শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬

সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারক-এ বেয়াদবী করার কারণে আবু লাহাবের পুত্র উতবাহ ও উতাইবার কঠিন পরিণতি

সম্মানিত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারক-এ বেয়াদবী করার কারণে আবু লাহাবের পুত্র উতবাহ ও উতাইবার কঠিন পরিণতি

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “যে ব্যক্তি উনাকে অর্থাৎ আমার আহালে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের কষ্ট দিলো, সে যেন আমাকে কষ্ট দিলো” মহান আল্লাহ পাক তিনি নাযিল ‘পবিত্র সূরা লাহাব শরীফ’ নাযিল করলেন, তখন আবূ লাহাব সে তার দুই পুত্রকে বললো, আমি পুনরায় তোমাদের চেহারা দেখবো না, যদি না তোমরা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক থেকে মাহরূম হয়ে না যাও।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (উসদুল গবাহ) আর তাদের মা উম্মে জামীল বলেছিলো, “তোমরা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনাদের থেকে জুদা হয়ে যাও। তারা তাদের মায়ের কথা অনুযায়ী কাজ করলো। ফলশ্রুতিতে উতবা সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক থেকে মাহরূম হয়ে গেলো এবং উতাইবাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম সম্মানিত খিদমত মুবারক থেকে মাহরূম হয়ে গলো। উনারা তখনও তাদের ঘরে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেননি।” (উসদুল গবাহ) কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে, “সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে উতাইবার এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সাথে উতাইবার ভাই উতবার আক্বদ মুবারক হয়েছিলো। কিন্তু উনারা তখনও তাদের গৃহে তাশরীফ মুবারক রাখেননি। এর পূর্বেই উতাইবার বাবা-মা তাকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক থেকে মাহরূম হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলো, যেমনিভাবে উতবাকে নির্দেশ দিয়েছিলো সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক থেকে মাহরূম হয়ে যাওয়ার জন্য। উতাইবাহ তার বাবা-মার নির্দেশ পেয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত হয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বললো, “আমি আপনার সম্মানিত দ্বীন উনাকে অস্বীকার করলাম এবং আপনার আওলাদ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক থেকে মাহরূম হয়ে গেলাম। আপনি আমাকে মুহব্বত করেন না, আমিও আপনাকে মুহব্বত করি না। না‘ঊযুবিল্লাহ! অর্থাৎ আপনার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। না‘ঊযুবিল্লাহ! অতঃপর সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং উনার সম্মানিত কোর্তা মুবারক ছিঁড়ে ফেলে। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উতাইবার এই অচরণে চরম অসন্তুষ্ট হন এবং তার বিরুদ্ধে বদ দোআ করেন, “সাবধান! নিশ্চয়ই আমি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করছি, তিনি যেন উনার কুকুরসমূহ থেকে একটি কুকুরকে তোমার উপর লেলিয়ে দেন।” অপর বর্ণনায় এসেছে, “অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, আয় আল্লাহ পাক, আপনি আপনার কুকুরসমূহ থেকে একটি কুকুরকে তার উপর লেলিয়ে দিন।” (দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী, যখায়েরুল ‘উক্ববাহ) অপর বর্ণনায় এসেছে, “উতবাহ ইবনে আবূ লাহাব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গালি দিয়েছিলো, উনাকে কষ্ট দিয়েছিলো এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ও সম্মানিত কুরআন শরীফ উনাদেরকে নিয়ে উপহাস করেছিলো, ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছিলো। নাঊযুবিল্লাহ! ফলশ্রুতিতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উতবার বিরুদ্ধে বদ দোয়া করেছিলেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, “আয় আল্লাহ পাক, আপনি আপনার কুকুরসমূহ থেকে একটি কুকুরকে তার উপর লেলিয়ে দেন।” সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র যবান মুবারক নিঃসৃত উপরোক্ত বাণী মুবারক শোনে উতবাহ ও উতাইবার মনে ভীষণ ত্রাসের সঞ্চার হলো। এমনকি তাদের পিতা আবূ লাহাবের মনেও সেদিন থেকে একটি প্রবল ভীতির সৃষ্টি হলো। সেদিন থেকে উতবাহ, উতাইবাহ এবং আবূ লাহাবের চেহারায় সেই ত্রাস ও ভীতির নিদর্শন এমনভাবে ফুটে উঠলো যে, যে কোন লোক তাদেরকে দেখেই মনে করতো যে, নিশ্চয়ই আবূ লাহাব ও তার দুই পুত্র উতবাহ ও উতাইবাহ কোনো অশুভ চিন্তায় আক্রান্ত হয়েছে। এভাবে কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর আবূ লাহাব তার দুই পুত্রকে নিয়ে সিরিয়ায় বাণিজ্য যাত্রার জন্য প্রস্তুত হলো। কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদের বিরুদ্ধে বদ দোয়া করার পর তারা যে ত্রাস ও ভীতির শিকার হয়েছিলো, তা তখনও তাদের মধ্যে পূর্ণরূপে বিরাজমান ছিলো। সিরিয়ায় বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে পথিমধ্যে একস্থানে রাত যাপনের জন্য তাঁবু খাটালো। কেউ কেউ উক্ত স্থানের নাম যারক্বা’ বলে উল্লেখ করেছে। কিন্তু এ সময় তাদের সেই ভীতি ও ত্রাস আরো প্রবল আকার ধারণ করলো। যার কারণে তারা নিরাপত্তার জন্য তাঁবুর চারদিকে তাদের ব্যবসায়িক পণ্যসমূহ উঁচু করে স্তূপাকার করে রাখল এবং তার মাঝখানে উতবাহ ও উতাইবার জন্য শোয়ার ব্যবস্থা করলো। যাতে করে কোনো জীবজন্তু তা অতিক্রম করে উতবাহ ও উতাইবাহকে হঠাৎ করে হামলা করতে না পারে। কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি যদি কাউকে নিশ্চিহ্ন করতে চান, তাহলে কায়িনাতের বুকে দ্বিতীয় কেউ নেই তাকে রক্ষা করে। গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমে অচেতন, তখন অত্যন্ত ভয়ঙ্কর গর্জন করে দুইটি সিংহ লাফ দিয়ে পণ্যের উঁচু স্তূপ ডিঙ্গিয়ে উতবাহ ও উতাইবাহর ঘাড়ের উপর যেয়ে পড়লো এবং চোখের পলকে তাদের ঘাড় মটকিয়ে তাদেরকে পিঠে নিয়ে উধাও হয়ে গেল। কাফেলার যেসব লোক তাঁবু প্রহরায় নিযুক্ত ছিলো তারা সবাই ভীত চকিত নয়নে এই ভয়ানক দৃশ্য দেখলো; কিন্তু তাদের কিছুই করার ছিলো না। মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে যখন গযব আসে, তখন এভাবেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে হয়। মুহূর্তের মধ্যে কাফেলার লোকজনের মাঝে হুলুস্থ’ুল পড়ে গেলো। কান্নার রোল উঠলো। কিন্তু করার কিছুই অবশিষ্ট থাকলো না। আবূ লাহাবের এ যাত্রায় আর সিরিয়া গমন করা হলো না। সে সেখান থেকেই বিষাদ ভারাক্রান্ত চিত্তে সম্মানিত মক্কা শরীফ ফিরে এলো।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন