মঙ্গলবার, ১২ জুলাই, ২০১৬

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণÑ প্রতিবন্ধী অর্থমন্ত্রীকে চিনি নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া যাবে না। চিনি শিল্পের ক্ষেত্রে পাটশিল্পের পরিণতি হতে দেয়া যাবে না।

অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালনের লক্ষ্যে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুপম আদর্শ মুবারক আলোচনা ও অনুসরণÑ প্রতিবন্ধী অর্থমন্ত্রীকে চিনি নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া যাবে না। চিনি শিল্পের ক্ষেত্রে পাটশিল্পের পরিণতি হতে দেয়া যাবে না।

সব প্রশংসা মুবারক খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য; যিনি সকল সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের নবী, রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ মুবারক ও সালাম মুবারক। আখ চাষ ধীরে ধীরে বন্ধ করে দিতে চায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী বলেছে, ‘আখ চাষকে আমি নিরুৎসাহিত করছি এবং দেশ থেকে আখ চাষ ধীরে ধীরে উঠিয়ে দেয়া হবে।’ অর্থমন্ত্রী বলেছে, দেশের বাজারে চিনির কেজি ৪৫ টাকা আর আমদানি করা চিনির কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা। ১৫টি চিনিকলের কারণে দেশের ক্ষতি হচ্ছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এক সময় বলা হতো, বাঙালীদের পান্তা ভাতে লবণ না জুটলেও পশ্চিম পাকিস্তানীরা পান্তা ভাতে চিনি খেতো। স্বভাবতই স্বপ্ন ছিল, স্বাধীন দেশে বাঙালীরা পান্তা ভাতে না হলেও প্রাত্যহিক জীবনে সস্তায় চিনি খাওয়ার নূন্যতম সুযোগটুকু পাবে। কিন্তু মানুষের সে স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। উল্টো চিনি নিয়ে কারসাজি হওয়ায় স্বাধীনতা লাভের পর একে একে লোকসানের ভারে চিনিকলগুলো রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি আখ চাষীরা ন্যায্য মূল্যের অভাবে আঁখচাষ ছেড়েই দিয়েছে। অর্থাৎ চিনির মত একটি নিত্যপণ্যের অধিকাংশই এখন আমদানি নির্ভর। ক্ষমতাসীনরা রুগ্ন চিনি শিল্পকে পুনরুদ্ধার উদ্যোগ নিয়ে চিনিকল চালু করে হাজার হাজার টন চিনি উৎপাদন করলেও বাড়তি মূল্যের কারণে অবিক্রিতই থেকে গেছে। ফলে মাসের পর মাস ধরে শ্রমিক কর্মচারীরা বেতনের অভাবে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি কোন কোন সময় বেতন ভাতা পরিশোধে টাকার বদলে চিনি সরবরাহ করা হয়েছে। কেন এ অবস্থা? জবাবে বলতেই হবে, ক্ষমতাসীনদের চিনি শিল্প পরিপন্থি নীতিমালার কারণেই এমনটি হচ্ছে। অবাক হওয়ার মতো ঘটনা হচ্ছে, বৃহৎজনগোষ্ঠীর চিনির চাহিদা পুরণে মাত্র ৬/৭ জন শিল্পপতিকে অপরিশোধিত চিনি আমদানির সুযোগ দিয়ে তা পরিশোধন করে দেশীয় কারখানায় উৎপাদিত চিনির চেয়ে কম মূল্যে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে দেশীয় চিনি শিল্প ধ্বংস হয়ে গেছে। এখানে বলার অপেক্ষা রাখে না, পুঁজিবাদি সমাজ ব্যবস্থায় গুটিকতক মানুষের হাতে বৃহৎজনগোষ্ঠীর স্বার্থ এ ভাবেই ক্ষুন্ন হয়। এটাই শ্রেণী শোষণের একটি নমুনা। একইভাবে এক সময়ের রফতানি আয়ের প্রধান খাত সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের কদর ছিল দেশ বিদেশে। দুর্নীতি ও ভ্রান্তনীতির কারণে স্বাধীন দেশের পাটকলগুলো লোকসানের ভারে রুগ্ন শিল্পে পরিণত হয়। ন্যায্যমূল্যের অভাবে এক পর্যায়ে পাট হয়ে যায় কৃষকের গলার ফাঁস। বলতে গেলে পাট চাষীরা পাট চাষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ফলে একে একে সকল পাটকল বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ পাটকল আদমজীকে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ধ্বংস করে দেয়া হয়। হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী চাকরি হারিয়ে চোখের পানিতে চিরচেনা কারখানা থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, যে মুহূর্তে বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশনে আদমজির মতো বৃহৎ পাটকল শিল্পকে ধ্বংস করা হয়, সে মুহূর্তে বিশ্বব্যাংক প্রতিবেশি দেশ ভারতকে পাটকল শিল্প স্থাপনে বড় অংকের ঋণ প্রদান করে। ফলে বাংলাদেশের পাটকল শিল্প ধ্বংস হলেও ভারতে পাটকল শিল্পের উত্থান ঘটে। প্রসঙ্গত, আজ সরকার পাট শিল্পের দিকে নজর দিচ্ছে। অর্থাৎ সরকার স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর শুরু থেকে শুরু করছে। তাতে সরকার কত পিছিয়ে পড়েছে তা থেকে চিনি শিল্পের বিষয়েও নসীহত গ্রহণ করতে হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, আজ বহির্বিশ্বে চিনির দাম কম আছে তাই প্রতিবন্ধি অর্থমন্ত্রী মনে করছে- চিনি উৎপাদনের চেয়ে চিনি আমদানীতে লাভ। কিন্তু এ আপাতলাভের দৃষ্টিভঙ্গী ব্যবসায়ীর হতে পারে সরকারের হতে পারেনা। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি হবে জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত করা, কৃষক স্বার্থ রক্ষা করা। আখচাষীদের জীবন, জীবিকা হেফাজত করা। কৃষক বলতে শুধু ধানচাষী নয়, আখচাষী, লবণ চাষীও কৃষক। সুতরাং কৃষি ভর্তুকির সুবিধা তাদেরও দিতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখেনা, যেহেতু কৃষিই আমাদের অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি, সেহেতু স্মরণে রাখতে হবে, কৃষিভিত্তিক শিল্প বিকাশের পূর্বশর্তই হচ্ছে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষি পণ্যের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করা। কারণ যে পণ্যের উপর ভিত্তি করে শিল্প কারখানা বিকশিত হয়, সেই শিল্প ধ্বংস করার মত পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করলে সেই পণ্যের টেকসই উৎপাদনও ধরে রাখা কঠিন হয়। আমাদের দেশের ক্ষমতাশীনরা মাঝে মধ্যেই এমন কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা দেখে মনে হয়, উৎপাদিত কৃষি পণ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা শিল্প প্রতিষ্ঠান দেশের জন্য ভালো নয়, বরং অভিশাপ! নাঊযুবিল্লাহ! সরকারের ভ্রান্তনীতির কারণে উৎপাদক ও ভোক্তা স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দায় কৃষিভিত্তিক শিল্পের উপর চাপিয়ে দিয়ে দেশীয় শিল্পকে ধ্বংস করা হলে এর পরিণতি ভাল হবে না। বাস্তব এ অবস্থাকে বিবেচনায় নিয়ে সরকারের উচিৎ, কৃষকের স্বার্থ ও কৃষিভিত্তিক শিল্পকে রক্ষায় সুষম খাদ্য নীতিমালা প্রণয়ন করা। যে নীতিমালার আলোকে পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা হলে সকল পক্ষই লাভবান হবে। প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, সঠিক নীতি প্রণয়ন করলে, সততা বজায় রাখলে দেশের চিনি শিল্প কখনোই মরে যেতে পারেনা। বরং আমদানী করা চিনির চেয়েও দেশি চিনি দামে কম হতে বাধ্য। এক্ষেত্রে কারখানাগুলোকে আধুনিকায়ন করে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে হবে। আখের পাশাপাশি সুগারবিটের চিনি উৎপাদনে যেতে হবে কর্পোরেশনকে। এছাড়া আখের চিনির গুণাগুণ জনগণের মধ্যে প্রচারের উদ্যোগ নিলে মানুষ একটু বেশি দাম দিয়ে হলেও দেশীয় চিনি কিনবে এবং পরিশোধিত বিদেশী বা স্বাস্থ্যের জন্য মহাক্ষতিকর বিদেশী চিনি পরিহার করবে। পাশাপাশি উল্লেখ্য, আখ কেনা এবং তা থেকে চিনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে কর্পোরেশনের অনেক অব্যবস্থাপনা রয়েছে। লোকসান কমাতে হলে সরকারকে এদিকে নজর দিতে হবে। এছাড়া উৎপাদন পর্যায়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শ্রমিক-কর্মচারী যদি কমানো যায়, তাহলে চিনিকলগুলোর উৎপাদন ব্যয় কমে আসবে। এর মধ্য দিয়ে লোকসানও কমে আসবে। বিদেশী চিনিতে শুল্ক বাড়িয়ে দেশীয় চিনি বিক্রি বাড়ানোর চিন্তাটি ঠিক না। এটি স্থায়ী সমাধান নয়। বাজারে প্রতিযোগিতা থাকবেই। এটিকে মাথায় নিয়েই উৎপাদন প্রক্রিয়া চলাতে হবে। কিভাবে চিনিকলগুলোকে লাভজনক করা যায় তার সমাধান খুঁজে বের করতে হবে সরকারকেই এবং সদিচ্ছা থাকলে তা অসম্ভবও নয়। মূলত, এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে পবিত্র ঈমান ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনাদের অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা মুবারক ফয়েয, তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই কেবলমাত্র সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। আর ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম দিচ্ছেন অনন্তকালব্যাপী পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার মহামহিম নিয়ামত মুবারক। সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে তা নছীব করুন। (আমীন)


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন