পবিত্র ৯ই ছিয়ামের সেই সন্ধ্যাতে...
পবিত্র মাগরিব উনার আযান ধ্বনিত হয়েছে। এটা আসমান ও যমীনের দৃশ্যপট পরিবর্তনের সময়। তাই আকাশের মানচিত্রে ও সৃষ্টি জগতের মাঝে আয়োজনের ঘনঘটা। পাখিরা তখন আপন নীড়ে ফিরে গিয়ে তাসবীহ জপছে। সূর্যটা দিগন্তের আড়ালে দাঁড়িয়ে ৯ সিয়ামের চাঁদকে স্বাগত জানাচ্ছে। নদীর স্রোতধারা আধো- আঁধারে স্থির হয়ে প্রহর গুনছে। পত্র-পল্লবও তখন স্থির; কেননা বায়ু প্রবাহ অত্যন্ত মৃদু। বাতাসে শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক তখন শূন্যের কোঠায়। সবাই স্তব্ধ হয়ে ইন্তেজার করছে। আকাশের অরুন রাগ মিলিয়ে গিয়ে সফেদ নিলীমা ছড়িয়ে পড়ছে। মেঘেরা দিগন্ত ঘেঁষে শিষ্টাচার চিত্তে দাঁড়িয়ে। একটা নিরবচ্ছিন্ন অনাবিলতা সর্বত্র বিরাজমান। চারদিক স্বচ্ছ, সৌম্য, মৌন, নীরব, নিঃস্তব্ধ, নির্মল সুশান্ত। রাত্রি শুরু হয়েছে ছলাতুল মাগরিবের সময় শেষ। এক্ষুনি আল্লাহু আকবার আযানের ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হবে। ওলীআল্লাহ, গাউছ-কুতুব, মু’মিন-মুত্তাক্বী ও আশিক-আশিকা, আসমানবাসী-যমীনবাসী সকলেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষিত। এমনই ক্ষণে, মধ্য আকাশ ¯িœগ্ধ আলোয় আলোকিত করে ফুটে উঠলো ৯ সিয়ামের মোহনীয় চাঁদ; অর্ধাংশ ছাপিয়ে চাঁদটি আজ এক অনুপম অবস্থানে। সেই সাথে হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক কোলে আসন গ্রহণ করলেন এক মহান সত্তা। কায়িনাতের সবাই হঠাৎ যেন জেগে উঠলো; দিকহারা ওই দিকপার থেকে ভেসে এলো ত্বলায়াল- ধ্বনির শোর আওয়াজ: ‘মারহাবা! আহলান সাহলান, মারহাবা, খলীফাতুল উমাম।’ |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন