পবিত্র ১৯শে শাওওয়াল শরীফ সারা কায়িনাতবাসীর জন্য নিয়ে এলো বেশুমার রহমত, বরকত, সাকীনা ও অশেষ খুশি
অনেক অনেক দিন পূর্বের কথা। পবিত্র ভূমি আরব দেশের মদীনা শরীফ থেকে বাংলাদেশে আসেন অনেক হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা। পরবর্তীতে আসেন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদগণ উনাদের মধ্যে থেকে অনেকেই। বাংলাদেশ সোনার বাংলা, ওলী-আউলিয়া উনাদের দেশ। এদেশের পবিত্র নূরানীগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার প্রভাকরদী শরীফ-এ তাশরীফ আনেন একজন বিশেষ আওলাদে রসূল আর উনার বংশে তাশরিফ আনলেন যিনি তিনি হলেন হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান আলাইহিস সালাম। সময়ের ক্রমান্বয়ে হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান আলাইহিস সালাম তিনি ঢাকা রাজারবাগ শরীফ-এ তাশরীফ আনেন। উনারই সম্মানিত পুত্র যিনি মুজাদ্দিদে আ’যম, গাউসুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, ইমামুল আইম্মাহ, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম। দুনিয়াবী অল্প বয়স মুবারক থেকেই মুজাদ্দিদে আ’যম হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন বেমেছাল। উনার সঙ্গে মিলতো না কোনো শিশু-কিশোর, কোনো লোকের আচার-আচরণ, সালাম-কালাম, চরিত্র মুবারক অর্থাৎ উনার সমস্ত কিছুই ছিলো ইলহাম ইলক্বার মাধ্যমে পরিচালিত। অনেকেই উনার ছোহবতে এসে আশ্চর্যবোধ করতো। সুবহানাল্লাহ! একদা তিনি দেখতে পান জান্নাতে একটি বালাখানা। যার চতুর্দিকে হরেক রকমের ফুলের বাগান, হাজারো লক্ষ-কোটি রকমের ফুলের ঘ্রাণে সুভাসিত হয়েছে। চতুর্দিকে দাঁড়িয়ে আছেন অসংখ্য ফেরেশতা-হুর গেলমান, সকলে দাঁড়িয়ে আছেন। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের নিয়ে উপস্থিত সেখানে। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খুব খুশি প্রকাশ করছেন। মজলিসের সকলেই খুশিতে মাতোয়ারা। সেই আযীমুশ শান মুবারক মজলিসে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুল আউলিয়া ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার শায়েখ হযরত মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সাথে হযরত সাইয়্যিদাতুনা, উম্মুল উমাম হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার নিকাহ মুবারক পড়িয়ে দেন। সুবহানাল্লাহ! ১৯শে শাওওয়াল শরীফ পৃথিবীর বুকে ছেয়ে গেলো খুশির জোয়ার। হযরত ফেরেশতা, জিন-ইনসানের ঢল নেমে গেলো যমীন মাঝে, সকলের মনে প্রাণে আনন্দ আর আনন্দ। পৃথিবীব্যাপী ঘোষণা হয়েছে আজ ‘শাহী নিকাহ মুবারক’ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ ও ইমাম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিসবাতুল আযীম মুবারক। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এসেছে, খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “নিকাহ করা আমার সুন্নত।” সেই সুন্নত মুবারক আদায়ের লক্ষ্যে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়লো ঈদের ঢেউ। কেউবা ছলাত-সালাম পাঠে মশগুল। কেউবা পাঠ করে ক্বাছীদার পঙক্তি আবার কেউবা মুচকি হাসে। সারা কায়িনাত মাঝে কি যে এক খুশির আমেজ তাতো ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। কোনো মাখলুকাতের পক্ষে সেই খুশির সংবাদ জানাও কঠিন। শুরু হলো সুন্নতী আযীমুশ শান নিকাহ মুবারক উনার আয়োজন। সমস্ত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সকলেরই দৃষ্টি মুবারক আজ বাংলার দিকে। হাজার-লক্ষ-কোটি হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ভিড় উক্ত মুবারক অনুষ্ঠানে। সুন্নতী খাবারের আয়োজন জান্নাত থেকে পরিবেশিত হবে আজ ওলীমার খাবার মুবারক। দেখতে দেখতে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুল আউলিয়া রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার সঙ্গে নিকাহ মুবারক উনার কাজ সুসম্পন্ন হয়ে গেলো সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার। সুবহানাল্লাহ! ওই পবিত্র নিসবাতুল আযীম মুবারক কায়িনাতবাসীর জন্য নিয়ে এলো অশেষ রহমত, বরকত, সাকীনা। সুবহানাল্লাহ!
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন