শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ: সমুদ্র সম্পদ আহরণে বিদেশী রাষ্ট্রকে আহ্বান বা তাদের সহযোগিতা নেয়া কেন? সক্ষমতা অর্জন করতে হবে নিজেদেরই। বিশেষ করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ: সমুদ্র সম্পদ আহরণে বিদেশী রাষ্ট্রকে আহ্বান বা তাদের সহযোগিতা নেয়া কেন? সক্ষমতা অর্জন করতে হবে নিজেদেরই। বিশেষ করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর ইতিহাস ভুলে গেলে চলবে না।

সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক। বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রে সম্পদ আহরণে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও জাহাজ দিয়ে ফ্রান্স সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে গত ইয়াওমুল আরবিয়া বা বুধবার বিবৃতি দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চীন সফরে ব্লু ইকোনমি ধারণা বাস্তবায়নে দেশটির সহায়তা চেয়েছে। আর এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে চীন। এছাড়া বাংলাদেশের অভ্যান্তরে এ বিষয়ক সক্ষমতা তৈরিতেও দেশটি সাহায্য করবে বলে জানিয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রীর সদ্য জাপান সফরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ ও সুষ্ঠু ব্যবহার, সমুদ্র গবেষণা, নৌপরিবহন এবং পর্যটনের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে থাকার বিষয়টি জাপানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, সমুদ্রে বাংলাদেশের এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ও আদর্শ মানচিত্র হয়েছে। এদেশের সর্বমোট সমুদ্রসীমা এখন ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার। কিন্তু এতে কি পরিমাণ সম্পদ আছে জানে না সরকার। এসব বিষয়ে কখনোই মনোযোগ দেয়া হয়নি। কোনো পরিসংখ্যানও নেই। বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে সমুদ্রসীমার প্রথম ১২ নটিক্যাল মাইল বাংলাদেশের সার্বভৌম সামুদ্রিক অঞ্চল। এর পরবর্তী ২০০ নটিক্যাল মাইল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল। আর উপকূল থেকে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপানের তলদেশে সকল প্রাণিজ ও খণিজ সম্পদ বাংলাদেশের। সমুদ্র থেকে মানুষ প্রতি বছর যে পরিমাণ সম্পদ আহরণ করে এবং এর উপর ভিত্তি করে পণ্য উৎপাদন করে তার অর্থনৈতিক মূল্য বছরে দাঁড়ায় প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। একইভাবে সমুদ্র অর্থনীতি বা ব্লু ইকোনমি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বঙ্গপোসাগরে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। দেশের অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনতে পারে সমুদ্রের এ অঞ্চলের খনিজ ও মৎস্য সম্পদ। উদাহরণ হিসেবে নরওয়ের কথা উল্লেখ করে বলা যায়। এক সময় দরিদ্র থাকলেও সমুদ্র সম্পদ আহরণের মাধ্যমে বর্তমানে সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে দেশটি। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে যে খনিজ সম্পদ আছে, তা পৃথিবীর অন্য কোনো সাগর, মহাসাগর, উপসাগরে নেই। মণি, মুক্তা, স্বর্ণ, লোহা, তামা, রুপা, প্রবালসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদের পাহাড় পাহাড় মজুদ রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য মতে, কক্সবাজারের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফের বদরমোকাম পর্যন্ত দীর্ঘ ১২০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকায় ২ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৯৮ টন খনিজ পদার্থ অপরিশোধিত অবস্থায় আছে। জিরকন, কায়ানাইট, গারনেট, ম্যাগনেট্রাস্ট, মোনাজাইট, লিউকঙ্কিনসহ সৈকতবালিতে প্রাপ্ত খনিজ সম্পদগুলোর বিপুল চাহিদা রয়েছে দেশ-বিদেশের শিল্প-কারখানায়। বাদামি রঙের মোনাজাইট অতি মূল্যবান পদার্থ। এই তেজস্ক্রিয় পদার্থ পারমাণবিক বোমা তৈরিতে এবং পারমাণবিক চুল্লিতে শক্তি উৎপাদক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। সমুদ্রের জোয়ারভাটা বা ঢেউকে ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। সামুদ্রিক শৈবাল থেকে জীবনরক্ষায় সহায়তাকারী নানা ধরনের ওষুধ পেতে পারি। আমাদের আগামী প্রজন্মের ওষুধের যোগান আসবে সমুদ্র থেকেই। বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের সূত্র মতে, সৈকত বালিতে মোট খনিজের প্রাক্কলিত মজুদের পরিমাণ ৪৪ লাখ টন। আর প্রকৃত সমৃদ্ধ খনিজের পরিমাণ প্রায় ১৭ লাখ ৫০ হাজার টন। বিশ্ববাজারে উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন এসব সামুদ্রিক খনিজ সম্পদ রফতানী করে আয় করা যেতে পারে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সাগর নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা ঈমানের দাবি এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশ। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আপনাদের জন্য সমুদ্রে শিকার ও সমুদ্রের খাদ্য হালাল করা হয়েছে আপনাদের উপকারার্থে।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৯৬) কার্যতঃ এক সমুদ্র সম্পদই যে গোটা বাংলাদেশবাসীর ভাগ্য ঘুরিয়ে দিতে পারে তাও সহজেই অনুমেয়। তবে বিশেষভাবে আমরা মনে করি, সমুদ্রভাগ তথা স্থলভাগে কোনো বিদেশী কোম্পানি আনা ঠিক হবে না। আমরা উৎপাদন-বণ্টন চুক্তির (পিএসসি) আওতায় সমুদ্র বহুজাতিক কোম্পানির হাতে তুলে দেয়ার তীব্র বিরোধী। আমাদের মতে, সময় বেশি লাগলেও বাপেক্সকে দিয়েই এই কাজ করানো উচিত। বাপেক্সকে দিয়ে করালে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। বিদেশীদেরকে দিয়ে কাজ করালেই যে দ্রুত সে কাজ শেষ হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ তারা ব্লক নিজেদের আয়ত্তে নিয়ে কাজ করে না- এমন নজির অনেক আছে। তাছাড়া বিদেশী কোম্পানি আনলে নিজের সম্পদ দেশের মানুষ ন্যায্যমূল্যে ভোগ করতে পারবে না। দেখা যাবে বঙ্গোপসাগর থেকে আহরিত আমাদের গ্যাস আমাদেরকেই বেশি মূল্যে কিনতে হবে। আমরা মনে করি, প্রয়োজনে বাপেক্স অন্য কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে অনুসন্ধান কাজ চলতে পারে। অথবা কিছু সময়অপেক্ষা করে দেশীয় কোম্পানিকে আরো দক্ষ ও যোগ্য করে সমুদ্র সম্পদ অনুসন্ধানে যাওয়া যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে ফ্রান্স, চীন, জাপান, ভারত, শ্রীলঙ্কা বা কোনো বিদেশী রাষ্ট্রকেই সম্পৃক্ত করা উচিত নয়। তাতে শুধু সমুদ্র সম্পদই লুণ্ঠন বা পাচার নয়, বরং সমুদ্র স্বাধীনতাও বিপর্যস্ত হতে পারে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইতিহাস তার বড় উদাহরণ। কাজেই এ ইতিহাস থেকে সরকার শিক্ষা নেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। সর্বোপরি পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ অনন্তকালব্যাপী পালন করার ইলম ও জজবা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। আর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)






কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন