অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণ দেশে বীজের সঙ্কট। বিদেশী বীজের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে কৃষক। বেড়েছে উৎপাদন খরচ। ফসলেও বেড়েছে রোগ-বালাই।
| সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, হযরত রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত পবিত্র দুরূদ শরীফ ও সালাম মুবারক। কৃষিপ্রধান দেশ এবং কৃষি নির্ভরশীল অর্থনৈতিক দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের দেশে কৃষক ও কৃষি কাজ বরাবরই অবহেলিত। কৃষির মূল উপাদান হচ্ছে বীজ, সার, কীটনাশক ইত্যাদি। সরকার সারের ক্ষেত্রে ভর্তুকি প্রদান করলেও কৃষকরা তার পুরোপুরি সুফল পাচ্ছে না। আর বীজসহ অন্যান্য জিনিস তো বাদই থেকে যাচ্ছে। সবসময় কৃষক সম্প্রদায় উপাদান প্রাপ্তির সঙ্কট উত্তরণ করেই চাষাবাদ করে যাচ্ছে। আবার বীজের ক্ষেত্রে পর্যালোচনামূলক আলোচনায় দুর্দশা আরো বেশি প্রতিভাত হয়। বর্তমানে বিদেশী বীজের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে কৃষক। ধান-গম ও আলু ছাড়া চাহিদার ২০ ভাগ বীজও কৃষক অভ্যন্তরীণ উৎপাদন থেকে মেটাতে পারছে না। দেশে আলু, পাট, ভুট্টা, ডাল, তেল ও মসলা জাতীয় বীজ উৎপাদনে চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, জাপান, কোরিয়া, ইতালি ও হল্যান্ডের বীজের একচেটিয়া প্রাধান্য চলছে। এদের মধ্যে পাটবীজ প্রায় শতভাগই ভারত থেকে আমদানিনির্ভর। এছাড়া পাশের দেশ থেকে প্রতি বছর চোরাইপথেও বিপুল পরিমাণ ভেজাল বীজ আসে। ফলে চড়াদামে বীজ কিনে এক দিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে ফসলের রোগ-বালাই। এতে বীজ ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও কৃষক উৎপাদিত পণ্যের দাম না পেয়ে লোকসানের মুখ পড়ছে। এ অবস্থায় কৃষক ফসল উৎপাদন থেকে ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। কৃষক এবারো আউশ চাষ কমিয়ে দিয়েছে। আউশে যারা প্রণোদনা পেয়েছে তারাও আবাদ করেনি। এতে আউশের লক্ষ্যমাত্রার ১০ ভাগই অর্জন হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। এদিকে দেশের একশ্রেণীর বীজ কোম্পানি চোরাইপথে আসা বিদেশী বীজ ও আমদানি করা নিম্নমানের বীজ রঙীন প্যাকেটে ভরে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করছে। অতি উচ্চমূল্যে এসব বীজ কিনে কৃষক প্রতারিত ও সর্বস্বান্ত হচ্ছে। ভারত থেকেও চোরাইপথে বীজ আসে। চোরাইপথে আসা বীজের কারণে ফসলের রোগ-বালাই বেড়েছে ২৫গুণ। এতে কৃষকের ফসল উৎপাদন কমেছে, বেড়েছে খরচও। কোনো কোনো ফসল উৎপাদন করে কৃষক বারবার লোকসানে পড়েছে। অপরদিকে বীজ ব্যবসায়ীরা রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছে। তাছাড়া কৃষিবিদ ও বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির সাথে কৃষকের কার্যতঃ তেমন কোনো সম্পর্ক নেই। উচ্চ ফলনশীল দেশী বীজে কৃষক ফসল উৎপাদন করে কমই। বিদেশী ও চোরাইপথে আসা হাইব্রিড ও জিএম বীজে ফসল উৎপাদন করে কৃষক নিজের বীজ উৎপাদনক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। বিদেশী বীজনির্ভর হয়ে উৎপাদন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন-বিএডিসিসহ দেশে বীজ ব্যবসায়ের সাথে জড়িত রয়েছে এমন ডিলারের সংখ্যা ২২ হাজারের মতো। এদের মধ্যে বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকার ছোট বীজ ডিলারও রয়েছে। এছাড়া নিজস্ব ফিল্ড রয়েছে এমন কোম্পানির সংখ্যা প্রায় ২৫টি। এর মধ্যে আবার সরকারি সংস্থাও রয়েছে। তবে দেশে আলু, পাট, ভুট্টা, ডাল, তেল ও মসলা জাতীয় বীজ ভারত, চীন, থাইল্যান্ড, জাপান, কোরিয়া, ইতালি ও হল্যান্ড থেকে প্রায় পুরোটাই আমদানির উপর নির্ভরশীল। অপরদিকে সরকারি পরামর্শ ও সহযোগিতা না পেয়ে কৃষক নিজেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কোন্ বীজে কখন কোন্ জাতের ফসল উৎপাদন করবে। সঠিক বীজ না চেনায় এবং নিজে বীজ উৎপাদন না করায়Ñ বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে কৃষক। দেশে বীজজনিত কমপক্ষে ২০টি রোগে প্রতি বছর ধান, পাট, আলু, গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ থেকে কৃষক নিস্তার পাচ্ছে না বলে কৃষিবিদরা জানিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশে প্রতি বছর ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, তেলবীজ, আলু ও সবজি মিলে প্রায় ১৫/১৬ কোটি টন ফসল উৎপাদন হয়। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি উৎপাদনে নিম্নমানের বীজ ব্যবহার করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেছে, এসব ক্ষেত্রে শতভাগ উন্নত মানের বীজ সরবরাহ সম্ভব হলে প্রতি বছর আরো বাড়তি কয়েক কোটি টন বিভিন্ন ধরনের খাদ্যশস্য, তেলবীজ ও সবজি উৎপাদন সম্ভব। যার বাজারদর কমপক্ষে ৯০/৯৫ হাজার কোটি টাকা। কেবল ধান উৎপাদনে শতভাগ উন্নতমানের বীজ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ১ কোটি টন বেশি ফলন আসবে। মূলত, কৃষির উন্নয়নে উন্নত বীজ অপরিহার্য। এক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশে উন্নতমানের বীজ উৎপাদনে বিনিয়োগ করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সরকারিভাবে বীজ সরবরাহে সীমাবদ্ধতার কারণে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। তবে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। মূলত, সব সমস্যা সমাধানে চাই সদিচ্ছা ও সক্রিয়তা তথা সততা। কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন নেক ছোহবত মুবারক, নেক সংস্পর্শ তথা রূহানী ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ মুবারক। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, সাইয়্যিদে মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবত মুবারক-এ কেবলমাত্র তা পাওয়া সম্ভব। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন) |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন