বুধবার, ২০ জুলাই, ২০১৬

আফদ্বালুল আউলিয়া হযরত সাইয়্যিদুনা মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কতিপয় অমূল্য নছীহত মুবারক

আফদ্বালুল আউলিয়া হযরত সাইয়্যিদুনা মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কতিপয় অমূল্য নছীহত মুবারক


মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরিক করা কখনোই উচিত নয়। যে ইবাদত শিরিক ও রিয়া (লোক দেখানো) হতে মুক্ত হবে না, মহান আল্লাহ পাক তিনি তা কবুল করবেন না। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে শিরিক অন্ধকার রাত্রিতে কালো পাথরের উপর পিপিলিকা চলার মতো পুশিদা বা লুকায়িত। (২) আমাদের হাতের তৈরি সব জিনিস মহান আল্লাহ পাক উনর মাখলুক বা সৃষ্টি। এসব ইবাদতের যোগ্য নয়। একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনিই ইবাদতের যোগ্য। (৩) মহান আল্লাহ পাক উনার বন্দেগী ও উনার দিকে মুতাওয়াজ্জুহ হওয়া একমাত্র নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারকের অনুসরণ করার দ্বারাই সম্ভব। (৪) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারকের তাঁবেদারীর দ্বারাই পরকালে নাজাত ও স্থায়ী মুক্তি লাভ সম্ভব। যেকোনো মুসলমানই সুন্নত মুবারকের তাঁবেদারীর দ্বারা মাহবুবিয়াতের দরজায় পৌঁছতে পারে। যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাঁবেদারীতে কামিল উনাদেরকে বনী ইসরাইল বংশীয় হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে তুলনা করা হয়েছে। উলুল আযম হযরত পয়গম্বর আলাইহিমুস সালাম উনারাও নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাঁবেদারীর আকাঙ্খা করেছিলেন। উনার তাঁবেদারীর দ্বারা উনার উম্মতগণ অন্যান্য হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের উম্মত অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ বলে গণ্য এবং উনারা সর্বাগ্রে বেহেশতে প্রবেশ করবেন। (৫) সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বীন পূর্ববর্তী সকল দ্বীনের নাসিখ বা রহিতকারী। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দ্বীন কখনো মানসূখ হবে না। পবিত্র কুরআন শরীফ সমস্ত আসমানী কিতাবের শ্রেষ্ঠ। (৬) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তাঁবেদারীর দ্বারাই ফযীলত ও মর্যাদা লাভ হয়। সুন্নত মুবারকের অনুসরণে দুপুর বেলা একটু কায়লুলা (শয়ন) করা রাত্রি জেগে ইবাদত করা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। (৭) চিকিৎসকের মতে, পীড়িত ব্যক্তির রোগ আরোগ্য না হওয়া পর্যন্ত তাকে বলকারক কিছু খাওয়ালে তাতে যেমন কোনো উপকার হয় না, ঠিক তেমনি যে পর্যন্ত দিলের পীড়া আরোগ্য না হয়, ততোদিন পর্যন্ত কোনো ইবাদতের ছওয়াব পাওয়া যায় না। (৮) হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের সুপারিশ সত্য। গুনাহগার লোকেরা নেককারগণ উনাদের সুপারিশে নাজাত পাবে। (৯) কাফির, মুশরিক ও মুনাফিকদের সাথে জিহাদ করা বা কর্কশ ব্যবহার করা খুলুকে আযীমের বিপরীত নয়। কেননা, মহান আল্লাহ পাক তিনিই কাফির ও মুশরিকদের সাথে জিহাদ করার জন্য ও শক্ত ব্যবহার করার জন্য বলেছেন। অতএব, যারা শরীয়তবিরোধীদের সাথে মুহব্বত রাখে তারা মুসলমান উনারদেরকে হেয় করে। (১০) যে সমস্ত গুনাহ মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে সম্পর্ক রাখে যেমন শরাব পান, গান-বাদ্য, খেলাধুলা, বেপর্দা-ব্যভিচার প্রভৃতি গুনাহর জন্য তওবা করতে হবে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করতে হবে। আর যে সমস্ত গুনাহর সম্পর্ক বান্দার সাথে যেমন কারো প্রতি যুলুম করা, কারো কিছু চুরি করা, কাউকে কটু কথা বলা, অসম্মান করা প্রভৃতি। এসব গুনাহর জন্য যার নিকট অপরাধী তার নিকট হতে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। যেহেতু বান্দার হক্ব বান্দা ক্ষমা না করা পর্যন্ত মহান আল্লাহ পাক তিনি ক্ষমা করবেন না। যার নিকট অপরাধী তিনি যদি ইন্তিকাল করেন অথবা দূরদেশে গমন করে থাকেন অথবা নিরুদ্দেশ হয়ে থাকেন, তবে উনার সন্তান-সন্ততিদের নিকট থেকে তার পক্ষে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে উক্ত মজলুম ব্যক্তির জন্য সর্বদা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করতে হবে। এটাই উক্ত শ্রেণীর গুনাহর প্রতিকারের একমাত্র উপায়।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন