আয়োডিনের অভাবে ভুগছে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী। আয়োডিনের অভাবে প্রতিবছর ৪১ হাজার মৃত শিশু জন্মায়। সরকারের নজর দেয়া প্রয়োজন।
| সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও ইউনিসেফ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত এক নিবন্ধে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতি বছর আয়োডিনের অভাবে প্রায় ৪১ হাজার মৃত শিশু জন্মায়। ৩৩ হাজার শিশু জন্মের প্রথম বছরই মারা যায় এবং ১৫ হাজার মা মানসিক ঝুঁকিপূর্ণ শিশুর জন্ম দেয়। আয়োডিনের অভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য, অনাকাঙ্খিত ওজন বৃদ্ধি, রক্তের কোলেস্টেরোলের মাত্রা বৃদ্ধি, শুষ্ক ত্বক, মুখ ফোলা, চুল পড়া, ঠা-ার প্রতি সংবেদনশীলতা, বিষন্নতা, অবসাদ, অনিয়মিত মাজুরতা, গলগ- ইত্যাদি উপসর্গ প্রকাশ পায়। যখন মানব দেহে আয়োডিনের ঘাটতি দেখা দেয়, তখন প্রয়োজনীয় থাইরয়েড হরমোন উৎপন্ন হয় না এবং মানুষ আয়োডিনের অভাবজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগে, যেগুলোকে আয়োডিনের ঘাটতিজনিত সমস্যা বা ইংরেজিতে আয়োডিন ডেফিসিয়েন্সি ডিজঅর্ডার (আইডিডি) বলা হয়ে থাকে। আয়োডিনের অভাবে যখন দেহে পর্যাপ্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরি হয় না, তখন তাকে হাইপো-থাইরয়েডিজম বলা হয়। এর ফলে আলসেমির ভাব, ঠা-া সহ্য করতে অক্ষমতা, অনিদ্রা, চামড়া শুষ্ক হয়ে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়। আয়োডিনের ঘাটতির প্রাথমিক ও দৃশ্যমান লক্ষণ হলো গলগ- রোগ। মানুষের গলদেশে যে থাইরয়েড গ্রন্থি আছে তা যখন আয়োডিনের অভাবে ফুলে যায়, তখন তাকে গলগ- রোগ বলা হয়। মূল উপাদান আয়োডিনের ঘাটতি থেকে যাওয়ার পরও যখন গ্রন্থটি আয়োডিন তৈরির বৃথা চেষ্টা করে, তখন তা আকারে বড় হয়ে যায়। প্রাথমিক অবস্থায় এটি চোখে পড়ে না, কিন্তু ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে এবং এক পর্যায়ে দৃশ্যমান হয়। সন্তানসম্ভাবা অবস্থায় থাইরয়েড হরমোন শতকরা ৫০ ভাগ বেশি উৎপন্ন হয়। এই অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোনের জন্য বেশি মাত্রার আয়োডিনের প্রয়োজন পড়ে। সন্তান ধারণের ১১ সপ্তাহ থেকে ভ্রƒণের থাইরয়েড গ্রন্থি কাজ শুরু করে। ১৮ থেকে ২০ সপ্তাহ পূর্ণ হলে ভ্রƒণ তার নিজস্ব থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন শুরু করে। সেই সময় থেকে শিশুর ৩ বছর বয়স পর্যন্ত সঠিক মাত্রার আয়োডিন গ্রহণ মা ও শিশু উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রƒণের বৃদ্ধির সময় মস্তিষ্ক এবং অন্ত্র খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এ সময় আয়োডিনের অভাব হলে বা পর্যাপ্ত আয়োডিন না পেলে মস্তিষ্কে ও স্থায়ী ক্ষতিসহ আয়োডিন ঘাটতিজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আয়োডিনের খুব বেশি অভাব দেখা দিলে সন্তান নষ্ট, মৃত সন্তান প্রসব কিংবা অপরিণত শিশুর জন্ম হতে পারে। এই সন্তান বেঁচে থাকলেও জন্মগত নানা সমস্যায় ভোগে। এর ফলে সন্তান হাবাগোবা হয়, ভালোভাবে কথা বলতে পারে না কিংবা একেবারে বোবা হয়, কানে কম শোনে এবং দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ায় বামন আকৃতির থেকে যায়। আয়োডিনের অভাবগ্রস্ত শিশুরা অন্যান্য শিশুর চেয়ে বেশিমাত্রায় অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভোগে এবং তাদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম থাকে। ফলে তাদের মৃত্যুর ঝুঁকিও বেশি থাকে। দেশে প্রায় ৮ কোটি ৪০ লাখ মানুষ আয়োডিনের অভাবে ভুগছে। এছাড়াও প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেহে আয়োডিনের অভাবে দেশের জনগণের এক বিপুল অংশ দৈহিক ও মানসিকভাবে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে অসমর্থ হচ্ছে। দেশে আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহারের ব্যাপক প্রচলন হলে বিপুল জনশক্তি একই সঙ্গে দৈহিক ও মানসিকভাবে সুস্থ এবং স্বাভাবিক থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক জরিপে জানা যায়, আয়োডিনের অভাবে দেশে প্রায় ১ কোটি মানুষ দৃশ্যমান এবং ৬ কোটি ৬৪ লাখ মানুষ অদৃশ্যমান গলগন্ড বা ঘ্যাগ রোগে আক্রান্ত। ৬ লাখ লোক দৈহিকভাবে বিকলাঙ্গ ও মানসিক প্রতিবন্ধী। এছাড়াও দেহে আয়োডিনের অভাবে সন্তান সম্ভাবা অবস্থায় শিশু মৃত্যুর হার, বামনত্ব, বধিরত্ব, মৃত শিশুর জন্ম ইত্যাদি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের যেসব এলাকায় আয়োডিনের অভাব রয়েছে বেশি সেসব এলাকায় শিশুদের মেধা ও বুদ্ধি (আইকিউ) অন্যান্য এলাকার শিশুদের চেয়ে শতকরা ১০ ভাগ কম। ধনী-গরিব, গ্রামবাসী-শহরবাসী, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সব শ্রেণীর মানুষেরই আয়োডিনের অভাবজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। সারা জীবনে মানব দেহের জন্য ৩ থেকে ৪ গ্রাম আয়োডিন প্রয়োজন, যা এক চা চামচেরও কম। এর অর্থ হলো প্রতিদিন আমাদের খুব সামান্য পরিমাণে আয়োডিনের প্রয়োজন হয়। যা আমরা একটু সচেতন হলেই অতি সহজে গ্রহণ করতে পারি। এজন্য উচিত হলো- সমস্ত ভোজ্য লবণ আয়োডিনযুক্ত করা। এমনকি গৃহপালিত ও ফার্মে পালিত পশু-পাখির ভোজ্য লবণও আয়োডিনযুক্ত করা। উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও খাদ্যে ব্যবহার করার প্রতিটি পর্যায়ে আয়োডিনযুক্ত লবণের মান নিয়ন্ত্রণ করা। লবণ উৎপাদন এবং বিতরণের সময় কঠোরভাবে মনিটরিং এবং কার্যকরভাবে আইন প্রয়োগ করা। আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা। উৎপাদন, মজুদ এবং কেনাবেচার সময় লবণে আয়োডিনের পরিমাণ সঠিক পর্যায়ে রাখতে উৎপাদক ও বিক্রেতাকে এ বিষয়ে শিক্ষা দেয়া। আইন হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু আইনের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। তাছাড়া কিছু অসৎ ব্যবসায়ী কোনো নিয়মনীতি মানছে না। এমনিতেই আমাদের দেশে ঘন ঘন বন্যা এবং অতিবৃষ্টির কারণে মাটি ও পানি থেকে আয়োডিন ধুয়ে সাগরে মিশে যাচ্ছে। ফলে আয়োডিনের পরিমাণ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। তাই আইন বা ব্যবসায়ীদের প্রতি নির্ভরশীল না থেকে জনগণকে নিজেকেই সঠিকভাবে ও সঠিক পরিমাণে আয়োডিন গ্রহণের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন) |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন