বুধবার, ১৫ জুন, ২০১৬

যদি কামিয়াবী চাও, তবে খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে মুহব্বত করো -

যদি কামিয়াবী চাও, তবে খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে মুহব্বত করো
-

মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাপবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, সাবধান! “নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ পাক উনার ওলী উনাদের কোন ভয় নেই, চিন্তা পেরেশানীও নেই।” (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ আলাইহিস সালাম: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬২)
উক্ত আয়াত শরীফ নাযিল হলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করলেন। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা বুঝতে পারলাম যাঁরা আল্লাহ পাক উনার ওলী-আউলিয়া উনাদের দুনিয়া ও আখিরাতে কোন চিন্তা নেই, পেরেশানী নেই। তবে আমাদের জানার বিষয় হচ্ছে, এখনও যারা মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী হতে পারে নাই তাদের কি ফায়ছালা? অতঃপর সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি জাওয়াব দিলেন “যে যাকে মুহব্বত করে সে তারই অন্তর্ভুক্ত।” যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উক্ত মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ বললেন, তখন হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এত বেশি খুশি হলেন যা এর আগে এর পরে এরকম খুশি হননি। উনারা বললেন, আমাদের মুহব্বত, সম্পর্ক, নিছবত মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এবং উনারা নিশ্চিন্ত হয়ে গেলেন যে উনাদের দুনিয়া ও আখিরাতে পরিপূর্ণ কামিয়াবী। তাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যারা আহলে বাইত শরীফ রয়েছেন উনাদের সাথে সেজন্য উনাদের জান মাল তথা সমস্ত কিছুই মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য পরিপূর্ণরূপে ফানা করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!
বর্তমান যামানায় কায়িনাতবাসীর জন্য মহান এক নিয়ামত, রহমত, রবকত ছাকীনার যিনি ছাহিব। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ও খলীফা; নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চোখের মণি, লখতে জিগার এবং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ ও ইমাম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম, কুতুবুল আলম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার কলিজার টুকরা, আদরের দুলাল, প্রিয়তম আওলাদ, আওলাদে রসূল, নূরে মুকাররম, খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত মুমাদ্দাহ শাহযাদা ক্বিবলা আল হাসানী ওয়াল হুসাইনী ওয়াল কুরাঈশী।
ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইত হযরত ইমামুছ ছালিছ আলাইহিস সালাম উনার হাত মুবারকে লিখিত ‘গোলামের ছেলে গোলাম’ সেই কাগজ মুবারক তিনি নাজাতের তথা কামিয়াবীর মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করলেন। হযরত উমর ইবনুল খত্তাব আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আমি পূর্ববর্তী ধর্ম ত্যাগ করেছি, দুনিয়াবী ধন-সম্পদ ইত্যাদি ত্যাগ করেছি একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার আহলে বাইত শরীফ উনাদের সন্তুষ্টি লাভ করার জন্য। আজ আমি সেই সন্তুষ্টির সনদ লাভ করেছি। সুবহানাল্লাহ!
স্মরণীয় যে, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ-এর ৯ই তারিখ বাদ ইশা যমীনে তাশরীফ নেন। উনার সম্মানিত মাতা উম্মুল উমাম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, আমি যখন আমার পিতার লালন-পালনে। দুনিয়াবী দৃষ্টিতে আমার বয়স মুবারক কয়েক মাস ছিলো। ওই সময় একজন অপরিচিত মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী তিনি আমাকে দেখে বলেন যে, উনার একজন সন্তান হবে যিনি হবেন ‘খলীফাতুল্লাহ’ যিনি হবেন ‘খলীফাতুল উমাম’ তথা গোটা উম্মতের তিনি খলীফা হবেন।” সুবহানাল্লাহ!
কাজেই গোটা জ্বিন-ইনসানের জন্য ফরয-ওয়াজিব নূরে মুকাররম, খলীফাতুল উমাম, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার ছোহবতে এসে উনার হাক্বীক্বী মুহব্বত অর্জন করে দুনিয়া ও আখিরাতের পরিপূর্ণ কামিয়াবী হাছিল করা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন