শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০১৬

পবিত্র ক্বদর উনার রাত্রির মর্যাদা, ফযীলত ও খুছূছিয়ত সম্পর্কে

পবিত্র ক্বদর উনার রাত্রির মর্যাদা, ফযীলত ও খুছূছিয়ত সম্পর্কে


মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিশ্চয়ই আমরা উহা (পবিত্র কুরআন শরীফ) নাযিল করেছি ক্বদর উনার রাত্রে অর্থাৎ পবিত্র ক্বদর উনার রাতে সম্পূর্ণ পবিত্র কুরআন শরীফ দুনিয়ার আকাশে অবস্থিত পবিত্র বাইতুল ইজ্জতে নাযিল করেন। আপনি কী জানেন পবিত্র ক্বদর উনার রাত্রি কী? অর্থাৎ আপনি তো জানেন পবিত্র ক্বদর উনার রাত্রি কি। অর্থাৎ আপনি তো জানেন পবিত্র ক্বদর উনার রাত্রি সম্পর্কে। পবিত্র ক্বদর উনার রাত্রি হাজার মাস থেকেও উত্তম। তাদের রব উনার অনুমতিক্রমে রূহ (হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম) ও হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা এ রাতে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন, প্রত্যেক কাজে বা হুকুমে। শান্তি নাযিল হয়, উহা (পবিত্র ক্বদর উনার রাত্রি) ফযরে উদয় হওয়া পর্যন্ত (বলবৎ থাকে)।” (পবিত্র সূরা আল ক্বদর শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫) প্রথম পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র ক্বদর উনার রাত্রিতে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করেন অর্থাৎ পবিত্র ক্বদর উনার রাতে সম্পূর্ণ পবিত্র কুরআন শরীফ পবিত্র লৌহে মাহফুয থেকে দুনিয়ার আকাশে অবস্থিত পবিত্র বাইতুল ইজ্জত শরীফ-এ নাযিল করেন। যা পরবর্তীতে ২৩ বছরব্যাপী নাযিল হয়। দ্বিতীয় পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন যে, তিনি উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইলমে গইব দান করেছেন; যা ‘মুসলিম শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে। স্বয়ং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত ইলম হাদিয়া করেছেন।” সুবহানাল্লাহ! তৃতীয় পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বলা হয়েছে, পবিত্র ক্বদর উনার রাত্রি হাজার মাস থেকেও উত্তম। আর হাজার মাস হলো ৮৩ বছর ৪ মাস। অর্থাৎ কেউ যদি পবিত্র লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদত-বন্দেগী করে তাহলে সে ৮৩ বছর ৪ মাস বা হাজার মাস ইবাদত-বন্দেগী করে যত ফযীলত লাভ করার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি ফযীলত লাভ করবে। চতুর্থ ও পঞ্চম পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র ক্বদর উনার রাত্রির খুছূছিয়ত বা বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেন। আর তাহলো পবিত্র ক্বদর উনার রাত্রি ফযীলতের কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে একদল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরসহ যমীনে পাঠান। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, “হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি একদল হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরসহ যমীনে আসেন মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশে মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে চারখানা পতাকা নিয়ে। যা স্থাপন করেন পর্যায়ক্রমে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে একখানা, পবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে একখানা, পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস শরীফ উনার মধ্যে একখানা, আরেকখানা সিনাই প্রান্তরে অবস্থিত তুর পাহাড়ে। আরো নিয়ে আসেন রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও সালাম বা শান্তি; যা মাগরিব থেকে শুরু করে ছুবহে ছাদিক পর্যন্ত প্রতিটি কাজেই নাযিল করা হয়।” সুবহানাল্লাহ! এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, কেউ যদি পবিত্র লাইলাতুল ক্বদরে পবিত্র ঈমান ও ইয়াক্বীনের সহিত ইবাদত-বন্দেগী করে তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার জীবনের সমস্ত গুনাহখতা ক্ষমা করে দিবেন। সুবহানাল্লাহ! অতএব, উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রতিভাত হলো যে, পবিত্র ক্বদর উনার রাত্রির ফযীলত, মর্যাদা, খুছূছিয়ত বেমেছাল যা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন