অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ: ঈদ মুসালমানের, কিন্তু পোশাক বিধর্মীর। রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার দেশে ঈদের বাজারে হিন্দি সিরিয়ালের চরম প্রভাব কেন?
| সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক। বাংলাদেশে বার্ষিক অর্থনীতির আকার প্রায় ১৪ লাখ কোটি টাকা। শুধু মাত্র রোযার মাসেই সার্বিক অর্থনীতিতে যোগ হয় দেড় লাখ কোটি টাকা। আর ঈদ অর্থনীতির সবচাইতে বড় চালিকাশক্তি হলো পোশাকের বাজার। কিন্তু আত্মঘাতী ও সর্বনাশা বিষয় হচ্ছে- আমাদের দেশের প্রায় গোটা ঈদ বাজারটি ভারতীয়দের দখলে। বৈধ-অবৈধ বিভিন্ন পথে ভারতীয় পোশাক আমাদের দেশে অনুপ্রবেশ করছে। গরুতে নিষেধাজ্ঞা দিলেও বাংলাদেশের ঈদের বাজারে সেমাই-মসলা থেকে শুরু করে জামা-কাপড়সহ সব পণ্যেই ভারতের প্রাধান্য। মফস্বল শহর, বিভাগীয় শহর, রাজধানী শহর, সমস্ত জায়গায় মার্কেটগুলোতে ভারতীয় নিম্ন মানের পোশাকের ছড়াছড়ি। ভারতীয় সিনেমার বিভিন্ন চরিত্রের শিল্পীদের নামে এসব পোশাক বিক্রি হয়। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বাংলাদেশের ঈদের বাজার দখল করে আছে ভারতীয় পোশাক। গত কয়েক বছর ধরে ঈদকে কেন্দ্র করে ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ও সিনেমার নায়িকাদের নামে ড্রেস বের হওয়ার হিড়িক পড়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক বাজার পুরোটাই থাকে ভারতীয় পোশাকের দখলে। এবার সে ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে এসেছে তথাকথিত জনপ্রিয় হিন্দি সিনেমা ‘বাজিরাও মাস্তানি’ নামের ড্রেস। বেশিরভাগ শপিংমলেই শোভা পাচ্ছে লং গাউনের মতো দেখতে ‘বাজিরাও মাস্তানি’। ক্রেতা বিক্রেতাদের ধারণা, এবারের ঈদ বাজারে মেয়েদের পোশাক হিসেবে মার্কেট মাতাতে এসেছে ফ্যাশানেবল এ ড্রেসটি। তরুণীদের পাশাপাশি মধ্যবয়সী নারী ক্রেতাদেরও দৃষ্টি কাড়বে আকর্ষণীয় ড্রেসটি। ইতোমধ্যে এমন সাড়াই পাচ্ছে বিক্রেতারা। রাজধানী অভিজাত শপিংমলগুলো থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, যেদিকেই চোখ যায় শুধু শোভা পাচ্ছে ভারতীয় পোশাকগুলো। এবারের ঈদ উপলক্ষে নতুন ড্রেস কালেকশনে ‘বাজিরাও মাস্তানি’র সাথে আরো রয়েছে, সারাহ, জারা নামে ভারতীয় দুটি লং ড্রেস। এছাড়া গত ঈদে বের হওয়া কিরণমালা, ঈশিতা ও ফ্লোরটাচ গাউন তো আছেই। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও শুধু ‘মাস্তানি’ নামে বের হয়েছে এটির আরেকটি মডেল। সরকারের উদসীনতার কারণে বস্ত্রখাতে ভারত এদেশের উপর আগ্রাসন চালাচ্ছে। দেশীয় বস্ত্রশিল্পকে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা চলছে। ভারতীয় বস্ত্র আসা বন্ধের জন্য সরকারের কাছে বছরের পর বছর ধরে ধর্ণা দিলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। বৈধ-অবৈধ পথে আসা এসব পোশাক দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। অথচ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিকার। আকাশ সাংস্কৃতির নামে ভারতীয় টিভির সিরিয়াল, কার্টুন ও হিন্দি সিনেমার দিকে শিশু-তরুণ-তরুণীদের ঝুঁকে পড়ায় যেমন দেশের মুসলমানদের নিজস্ব সংস্কৃতি-কৃষ্টি উপেক্ষিত হচ্ছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করায় দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে সেটা আরো বেড়েই চলেছে। আর ঈদ বাজারকে কেন্দ্র করে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ‘বিক্রির পর দাম পরিশোধ’ করার শর্তে পণ্য দেয়ায় দেশের বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ঝুঁকছে সেদিকেই বেশি। টিভি সিরিয়ালের অপসংস্কৃতিতে আকৃষ্ট হয়ে ভারতীয় পণ্যের প্রতি দেশের শিশু-তরুণ-তরুণীদের ঝুঁকে পড়া দেশের পোশাক শিল্প এবং অর্থনীতির জন্য খুবই খারাপ সঙ্কেত। মূলত, আকাশ সংস্কৃতির নামে ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসনে বর্তমানে দেশ বিপর্যন্ত। ভারতীয় সিরিয়ালের মূল উদ্দেশ্য হলো- হিন্দুত্ববাদী চেতনাকে মুসলমানদের মন ও মস্তিষ্কে গ্রথিত করা। ভারতীয় হিন্দি ও বাংলা সিরিয়ালগুলো শুরু হয় কথিত ‘মঙ্গলপ্রদীপ’ জ্বালানোসহ ব্যাকগ্রাউন্ডে হিন্দু শ্লোক বা ধর্মসংগীত দিয়ে। আবহসঙ্গীতে থাকে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, মন্দিরের ঘণ্টা, ঢোল-বাদ্য, পূজার সঙ্গীত ইত্যাদি। ওইসব সিরিয়াল দেখে বাংলাদেশের তরুণী-মহিলারা যেভাবে মাতাল হচ্ছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। অপরদিকে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ- দেশী শিল্পকে ধ্বংস করতেই ভারত থেকে পবিত্র ঈদ মৌসুমে পোশাক আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় নায়িকা-গায়িকাদের অনুকরণে পোশাক আমদানির সুযোগ দিয়ে সরকারই এদেশে অবাধ ভারতীয় সংস্কৃতির লালন ও প্রসার করছে। যা সংবিধানের ২৩নং অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট খেলাপ। সংবিধানের ২৩নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে।’ উল্লেখ্য, আমাদের সংবিধানের ২নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রধর্ম পবিত্র দ্বীন ইসলাম’। আর এদেশের ৯৮ ভাগ লোক মুসলমান। সুতরাং এদেশে কী করে পবিত্র দ্বীন ইসলামী আদর্শ ও ঐতিহ্যের বিপরীত পোশাক চলতে পারে? সঙ্গতকারণেই আমাদের দৃঢ় ও বুলন্দ এবং বলিষ্ঠ আওয়াজ- “সরকারকে অবিলম্বে ভারতীয় পোশাক নিষিদ্ধ করতে হবে। এছাড়া দেশে যে ৫০০ ফ্যাশন হাউস রয়েছে তারা যে পবিত্র দ্বীন ইসলামী আদর্শ উনার খেলাপ প্রায় বিবস্ত্র পোশাক তৈরি করছে এগুলো কঠোর হস্তে বন্ধ করতে হবে এবং উল্লেখযোগ্য শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। মনে রাখতে হবে- এদেশ ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশ। পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার সাথে সংঘাতপূর্ণ সংস্কৃতি পোশাক কিছুই এদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না।” মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে তা নছীব করুন। (আমীন) |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন