সুমহান পবিত্র ৯ই রমাদ্বান শরীফ ‘নূরানী চাঁদ’ উঠলো বাংলার আকাশে
| মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক (উনার খাছ ওলী হিসেবে) যাঁকে ইচ্ছা তাঁকেই মনোনীত করেন।” (পবিত্র সূরা শুরা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩) আরবী পঞ্চদশ শতাব্দী। গাছে গাছে ফুল ফুটেছে। পাখিদের কণ্ঠে সুমধুর সুরের বন্যা ছড়াচ্ছে বসন্তের সমারোহ চারদিকে। ঐ জান্নাত থেকে ভেসে আসা মৃদু মৃদু হাওয়া বইছে। গোটা সৃষ্টির মাঝে ঈদের খুশির ঢেউ ছড়াচ্ছে। কি যেন এক খোদায়ী বেশুমার খুশির আমেজ। আজ সারা কায়িনাতে রহমতের সর্বত্রই ছড়াছড়ি। সেই রহমতের হিস্সা সমস্ত মাখলুকাত লাভ করছে। মু’মিন মু’মিনাদের অন্তরে ঈমানী জজবার ফোয়ারা। সুবহানাল্লাহ! সেই যে এক শহর, বড় শহর। যার ইতিহাস অনেক বড়। যার নাম ঢাকা শহর। এই শহরের মধ্যে প্রসিদ্ধ মুবারকময় পবিত্র স্থান রাজারবাগ শরীফ। কে না জানে এই পবিত্র ভূমির কথা। সবারই অন্তরে গাঁথা মুখে মুখে রাজারবাগ দরবার শরীফ উনার কথা। সূর্য তখনও হাঁসতে শুরু করেনি। রাতের অন্ধকার দূরীভূত হয়ে জ্যোৎসনার চন্দ্রের আলোয় আলোকিত হচ্ছে সারা যমীন। জান্নাত থেকে হুর গেলমানরা দলে দলে আসছে উনার খিদমতে। কত ওলী, আউলিয়া, কুতুব-আবদাল, আশিক-আশিকানের ভীড়। একটু স্থান ফাঁকা নেই। সবাই যেন দাঁড়িয়ে পবিত্র ছলাত শরীফ ও পবিত্র সালাম শরীফ পাঠ করছে। সকলের মুখে মুখে আনন্দচিত্তে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে উচ্চারিত হচ্ছে “ত্বলায়াল বাদরু আলাইনা........”। সমস্ত মাখলুকের মুখে মুখে মুখভরা মুচকি হাসি আর হাসি। সকলেই আলাপ-আলোচনা করছেন আজকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র ‘সাইয়্যিদ’ বংশে উনার আওলাদ হিসেবে দুনিয়ায় তাশরীফ নিচ্ছেন পঞ্চদশ শতাব্দীর সুমহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস্ সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, গাউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রিয় লখ্তে জিগার, পূত-পবিত্র আওলাদ খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। রাত্রি শুরু হয়েছে ছলাতুল মাগরিবের সময় শেষ। এক্ষুনি আল্লাহু আকবার আযানের ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হবে। ওলীআল্লাহ, গাউছ-কুতুব, মু’মিন-মুত্তাক্বী ও আশিক-আশিকা, আসমানবাসী-যমীনবাসী সকলেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষিত। আকাশে-বাতাসে, জান্নাতের পাখ-পাখালির মুখে মুখে, পাহাড়-পর্বতে, সমস্ত সৃষ্টির মাঝে বইছে ঈদের খুশি। সবারই মুখে মুখে উচ্চারিত হচ্ছে ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক! ঈদ মুবারক। চাতক পাখির মতো মাখলুক অপেক্ষিত, হা হা করছে সবারই অন্তর মাঝে। কখন উঠবেন জ্যোৎসনার সেই চাঁদ। কখন প্রকাশ পাবেন, কবে নিয়ে আসবেন মুক্তির বার্তা। এমনি এক সময় মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পছন্দনীয় সময়ে, পবিত্র মাসে পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ মাহবুব, প্রিয় বান্দা এবং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আদরের দুলাল, চোখের মণি, লখতে জিগার, প্রিয়তম আওলাদ এবং যামানার ইমাম, মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল ওলী মুজাদ্দিদে আ’যম, হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, হুজ্জাতুল ইসলাম, কুতুবুল আলম, ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সবচেয়ে প্রিয়পাত্র, কলিজার টুকরা, চোখের মণি, লখতে জিগার, প্রিয়তম আওলাদ, সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! সেই রাতটি ছিল ইছনাইনিল আযীম শরীফ বা সোমবার, ৯ই রমাদ্বান শরীফ ইশা উনার ওয়াক্ত। সুবহানাল্লাহ! |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন