বুধবার, ১৫ জুন, ২০১৬

যিনি জামিউছ ছিফতে উসওয়াতুন হাসানাহ

যিনি জামিউছ ছিফতে উসওয়াতুন হাসানাহ
মুহম্মদ যায়েদ।


মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতময় সৃষ্টি সত্যিই বিস্ময়কর। সৃষ্টিকে নিয়ে ভাবলে মানুষ অক্ষম হয়ে যায়। যেমন সূর্য; এই সূর্যকে নিয়ে মানুষের গবেষণা কতটুকু এগিয়েছে? বলা হয়, বিজ্ঞান এখনো প্রসূতির ঘরে। সূর্য এমনি এক নক্ষত্র, যা বহুমুখী গুণের অধিকারী। জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যসহ সব কিছুই সূর্যের কিরণে উন্নত হতে অধিক উন্নত হয়। সূর্যের আলো আবার বহুরূপে প্রদর্শিত হয়। উদয়কালে একরূপ, অস্তকালে আরেক রূপ, দ্বিপ্রহরে অন্যরূপ। আর রংধনুতে আবার ভিন্ন রূপ। সূর্য একটি ছোট নক্ষত্র। সূর্যের চেয়ে কোটি কোটিগুণ বড় আরো অনেক নক্ষত্র রয়েছে। তাদের সম্পর্কে মানুষের কোনো জ্ঞান এখনো অর্জিত হয়নি। তবে এ কলাম মহাকাশের নক্ষত্রের জন্য নয়। এ কলামের যিনি আলোচ্য বিষয়, তিনি রূহানী জগতের এক সমুজ্জ্বল নক্ষত্র।
একেক ফুলের একক রকম ঘ্রাণ। আবার এমন অনেক ফুল রয়েছে, যেগুলোকে তুলনা করার কোনো ক্ষেত্র নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি আটখানা জান্নাত মুবারক তৈরি করেছেন। একেকগুণের বান্দা একেক জান্নাতে প্রবেশ করবেন। তবে এমন কতেক আখাছছুল খাছ বান্দা রয়েছেন, উনাদেরকে পুরো আটখানা জান্নাত হতেই আহবান করা হবে। যেমনটি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক হয়েছে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার কতিপয় বান্দা রয়েছেন, সর্বপ্রকার সর্বোত্তম গুণে উনারা গুণান্বিত। এমনি একজন মহাসম্মানিত অজুদ মুবারক উনার জন্য এ কলামসহ আমাদের সমস্ত কিছুই উৎসর্গকৃত।
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাাইহিম উনাদের মুবারক খুছূছিয়ত সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন- ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। অলীআল্লাহগণ উনারা প্রথমত, যাহিদ বা দুনিয়া বিরাগী। দ্বিতীয়ত, রগীব বা দায়িমীভাবে আখিরাতমুখী। তৃতীয়ত, নিজের আমল সম্পর্কে সর্বদা সজাগ বা সচেতন। চতুর্থত, মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতে সর্বদা মশগুল। পঞ্চমত, চরম পর্যায়ের পরহেযগার। ষষ্ঠত, মুসলিম উম্মাহর ইজ্জত ও আবরু রক্ষায় সতর্ক। সপ্তমত, উম্মাহর মাল সম্পদ হিফাযতে অত্যাধিক তৎপর। অষ্টমত, উম্মাহকে তিনি নছীহতকারী।
হিজরী সনের নবম মাসের নবম তারিখের রাত নয়টায় এ ধরাধামে বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন মুজাদ্দিদে আযম, হাবীবে আযম সাইয়্যিদুনা মামদুহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার লখতে জিগার, বাহরুল উলূম ওয়াল হিকাম, খাযীনুর রহমাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম।
বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাকে সমস্ত নিয়ামত মুবারক হাদিয়া করেই মহান আল্লাহ পাক যমীনে প্রেরণ করেছেন। তিনি চরম পর্যায়ের যাহিদ বা দুনিয়া বিরাগী। তাইতো এই মুবারক কৈশোরেও নিজেকে তিনি চার দেয়ালের মাঝে আটকে রাখেন। দুনিয়াদারী, হারাম- নাজায়িয, বেপর্দা-বেহায়াপনাসহ শরীয়তবিরোধী কোনো কিছু কোনোভাবেই উনাকে ¯পর্শ করতে পারে না। রিয়াজত-মাশাক্কাতের পূর্ণ অনুশীলনে তিনি দায়িমীভাবে ব্যাপৃত। যিনি দুনিয়া বিরাগী তিনি তো দায়িমীভাবেই আখিরাতমুখী হবেন, এটাই স্বাভাবিক। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি সর্বোচ্চ পর্যায়ের হুজুরীতে অভ্যস্ত। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত হয়েছে, “তোমরা হায়াতকে এমনভাবে অতিবাহিত করো, যেন তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখছো।” সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি এই হাদীছ শরীফ উনার পরিপূর্ণ মিছদাক। তাই তিনি উনার আমল মুবারক সম্পর্কে এতোই সচেতন যে, তিনি একটি মুস্তাহাব সুন্নতও কখনো তরক করেন না। উনার বাল্যকাল মুবারক হতেই উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ারের সুনছীব হয়েছে এই অধমের। এই অধম কখনো এক মুহূর্তের জন্যও উনাকে সুন্নত মুবারক উনার খিলাফ আমল করতে দেখেনি। অন্যান্য শিশুরা যে বয়সে হৈ হুল্লোড় আর ডানপিটে ভাব প্রকাশ করে থাকে, তিনি উনার সেই বয়স মুবারকে এক বিশেষ গাম্ভীর্যতা প্রকাশ করতেন। অর্থাৎ তিনি একদিকে উনার আমল মুবারক সম্পর্কে অত্যাধিক সচেতন, অপরদিকে মহান আল্লাহ পাক উনার স্মরণ মুবারক এবং নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক অনুসরণ ও অনুকরণে তিনি দায়িমীভাবে মশগুল। সুবহানাল্লাহ! আর এমন মহান ব্যক্তিত্ব সর্বোচ্চ পর্যায়ের পরহেযগার হওয়ার বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট।
সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি একদিকে খলীফাতুল উমাম, আরেকদিকে তিনি আল মানছুর। ইসলামবিমুখ হয়ে হারাম তন্ত্র-মন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ায় উম্মাহ যখন কাফির-মুশরিক কর্তৃক নির্যাতিত-নিপীড়িত, তখন অসংখ্য হাদীছ শরীফ উনাদের সুসংবাদ হয়ে খলীফাতুল উমাম রূপে তিনি তাশরীফান। সারা বিশ্বে পবিত্র কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফ এবং খিলাফত আলা মিনহাজিন নবুওয়াত প্রতিষ্ঠা করে উম্মাহকে নির্যাতন-নিপীড়ন হতে হিফাযত করতঃ জান্নাতী শান্তি স্থাপনে তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফে ঘোষিত “আল মানছুর” বা সর্বাধিক খোদায়ী সাহায্যপ্রাপ্ত। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি উম্মাহকে সর্বোত্তম নসীহতকারী। রাজারবাগ শরীফ সিলসিলাভুক্ত সকলেই সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার ইলহাম-ইলক্বা সমৃদ্ধ নসীহত মুবারক সম্পর্কে সম্যক অবগত। হীনম্মন্যতার দরুণ পিছিয়ে পড়া মুসলিম উম্মাহকে আবারো জাগাতে হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার জবানী ও কলমী নসীহত মুবারক সত্যি বেমেছাল।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে মহান ব্যক্তিত্ব উনার আমল দেখলে নেক আমল করার ইচ্ছা জাগে, নসীহত মুবারক শুনলে মহান আল্লাহ পাক উনার কথা স্মরণ হয়, তোমরা উনার অনুসরণ করো।”
এ কথা দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট যে, হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি এমনি অজুদ মুবারক, যিনি জামিউছ ছিফত বা সর্বপ্রকার সর্বত্তোম ছিফত বা গুণাবলীর অধিকারী। উনার স্মরণ বান্দাহ-উম্মতকে মহান আল্লাহ পাক উনার, নূরে মুজ্স্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবে আযম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাদের স্মরণ, অনুসরণ-অনুকরণে নতুনভাবে উদ্দমী এবং আগ্রহী করে তোলে।
মূলকথা হচ্ছে, বাহরুল উলূম ওয়াল হিকাম, খাযীনাতুর রহমাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি জামিউছ ছিফত রূপে উসওয়াতুন হাসানাহ। সকলের দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- বেশি বেশি উনার আলোচনা মুবারক করা। উনার অনুসরণ-অনুকরণ করা।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন