বিটি বেগুন চাষের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে: মনসান্তো-মাহিকোর বায়ো সন্ত্রাস রুখতে হবে-২
বাংলাদেশে একের পর এক জিএম শস্য অনুমোদন দিয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া নিজেকে জিএম কন্যা হিসেবে জাহির করেছে। তিনি জিএমও বিটি বেগুন বীজ কৃষকদের মাঝে বিতরণ করেছে ২৩ জানুয়ারি রাজধানীর ফার্ম গেট কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে। কৃষকের বীজ নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, মানবদেহ, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকির কথা বিবেচনায় না নিয়ে শুধুমাত্র মার্কিন বহুজাতিক কর্পোরেশন মনসান্তো আর ভারতের বীজ কোম্পানি মাহিকোর কর্পোরেট স্বার্থে বিটি বেগুনের বাণিজ্যিক ব্যবহারের অনুমোদন দেয় কৃষিমন্ত্রী। এই জিএম ফসল চাষ হলে বাংলাদেশের ক্ষতিসমূহ: বায়োপাইরেসির শিকার হবে বাংলাদেশের বেগুন, বেগুনের বীজের স্বত্ব চলে যাবে বহুজাতিক কৃষি কর্পোরেশন-এর হাতে: জিএম বীজ উৎপাদনের প্রযুক্তি মনসান্তোরহওয়ায় এবং মনসান্তো-মাহিকোর যৌথ কারিগরি সহযোগিতায় এ বিটি বেগুন উদ্ভাবন হওয়ায় তার পেটেন্ট রাইটস কোম্পানির হাতে এবং আমাদের কৃষকদের চড়া দামে পেটেন্টেড বেগুন বীজ কোম্পানির কাছ থেকে কিনতে হবে। অধিক উৎপাদনের আশায় কৃষকরা পেটেন্টেড শস্য বীজ উচ্চ দামে কোম্পানি থেকে কিনতে বাধ্য হবে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। হরেক রকম স্থানীয় বেগুন বীজ হারিয়ে যেতে পারে: বিটি বেগুনের বাণিজ্যিক ব্যবহার আমাদের বেগুনের জেিেটক বৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলে দেবে। বেগুন বীজের পেটেন্ট বহুজাতিক কোম্পানির কাছে থাকবে বলে এবং সরকারের পক্ষ থেকে অধিক ফলনের বিজ্ঞাপন দিয়ে বিটি বেগুন চাষে কৃষককে উৎসাহিত করা হলে শুধু এ জিএম বীজের চাষাবাদে কৃষক নিয়োজিত থাকবে। কৃষকরা নির্ধারিত কিছু জিএম জাতের পণ্য ফলনের দিকে নজর দেবে। ফলে ঐতিহ্যবাহী লোকায়ত জাতগুলোর জায়গা দখল করে নেবে জিএম বীজ। এতে ধীরে ধীরে দেশী বীজের সংরক্ষণ ও পুনরুৎপাদনের ধারাবাহিক প্রাকৃতিক প্রত্রিয়া হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে এবং হরেক রকম স্থানীয় বেগুনবীজ হারিয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত বীজের উপর কৃষকদে নিয়ন্ত্রণ থাকবে না, বরং প্রতিষ্ঠিত হবে বহুজাতিক কোম্পানির মনোপলি নিয়ন্ত্রণ! ফলন বৃদ্ধির নামে শেষ পর্যন্ত খাদ্যের জন্য বহুজাতিক কোম্পানির প্রতি নির্ভরশীলতা তৈরি হবে। বিটি বেগুনে স্বাস্থ্যগত কোনো ঝুঁকি নেই বলে ভারতের মাহিকো ও বাংলাদেশের বারি দাবি করলেও নিউজিল্যান্ডের এপিডিমলজিস্ট লুই গালাঘের, ফ্রান্সের সেরালিনিসহ আন্তর্জাতিক অনেক বিজ্ঞানীর মতে, বিটি বেগুন মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। মাননীয় কৃষিমন্ত্রী!!! বহুজাতিক কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধির দেখভাল করার জন্য আপনাকে মনোনীত করা হয় নাই, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ দেখভাল করাই আপনার দায়িত্ব! জিএম খাদ্য অনুমোদন দিয়ে বাংলাদেশের কৃষিতে কর্পোরেট আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা বন্ধ করুন! বাংলাদেশের কৃষিতে আন্তর্জাতিক মার্কিন ও ভারতীয় বীজ কোম্পানির চলমান আগ্রাসন রুখে দাঁড়াতে হবে এখনই। দেশের কৃষক, ভোক্তা, বিজ্ঞানী, পরিবেশ বিদদের এই বীজ আগ্রাসনের প্রতিবাদ করতে হবে, না হলে মার্কিন ও ভারতীয় এগ্রো কর্পোরেশনের মুনাফার স্বার্থে একের পর এক জিএম শস্য (বেগুন, আলু, তুলা) অনুমোদন দিয়ে এদেশের প্রাণ ও পরিবেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দেয়া হবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন