শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সবচাইতে বেশি মুহব্বত করতেন,

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সবচাইতে বেশি মুহব্বত করতেন, সম্মান করতেন এবং উনার মাক্বাম মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পরেই জানতেন। সুবহানাল্লাহ!


মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, আওলাদে রসূল পবিত্র রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি অল্প কথা মুবারক-এ সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত ছানা-ছিফত, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক এইভাবে বর্ণনা করে থাকেন যে, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান রয়েছেন, সমস্ত মর্যাদা-মর্তবা, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারী তিনি। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عَن حَضْرَتْ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ بِضْعَةٌ مِنّـِىْ يُؤْذِينِىْ مَا اٰذَاهَا অর্থ: “হযরত মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিঃসন্দেহে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন, আমার সম্মানিত জিসম মুবারক উনার সম্মানিত গোশত মুবারক থেকে একখানা টুকরো মুবারক। তিনি হচ্ছেন আমার লখতে জিগার, নয়নের মণি। উনাকে যে সকল বিষয়গুলো কষ্ট দেয়, সেগুলো আমাকেও কষ্ট দেয়।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ) অন্য বর্ণনায় এসেছে, مَنْ اَحَبَّهَا فَقَدْ اَحَبَّنِىْ وَمَنْ اَبْغَضَهَا فَقَدْ اَبْغَضَنِىْ অর্থ: “যে ব্যক্তি উনাকে মুহব্বত করলো, সে মূলত আমাকেই মুহব্বত করলো। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি উনাকে অসন্তুষ্ট করলো, সে মূলত আমাকেই অসন্তুষ্ট করলো। নাঊযুবিল্লাহ!” তাই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সবচাইতে বেশি মুহব্বত করতেন, সম্মান করতেন এবং উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পরেই উনার সম্মানিত মর্যাদা মুবারক জানতেন। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে, عَنْ حَضْرَتْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنَّهٗ دَخَلَ عَلٰى حَضْرَتْ فَاطِمَةَ بِنْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ وَاللهِ مَا رَايْتُ اَحَدًا اَحَبَّ اِلٰى رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْكِ وَاللهِ مَا كَانَ اَحَدٌ مِنَ النَّاسِ بَعْدَ اَبِيْكِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَحَبَّ اِلَىَّ مِنْكِ. অর্থ: “খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি একদা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ গিয়ে বললেন যে, হে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আপনি ব্যতীত অন্য কাউকে আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অধিক প্রিয় দেখিনি। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আপনার সম্মানিত পিতা নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর মানুষের মধ্যে আপনিই হচ্ছেন আমার নিকট সর্বাধিক প্রিয়।” সুবহানাল্লাহ! (মুস্তাদরকে হাকিম ৩/১৫৫, জামিউল আহাদীছ ২৬/১০০) অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পর সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে বেশি মুহব্বত করতেন, সম্মান করতেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পর উনার সম্মানিত মাক্বাম মুবারক জানতেন। সুবহানাল্লাহ! অন্য বর্ণনায় এসেছে, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, يَا بِنْتَ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاللهِ مَا مِن الْـخَلْقِ اَحَدٌ اَحَبَّ اِلَيْنَا مِنْ اَبِيْكِ وَمَا مِنْ اَحَدٍ اَحَبَّ اِلَيْنَا بَعْدَ اَبِيْكِ مِنْكِ. অর্থ: “হে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আওলাদ, লখতে জিগার নয়নের মণি সাইয়িদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম, মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! আমরা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম- নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত মাখলূকাত থেকে সবচাইতে বেশি মুহব্বত করে থাকি। আর আপনার সম্মানিত পিতা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর আমরা আপনাকে সবচাইতে বেশি মুহব্বত করে থাকি, সম্মান করে থাকি। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ আপনার মাক্বাম আমরা মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পরেই জানি। সুবহানাল্লাহ!’





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন