বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬

পান চাষে সুদিন ফিরে এসেছে গাইবান্ধায়


পান চাষে সুদিন ফিরে এসেছে গাইবান্ধায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় পান চাষে সুদিন ফিরে আসছে অনেকেরই। লাভজনক হওয়ায় পান চাষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে পার্শ্ববর্তী দুটি উপজেলাতেও। স্থানীয় পানচাষীরা সপ্তাহে প্রায় অর্ধকোটি টাকার পান বিক্রি করছেন। পলাশবাড়ী-ঘোড়াঘাট সড়কের পাশে ‘ছোট শিমুলতলা’ এবং রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের পাশের ‘কোমরপুর’ এখানকার বড় দুটি পানহাট বসে। এর মধ্যে শিমুলতলার পানবাজার রোববার ও কোমরপুর বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে। দুটি হাট থেকেই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই পান সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ীরা। এ দুই হাটে সপ্তাহে অন্তত অর্ধকোটি টাকার পান বেচাকেনা হয়। ছোট শিমুলতলা হাটে আসা ঢাকার শ্যামবাজারের পান ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী বলেন, ‘সারা দেশে পলাশবাড়ীর পানের সুনাম রয়েছে। তাই নিয়মিত এ হাট থেকে পান কিনে ব্যবসা চালিয়ে আসছি।’ পান বিড়া হিসেবে ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। ৮০টি পানে এক বিড়া গণনা করা হয়। প্রতি বিড়া ১০০ টাকা দরে ১ হাজার বিড়া পান কিনেছেন বলে জানান তিনি। সদরের শিমুলিয়া গ্রামের পানচাষী সৈয়দ আলী জানান, পলাশবাড়ী সদর ইউনিয়নের শিমুলতলা, কালুগাড়ি, হিজলগাড়ি, শিমুলিয়া, হরিণমারী, গোয়ালপাড়া, নূরপুর, হোসেনপুর ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর, ঝাপড়, দিগদাড়ী, বরিশাল ইউনিয়নের রামপুর, দুবলাগাড়ী, ভবানীপুর গ্রামে সবচেয়ে বেশি পান চাষ হয়ে থাকে। শিমুলতলা গ্রামের পানচাষী রাজা মিয়া জানান, বছরের সবসময়ই পান চাষ হয়। পান চাষের জন্য বাঁশের জাংলা দিয়ে গোটা জমি ঢেকে বরজ তৈরি করতে হয়। এতে উপকরণ হিসেবে লাগে বাঁশের তৈরি শলা, উড়ানি, জাংলা, সাপটা, গজ ও পল। এভাবে এক বিঘা জমিতে পানের বরজ তৈরিতে খরচ হয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কালুগাড়ি গ্রামের পানচাষী আবুল হোসেন জানান, পান চাষের ৩-৪ মাসের মাথায় পান তোলা যায়। এক বিঘা জমিতে পান চাষে খরচ হয় ১ লাখ টাকা। বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার পান বিক্রি হয়। পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম জানান, উপজেলায় ৬২ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় প্রায় এক হাজার বরজে পান চাষ হচ্ছে। পানচাষীদের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে পরিসংখ্যান চলছে। অন্যান্য ফসলের ন্যায় পানের ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। পান গাছ দীর্ঘজীবী হওয়ায় একটি পান গাছ থেকে ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত পান পাওয়া যায়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আ ক ম রুহুল আমিন জানান, লাভজনক হওয়ায় জেলায় পান চাষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। পলাশবাড়ী ছাড়াও জেলার গোবিন্দগঞ্জে ২৪ হেক্টর ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ১১ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন