুবহানাল্লাহ। (জামিউল আহাদীছ ৭/৪২০, ১৭/২৫৭, বাইহাক্বী ও আবূ নাঈম উনদের বরাতে সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১০/৯২) আর উনার এই সম্মানিত খিলাফত মুবারকই উনার পরবর্তী বংশধর আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যম দিয়ে ১২তম ইমাম ও খলীফা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার পর্যন্ত যেয়ে পৌঁছবে, ক্বিয়ামত পর্যন্ত যেয়ে পৌঁছবে। সুবহানাল্লাহ! হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি উনারই মুবারক বংশধর হবেন। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِذَا مَاتَ الْـخَامِسُ مِنْ اَهْلِ بَـيْـتِـىْ فَالْـهَرْجُ فَالْـهَرْجُ حَتّٰى يَـمُوْتَ السَّابِعُ ثُـمَّ كَذٰلِكَ حَتّٰى يَقُوْمَ الْـمَهْدِىُّ. অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহ তা‘য়ালা আনহুমা উনার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, (আমার পূত-পবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে আমার একজন আখাচ্ছুল খাছ মহান খলীফা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি দুনিয়ার যমীনে, সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠা করবেন এবং সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপি মহাসম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচালন করবেন। উনার পর উনার সুমহান আওলাদ আলাইহসি সালাম তিনি খলীফা হবেন এবং সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপি মহাসম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচালনা করবের। অতঃপর উনার পরবর্তী মুবারক বংশধর আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে একজন খলীফা হবেন, উনার পর আবার আরো একজন খলীফা হবেন, এরূপ ধারাবাহিকভাবে খলীফা হতে থাকবেন এবং সম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচালনা করতে থাকবেন। এই মুবারক ধারাবাহিকতায়) যখন আমার সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে পঞ্চম খলীফা আলাইহিস সালাম তিনি (খলীফা হিসেবে প্রকাশ হবেন এবং সম্মানিত খিলাফত মুবারক পরিচালনা করে) সম্মানিত বিছাল শরীফ গ্রহণ করবেন, তখন ফিতনা শুরু হবে। অতঃপর ফিতনা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। আর এই ফিতনার মধ্যেই ষষ্ঠ ও সপ্তম খলীফা আলাইহিমাস সালাম উনারা দু’জন বিছাল শরীফ মুবারক গ্রহণ করবেন। অতঃপর ফিতনা দিন দিন আরো বৃদ্ধি পেতে থাকবে। তারপর তা যখন প্রকটরূপ ধারণ করবে, তখন মহান খলীফা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি এসে সেটাকে মিটিয়ে দিবেন।” সুবহানাল্লাহ! (জামি‘উল আহাদীছ লিস সুয়ূত্বী ৩৫/৪৪৯, আল হাওই লিস সুয়ূত্বী ২/৭৯, আল ‘উরফ লিস সুয়ূত্বী ১/১৪৬, আল ফিতান ১/২১৭ ইত্যাদি ) (চলবে ইনশাআল্লাহ) হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি দুনিয়ার যমীনে এসে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক দেখতে পাবেন, উনাকে নতুন করে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক ক্বায়িম করতে হবে না। আর এই বিষয়টি আবূ দাউদ, সুনানে ইবনে মাজাহ, জামিউল আহাদীছ, বাইহাক্বীসহ এবং আরো অন্যান্য অনেক বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ উনাদের দ্বারাও প্রমাণিত। সুবহানাল্লাহ! সুতরাং খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম তিনি হচ্ছেন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিস সালাম উনার পক্ষ থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত যতো উম্মত আসবে সমস্ত উম্মতের জন্য, গোটা বিশ্ববাসীর জন্য, পুরো কায়িনাতবাসীর জন্য একজন আখাচ্ছুল খাছ বিশেষ খলীফা তথা ১১তম খলীফা, খলীফাতুল উমাম, আল মানছূর আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! উনার মুবারক উসীলায়, উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক চলাকালীন সময়ে এবং পরবর্তী সময়ে বিশ্ববাসী দুনিয়াতে থেকেই সম্মানিত জান্নাতী সুখ-শান্তি মুবারক উপভোগ করবে। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে আবাদুল আবাদের তরে একাদশতম খলীফা, খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত আল মানছূর আলাইহিস সালাম উনার হাক্বীক্বী গোলামী করার তাওফীক্ব দান করুন। (আমীন) |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন