বুধবার, ৮ জুন, ২০১৬

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, উম্মুল আইম্মাহ, উম্মুল হাসানাঈন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার কতিপয় বেমেছাল খুছূছিয়াত মুবারক

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, উম্মুল আইম্মাহ, উম্মুল হাসানাঈন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার কতিপয় বেমেছাল খুছূছিয়াত মুবারক



সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ তাশরীফ মুবারক রাখার পূর্বে বরকতময় ঘটনা: আল্লামা হাফিয আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহম্মদ মুহিব্বুদ্দীন ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৬৯৪ হিজরী) তিনি উনার বিশ্বখ্যাত কিতাব “যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা শরীফ” উনার মধ্যে উল্লেখ করেন, ان النبي صلى الله عليه وسلم قال أتانى حَضْرَتْ جبريل عليه السلام بِتُفَّاحَةٍ من الجنة فأكلتها وواقعت حَضْرَتْ خديجة عليها السلام فحملت بـحَضْرَتْ فاطمة عليها السلام অর্থ: “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, একদা হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি জান্নাত থেকে একখানা আপেল মুবারক নিয়ে আমার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত হন। অতঃপর আমি উক্ত জান্নাতী আপেল মুবারক খাই। এরপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি আমার সম্মানিত ছোহবত মুবারক গ্রহণ করেন। অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ ধারণ মুবারক করেন।” সুবহানাল্লাহ! (যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ, তারীখুল খমীস) এই সম্মানিত ওয়াকেয়া মুবারক দ্বারা সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার বেমেছাল খুছূছিয়াত বা বৈশিষ্ট্য মুবারক উনার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থানকালীন সময়ে মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সুসংবাদ মুবারক হাদিয়া: বর্ণিত রয়েছে যে, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থানকালীন সময়ে, একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম! হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে একখানা বিশেষ সুসংবাদ মুবারক নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেছেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, আপনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ আমার একজন মেয়ে আওলাদ আলাইহাস সালাম তিনি অবস্থান মুবারক করছেন। আমার সম্মানিত বংশ মুবারক উনার মাধ্যম দিয়ে দুনিয়ার যমীনে বিস্তার লাভ করবে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। সুবহানাল্লাহ! আর উনার বংশধরগণ অত্যন্ত দ্বীনদার, পরহেযগার এবং মহান আল্লাহ পাক উনার আখাচ্ছুল খাছ মাহবূব হবেন। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহিস সালাম তিনি এই সুসংবাদ মুবারক শুনে অত্যন্ত খুশি মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থানকালীন সময়ে উনার সম্মানিতা আম্মাজান উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব করেননি: আমরা জানি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করেন, তখন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রসূলিনা আলাইহাস সালাম তিনি কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব করেননি। সুবহানাল্লাহ! ঠিক একইভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি যখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অবস্থান মুবারক করেন, তখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনিও কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব করেননি। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, فحملت بحضرت فاطمة عليها السلام فقالت انى حملت حملا خفيفا অর্থ: “অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে উনার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ ধারণ মুবারক করেন। উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমি উনাকে আমার সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ অতি উত্তমভাবে এবং অতি সহজে ধারণ মুবারক করেছি। সুবহানাল্লাহ! অর্থাৎ এতে আমার কোনো প্রকার কষ্ট অনুভব হয়নি।” সুবহানাল্লাহ! (যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ১/৪৫, তারীখুল খমীস) সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ থাকা অবস্থায় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সবসময় বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক পেতেন: সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহিস সালাম তিনি সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ থাকা অবস্থায় উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সবসময় বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক পেতেন। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, فلما حملت حضرت خديجة عليها السلام بحضرت فاطمة عليها السلام وجدت رائحة الجنة تسعة أشهر فلما أرضعتها انتقلت الرائحة إليها فكان النبي صلى الله عليه وسلم إذا اشتاق إلى الجنة قبل حضرت فاطمة عليها السلام অর্থ: “যখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ ধারণ মুবারক করলেন, তখন থেকে তিনি দীর্ঘ ৯ মাস সম্মানিত বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক পেতে থাকলেন। অতঃপর যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করলেন, তখন উক্ত বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক উনার মাঝে শোভা পেতে থাকলো। সুবহানাল্লাহ! আর যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত জান্নাত উনার প্রতি আগ্রহী হতেন তথা বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক গ্রহণ করার ইচ্ছা মুবারক প্রকাশ করতেন, তখন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত চুমু মুবারক দিতেন।” সুবহানাল্লাহ! (নুযহাতুল মাজালিস ২/১৭১) বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সময় সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য জান্নাত থেকে বিশেষ সম্মানিত মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের আগমন: সাইয়্যিদাতুন নিসায়িল আলামীন, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার সময় উনার এবং উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক থেকে বিশেষ চার জন সম্মানিত মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করেন। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, دخل عليها أربع نسوة عليهن من الجمال والنور ما لا يوصف فقالت لها احداهن أنا امك حواء وقالت الاخرى أنا آسية بنت مزاحم وقالت الاخرى أنا كلثم أخت موسى وقالت الاخرى أنا مريم بنت عمران أم عيسى جئنا لنلى من أمرك অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য চারজন সম্মানিতা মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সম্মানিত হুজরা শরীফ-এ প্রবেশ করলেন, উপস্থিত হলেন। উনাদের চেহারা মুবারক অত্যন্ত সুন্দর ও নূরানী। ছূরতান উনাদেরকে পরিচিত মনে হচ্ছিল না। তখন উনাদের মধ্যে একজন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আমি আপনার সম্মানিতা আম্মাজান উম্মুল বাশার সাইয়্যিদাতুনা হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! অপরজন বললেন, আমিসাইয়্যিদাতুনা হযরত আসিয়াহ বিনতে মুযাহিম আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! অপরজন বললেন, আমি জলীল ক্বদর রসূলহযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহস সালাম উনার বোন হযরত উম্মু কুলছুম আলাইহাস সালাম। চতুর্থজন বললেন, আমি জলীল ক্বদর রসূল হযরত ঈসা রূহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিতা আম্মাজান হযরত মারইয়াম বিনতে ইমরান আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! আমরা এসেছি আপনার মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য।” সুবহানাল্লাহ! (যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা ১/৪৫) অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি কুদরতীভাবে উম্মুল আইম্মাহ, উম্মু আহলু বাইত, উম্মু আওলাদি রসূলিল্লাহ, উম্মুল হাসানাঈন, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের বিষয়টা ফায়ছালা করেন। অর্থাৎ তিনি কুদরতীভাবে মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! স্মরণীয় যে, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ছাহিবু ইলমিল আউওয়ালি ওয়াল ইলমিল আখিরি, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,“শুধু উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সময় নয়; বরং আবনাউ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের এবং হযরত বানাতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রত্যেকের মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সময়ই উনাদের মহাসম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক থেকে বিশেষ সম্মানিত মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে প্রেরণ করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! সিজদারত অবস্থায় এবং অঙ্গুলি মুবারক উত্তোলন করা অবস্থায় দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক: সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেমন সিজদারত অবস্থায় এবং অঙ্গুলি মুবারক উত্তোলন করা অবস্থায় দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রেখেছেন ঠিক তেমনিভাবে উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনিও সিজদারত অবস্থায় এবং অঙ্গুলি মুবারক উত্তোলন করা অবস্থায় দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রেখেছেন। সুবহানাল্লাহ! এই সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, قالت فولدت حَضْرَتْ فاطمة عليها السلام فوقعت حين وقعت على الارض ساجدة رافعة أصبعها. অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, অতঃপর সাইয়্যদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তিনি যখন দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন, তখন তিনি সিজদারত অবস্থায় এবং অঙ্গুলি মুবারক উত্তোলন করা অবস্থায় দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন।” সুবহানাল্লাহ! (যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা শরীফ ১/৪৫) উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত জিসম মুবারক থেকে সারা কায়িনাতে সম্মানিত নূর মুবারক বিচ্ছূরিত হওয়া: উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ এমনিতেই নূরানী। সুবহানাল্লাহ! তথাপি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের কারণে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত হুজরা শরীফ আরো নূরানী হয়ে গেলেন এবং উনার সম্মানিত জিসম মুবারক থেকে সম্মানিত নূর মুবারক বিচ্ছূরিত হতে লাগলেন। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত নূর মুবারক উনার আলোকে সমস্ত কিছু আলোকিত হয়ে গেলো। সুবহানাল্লাহ! পৃথিবীর চতুর্দিকে এবং সারা কায়িনাতে উনার সম্মানিত নূর মুবারক উনার আলো ছড়িয়ে পড়লেন। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত জান্নাত মুবারক থেকে সম্মানিত হুর উনাদের আগমন এবং জান্নাতী পানি দ্বারা গোসল মুবারক করানো: উম্মুল হাসানাঈন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহা সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের সময় উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত জান্নাত থেকে বিশেষ চার জন সম্মানিত মহিলা আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকেই শুধু প্রেরণ করেননি; বরং অসংখ্য ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম এবং অগণিত জান্নাতী সম্মানিত বিশেষ হুর-গেলমান উনাদেরকেও প্রেরণ করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ! জান্নাতী বিশেষ হুর উনাদের হাত মুবারক-এ গোসল মুবারক করানোর জন্য বড় বাটি এবং উজ্জ্বল, চাকচিক্য পানির মশক ছিলো। সুবহানাল্লাহ! প্রত্যেকটি মশক বেহেশতের সম্মানিত পবিত্র পানি দ্বারা পরিপূর্ণ ছিলো। এই সকল বিশেষ হুর উনারা অত্যন্ত আদবের সাথে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে বেহেশতের পানি দ্বারা সম্মানিত গোসল মুবারক করান এবং খুশবু মিশ্রিত জান্নাতী লেবাস মুবারক পরিধান করিয়ে দেন। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর উনারা অত্যন্ত আদবের সাথে উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত কোল মুবারক-এ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে তুলে দেন। সুবহানাল্লাহ! বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেই উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের জন্য প্রাথর্না: আল্লামা হাফিয আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহম্মদ মুহিব্বুদ্দীন ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৬৯৪ হিজরী)তিনি উনার বিশ্বখ্যাতকিতাব ‘যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা শরীফ’ উনার মধ্যে উল্লেখ করেন, قالت فولدت حَضْرَتْ فاطمة عليها السلام فوقعت حين وقعت على الارض ساجدة رافعة أصبعها. অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, অতঃপর সাইয়্যদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তিনি যখন দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন, তখন তিনি সিজদারত অবস্থায় এবং অঙ্গুলি মুবারক উত্তোলন করা অবস্থায় দুনিয়ার যমীনে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন।” সুবহানাল্লাহ! (যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ শরীফ ১/৪৫) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার পর পর সিজদারত অবস্থায় যেমন উনার উম্মতদের গুনাহ মাফের জন্য প্রার্থনা করেছেন, ঠিক তেমনিভাবে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনিও মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার পর পর সিজদারত অবস্থায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতদের গুণাহ মাফের জন্য প্রার্থনা করেছেন। উপরোক্ত ওকেয়াহ মুবারক সেই দিকেই ইঙ্গিত বহন করে। সুবহানাল্লাহ! সম্মানিত জিসম মুবারক থেকে বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক: কিতাবে বর্ণিত রয়েছে যে, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করার পর উনার সম্মানিত জিসম মুবারক থেকে বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক বের হতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক গ্রহণ করেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও উনার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম উনাকে সম্মানিত কোল মুবারক-এ নেয়ার পর সেই বেহেশতী সুঘ্রাণ লাভ করতে থাকেন। সুবহানাল্লাহ! যেটা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, فلما حملت خديجة بفاطمة رضي الله عنها وجدت رائحة الجنة تسعة أشهر فلما أرضعتها انتقلت الرائحة إليها فكان النبي صلى الله عليه وسلم إذا اشتاق إلى الجنة قبل فاطمة অর্থ: “যখন উম্মুল মু’মিনীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত রেহেম শরীফ-এ ধারণ মুবারক করলেন, তখন থেকে তিনি দীর্ঘ ৯ মাস সম্মানিত বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক পেতে থাকলেন। অতঃপর যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করলেন, তখন উক্ত বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক উনার মাঝে শোভা পেতে থাকলো। সুবহানাল্লাহ! আর যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত জান্নাত মুবারক উনার প্রতি আগ্রহী হতেন তথা বেহেশতী সুঘ্রাণ মুবারক গ্রহণ করার ইচ্ছা মুবারক প্রকাশ করতেন, তখন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে সম্মানিত চুমু মুবারক দিতেন।” সুবহানাল্লাহ! (নুযহাতুল মাজালিস ২/১৭১) সম্মানিত নাম মুবারক রাখা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ৭ম দিনে উনার পক্ষ থেকে আক্বীক্বাহ মুবারক দেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে উনার সম্মানিত নাম মুবারক রাখেন ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমাহ আলাইহাস সালাম’। উক্ত সম্মানিত নাম মুবারক উনার অর্থ মুবারক হচ্ছেন উদ্ধারকারিনী, পৃথককারিনী, রক্ষাকারিনী। সুবহানাল্লাহ! ‘ফাতিমা আলাইহাস সালাম’ নাম রাখার বেমেছাল হিকমত মুবারক: মূলত, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক অনুযায়ী উনার মহাসম্মানিতা আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক রাখেন ‘হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! এই নাম মুবারক রাখার পিছনে লক্ষ-কোটি হিকমত নিহিত রয়েছে। যেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম-কায়িনাতবাসীর চিন্তা ও কল্পনার বাইরে। সুবহানাল্লাহ! নিম্নে এই বিষয়ে সংক্ষিপ্তকারে কিছু আলোচনা করা হলো। সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عن حضرت أبي هريرة رضى الله تعالى عنه عن النبي صلّى الله عليه وسلم قال إنما سميت حضرت فاطمة عليها السلام لأن الله فطم من أحبها من النار. অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে যারা মুহব্বত করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন। সুবহানাল্লাহ! তাই উম্মু আবীহা সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক রাখা হয়েছে ‘হযরত ফাতিমাহ আলাইহাস সালাম’ ।” সুবহানাল্লাহ! (ইমাতুল আসমা’ ৪/১৯৬) সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عن حضرت جابر بن عبد الله رضى الله تعالى عنه قال قال رسول لله صلى الله عليه وسلم إنما سميت بنتي فاطمة عليها السلام لأن الله عز وجل فطمها وفطم محبيها عن النار অর্থ: “হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই আমার সম্মানিত বানাত (মেয়ে) সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক ফাত্বিমাহ রাখার কারণ হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে এবং উনার মুহব্বতকারীদেরকে জাহান্নাম থেকে পৃথক করেছেন, মুক্তি দিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী শরীফ) অপর বর্ণনায় এসেছে, عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول لله صلى الله عليه وسلم ابْنَتِي فَاطِمَةُ عليها السلام حَوْرَاءُ آدَمِيَّةٌ لَمْ تَحِضْ وَلَمْ تَطْمِثْ وَإِنَّمَا سَمَّاهَا فَاطِمَةَ عليها السلام لأَنَّ اللهَ فَطَمَهَا وَمُحْبِيهَا مِنَ النَّارِ. অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার সম্মানিত বানাত (মেয়ে), লখতে জিগার সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘মানবীয় হুর’। সুবহানাল্লাহ! মহিলাদের যে স্বাভাবিক মাজূরতা রয়েছে সেটা উনার নেই। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে এবং উনার মুহব্বতকারীদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তাই উনার সম্মানিত নাম মুবারক ‘হযরত ফাতিমাহ আলাইহাস সালাম’ রাখা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখে বাগদাদ, কানযুল ‘উম্মাল) সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عن حضرت على عليه السلام قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لحضرت فاطمة عليها السلام يا فاطمة عليها السلام تدرين لم سميت فاطمة قال حضرت على عليه السلام يارسول الله لم سميت فاطمة عليها السلام قال ان الله عزوجل قد فطمها وذريتها عن النار يوم القيامة অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরতকাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করেন, হে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম! আপনার কি জানা রয়েছে যে, কেন আপনার নাম মুবারক ‘হযরত ফাতিমাহ আলাইহাস সালাম’ রাখা হয়েছে? সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত নাম মুবারক ‘হযরত ফাতিমা আলাইহাস সালাম’ রাখা হয়েছে? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত বংশধর আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে ক্বিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত করেছেন। সুবহানাল্লাহ! এই জন্য উনার নাম মুবারক রাখা হয়েছে, ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাতিমাহ আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ! (যাখায়িরুল ‘উক্ববাহ ফী মানাক্বিবে যাওইল কুরবা শরীফ ১/২৬) সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عَنْ حضرت عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ فَاطِمَةَ أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَحَرَّمَ اللهُ ذُرِّيَتَهَا عَلَى النَّارِ. অর্থ: “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাস‘ঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি উনার চরিত্র মুবারক পবিত্র থেকে পবিত্রতম রেখেছেন, ফলে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার এবং উনার বংশধর উনাদের উপর জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে বাযযার, হিলইয়াতুল আউলিয়া, মুস্তাদরকে হাকিম, আস সওয়ায়িকুল মুহরিক্বহ) সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, উম্মুল আইম্মাহ, উম্মুল হাসানাঈন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে যারা মুহব্বত করবেন, উনারা প্রত্যেকই নাজাতপ্রাপ্ত। সুবহানাল্লাহ! আর এই বিষয়টি উনার সম্মানিত নাম মুবারক থেকেই স্পষ্টভাবে প্রকাশিত। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, উম্মুল আইম্মাহ, উম্মুল হাসানাঈন সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে মুহব্বত করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন